What do you think?


সমর সেনের কবিতা
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
March 27, 2022
১৯৩৪ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত, মাত্র বারোবছর-ব্যাপী লেখা সমর সেনের কবিতার পরিচয় দেওয়ার জন্যে খুউব পুরাতন ক্লিশে হয়ে পচে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে এমন একটা শব্দ ব্যবহার করতে ইচ্ছে করছে : "আধুনিক"!
আরো একটা বাংলা শব্দ ব্যবহার করতে ইচ্ছা করছে, যেটা খুব বেশিদিন হয়নি বাংলা শব্দভাণ্ডারে প্রবেশ করেছে, কিন্তু এখনই বুড়ো হয়ে গেছে : "স্মার্ট"।
সমর সেনের কবিতা শুরু হয়েছে বিষণ্ণ প্রেমিকের ইউনিফর্ম শরীরে চাপিয়ে। তাঁর প্রেম কখনোই বর্তমানের জ্যান্ত নরম স্পর্শে (এমনকি সেই স্পর্শের স্বপ্নেও) পুলকিত নয়। অতীতের ধুলোধূসরিত দ্বিপ্রাহরিক সরু পথরেখার মতো ম্লান।
অন্ধকারের মতো ভারি তোমার দুঃস্বপ্ন,
তোমার দুঃস্বপ্ন অন্ধকারের মতো ভারি।
*
ভুলে-যাওয়া গন্ধের মতো
কখনো তোমাকে মনে পড়ে।
হাওয়ার ঝলকে কখনো আসে কৃষ্ণচূড়ার উদ্ধত আভাস
আর মেঘের কঠিন রেখায়
আকাশের দীর্ঘশ্বাস লাগে।
"নগরজীবনের ক্লান্তি"। এই কথাটা বারবার বলা হয়েছে সমর সেনের কবিতার পরিচয় দিতে গিয়ে। এই ক্লান্তি জীবনানন্দের ম্লান-চোখ-তুলে-তাকানো অসহায়তার ক্লান্তি নয়। এই ক্লান্তি আক্রোশে হাতের সিগারেট ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া যুবক-কবির নতুন নতুন উপলব্ধিজাত নাগরিক ক্লান্তি।
বর্তমানে মুক্তকচ্ছ, ভবিষ্যৎ হোঁচটে ভরা,
মাঝে মাঝে মনে হয়,
দুর্মুখ পৃথিবীকে পিছনে রেখে
তোমাকে নিয়ে কোথাও সরে পড়ি।
*
মৃত্যু শুনেছি শেষ কথা নয়,
কালস্রোতে ভেসে আসে নবীন জঞ্জাল,
আবার সঙ্গোপনে ঘরে রহস্যভরে বিড়ি ধরে
বালক বংশধর,
তারো পরে টেরি কেটে কাব্য পড়ে
জানায় অমর প্রেম বখাটে যুবক।
*
সংসার খালি;
দূর ছাই, কিছু ভালো লাগে না,
সঙ্গীহীন বুড়ো ভাবে সন্ধ্যায় :
সমাজ বদলেছে অনেক, নিরুপায়,
নইলে হে হরি,
এ বয়সে মন্দ লাগত না আর একটি কিশোরী।
পরবর্তীকালে বামপন্থী "ফ্রন্টিয়ার" ম্যাগাজিনের কিংবদন্তিসম দাপুটে সম্পাদক হতে চলেছেন যিনি, সেই সমর সেনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিটি কিভাবে ধীরে ধীরে রূপধারণ করছে, তার পরিচয়ও পাওয়া যায় এই বইয়ের অনেক কবিতায়। দেশ তখনও পরাধীন। পতপত করে উড়ছে দুর্ভিক্ষের কালো পতাকা। ক্রোধ নয়, প্রতিবাদ নয়, নিপাট তাচ্ছিল্য এসে জমাট বেঁধেছে কবির কলমে।
দুকোটি ক্ষুধার অভিশাপ
সংহত বাঙলা দেশে।
