লণ্ডনের এক অভিজাত ক্লাবে সমবেত হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পেশার তিনজন মানুষ - দু’জন পুরুষ ও একজন নারী। কারা এরা? এরা সবাই আমাদের অতি-প্রিয় মাসুদ রানার ছোটবেলার বন্ধু, আর এদেরকে জড়ো করা হয়েছে চতুর এক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবার জন্য, যার পিছনে রয়েছে রানারই খুব কাছের দুজন মানুষ - সোহানা চৌধুরি ও রায়হান রশিদ। কী চায় ওরা? ওরা জানতে চায় রানার অজানা অতীত... ওর ছেলেবেলার কথা। চলুন, পাঠক, আমরাও যোগ দিই সেই ষড়যন্ত্রে। জেনে নিই রানার রোমাঞ্চকর, ভয়াল, দুরন্ত কৈশোরের কাহিনি। সাধারণ এক কিশোরের দুর্ধর্ষ নায়কে রূপান্তরিত হবার অসামান্য উপাখ্যান।
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
- পড়া হইল অবশেষে? - হুম। - তা রানার কৈশোর কেমন দুরন্ত ছিল? নদীতে সাতরাইছে? গাছে উঠছে? বনে বাদাড়ে দৌড়াদৌড়ি করছে? - সবই করছে। - বাহ! তা রানা কোন ইশকুলে পড়াশোনা করছে? গভর্নমেন্ট ল্যাব? - না। ইটন কলেজ। - এইটা কই? ইডেন কলেজের পাশে? পুরান ঢাকায়? - না। টেমস নদীর পাশে। পুরান লন্ডনে। - ক্যান? ঢাকায় কি ভাল ইশকুল আছিল না? - ছিল। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে রানা ইটনে ভর্তি হইছিল। বাবা-মা রোড এক্সিডেন্টে মারা গেল, আপনজন বলতে আছে কেবল ব্রিটেনপ্রবাসী চাচা আর ফুফু... - হুম, বুঝলাম। তারপর কি হইল? ইশকুলে ভর্তি হওয়ার পর? - এক চাইনিজ আর এক ব্রিটিশ ছেলের সাথে ফ্রান্সশিপ হইল রানার। - ফ্রান্সশিপ? - ফ্রেন্ডশিপ... বন্ধুত্ব। ফ্রান্সশিপের পাশাপাশি এনিমিশিপও হইল কিছু দুষ্টু প্রকৃতির সিনিয়র ছেলের সাথে। ওই যে কারাতে কিড মুভির মধ্যে এমেরিকান ছেলেটা চায়নায় যায়া যে সমিস্যায় পড়ছিল, সেইরকম সমিস্যা। - কস কি? লন্ডনের ইশকুলেও জাউরা পোলাপান আছে? - জাউরা প্রকৃতির ছেলেপিলে খালি বাংলাদেশের ইশকুলেই না, দুনিয়ার সর্বত্রই আছে। - হুম। তা রানা কি করল? সবাইরে পিটাইয়া ছাতু বানায়া দিল? - আরে না। রানা তখনও রানা হয় নাই... মানে আজকের মাসুদ রানা হয় নাই। সে ছিল সাধারন বালক, আমাগো মত। তবে আমাগো মতন একেবারে ভ্যাবদা ছিল না। ভেতরে আগুন ছিল, ছাইচাপা আগুন। এশেজ কমপ্রেসড ফায়ার। - হুম। তা কী এমন ঘটল যে ছাই সরায়া আগুন বাইর হয়া আসল। ভাইঙ্গা বল ঘটনাটা। - ভাইঙ্গা কইলে তো গল্পের মজাই নষ্ট হয়া যাইব। তবে এইটা বলতে পারি, রানা কিশোর বয়সেই যে লেভেলের ভিলেনের মুখোমুখি হইছে, সেই লেভেলের ভিলেন পরিণত বয়সেও খুব বেশি পায় নাই। সত্যি কথা বললে ওই বয়সেই রানা যে অ্যাডভেঞ্চারটা করছে, সেইটা তার পরিনত বয়সে করা অনেক অ্যাডভেঞ্চারের চেয়েও মারাত্মক। - ইশকুলে আর কেমন অ্যাডভেঞ্চার হইব? ডাকাত-ফাকাত পাকরাও করছে হয়তো। সাবেক রাজাকার, বর্তমানে ডাকাত? - আরে না। ওইরকম পুতুপুতু এডভেঞ্চার না। বলা যায় পুর্নবয়স্ক মাসুদ রানার কোন মিশনে কিশোর বয়সী মাসুদ রানা জড়ায়া গেছিল। - মরার দশা হইছিল? লাইফ এন্ড ডেথ সিচুয়েশয়ান? - সেইটা আর বলতে। স্কটল্যান্ডের গভীর হ্রদের কালপানির নিচে হিলহিলে রাক্ষুসে ঈলে ভরা সরু সুড়ঙ্গের মধ্যে ডুবে মরার দশা হইছিল। - তারমানে দুরন্ত কৈশোর প্রায় ডুবন্ত কৈশোর হয়া গেছিল। - হুম। তবে ডুবন্ত কৈশোরের আগে উড়ন্ত কৈশোর, তার আগে ঝুলন্ত কৈশোর হয়া গেছিল। - মানে? - মানে ভিলেনের দুর্গে ঢোকার সময় প্রথমে পাইন গাছে ডাল ধইরা ঝুলান দিয়া তারপর উইড়া গিয়া কার্নিশে পড়ছিল রানা। - বাহ বাহ! - তার আগে ইটনে দৌড় বিষয়ক একটা গুরুত্বপুর্ন ঘটনা ছিল, সেই হিসাবে দৌড়ান্ত কৈশোরও বলা যায়। - তার মানে, দৌড়ান্ত কৈশোর+ঝুলন্ত কৈশোর+উড়ন্ত কৈশোর+ডুবন্ত কৈশোর = দুরন্ত কৈশোর। - তা চাইলে বলা যায়। - হুম। ইয়ে... মানে... হাজার হোক, রানার বই তো... হালকা পাতলা রোমান্স টোমান্স নাই? ওই যে একটা কথা আছে না, মর্নিং শোজ দ্য ডে... প্রভাতের সুর্য দেখিয়াই... - হে হে ... রানার মত কিউট পোলারে পাইয়াও পেনিলোপি ছাইড়া দিব, এইটা হয় নাকি? - পেনিলোপি টা কে? - এক অতি রুপবতী স্কটিশ কিশোরী। ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়ায়। তবে রানার গালে হালকা পাতলা একটা চুমা দিইয়াই ছাইড়া দিছে বেচারি। অনুকুল পরিবেশ না থাকায় ঘটনা আর আগায় নাই। - হুম। বইয়ের সবচেয়ে ভাল্লাগেছে কী? - সবচেয়ে ভাল্লাগছে, মাসুদ রানা কীভাবে মাসুদ রানা হইল, শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকে সে কেন বাকিদের চেয়ে আলাদা - এইগুলার ব্যাখ্যা দেয়া হইছে। প্রচ্ছদ দুর্দান্ত এবং কাহিনির সাথে পারফেক্টলি ম্যাচ করছে। - আর খারাপ? - বইটা আরেকটু মোটা হইলে ভাল হইত। বানান ভুল নাই, তবে মুদ্রন প্রমাদ আছে। বাঁধাই সুবিধার না। - আর কিছু? - কিশোর রানা নামে একটা সিরিজ হইলে ভাল হইত। - দশে কত দেয়া যায়? - নয়... না... সাড়ে নয়।
রানা সিরিজের এই বইটি বিশেষ, কারন এতে প্রায় ৪০০+ বই ধরে চলে আসা চীর যুবক মাসুদ রানার কিশোর কালের কথা বলা হয়েছে। বইতে এসেছে তার মা-বাবার অতীতের কথা, তিলে তিলে করে রানার একজন সাধারন ছেলে থেকে ইস্পাত কঠিন মানুষ হয়ে ওঠার ঘটনা। পুরো ট্রান্সফর্মেশনের বিষয়টি যথাসম্ভব ধাপে ধাপে বর্ণিত হয়েছে।
প্রথমেই আসি বইয়ের ত্রুটিতে। অন্তত আমার চোখে যেগুলো ত্রুতি মনে হয়েছে। এই বইয়ের প্রোডাকশনে তাড়াহুড়োর স্পষ্ট ছাপ রয়েছে, যেটা সাধারণত সেবার বইতে চোখে পড়ে না। বইয়ের অনেক ক্ষেত্রেই দুই শব্দ পাশাপাশি জুড়ে একটি শব্দ হয়েছে, শেষের দিকে এক জায়গায় তিনটি শব্দও জুড়ে যেতে দেখেছি। এছাড়া বইয়ের কাগজও অসামান্য রকমের পাতলা!! পরবর্তী ত্রুটি বলা যায় গল্পের প্রাথমিক গতি। গল্পটির ৬০% বেশ ধীর গতির, হ্যাঁ মেনে নিচ্ছি এটি কিশোর উপন্যাস এবং কিশোরদের বইতে অতিরিক্ত অ্যাডভেঞ্চার শুরুতেই চলে এলে ব্যাপারটা অতিকল্পনা হতে পারে। তবুও বলছি, কেননা রানা সিরিজের নিয়মিত পাঠকরা থ্রিল পেতে পেতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তারা হয়তো কৈশোরের বিষয়টা পাশ কাটিয়ে যুবক রানার ছাপ খুঁজতে চাইবে এবং বইয়ের প্রথমার্ধে নিশ্চিতভাবেই তাতে ব্যর্থ হবে। আরও একটি বিষয়, ব্যাপারটা ঠিক ত্রুটি নয়, তবে আমার মনে হয়েছে অন্তত এই গল্পটি রানার জবানীতে পাঠককে বললে তা অধিকতর মানানসই হত। ভাবুন, রানা বসে তার অতীতের কথা বলছে, স্মৃতি রোমন্থন করছে, এটাই তো যথেষ্ট রোমাঞ্চকর! নয় কি?
