অ্যান্টনি-- ভালো নাম অনন্ত নন্দী অত্যন্ত সাধারণ একজন যুবক। কোন সুপার পাওয়ার নেই, উড়তে পারে না, চেহারাও দুর্বল জোরে হাওয়া দিলেই গলা ব্যথা আর জ্বর চলে আসতে পারে। সেই অ্যান্টনির আপাতত একটি প্রেমিকা আছে, যে কিনা প্রচুর ঝাম দিয়ে থাকে। এক চরম হারামি কাটিং বন্ধু আছে টম। এছাড়া অফিস আছে, বস আছে, ফেসবুক আছে। আর বাংলা ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দু আছে। এটি অ্যান্টনির প্রথম অ্যাডভেঞ্চার বা মিসঅ্যাডভেঞ্চারও বলা যায়।
অনুপম রায় একজন বাংলা ভাষার সমসাময়িক গায়ক, গীতিকার এবং সুরকার। ২০১০ সালে সৃজিত মুখার্জির অটোগ্রাফ চলচ্চিত্রে "আমাকে আমার মতো থাকতে দাও" ও "বেঁচে থাকার গান" এর মাধ্যমে কলকাতার গানের জগতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন। তিনি ২৯ মার্চ, ১৯৮২ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তার প্রাথমিক শিক্ষার ১০ বছর পার করেন কলকাতার সেন্ট পালস ব্রডিং অ্যান্ড ডে স্কুলে। কলেজের পড়া শেষ করেন বেহালার এমপি বিরলা ফাউন্ডেশন থেকে। অনুপম রায় কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করেছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সালে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। অনুপম রায় গানের সবকাজ নিজেই করেন। তার অধিকাংশ গানের ক্ষেত্রেই তিনি নিজেই গান লেখেন, সুর করেন এবং গান গান। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ : ম্যাকি, বৃষ বসে থাকে, আমাদের বেঁচে থাকা, মন ও মেজাজ, অনুপম কথা, সময়ের বাইরে, ছোঁয়াচে কলম, অনুপমকথা ও অন্যান্য।
বেড়ে একটা বই! অনুপম রায় সম্প্রতি বই লিখছেন বেশ। এইবারে তাঁর গল্পে কমিক হলো, সম্বুদ্ধ বিশী'র আঁকায়। দীপ প্রকাশনা থেকে বেরোনো এই কমিক-টা আগাগোড়া বিনোদনে ভরা। সম্বুদ্ধ বিশী'র আর্ট স্টাইলও বেশ লেগেছে। "বন্ধু তোমায় এ গান শোনাব বিকেলবেলায়..." শোনা চন্দ্রবিন্ধু ফ্যানরা আছেন তো? আপনাদের জন্য মোক্ষম একটা গল্প। চন্দ্রিল, উপল, অনিন্দ্য- এই তিন কন্ঠকে ঘেঁটে বেশ রঙ্গের অবতারণা হয়েছে পুরো কাহিনীজুড়ে। এসেছে দালি'র ঘড়ি, Surrealistic Show-তে হাজিরা, চন্দ্রিলের মহাকাব্য লিখতে উন্মাদ অবস্থা আর উপলের সাধুত্ব লাভ; আর ফাঁকে ফাঁকে চন্দ্রবিন্দুর নানান গানের ঈস্টার এগ। মজার। হাতে পেলে পড়ে দেখবেন।
এমন চিত্রকথা বাংলায় কখনো পড়া হয় নি। তৈরিই হয় নি, পড়ব কী! পরাবাস্তববাদ, দাদাবাদ, কাল্পনিক সংখ্যা, প্রেমিকার দ্বিচারী-প্রেম এবং অবশ্যই কৌতুকরস—দীর্ঘ-পরিকল্পিত একটি প্রয়াস, দিগবিজয়ী অতিমানব নয়: সব দিকে হেরে যাওয়া অতিসাধারণমানবের চিত্রগাথা। দ্বিচারী-প্রেম ও ইংরেজির পুনঃ পুনঃ আগমন, তা-ও আবার রোমান হরফে, আমার না-পসন্দ। ভাষা একটা উপকরণ মাত্র, চিন্তাই মুখ্য: এ কথা যেমন আমি মানি; ভরবেগ শূন্য হলে বাংলা ভাষাটাও নড়েচড়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে না তা-ও জানি। বাংলা ভাষার ঐশ্বর্য সদব্যবহার করা দরকার। কলিযুগ হলেও এ যুগে তো আমরা মানবতাবোধ দিয়েই চালিত হই, দ্বিচারী-ত্রিচারী-বহুচারী প্রেম সে মানবতাবোধের পথে কাঁটাবিশেষ। সম্বুদ্ধ বিশীর তেরঙা (সাদা-কালো-ধূসর) অঙ্কন বলিহারি। কাটানা চেটউইন্ডের কাটানা কমিকস এমন তেরঙেই ভালো পাই।