চোরে চোরে মাসতুতো ভাই,
নিবিড় মিতালি মহাজন ও শকুনে।
দুর্দিন রপ্তানি কিছুদিন বন্ধ কর
এদেশে, হে দেব ! ক্ষান্ত কর দাক্ষিণ্য দারুন।
*
ভবলীলা সাঙ্গ হলে সবাই সমান—
বিহারের হিন্দু আর নোয়াখালির মুসলমান
নোয়াখালির হিন্দু আর বিহারের মুসলমান।
বইয়ের একদম অন্তিম কবিতাটি সমর সেনের কাব্যদর্শনের শীর্ষবিন্দু স্পর্শ করে। (কবিতার বইয়ের স্পয়লার হয়? হলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।)
শুনি না আর সমুদ্রের গান
থেমেছে রক্তে ট্রামবাসের বেতাল স্পন্দন।
ভুলে গেছি সাঁওতাল পরগনার লাল মাটি
একদা দিগন্তে দেখা উদ্যত পাহাড়,
বাইজীর আসরে শোনা বসন্তবাহার।
ভুলে গেছি বাগবাজারী রকে আড্ডার মৌতাত, বালিগঞ্জের লপেটা চাল,
আর ডালহাউসীর আর ক্লাইভ স্ট্রিটের হীরক প্রলাপ,
ডকে জাহাজের বিদেশী ডাক।
রোমান্টিক ব্যাধি আর রূপান্তরিত হয় না কবিতায়।
যৌবনের প্রেম শেষ প্রবীণের কামে ।
বছর দশেক পরে যাব কাশীধামে ।।
এর পরে আর কোনোদিন কবিতা লেখেন নি তিনি।
আরো একটা বাংলা শব্দ ব্যবহার করতে ইচ্ছা করছে, যেটা খুব বেশিদিন হয়নি বাংলা শব্দভাণ্ডারে প্রবেশ করেছে, কিন্তু এখনই বুড়ো হয়ে গেছে : "স্মার্ট"।
সমর সেনের কবিতা শুরু হয়েছে বিষণ্ণ প্রেমিকের ইউনিফর্ম শরীরে চাপিয়ে। তাঁর প্রেম কখনোই বর্তমানের জ্যান্ত নরম স্পর্শে (এমনকি সেই স্পর্শের স্বপ্নেও) পুলকিত নয়। অতীতের ধুলোধূসরিত দ্বিপ্রাহরিক সরু পথরেখার মতো ম্লান।
অন্ধকারের মতো ভারি তোমার দুঃস্বপ্ন,
তোমার দুঃস্বপ্ন অন্ধকারের মতো ভারি।
*
ভুলে-যাওয়া গন্ধের মতো
কখনো তোমাকে মনে পড়ে।
হাওয়ার ঝলকে কখনো আসে কৃষ্ণচূড়ার উদ্ধত আভাস
আর মেঘের কঠিন রেখায়
আকাশের দীর্ঘশ্বাস লাগে।
"নগরজীবনের ক্লান্তি"। এই কথাটা বারবার বলা হয়েছে সমর সেনের কবিতার পরিচয় দিতে গিয়ে। এই ক্লান্তি জীবনানন্দের ম্লান-চোখ-তুলে-তাকানো অসহায়তার ক্লান্তি নয়। এই ক্লান্তি আক্রোশে হাতের সিগারেট ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া যুবক-কবির নতুন নতুন উপলব্ধিজাত নাগরিক ক্লান্তি।
বর্তমানে মুক্তকচ্ছ, ভবিষ্যৎ হোঁচটে ভরা,
মাঝে মাঝে মনে হয়,
দুর্মুখ পৃথিবীকে পিছনে রেখে
তোমাকে নিয়ে কোথাও সরে পড়ি।
*
মৃত্যু শুনেছি শেষ কথা নয়,
কালস্রোতে ভেসে আসে নবীন জঞ্জাল,
আবার সঙ্গোপনে ঘরে রহস্যভরে বিড়ি ধরে
বালক বংশধর,
তারো পরে টেরি কেটে কাব্য পড়ে
জানায় অমর প্রেম বখাটে যুবক।
*
সংসার খালি;
দূর ছাই, কিছু ভালো লাগে না,
সঙ্গীহীন বুড়ো ভাবে সন্ধ্যায় :
সমাজ বদলেছে অনেক, নিরুপায়,