যাই হোক, বরাবরের মতই থার্ড পারসন পয়েন্ট অভ ভিউ থেকে লেখা গল্প এটি।
গল্পের শুরুতেই রানাকে পাওয়া যায় এক নির্ভেজাল, সুবোধ কিশোর রূপে। কারও সঙ্গে ঝামেলায় নেই, অভিভাবকদের ছাড়া যথেষ্ট বিপর্যস্ত। যেভাবে আর দশটা ছেলের বন্ধু হয়, তারও হয়েছে। যেভাবে স্কুলের দুর্বল ছেলেদের উপর সবলেরা অত্যাচার চালায়, তার উপরও চালিয়েছে। রানা তখনও নৈতিকতায় অনড়, কিন্তু শারীরিক ভাবে যথেষ্ট সবল নয়, তাই প্রতিবাদ করতে পারেনি, মার খেয়েছে।
এরপর ঘটনাক্রম চলে নিজের গতিতে, এবং ছোট ছোট ট্রেইল ধরে ক্রমশ হাজির হয় মেইন ক্লাইমেক্সে। গল্পের কাহিনী যখন প্রকৃত অর্থেই গতি পায় ঠিক তখন থেকেই এই বই দূর্বার! ক্রমাগত উত্থান পতন, টানটান শিহরন, ভয় এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে রানা সপ্রতিভ। এবং গল্পের শেষে তৃতীয়াংশ থেকে শুরু হয় আদি এবং অকৃতিম রানাকে খুঁজে পাওয়া।
প্রথম দিকের গল্প ধীর হলেও আমার পড়ে খারাপ লাগেনি। আগেই বলেছি আমি রানার নিয়মিত পাঠক নই, তাই এই উপন্যাসকে নিখাদ কিশোর উপন্যাস হিসাবে পড়তে আমার কোন আপত্তি ছিল না। তিন গোয়েন্দা সিরিজের "ঝামেলা" বইটির কথা মনে আছে? কিংবা "নেতা নির্বাচন" ? তিন গোয়েন্দা সিরিজের এই বইগুলোতে তাদের অতীত বর্ণিত হয়েছে, পড়তেও খারাপ লাগেনি, শুধুমাত্র ঘটনা কিছুটা টোন ডাউন করে অল্পবয়সী পাঠকদের উপযোগী করা হয়েছিল, এতে অন্য একটা ফ্লেভার পেয়েছিল সিরিজ। "দুরন্ত কৈশোর" বইটিও রানা সিরিজে ঠিক তেমনি একটি ডাইমেনশন যোগ করেছে।
গল্পের চরিত্রগুলো যার যার মত উজ্জ্বল এবং যৌক্তিক। রানা তো বটেই, সল্প পরিসরে আসা রেড, পেনি, এরফান চৌধুরী, ড্যানি, মিং, ইসমাত ফুপু কিংবা লর্ড গ্রিফিন, প্রত্যেকেই চমৎকার রূপায়িত হয়েছে। কেউ কেউ সহযোগী কেউবা নৃশংস, কেউ সহানুভূতিশীল, কেউ পাষণ্ড। এদের সবাইকে নি��়েই তিলে তিলে গড়ে উঠেছে বইয়ের প্রেক্ষাপট। হ্যাঁ, গল্পের মুল প্লট হয়তো আধুনিক চলচিত্র কিংবা সাইন্স ফিকশন বই পড়া পাঠকের পরিচিত লাগতে পারে, কিন্তু সেটা কোনো সমস্যা নয়। গল্পের ভিলেন বড় বড় কিংবদন্তী ভিলেনের সাথে পাল্লা দেবার ক্ষমতা রাখে। মানুষটা একগুঁয়ে, হিংস্র আর হৃদয়হীন।
বইটির লেখনী চমৎকার, বলার অপেক্ষা রাখে না। তরতর করে পড়ে ফেলেছি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। কেবল লাঞ্চ ব্রেক আর একটা ডকুমেন্ট লিখতে গিয়ে একটু বিরতি নিয়েছি এই যা!
গল্পের পরিণতি বেশ যৌক্তিক, ঠিক যেমনটা হলে ভাল, তেমনটাই হয়েছে। এবং ভবিষ্যতে আবার এমন গল্প আসতে পারে সেই হিন্টও পাওয়া গেছে প্রচ্ছন্নভাবে।
আর বেশি কথা না বাড়াই। রানার রানা হয়ে ওঠার ঘটনা, নিঃসন্দেহে রানা পাঠকরা মিস করতে চাইবেন না। তবে হ্যাঁ, মাথায় রাখবেন, দুর্ধর্ষ স্পাই মাসুদ রানা, ইস্পাত কঠিন হবার আগে একজন সাধারন বালক ছিল।
মোটমাট কিশোর অ্যাডভেঞ্চার হিসাবে দুরন্ত কৈশোর ভালোর দিকেই থাকবে।
শ্রদ্ধ্বেয় কাজীদা এবং আরমান ভাই, আপনাদের 'দুরন্ত কৈশোর' শেষ করলাম। খুব, খুব ভাল লেগেছে! মূল কাহিনিটা যেমন-তেমন (পাগল বৈজ্ঞানিক-মার্কা উন্মাদ ভিলেন আর জেনেটিক ম্যানিপুলেশন করে সুপারসোলজার-মার্কা প্রেডিক্টেবল প্লট পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে গেছি), কিন্তু এই বইটা পড়া তো কেবল রহস্য উপভোগের জন্য না, রানার হারানো কৈশোর ও তার সাধারণ থেকে অসাধারণে পরিণত হবার পথচলা শুরুর সবকিছু জানা-বোঝার জন্য... আর সে দিক থেকে বইটা শতভাগ সফল।
অনেক অনেক বছর পর একখানা রানা-উপাখ্যান পড়লাম যেখানে গল্পের প্লটের চেয়ে রানার সঠিক চরিত্রায়ণ ফোকাস পেয়েছে বেশি (অর্থাৎ প্লটকেন্দ্রিকতার বদলে চরিত্রকেন্দ্রিকভাবে গল্প এগিয়েছে), এবং এই রানা নিছক একজন বালক হলেও তার প্রতিটি পদক্ষেপ, মানসিকতা, চিন্তাধারা, দৃঢ়তা, সাহসিকতায় সেই 'ধ্বংসপাহাড়' বা 'আই লাভ ইউ ম্যান'-এর চিরপরিচিত রানার প্রতিফলন পেয়েছি। পাশাপাশি রানার পরিবার ও কাছের আত্মীয়-প্রিয়জনদের সাথে তার সম্পর্ক ও ইন্টার্যাকশনগুলোও রানার কিশোরজীবন ভালভাবে জানায় পরিপূর্ণতা দিয়েছে। আমার ব্যক্তিগত মতে নিখুঁত একটি কিশোর রানা'র গল্প ঠিক যেমন দরকার ছিল - একইসাথে কিশোর পাঠকদের উপযোগী স্বর্ণযুগের তিন গোয়েন্দার মত দারুণ এক কিশোর অ্যাডভেঞ্চার (তবে আরেকটু বেশি ডার্ক) অথবা পরিণতমনষ্ক পাঠকদের উপযোগী রানার অতীত প্রকাশের পাশাপাশি স্বর্ণযুগের মাসুদ রানার মত দুর্দান্ত এক গতিময় সাসপেন্স থ্রিলার - দুই দিক দিয়েই যথাযথ তৃপ্তি দিয়েছে। ইটন কলেজের অংশগুলো খুব উপভোগ করেছি, অবশ্য আশা করেছিলাম বইটার আরও অনেকটা অংশ রানার স্কুলজীবন নিয়ে হবে, শুরুর এক-তৃতীয়াংশের পর গল্প আর স্কুলে ফেরত গেল না দেখে কিছুটা হলেও আক্ষেপ থেকে গেছে। রানার বর্ণময় চরিত্রের সব বন্ধুদের খুব পছন্দ হয়েছে, তাদের নিয়ে রানার আরও মজার সব অ্যাডভেঞ্চার পড়তে ইচ্ছা করছে!
লেখকদ্বয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ বহু-বহু দিন পর আজন্মপ্রিয় মাসুদ রানা সিরিজের এমন একটি দুর্দান্ত উপভোগ্য এক বসায় এক নিঃশ্বাসে শেষ করার মত উপন্যাস উপহার দেয়ার জন্য।
আপনার শৈশব, কৈশোর এর হিরো কে? আমার বয়েসী অনেকেই হয়তো এক কথায় উত্তর দেবে "মাসুদ রানা"। আজ থেকে ৫০বছর আগে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এর প্রথম বই ধ্বংস পাহাড়। তার পর একে একে ৪৪৬ টি বই বেরিয়েছে এই সিরিজে। আর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বের হল ৪৪৭ নং বই "দুরন্ত কৈশোর"। এতে আছে না বলা অনেক কথা, যা গত ৫০ বছর ধরে আমাদের পাঠক হৃদয়ে দোলা দিয়ে গেছে। রানার কিশোর বয়সের গল্প।
প্রথম দিকের কিছু বই আর মাঝখানে একটা দুটো ছাড়া রানার বেশীর ভাগ বইই এডাপটেশন। শুধু এই পয়েন্ট নিয়েই দুর্মুখেরা বারবার আঘাত করেছে। কেউ বুঝতে চায়নি সত্য টা। সাইবার ক্যাফের টেবিলে বসে যে হ্যারি পটার এর যাত্রা শুরু করেছিলেন জে কে রোলিং, আজ তিনি ব্রিটেনের সবচেয়ে ধনী মহিলা। কিন্তু বই লিখেছেন কয় টা? ৭-৮টা? আমাদের দেশেও যদি বই বিক্রি করে এত টাকা পাওয়া যেত, তবে রানার প্রতিটি বই ই হত মৌলিক। "হ্যাকার" এর মত এত অসাধারন একটি মৌলিক বই ই এটা প্রমান করার যথেষ্ট। "দুরন্ত কৈশোর" ও তেমনি একটি এডাপটেশন। ইয়ং বন্ড সিরিজের প্রথম গল্প অনুসরনে লেখা।
কাজী আনোয়ার হোসেন এর লেখা সিরিজ গুলোর মধ্যে আমার একটি অন্যতম প্রিয় সিরিজ কিশোর উপন্যাস। ক্লাস এইট, ইতিকথা, ইশকুল বাড়ী এরকম অল্প কয়েকটি উপন্যাস লিখেছেন উনি। অন্যান্য সিরিজের সাথে এর পার্থক্য হল একেবারে সরল, সাবলীল, আবেগ ময় লেখা। এই সিরিজ পড়লে আপনি কখনো এর সাথে কাঁদবেন, কখনো হাসবেন। কাজীদার সাথে যেবার আমার সর্বশেষ দেখা হয়েছিল, জিজ্ঞেস করেছিলাম এই কিশোর উপন্যাস গুলো কন্টিনিউ করবেন কিনা? উনি বলছিলেন কষ্ট করে হলেও করবেন। ওনার ও নাকি খুব প্রিয় এই বই গুলো (সেই সাক্ষাৎকার এর গল আরেকদিন করব)। ঠিক সেই ধারায় লেখা এবারের "দুরন্ত কৈশোর"। অন্যান্য মাসুদরানার মত দ্রুতগতির একশন পাবেন না। পাবেন না ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া বা অসাধারন কিছু বুদ্ধির কারসাজী।
ইটনের স্কুলের এক সাধারন কিশোর এর গল্প এখানে। তাই যখন স্কুলের প্রথম দিনেই রাস্তা অবরোধ করে দাড়ায় বয়সে বড় তিন ছেলে, তখন হঠাত করে ভুলে যাই রানা যে কিশোর। আশা করি এখনই কারাতের কোন কোপে ঘায়েল হয়ে যাবে এরা। কিন্তু রানা পাশ কাটিয়ে চলে যায়। যে কোন প্রতিযোগিতায় ভাবি অন্যান্য বই এর মত রানা সুপারম্যান হয়ে জিতে যাবে সব। কিন্তু এ বই এ রানা মানুষ আর সেটাই এ বই এর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।
মাসুদ রানার অজস্র অতিমানবীয় গূন গুলোর মদ্ধ্যে আমরা খুজে পাই, অবিশ্বাস্য গাড়ী চালানোর দক্ষতা, সাঁতার, দৌড় এসব। এ বই এ সেসব এর পূর্বাভাষ ঠিক ই আছে। সেই সাথে আছে লন্ডনে রাখা রানার পুরোনো ক্লাসিক গাড়ির মিউজিয়াম এর ধারনাও।
এরফান চাচা যখন শেখান, " নিয়মটা সিম্পল, ব্যখ্যা করলেন চাচা। ক্লাচ চেপে ইঞ্জিন কে ফ্রি করে নিতে হবে তোমাকে। এরপর একসেলারেটর চেপে ঘোরাতে হবে ক্রাংকশ্যাফট। ফার্স্ট গিয়ার দিয়ে ক্লাচ ছাড়বে খুব সাবধানে। গিয়ার এনগেজ হলে চলতে শুরু করবে গাড়ী। থামাতে চাইলে ব্যবহার করবে ব্রেক।" তখন মনে হয় কিশোর আমাকেই বুঝি গাড়ী চালানো শেখাচ্ছেন। ইঞ্জিনের গর্জন বেড়ে গেলে চাচা বললেন, "শব্দটা শুনছ? এর মানে গিয়ার বদলানোর সময় হয়েছে। আগের নিয়ম টাই ফলো কর। প্রথমে চেপে ধর ক্লাচ, তারপর সেকেন্ড গিয়ারে দাও, সবশেষে খিব সাবধানে রিলিজ কর ক্লাচ"। আমি ততক্ষনে মনে মনে ভেসে যাই পুরনো রানায়, যেখানে এস্টন মার্টিন নিয়ে রানা হাইস্পিড চেজ করে গ্রীসের হাইওয়ে তে। চাচা যখন আশ্বাস দিয়ে বলেন "যদি ঠিকমত দেখভাল করতে পার, গাড়িটা একদিন তোমাকে দিয়ে দেব।" এই আলফা রোমিও নাইন্টিন হান্ড্রেড এর সাথে আমি মনে মনে চলে যাই রানার গাড়ির কালেকশন এ, যেখানে একবার আততায়ীদের গোলাগুলিতে অনেকগুলো গাড়ির ক্ষতি হয়েছিল।
সাহিত্য নিয়ে বড় লেখকদের একটা বড় যুক্তি হল লেখায় ডিটেইল থাকতে হবে। বিভূতিভূষণ এর অপুর সাথে যখন রেললাইন এর ধারে কাশবন দেখতে যাব, তখন যেন আমি সত্যি সত্যি মেঠোপথ দেখতে পাই। এখানেই বা তার কম কি?