নইলে হে হরি,
এ বয়সে মন্দ লাগত না আর একটি কিশোরী।
পরবর্তীকালে বামপন্থী "ফ্রন্টিয়ার" ম্যাগাজিনের কিংবদন্তিসম দাপুটে সম্পাদক হতে চলেছেন যিনি, সেই সমর সেনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিটি কিভাবে ধীরে ধীরে রূপধারণ করছে, তার পরিচয়ও পাওয়া যায় এই বইয়ের অনেক কবিতায়। দেশ তখনও পরাধীন। পতপত করে উড়ছে দুর্ভিক্ষের কালো পতাকা। ক্রোধ নয়, প্রতিবাদ নয়, নিপাট তাচ্ছিল্য এসে জমাট বেঁধেছে কবির কলমে।
দুকোটি ক্ষুধার অভিশাপ
সংহত বাঙলা দেশে।
চোরে চোরে মাসতুতো ভাই,
নিবিড় মিতালি মহাজন ও শকুনে।
দুর্দিন রপ্তানি কিছুদিন বন্ধ কর
এদেশে, হে দেব ! ক্ষান্ত কর দাক্ষিণ্য দারুন।
*
ভবলীলা সাঙ্গ হলে সবাই সমান—
বিহারের হিন্দু আর নোয়াখালির মুসলমান
নোয়াখালির হিন্দু আর বিহারের মুসলমান।
বইয়ের একদম অন্তিম কবিতাটি সমর সেনের কাব্যদর্শনের শীর্ষবিন্দু স্পর্শ করে। (কবিতার বইয়ের স্পয়লার হয়? হলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।)
শুনি না আর সমুদ্রের গান
থেমেছে রক্তে ট্রামবাসের বেতাল স্পন্দন।
ভুলে গেছি সাঁওতাল পরগনার লাল মাটি
একদা দিগন্তে দেখা উদ্যত পাহাড়,
বাইজীর আসরে শোনা বসন্তবাহার।
ভুলে গেছি বাগবাজারী রকে আড্ডার মৌতাত, বালিগঞ্জের লপেটা চাল,
আর ডালহাউসীর আর ক্লাইভ স্ট্রিটের হীরক প্রলাপ,
ডকে জাহাজের বিদেশী ডাক।
রোমান্টিক ব্যাধি আর রূপান্তরিত হয় না কবিতায়।
যৌবনের প্রেম শেষ প্রবীণের কামে ।
বছর দশেক পরে যাব কাশীধামে ।।
এর পরে আর কোনোদিন কবিতা লেখেন নি তিনি।
October 2, 2022
সমর সেনের কবিতা প্রথম পড়ি হুমায়ুন আজাদ সম্পাদিত "আধুনিক বাংলা কবিতা" বইতে। এরপর পড়ি বুদ্ধদেব বসু'র একই নাম্নী সংকলনে। তার কবিতা তখন মুগ্ধ করেছিলো কিন্তু অন্যান্য কবিতা পড়ার উৎসাহ পাইনি। কারণ প্রেক্ষাপট, উপমা, চিন্তাভাবনা সবদিক থেকে প্রাগ্রসর ও আধুনিক মনে হলেও সব কবিতা একই রকম মনে হয়েছিলো। আমাকে তীব্রভাবে আন্দোলিত করেছিলো তার "প্রেম" নামক কবিতাটি,
এতোদিন পর,তার পুরো কবিতা সংকলন পড়ে, আগের মতো একটাই কবিতা পাঠের অনুভূতি হোলো। সমর সেনের জগৎ - যেখানে হিংস্র পশুর মতো অন্ধকার নামে, মেয়ের প্রেম স্যাকারিনের মতো মিষ্টি, বসন্ত ক্ষুধিত উজ্জ্বল জাগুয়ার, শীতের আকাশে অন্ধকার ঝোলে শূয়রের চামড়ার মতো,প্রেমিকের চোখে থাকে হিংস্র হাহাকার। ১৯৩৪-৩৭ এ লেখা কবিতাগুচ্ছ মুগ্ধকর। কিন্তু এরপরের অংশ ক্লান্তিকরভাবে পুনরাবৃত্তিপরায়ন।রীতিমতো বেগ পেতে হোলো শেষ করতে।একই উপমা, একই প্রেক্ষাপট,একই গল্প। অবশ্য তার লেখা শেষ কবিতার শেষ পঙক্তিদ্বয় শ্লেষ ও বক্রোক্তিতে অতুলনীয় -