' রানাকে নিয়ে বিকেলে মাঠের উপর দিয়ে হাটতে শুরু করলেন চাচা আর ফুপু। শেষ বিকেলের আলোয় রাংগা হয়ে আছে সব। বইছে মৃদুমন্দ হাওয়া। শহরে দূষণ নেই, আলো বাতাস খুবই নির্মল, প্র��কৃতিক। খুব ভাল লাগছে রানার। মাঠ পেরিয়ে গাছপালার সারি, তারপর বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তর - ঘাস, ঝোপঝাড় আর লতাগুল্মে ঢাকা। তার কিনারে পৌছে থামল ওরা। সূর্য তখন ডুবু ডুবু। প্রান্তরের ওপাশের পাহাড়সারি কালচে লাল বর্ণ ধারন করেছে সেই আলোয়। মাথার উপর একটা বাজপাখি উড়েছে - বাতাসে মেলে দিয়েছে চওড়া ডানা, পেয়েছে উড়োজাহাজ এর আকৃতি। তীক্ষ্ম, গগন বিদারী ডাকছাড়ল পাখিটা, পাক খেয়ে চলে গেল আরেকদিকে। এরপর সব আবার চুপচাপ। নিস্তব্ধ প্রান্তরের দিকে ঘোর লাগা চোখে চাইল রানা, প্রকৃতির বিশালত্বের সামনে নিজেকে বড় ক্ষুদ্র মনে হচ্ছে। দূরে কোথাও আগুন জ্বালানো হয়েছে, আকাশের গায়ে উঠে এসেছে সরু ধোয়ার রেখা। এ ছাড়া কোথাও জনমনিষ্যের চিহ্ন নেই। সব প্রকৃতির দখলে।"
এ বইএ রানা পরিবার ছেড়ে নুতন কলেজে এসে যখন কাদে, আমার মনে পড়ে যায় ঠিক বার বছর আগের আমার কথা। এভাবেই লুকিয়ে কাদা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
এতসব নুতনের ভিড়ে ক্লাসিক রানার যে কিছুই নেই, তা কিন্তু নয়। প্রচন্ড টর্চারের মাঝেও আছে তার টীপ্পনি কাটার অভ্যাস। আছে কবির চৌধুরী মত পাগল বৈজ্ঞানিক। না না, কবির চৌধুরী নেই, কিন্তু এই ভিলেন ও কম না। সেই পৃথিবী পাল্টে দেবার ব্রত নিয়ে নেমে যাওয়া ফ্যানাটিক। আছে বিপদের মুহুর্তে শুধু বন্ধুত্বের খাতিরে মৃত্যুর মুখে ঝাপ দেওয়ার দুরন্ত সাহস। যে দুঃসাহস এ রানা আমার মত লাখো কিশোরের চোখে হয়ে উঠেছিল সত্য, সুন্দর আর ন্যায়ের প্রতীক।
গৌরবময় ৫০ বছর পার হয়ে শতক, সহস্র আসুক। বেচে থাকুক মাসুদ রানা, বেচে থাকুন কাজীদা। আমি না থাকি, আমার মত এমন অনেক প্রজন্মের পার্থের কাছে।
কিছু কিছু বই আছে, যেগুলো পড়া শুরু করতে হয় অনেক বুঝে সুঝে। সামনে কোনও পরীক্ষা বা ভাইভা থাকলে, অথবা কোনও কিছুর ডেডলাইন থাকলে সেগুলা শুরু করা উচিত না। কেননা ওগুলো এতই ভালো যে শেষ না করা পর্যন্ত অন্য কোনও কিছুতে মনোযোগ দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সাথে লেখা যদি ভালো হয়, হাতে থাকা পরবর্তী বাংলা বইগুলো আর কেন জানি হজম হতে চায় না।
বই শেষ হলো। অনেক ভালোলাগার দিক আছে, দুই একটা অতৃপ্তিও আছে। কিন্তু সেসব থাক।
মাসুদ রানার সাথে আমাদের অনেকের পরিচয় কৈশোর থেকে । আমাদের কৈশোরকে রাঙ্গিয়ে দিয়েছে সে তার ব্যক্তিত্ব , উদার হৃদয় , মহানুভবতা দিয়ে । সবাইকে টানে কিন্তু বাঁধনে না জড়ানো ছেলেটা আমাদের দীর্ঘ ৫০ বছর সার্ভিস দিয়ে গেল । আমাদের হাসি কান্নার সঙ্গি হল । কিন্তু কেমন ছিল ব্যাকব্রাশ করা চুলের ছেলেটির জীবন ? প্রায় ৩০০+ নারীকে সঙ্গ দেওয়া এক্সট্রিম পাওয়ারের অধিকারী পুরুষটি কি ছোট বেলা থেকেই লেডি কিলার ছিল :p ;) ? নাকি আপনার আমার মত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে পড়া লাজুক ছেলে ছিল ? এই দীর্ঘ ৫০ বছরে আমরা জানতে চেয়েছি তার অতীত । কেন সে স্পাই হয়েছে ? কে ছিল তার অনুপ্রেরণা ? তার ছোটবেলার কাহিনী । মাসুদ রানার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সেবা আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে আমাদের প্রিয় লেডি কিলার মাসুদ রানার অতীতের কাহিনী । তার প্রথম এডভেঞ্চার -
লন্ডনের এক অভিজাত ক্লাবে জড়ো হয়েছে কিছু মানুষ । গোপনে এদের জড়ো করা হয়েছে , এক গোপন উদ্দেশ্য নিয়ে । না , এবার তারা কেউ ষড়যন্ত্র করছে না কোন দেশ বা মানব জাতির উপর । এরা সবাই মাসুদ রানার বন্ধু । এদের মূল হোতা মাসুদ রানারই যোগ্য সঙ্গিনী সোহানা চৌধুরী । এদের জড়ো করার উদ্দেশ্য মাসুদ রানার অতীত শুনতে চাওয়া । তাদের মাধ্যমেই জানা গেল
লন্ডনের অভিজাত এক স্কুলে পড়ত মাসুদ রানা । কিন্তু আর দশটা ছেলের মতই কি সহজ স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়া আসা যাওয়া করার ছেলে রানা ? যে হবে ভবিষ্যতের এক বড় যোদ্ধা তার স্কুল জীবন কি আপনার আমার মত হেঁসে খেলে কেটে যাবে ? ছোট মাসুদ রানাকেই দেখলে বোঝা যাবে কী , কি এক অপার প্রভিতা পেতে যাচ্ছে এসপিওনাজ দুনিয়া ? উদ্যমী , শেষ পর্যন্ত না হারা জেদ আর পরিশেষে মরণ কামড় দেওয়ার যে সুদীর্ঘ ইতিহাসের সাথে আমরা পরিচিত সেই রানাকে কি আমরা এখানে দেখতে পাবো ?
অনেকেই আপত্তি করতে দেখেছি এটাকে তিন গোয়েন্দা টাইপ একটা উপন্যাস হয়ে গিয়েছে বলে । কিন্তু তাদের কাছে প্রশ্ন আপনি একটা কৈশোরের কাছে কি আশা করেন ? সে কি সেই বয়সেই দুনিয়া জুড়ে মানবজাতির কল্যানের জন্য এডভেঞ্চার করে বেড়াবে ? আজ এই দেশে কাল সেই দেশে ঘুরে বেড়াবে ? নাকি দুরন্ত কৈশোর দেখে আপনার মনে হচ্ছে আপনার পাশের গ্রামের নদীতে ঝাপিয়ে পড়া কোন দুরন্ত কৈশোরের গল্প শুনতে চাচ্ছেন ? নাকি জব্বার মিয়ার বাগানে আম চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়া এক কৈশোরের গল্প শুনতে চাচ্ছেল । তাহলে ভাই আপনার জন্য মাসুদ রানা না । ৫০ বছর পর্যন্ত মাসুদ রানা পড়ে যদি দুরন্ত কৈশোর বলতে আম আর চেয়ারম্যানের বাড়ির মুরগি চুরি করা দুষ্টু দুরন্ত কৈশোর ভেবে থাকেন তাহলে আপনার উচিত রানা পড়া ছেড়ে দেওয়া ।
ব্যাক্তিগতভাবে আমার দারুন লেগেছে বইটা । একটা কিশোর ছেলে মাত্র স্কুলে ঢুকল আর সে প্রভাবশালীর হাতে মার খাচ্ছে আর ধীরে ধীরে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করছে সে । রক্তে আছে এভভেঞ্চারের নেশা যা কিনা বারবার ছুটে যায় নিষিদ্ধের দিকে । হার না মানা কিশোর ছেলেটির মাঝে আজকের মাসুদ রানা হবার সব লক্ষনই স্পষ্ট । অনেক ক্ষেত্রে মনেই হয় নি আমি কোন কিশোরের কাহিনী পড়ছি বরং মনে হয়েছে একজন স্পাইয়ের এডভেঞ্চার কাহিনী পড়ছি । আসলে অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে করছে কিন্তু স্পয়লার হবে বিধায় কিছুই বলতে পারছি না । আপাতত রেটিং দিয়েই নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি ।
সত্যি বলতে কি, বইটা পড়ার সময় বারবার অতীতে ফিরে যাচ্ছিলাম। তিন গোয়েন্দার সাথে কাটানো সোনালী দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিল। পুরনো তিগোর স্বাদ পেয়েছি বইটায়! (হইলেও হইতে পারে স্পয়লার এলার্ট -_-) রানাকে মনে হয়েছে কিশোর আর মুসার মিলিত রূপ। রেড হচ্ছে রবিন, পেনি জিনা। :)
মাসুদ রানা নামটা শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে যেই চিরতরুন পোড়-খাওয়া স্পাই এর কথা, এই গল্প সেই স্পাই এর ছোটবেলার। নানা পাঠক নানাভাবে কল্পনা করে নিয়েছে রানার অরিজিন স্টোরি, আজ এই বই দিয়ে দূর করা হচ্ছে সব সন্দেহের কুয়াশা।
মাসুদ রানা ছোটবেলায় নিতান্তই সাধারণ বালক ছিলো। বাবা-মাকে হারানোর পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঐতিহ্যবাহী স্কুল ইটনে পড়ানোর জন্যে। ইটনে যেয়ে তার প্রথমে মানিয়ে নিতে সমস্যা হলেও অল্পদিনেই জড়িয়ে পড়ে না কর্মকান্ডের সাথে। কাহিনীর এই পর্যায়ে তিন গোয়েন্দার ���িশোরের অরিজিনের সাথে বেশ মিল পাচ্ছিলাম, খারাপ লাগে নি সেটা। তিন গোয়েন্দার কিশোরের ভবিষ্যত রুপ হতে পারে এই স্পাইমাস্টার রানা - অলীক চিন্তা করতে বেশ ভালোই লাগছিলো।
আমি নিজে আসলে রানার অন্য বই পড়ার সময় ভেবে নিয়েছিলাম রানা এই বাংলাদেশের কোন স্কুলের নিতান্ত সাধারণ ছাত্র ছিলো। কি থেকে, কি উপলক্ষ্যে সে আর্মিতে যোগ দেয়, সেটা জানার বেশ আগ্রহ ছিলো। বিদেশি ছাত্র রানাকে মেনে নিতে কস্ট হয়নি তাই বলে। আর মানুষটার নাম যখন মাসুদ রানা, তাকে নিয়ে লেখা বই কোন টিপিক্যাল কিশোর-উপন্যাস হবে সেটাও ভাবিনি। এডভেঞ্চার, থ্রিলার - এগুলো প্রত্যাশিতই ছিলো।
পুরোপুরি অরিজিন স্টোরি এটা। রানার যত গুণ আছে, সবকিছুর শুরু কোথায় তা দেখানো হয়েছে এই বইয়ে। সে খালি হাতে কমব্যাট হোক, দুর্দমনীয় প্রাণশক্তি হোক, আর অলিম্পিক লেভেলের সাঁতার হোক - কোথায় কার কাছ থেকে শিখে এসেছে সে এসব সব বলে দেয়�� হয়েছে এই বইয়ে। সবচেয়ে আকর্ষনীয় ছিলো কে তাকে স্পাই হতে উদ্বুদ্ধ করেছে সেটা জানাটা।
কাহিনী আসলে তেমন এক্সট্রাঅর্ডিনারি কিছু না। স্কুলে শত্রুতা, যার সাথে শত্রুতা তার বাপের সাথেও গোলমাল লেগে যাওয়া, শেষে ভিলেনের দূর্গে আক্রমণ। এসবই অন্তত ৫টা থ্রিলার বই পড়েছেন এমন পাঠকের কাছেই প্রত্যাশিত ব্যাপারস্যাপার। বইটা অসাধারণ হয়ে উঠেছে কারণ লেখা রানাকে নিয়ে, তাও কিশোর বয়সের রানা। বয়সের জন্যে কিছু কাজকর্মে একটু বেখাপ্পা লাগে, কিন্তু লেখকের কল্পনাকে একটু ছাড় দেয়াই যায়।
বইয়ের অন্য ক্যারেক্টারগুলোও নিজ নিজ গুনে উজ্জ্বল। কেও রানাকে সহযোগিতা করে, কেও আগলে রাখে, কেউ টিপিক্যাল ভিলেইন মনোলোগ দেয়। রানা আবার নিতান্ত বেরসিকের মত তখন বলে উঠে, "আমাকে মারবেন তো মেরে ফেলেন, ক্লাস নিচ্ছেন কেনো?"
একটা জিনিসে আমি বড়ই মজা পেয়েছি। বইয়ের দুটো সাইড ক্যারেক্টারের নাম জিম বুচার আর রাইলি। ইংরেজি ফ্যান্টাসি আর থ্রিলার বইপড়ুয়াদের কাছে বেশ পরিচিত নাম হওয়ার কথা। জানি না এটা লেখকের ইচ্ছাকৃত কি না, না হলেও তেমন কিছু আসে যায় না।
রানা সিরিজ ফলো করে এসেছেন যারা, তাদের জন্যেই এই বই লেখা। ভবিষ্যতে এমন কাহিনী আরো আসতে পারে, সেটাও হাল্কা ইঙ্গিত দেয়া আছে। দেখা যাক কি হয়!
বইয়ের রেটিং ৪/৫ প্রিয় সিরিজের প্রিয় নায়কের অরিজিন স্টোরি বলে বোনাস দিলাম ১ মার্ক।
অবেশেষে একটানেই শেষ করে ফেললাম। মনে হচ্ছিলো সেই স্কুল লাইফে ফিরে গিয়েছিলাম। সালাতের সময়গুলো বাদে একটানে পড়ে ফেললাম মাসুদ রানার স্কুল জীবনের কাহিনী "দুরন্ত কৈশর"।
কেমন লাগলো? বেশ ভালো। কিশোর বেলার কাহিনী হিসেবে বেশ থ্রিলিং ছিলো বইটি। বেশ আগে থেকেই বইটি সম্পর্কে শুনেছিলাম বিধায় এক্সপেকটেশান একটু বেশীই ছিলো। যদিও আমার আশা ছিলো কিশোর রানাকে ঢাকার কোন স্কুলে দেখবো। কিন্তু ঘটনার ঘনঘটায় আমরা তাকে দেখবো পাই ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ইটন স্কুলে। বাংলাদেশের পটভুমিকায় রানার ছেলেবেলা দেখতে বেশ ভালোই লাগতো, যদিও বিদেশের মাটিতেও কিশোর রানাকে মোটেও বেমানান লাগেনি। :)
সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিলো ৪৪৬ টি বইতে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে দাপড়ে বেড়ানো দুর্দান্ত স্পাই মাসুদ রানার হাতেখড়ি কোথা থেকে হলো তা জানতে পেরে। সাঁতার থেকে শুরু করে, গাড়ী চালানো, আন-আর্মড কমব্যাট, শ্যুটিং, এমন কি গুপ্তচর জীবনের হাতেখড়ি পর্যন্ত, সবকিছুর শুরুটা জানা আসলেই বেশ কৌতুহল উদ্দীপক ছিলো। এখন যেন মাসুদ রানার পুরো চরিত্রটি চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে। মাসুদ রানার স্পাই জীবনকে বেছে নেবার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশী ছিলো তা জানাটা আসলেই ছিলো প্লাস পয়েন্ট। :)
কাহিনী বিন্যাস ছিলো বেশ পরিকল্পিত। তবে কিছু কিছু জায়গায় একটু বেখাপ্পা লেগেছে। বিশেষ করে শেষের দিকে রানার ট্রাক চালানোর দৃশ্য কল্পনা করে।
আমার পক্ষ থেকে জ্বলজ্বলে ৪ টি তারকা উপহার দিলাম কিশোর মাসুদ রানাকে। আরো শত বছর রাজত্ব করো বিশ্বের এসপিওনাজ ভুবনে।
শার্পশুটার, বিষনাগিনী, গুপ্তসংঘ একটাও শেষ করতে পারিনি। পাশবিক মুটামুটি লেগেছে আর নীল রক্ত পড়া হয়নি। মনে হচ্ছিল রানার সুদিনের হয়তো এখানেই ইতি। কিন্তু এটা পড়ে ধারনাটা ভেঙে গেল। কাহিনীর প্লটটা খুব একটা বিস্তৃত না যদিও কিন্তু অ্যাডাপ্টেশনের দক্ষতায় কিংবদন্তী মাসুদ রানার ছেলেবেলা হিসেবে মানিয়ে গিয়েছে। ভাল বই। প্রত্যাশা বেশ ভালভাবেই পূরণ হয়েছে। :)
একদিক থেকে থ্রিলারের সাথে পরিচয় মাসুদ রানাকে দিয়ে। এবং সে রানার বয়স থমকে আছে ২৮-৩০এর মাঝামাঝি। আরেকটু ছোট রানাকে কল্পনাতে আনিনি। মানে রানাও স্কুল পড়ুয়া ছিলো,তার একটা খেলে বেড়ানোর, বন্ধু বানানোর দিন ছিলো,এটা মাথাতেই আসেনি। রানা চিরতরুণ৷ সেই রানার আরেকটা বয়স পড়তে মজা লেগেছে।পুরোই তিন গোয়েন্দা ভাইব দেয় এই বইটা। রানাকে মনে হয় কিশোর, রেডকে মুসা, আর পেনিকে রবিন বা জিনা বলে চালিয়ে দেয়া যায়।তিন গোয়েন্দা না, আসলে নতুন কোনো এক কিশোর গোয়েন্দা উপন্যাসের নায়ক মনে হচ্ছে রানাকে। স্বতন্ত্রভাবে এটা রানা সিরিজের বাইরের বই বলে চালিয়ে দেয়া যাবে। পড়া শেষে প্রকাশকাল দেখে নিলাম৷ the 1st avenger এর আদল পড়ে নাকি একটু কাহিনীতে? আমার হিসেবে পড়ে। কিন্তু তাও কাহিনীর বর্ণনা, পরপর সাজানো, সব মিলিয়ে দুর্দান্ত এক সময় কাটবে।
না ভুল হল একটু, বলতে হবে কালের মহানায়কের কৈশোরের গল্প , তার দুরন্ত কৈশোরের গল্প। তার সম্পর্কে আমাদের মনে এতদিন ধরে বেড়ে উঠা ছোট ছোট অনেক প্রশ্নের উত্তরের গল্প ।
মাসুদ রানা বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের এক দুর্দান্ত দুঃসাহসী স্পাই ।গোপন মিশন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশ-দেশান্তরে । বিচিত্র তার জীবন । অদ্ভুত রহস্যময় তার গতিবিধি । কোমলে কঠোরে মেশানো নিষ্ঠুর সুন্দর এক অন্তর, একা ।টানে সবাইকে, কিন্তু বাঁধনে জড়ায় না । কোথাও অন্যায় অবিচার অত্যাচার দেখলে রুখে দাঁড়ায় । পদে পদে তার বিপদ শিহরণ ভয়, আর মৃত্যুর হাতছানি ।
এই লাইন গুলোর সাথে আত্মিক একটা যোগাযোগ অনুভব করেছি হাই স্কুল থেকেই ।তখন থেকেই মনের মাঝে বেশ কিছু প্রশ্ন জমা হতে থাকে , কেন রানা কেন এই পথ বেছে নিয়েছিল ??? কি ছিল সেই কারণ ? কেন রানার জীবন আর সবার চাইতে বিচিত্র? কেন টানে ? জড়াতে ওর বাঁধা কোথায় ?
সেই প্রশ্নেরই উত্তর হয়তো আমি পেয়েছি রানার সম্প্রতি বের হওয়া ৪৪৭ নাম্বার বই ‘দুরন্ত কৈশোর’ এর মাঝে।
এ গল্প আমাদের রানার ছেলে বেলার গল্প ।
এই গল্প রানার সাথে সোহানা আর রায়হান রশীদের গুটিবাজির গল্প :D
হাতে নেয়ার তিন ঘণ্টার মাঝেই শেষ হয়ে গেছে রানার দুরন্ত কৈশোরের ছোট্ট এডভেঞ্চারের গল্প। পড়া শেষে পেয়ে গেছি মনের মাঝে খুচখুঁচিয়ে চলা কিছু প্রশ্নের জবাব ।
কৈশোরের রানার মাঝে খুঁজে পেয়েছি আমি বর্তমানের রানাকে । শ্বাস রুদ্ধ হয়ে পড়েছি বেশ কিছু পৃষ্ঠা। ছোট ভাই বিশাল বলল ঐদিন রানার সাথে গুটিবাজি করা হয়েছে ছেলেবেলা থেকেই :P
গুটিবাজির স্বীকার এক ব্যবস্যায়ীর। এক অস্ত্র ব্যবস্যায়ীর। ঐ বেটা নাকি আবার ছিল রানার বাবার সাথেই পড়তো। কি কার সাথে মিল পাচ্ছেন ????
মনে করুন তো দেখুন পারেন কিনা :D
ফ্যান্টসীর কুইন জে কে রাউল��ঙ এর হ্যারী পটার সিরিজটার কথা মনে আছে ??
আর কিছু বললাম না :P
যাই হোক ইদানিং কালের রানার সাথে হাটতে অসুবিধে হচ্ছিল বেশ । কিন্তু দুরন্ত কৈশোর আবার মনে করিয়ে দিল , আমার পুরোনো স্মৃতিময় ঘটনা । আগের সেই আমেজ , সেই শ্বাস রুদ্ধকর অভিযান। যেখানে বুদ হয়ে থাকা যায় একেবারে চোখ বন্ধকরে , এক নিঃশ্বাসে শেষ করা যায় পুরো বই । তাইতো রানার সাথে সাথে সাঁতরাতে গিয়েও ফুসফুসে আগুন ধরে গিয়েছিলো আমার। কিংবা দৌড়াতে দৌড়াতে দেহের সাথে মগজের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছি নিজের মনের অজান্তেই ।
আমার রানার ছেলে বেলার মাঝে পেয়েছি আমি হ্যারী পটারকে আর পেয়েছিলাম রকি বিচের স্যাল্ভেজ ইয়ার্ডের কিশোর পাশাকে ।
হ্যারীর জীবনে যেমন ভাবে সেভেরাস স্নেইপের এসেছিলেন ঠিক তেমনই রানার জীবনেও এসেছে লর্ড গ্রিফিন মুর্তমান আতঙ্ক রূপে। হয়তো রানার শিক্ষক হিসেবে নয় কিন্তু রানার বাবার সহপাটি ছিলেন তো লোকটা নাকি ??
হয়তো একজন আদর্শ চাচা হিসেবে রানার পথের পাথেয় হিসেবে রয়ে গিয়েছেন ওর আপন চাচা এরফান চৌধুরী । উনার জন্যই হয়তো আজ আমাদের রানা আজ হেঁটে চলেছে ৫০ বছর ধরে একাকী এই ধরণীর বুকে বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টিলিজেন্টস এর হয়ে মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে ।
বই কেমন লেগেছে ?? এটা জানতে চাচ্ছেন ?? অনেক দিন পর রানার বই আরেকবার পড়তে ইচ্ছে করছে । আরেকটাবার হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে রানার সাথে। চেনা পথের চেনা বাঁকের মাঝেই ।
এটা রানার স্মৃতিচারণ মুলক বই সেটা আর অজানা নেই পাঠকদের ।
আচ্ছা আরেকটা স্মৃতি চারণ মুলক বই ছিলো , মনে আছে ???