"যৌবনের প্রেম শেষ প্রবীণের কামে
বছর দশেক পরে যাবো কাশীধামে।"
জীবনের প্রথমার্ধে লেখা কবিতার জন্যই সমর সেন স্মরণীয় ছিলেন ও স্মরণীয় থাকবেন।
"বিষাক্ত সাপের মতো আমার রক্তে
তোমাকে পাবার বাসনা।
আর মাঝে মাঝে আকাশে হলুদ রঙের অদ্ভুত চাঁদ ওঠে,
চঞ্চল বসন্ত কাঁপে গাছের পাতায়,
আর অন্ধকারে লাল কাঁকরের পথ
পড়ে থাকে অলস স্বপ্নের মতো।
সমস্ত দিন, আর সমস্ত রাত্রি ভরে
তোমাকে পাবার বাসনা
বিষাক্ত সাপের মতো।"
এতোদিন পর,তার পুরো কবিতা সংকলন পড়ে, আগের মতো একটাই কবিতা পাঠের অনুভূতি হোলো। সমর সেনের জগৎ - যেখানে হিংস্র পশুর মতো অন্ধকার নামে, মেয়ের প্রেম স্যাকারিনের মতো মিষ্টি, বসন্ত ক্ষুধিত উজ্জ্বল জাগুয়ার, শীতের আকাশে অন্ধকার ঝোলে শূয়রের চামড়ার মতো,প্রেমিকের চোখে থাকে হিংস্র হাহাকার। ১৯৩৪-৩৭ এ লেখা কবিতাগুচ্ছ মুগ্ধকর। কিন্তু এরপরের অংশ ক্লান্তিকরভাবে পুনরাবৃত্তিপরায়ন।রীতিমতো বেগ পেতে হোলো শেষ করতে।একই উপমা, একই প্রেক্ষাপট,একই গল্প। অবশ্য তার লেখা শেষ কবিতার শেষ পঙক্তিদ্বয় শ্লেষ ও বক্রোক্তিতে অতুলনীয় -
"যৌবনের প্রেম শেষ প্রবীণের কামে
বছর দশেক পরে যাবো কাশীধামে।"
জীবনের প্রথমার্ধে লেখা কবিতার জন্যই সমর সেন স্মরণীয় ছিলেন ও স্মরণীয় থাকবেন।
February 8, 2020
সমর সেন বুদ্ধদেব বসুদের সমসাময়িক কবি ছিলেন।'কবিতা' পত্রিকা ও সম্পাদনা করেছেন।উনি বেঁচে ছিলেন ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত কিন্তু শেষ কবিতা লিখেছিলেন ১৯৪৬ সালে!মাত্র ১২ বছর কবিতা চর্চার পর কবিতা লেখা একদমই ছেড়ে দেন অথচ বাংলার প্রথম আধুনিকদের কবিদের মধ্যে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান এ দিয়েই করে নিতে পেরেছেন।বুদ্ধদেবের মতে ওই সময়ে নিশ্চিতভাবে তাঁর কবিতা পুরোপুরি রবীন্দ্রনাথের প্রভাব মুক্ত ছিলো।যদি নিয়মিত লিখে যেতেন উনার নাম অনাসায়েই জীবনানন্দ সহ বাংলা কবিদের পঞ্চপাণ্ডব খ্যাতদের সাথে সমান্তরালে উচ্চারিত হতো।
উনার কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ,বিষন্নতা আর অস্তিত্বের যন্ত্রণা ব্যক্ত হয়েছে চমৎকার ভাবে।মধ্যবিত্ত জীবনের প্রতি অবজ্ঞা আর এর থেকে মুক্তির নিস্ফল কাতরতা,আধুনিক নগর সভ্যতার চাপা ক্রন্দন উনার কাব্যের বিষয় বস্তু।যদিও কাব্যে ভাবালু রোমান্টিকতার বিরোধী উনি কিন্তু প্রেম বিষয় হিসেবে বার বার তাঁর কবিতায় এসেছে এবং তা ও বেশ চমৎকারভাবে।রাজনৈতিক গণচেতনা তাঁর কাব্যের বেশ জায়গা দখল করে রেখেছে।ওই সময়কার উত্তাল রাজনীতির উত্তপ্ত ভাঁপ তার কবিতায় লেগে আছে।