যারা পড়েছেন তাদের কেউই ভুলেছেন বলে মনে হয় না । হ্যা পাঠক আমি আপনাদের আরেকটাবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই রানার সেই সেইন্ট মেরীর স্মৃতির কথা, রাফেলার কথা , ভোরের আলোর কথা, মোজাম্বিক স্রোতের কথা । আচ্ছা আপনাদের কি মনে হয় আই লাভ ইউ ,ম্যান টা কেন আজ রানার শ্রেষ্ঠ সারির বই বলে বিবেচিত হয় ?? শুধুই কি কাহিনীর জন্য??? নাকি অন্য কোনো কারণ ও আছে ? আমি বলব উত্তম পুরুষের বর্ণনা টা এক্ষেত্রে বেশ অগ্রনী ভুমিকা রেখেছিল। রানার নিজের জবানীতে রানার সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ গল্পের বর্ণনা পাঠককে বুদ করে রেখেছিল। বুদ হয়েছিলাম আমিও ।
দুরন্ত কৈশোর পড়ে একটা কথাই বলতে ইচ্ছে করছে , এমন লেখা পেলে রানার পাঠকদের সংখ্যা বাড়তে আবার সময় নেবে না মোটেও।
পড়ে ফেললাম মাসুদ রানার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বহুল আরাধ্য বই “দুরন্ত কৈশোর”। সেবাতে বইটা আসার খবর শুনেই সাত-সকালে গিয়ে কিনে নিয়ে আসি। তারপর টানা পড়ে শেষ করি। মাঝে কেবল কাজের কারণে দু-একবার উঠতে হয়েছিল। যাকগে, প্রথমেই আসি কাহিনি সংক্ষেপে, লন্ডনের অভিজাত এক রেস্তোরায় বান্ধবী সোহানার সাথে দেখা করতে যায় রানা। কিন্তু সেখানে তার জন্য অপেক্ষে করছিলো চমক। চাপাচাপিতে পড়ে উঠে আসে রানার বিস্মৃত অতীতের এক দুঃখের কাহিনি। মাসুদ চৌধুরি রানা। বাপ-মা হারা অনাথ এক ছেলে। পড়াশোনার পাঠ চুকাতে ভর্তি হয় লন্ডনের বিখ্যাত ইটন স্কুলে। গোঁদের উপর বিষফোঁড়ার মত এসে হাজির হয় দুষ্টু ছেলে ড্যানি গ্রিফিন। অজানা এক শত্রুতার কারণে প্রতি পদে বাঁধা দিতে থাকে সে ও তার বাবা লর্ড গ্রিফিন। ইস্টারের ছুটিতে ফুপু ও চাচার কাছে স্কটল্যান্ডে বেড়াতে যায় রানা। সঙ্গী নতুন বন্ধু রেড রাইলি। কিন্তু মূর্তিমান বিভীষিকার ন্যায় এখানেও তেড়ে আসে লর্ড রাইলি। মাছ ধরতে গিয়ে হারিয়ে গেছে রেড রাইলির কাজিন। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে এলো ঈল! মানবজাতির এক নিষ্ঠুর, নির্মম শত্রুর বিরুদ্ধে কী করতে পারবে কিশোর রানা তার জীবনের প্রথম অ্যাডভেঞ্চারে?! চমৎকার একটি কাহিনি। রানার অতীতের সাথে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে কাহিনির পরিকল্পনা। উঠে এসেছে রানার পরিবারের ইতিহাস, রানার জীবনের সংগ্রাম, মাসুদ চৌধুরি রানার আজকের রানা হয়ে ওঠার নেপথ্যের কাহিনি। কাজীদা ও আরমান ভাইয়ের যুগলবন্দীতে আমাদের রানার উপরই ছিল সম্পূর্ণ লাইমলাইট। শুরুতে ভূমিকাতেই কাজীদা কাহিনির বিন্যাস বিদেশের প্রেক্ষাপটে করার কারণ ব্যাখ্যা করলেও দেশিয় প্রেক্ষাপটে কাহিনিটা গড়ে উঠলে নিঃসন্দেহে আরো হৃদয়গ্রাহী হত। যাকগে, সে সুযোগ রেখে দিয়েছেন কাজীদা। হয়তো আসতেও পারে ভবিষ্যতে কোন এক সময়! সব মিলিয়ে , সুন্দর উপস্থাপনের জন্য ও পাঠকচাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে সময়োপযোগী এ পদক্ষেপকে জানাই সাধুবাদ।
আহ !!! অবশেষে জানা গেলো কিভাবে মাসুদ রানার MR9 এ পরিণত হওয়া শুরু হয়েছিল। I could not expect anything less from Kazi da. The book has captured his brilliance all over again and gave MR9 a childhood. I thoroughly enjoyed the story and may be I will go back again.
সেনাবাহিনীর এক প্রাক্তন মেজর.. দুর্দান্ত, দু:সাহসী স্পাই..
দুত্তুরি ছাই! কথা বলার আগেই দেখি সবাই ইয়েস! কমন পড়সে.. কমন পড়সে বলে লাফাইতেসে :/
আজ্ঞে.. আমি আপনাদের অতি পছন্দের চরিত্র মাসুদ রানাকে নিয়েই কিছু বলতে চাই :/ সুযোগ তো দ্যান!
মাসুদ রানার পাগলা ভক্ত বলতে যা বুঝায় সেটা আমি নই ( খানিক বিরতি! গালাগালি / আহারে টাইপ সমবেদনা জানানো শেষ... এখন আবার শুরু করলাম) ভাই বেরাদারদের চাপে পড়ে পড়েছিলাম বেশ কয়েকটা। বেশ ভাল লেগেছে। তার সব কিছুই মেনে নিয়েছি শুধু একটা জিনিস ছাড়া..
মানলাম সে এক্স আর্মি, তাঁর কমান্ডো ট্রেনিং আছে, ভয়াবহ রকমের দু:সাহসী অথবা ফিকশন চরিত্র... কিন্তু তারপরেও কিছু লিমিট তো থাকে :3 এত হিরোগিরি কিসের? এই একদল গুন্ডা একাই খালি হাতে পিটিয়ে সাইজ করে দিচ্ছে তো আরেকদিকে দুনিয়ার ( দুনিয়া বলতে পৃথিবী means earth) বিপদ রক্ষা করার মত কেউ নাই - সেই ঝাঁপায় পড়তেসে, বিপুল ভোটে থুক্কু বিক্রমে যুদ্ধে জয়ী হয়ে ফিরে আসতেসে, আরেকদিকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে বেচারা রানার পিছনে লেগেছে এফ.বি.আই তাদেরও গাধা বানাতে হচ্ছে, এত এত শত্রুকে ফাঁকি দিয়ে বহাল তবিয়তে বেঁচে থেকে স্পাইগিরি করা ব্লা ব্লা ব্লা...
থাম না রে ভাই!! আর কত?
আমি অবাক হইতাম। ক্যামনে কি ভাউ? মানুষের শরীর তো :3
আমার বেকুব মার্কা কথা শুনে অভিজ্ঞরা মাথা নেড়ে উত্তর দিতো ' কমান্ডো ট্রেনিং বলে কথা! বুঝতে হবে' অথবা, ' নায়করে যখন সহ্য করতে পার না তো মাসুদ রানা পড়তে আইছো ক্যান? যাও প্যান-প্যানানি মার্কা প্রেমের উপন্যাস পড় ' -_- হাল ছাড়ি নাই :P জানার চেষ্টা করছিলাম এই ব্যাটার সিক্রেট এনার্জি কি? এত শক্তি পায় কইত্তে?
তারপর সব ইতিহাস....
মাসুদ রানার পঞ্চাশ বছর পূর্তি.. ভক্তকুলের মাঝে সাজ সাজ রব। আমিও বইসা বইসা নাটক দেখি.. শুনলাম এ উপলক্ষে বিশেষ পর্ব বের হতে যাচ্ছে... মাসুদ রানার অন্ধকার সময় নিয়ে! ছোট্ট রানার কথা...
মাসুদ রানার শৈশব-কৈশোর নিয়ে কোথাও পরিষ্কার করে কিছু বলা নাই। উনিও কিছু বলতে চান না :3 পঞ্চাশ বছর উপলক্ষে জনাব মুখ খুলেছেন... সব সিক্রেট লুকিয়ে আছে দুরন্ত কৈশোরে। নড়ে চড়ে বসলাম। পড়তে হবে যে!
হাতের মুঠোয় মাসুদ রানার কৈশোর। স্বর্নালি সময়? নাকি বিভীষিকা? শৈশব-কৈশোর তো মানুষের আনন্দঘন, স্মৃতিময় অধ্যায়। তাহলে রানা কেন মুখ খুলতে চান না। বই খুলে বসলাম..