উনার কবিতার উপমা আমার কাছে অত্যন্ত অভিনব লেগেছে।আধুনিক কবিতা(আমার কাছে আধুনিক কবিতার স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে জীবনানন্দ আর বোদলেয়ারের কবিতা) বলতে যা বোঝায় তিনি তা ই লিখেছেন।উনার একেকটি কবিতা,একেকটি আঁধার রাতের মতই, একদম গ্রাস করে ফেলে হ্নদয়কে।ব্ল্যাকহোলের মতো পাঠককে টেনে দেখিয়ে নিয়ে আসে অন্ধকারের তীব্র রুপ।
এই মুহুর্তে যে লাইনগুলো আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখছে :-
মাঝে মাঝে চকিতে যেন অনুভব করি
তোমার নিঃশব্দতার ছন্দ :
সহসা বুঝতে পারি—
দিনের পর কেন রাত আসে
আর তারারা কাঁপে আপন মনে,
কেন অন্ধকারে
মাটির পৃথিবীতে আসে সবুজ প্রাণ;
চপল, তীব্র, নিঃশব্দ প্রাণ—
বুঝতে পারি কেন
স্তব্ধ অর্ধরাত্রে আমাকে কেন তুমি ছেড়ে যাও
মিলনের মুহূর্ত থেকে বিরহের স্তব্ধতায়!
উনার কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ,বিষন্নতা আর অস্তিত্বের যন্ত্রণা ব্যক্ত হয়েছে চমৎকার ভাবে।মধ্যবিত্ত জীবনের প্রতি অবজ্ঞা আর এর থেকে মুক্তির নিস্ফল কাতরতা,আধুনিক নগর সভ্যতার চাপা ক্রন্দন উনার কাব্যের বিষয় বস্তু।যদিও কাব্যে ভাবালু রোমান্টিকতার বিরোধী উনি কিন্তু প্রেম বিষয় হিসেবে বার বার তাঁর কবিতায় এসেছে এবং তা ও বেশ চমৎকারভাবে।রাজনৈতিক গণচেতনা তাঁর কাব্যের বেশ জায়গা দখল করে রেখেছে।ওই সময়কার উত্তাল রাজনীতির উত্তপ্ত ভাঁপ তার কবিতায় লেগে আছে।
উনার কবিতার উপমা আমার কাছে অত্যন্ত অভিনব লেগেছে।আধুনিক কবিতা(আমার কাছে আধুনিক কবিতার স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে জীবনানন্দ আর বোদলেয়ারের কবিতা) বলতে যা বোঝায় তিনি তা ই লিখেছেন।উনার একেকটি কবিতা,একেকটি আঁধার রাতের মতই, একদম গ্রাস করে ফেলে হ্নদয়কে।ব্ল্যাকহোলের মতো পাঠককে টেনে দেখিয়ে নিয়ে আসে অন্ধকারের তীব্র রুপ।
এই মুহুর্তে যে লাইনগুলো আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখছে :-
মাঝে মাঝে চকিতে যেন অনুভব করি
তোমার নিঃশব্দতার ছন্দ :
সহসা বুঝতে পারি—
দিনের পর কেন রাত আসে
আর তারারা কাঁপে আপন মনে,
কেন অন্ধকারে
মাটির পৃথিবীতে আসে সবুজ প্রাণ;
চপল, তীব্র, নিঃশব্দ প্রাণ—
বুঝতে পারি কেন
স্তব্ধ অর্ধরাত্রে আমাকে কেন তুমি ছেড়ে যাও
মিলনের মুহূর্ত থেকে বিরহের স্তব্ধতায়!
December 20, 2025
শুনি না আর সমুদ্রের গান
থেমেছে রক্তে ট্রামবাসের বেতাল স্পন্দন।
ভুলে গেছি সাঁওতাল পরগনার লাল মাটি
একদা দিগন্তে দেখা উদ্যত পাহাড়,
বাইজীর আসরে শোনা বসন্তবাহার।
ভুলে গেছি বাগবাজারী রকে আড্ডার মৌতাত,
বালিগঞ্জের লপেটা চাল,
আর ডালহাউসীর আর ক্লাইভ স্ট্রিটের হীরক প্রলাপ,
ডকে জাহাজের বিদেশী ডাক।
রোমান্টিক ব্যাধি আর রূপান্তরিত হয় না কবিতায়।
যৌবনের প্রেম শেষ প্রবীণের কামে।
বছর দশেক পরে যাব কাশীধামে॥
থেমেছে রক্তে ট্রামবাসের বেতাল স্পন্দন।
ভুলে গেছি সাঁওতাল পরগনার লাল মাটি
একদা দিগন্তে দেখা উদ্যত পাহাড়,
বাইজীর আসরে শোনা বসন্তবাহার।
ভুলে গেছি বাগবাজারী রকে আড্ডার মৌতাত,
বালিগঞ্জের লপেটা চাল,
আর ডালহাউসীর আর ক্লাইভ স্ট্রিটের হীরক প্রলাপ,
ডকে জাহাজের বিদেশী ডাক।
রোমান্টিক ব্যাধি আর রূপান্তরিত হয় না কবিতায়।
যৌবনের প্রেম শেষ প্রবীণের কামে।
বছর দশেক পরে যাব কাশীধামে॥
May 20, 2025
বিস্মৃতি
ভুলে-যাওয়া গন্ধের মতো
কখনো তোমাকে মনে পড়ে।
হাওয়ার ঝলকে কখনো আসে কৃষ্ণচূড়ার উদ্ধত আভাস
আর মেঘের কঠিন রেখায়
আকাশের দীর্ঘশ্বাস লাগে ৷
হলুদ রঙের চাঁদ রক্তে ম্লান হল,
তাই আজ পৃথিবীতে স্তব্ধতা এল,
বৃষ্টির আগে শব্দহীন গাছে যে কোমল, সবুজ স্তব্ধতা আসে।
ভুলে-যাওয়া গন্ধের মতো
কখনো তোমাকে মনে পড়ে।
হাওয়ার ঝলকে কখনো আসে কৃষ্ণচূড়ার উদ্ধত আভাস
আর মেঘের কঠিন রেখায়
আকাশের দীর্ঘশ্বাস লাগে ৷
হলুদ রঙের চাঁদ রক্তে ম্লান হল,
তাই আজ পৃথিবীতে স্তব্ধতা এল,
বৃষ্টির আগে শব্দহীন গাছে যে কোমল, সবুজ স্তব্ধতা আসে।
June 14, 2019
🌹🌹🌹🌹🌹
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 6 of 6 reviews