স্মৃতির পাতা হাতড়ে একে একে গল্প বলে যাচ্ছে রানা.. আর আমি উলটে যাচ্ছি পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা... তাঁর সাথে হাসি.. দু:খে কষ্ট পাই.. মায়াময়, নি:সঙ্গ, অন্তর্মুখী স্বভাবের দু:খী এক বালকের দু:খে ব্যথিত হতে থাকি.. আনন্দে চেঁচিয়ে উঠি। জানা হয় তাঁর সব কিছু... এর মাঝে কেটে গেছে কয়েকটি ঘন্টা.. পাত্তাও নেই।
আমি রাইসা, হাতে মাসুদ রানা। মাথায় চলছে তুফান। বাদবাকি দুনিয়া জাহান্নামে যাক!
পাইলাম... অবশেষে ব্যাখ্যা পাইলাম।
সত্যি বলছি... মাসুদ রানা.. এখন থেকে যতই কুপাকুপি কর আর হিরোগিরি দেখাও, অসুবিধা নাই।
ব্যাখ্যা পেয়েছি।
সত্যি বলছি... মাসুদ রানা... অসহায় মানুষের আর্তনাদ শুনে দৌড়ে এগিয়ে যাও, বিরক্ত হই না।
ব্যাখ্যা পেয়েছি।
সত্যি বলছি... মাসুদ রানা... তোমার শক্তি, সাহস আর দেশপ্রেম নিয়ে আর কোন কথা না।
ব্যাখ্যা পেয়েছি।
আর ইয়ে... সবাইকে টানো ( সবাই বলতে নারীদের কথা বলছি) কিন্তু বাঁধনে কেন জড়াও না সেটারও একটা ব্যাখ্যা পেয়েছি.. :v :v
#ভাল_থাকুক_মাসুদ_রানা
বি.দ্র: এটারে ঠিক রিভিউ বলা যায় না, আবার পাঠ প্রতিক্রিয়া বা অনুভূতি ব্যক্ত করার পোস্টও বলা যায় না :3 আসলে যে কী বলব নিজেই জানি না। আশা করি এখন থেকে মাসুদ রানা ভাল লাগবে। এই কাহিনী আরও পঞ্চাশ বছর আগেই লিখা উচিত ছিল। যাই হোক দুরন্ত কৈশোরের সাথে বেশ কিছু উড়ন্ত, দুরন্ত সময় পার হয়েছে- এতেই আমি খুশি।
মাসুদ রানার খুব বেশি বই না পড়লেও যখন জানলাম এটাতে তার ছোটবেলার গল্প তুলে ধরা হবে, খুব আগ্রহী হয়েছিলাম। হ্যাঁ পয়সা উসুল, ঈদে বাড়ি যাবার সময় ট্রেনে বসে পড়া শুরু করি। এতটাই এঙ্গেজিং গল্প যে ভীড়, গরম, হাউকাউ কোনটাই আর স্পর্শ করতে পারেনি। বন্ধুত্ব, পারিবারিক বন্ধন, হাসি ঠাট্টা, পাগলা সায়েন্টিস্ট, শ্বাসরুদ্ধকর সাসপেন্স... মানে একটা স্বার্থক কিশোর এডভেঞ্চারে যা থাকা দরকার সবই ছিলো।
কেমন ছিল মাসুদ রানার অতীত? দুর্ধর্ষ, প্রানবন্ত, একগুঁয়ে, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে এমআর-নাইনরে চিনি, তার শৈশব, কৈশোর, বেড়ে উঠাটা কেমন ছিল? কী ধরণের এডভেঞ্চারে মেতে উঠতো সে? কারা ছিল রানার সহপাঠী, পরিবার? অতীতে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা, অনুপ্রেরণা রানাকে সেনাবাহিনী, এবং পরবর্তীতে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সে যোগ দিতে উদ্ভুদ্ধ করেছিল? একটা দুর্দান্ত গল্পের মাধ্যমে এইসব প্রশ্নের জবাবই রয়েছে দুরন্ত কৈশোরে।
লং ডিসটেন্স রানার হিসেবে সবচাইতে বেশি ভালা লাগার বিষয় আছিল, রানা নিজেও কৈশোরে লং ডিসটেন্স দৌড়াইতো। এবং লং ডিসটেন্স দৌড়ানোর ব্যাপারে তার যে ফিলোসফি (মানে, সে যা ফিল করতো), তার সাথে অনেকটা রিলেট করতে পারি।
সেবা চাইলেই কিশোর রানার আরো গল্প নিয়া আসতে পারে। ভালো জমবে।
বাই দ্য ওয়ে, একটা কোশ্চেন! রানা কি মিউট্যান্ট? তার সহ্য ক্ষমতা, শক্তি কিছুটা হইলেও কি মিউট্যাশনের ফল? তা-ই বুঝাইলো? 😬
দুরন্ত কৈশোর!!! কৈশোর তো অনেকেরই দুরন্ত হয়। এতে ভিন্নতা কি আছে? হ্যা,আছে। এই দুরন্ত কৈশোরটা এক ভিন্ন ধরনের মানুষের কৈশোরের গল্প! শুধু ভিন্ন বলে পুরো ব্যাপারটা বোঝানো যায়না আসলে। বলতে হয়,এ এক জীবন্ত কিংবদন্তীর কৈশোরের গল্প। এ এক মহানায়কের কৈশোরের গল্প। মাসুদ রানা। সে কিংবদন্তীর নাম মাসুদ রানা। আজকের এই মহানায়ক, কিংবদন্তীরই কৈশোরের গল্প "দুরন্ত কৈশোর"। দীর্ঘ সময় ধরে সবার থেকে লুকিয়ে রাখা অসামান্য এক কৈশোরের গল্পই "দুরন্ত কৈশোর"।
স্কুলের ছুটিতে স্কটল্যান্ডের কিথলিতে চাচা এরফান চৌধুরীর কাছে বেড়াতে যায় রানা। যাত্রা পথেই দেখা হয়ে যায় স্কুল শত্রু ড্যানি ও নতুন বন্ধু রেডের সাথে। এদিকে কিথলি গিয়ে পরিচয় হয় দস্যি মেয়ে পেনির সাথে । ঘটনাচক্রে রেড,রানা আর পেনি জড়িয়ে পরে এক তুমুল এডভেঞ্চারে। এবং এই এডভেঞ্চারের গল্পই "দুরন্ত কৈশোর"।
ব্যস! আর কিচ্ছু বলতে চাইনা কাহিনীর ব্যাপারে। আর কিছু দরকার ও নেই আসলে। এই বই পড়ার জন্য তিনটি কারণই যথেষ্ট। এক, এটা মাসুদ রানা সিরিজ। দুই,এটা রানার কৈশোরের গল্প। তিন,সহযোগী লেখক ইসমাইল আরমান। বইটি পড়ার জন্য এই কারণগুলোই যথেষ্ট এর চেয়েও যথেষ্ট। যদিওবা অনেকে বলছে বইটা তিন গোয়েন্দার মতো, টেনে লম্বা করা, ব্লা ব্লা ব্লা.....। আমার কিন্তু মোটেও এরকম কিছু মনে হয়নি। আরমানদার ঝরঝরে লেখনি,দুর্দান্ত প্লট,কাজিদার এডিটিং.... সব মিলিয়ে অসাধারণ লেগেছে। পড়লে কেউ হতাশ হবেন না। উলটো,না পড়লে মিস করবেন ভালো কিছু।
ভালো না... মোটেও ভালো না... বেশ খানিকটা আশা নিয়ে পড়তে বসে আশাহতই হয়েছি বলা চলে। গল্পের গাঁথুনী খুবই দূর্বল। মাসুদ রানার বই হিসাবে কোন ভাবেই মেনে নেয়ার মতন না। ভাষাগত দিক থেকেও অনেকখানি দূর্বল। কাজিদার হাতের ছাপ নেই বলেই মনে হইসে। গল্পটাকে ঠেলে ঠুলে একটা দূর্বল মানের তিনগোয়েন্দার বই হিসেবে চালিয়ে দেয়া যেতে পারে। কিন্তু কোনভাবেই মাসুদ রানা হয় না।
গল্পটা মাসুদ রানার কৈশোর কালের একটি মাত্র এ্যাডভেঞ্চার নিয়ে বইটা লেখা। যেখানে আশা করেছিলাম হয়তো পুরো বইয়ে রানার কৈশোর আর পরবর্তী সময়ে স্পাই জগতে যোগ দেয়ার হয়ত একটা ব্রিফ থাকবে। অথবা শুধুমাত্র একটা এ্যাডভেঞ্চারে ফোকাস না করে পুরো সময়কালটা ছোট ছোট ঘটনায় দু তিনটা বইয়ে তুলে আনা হবে। সেরকম কিছুই ছিলো না। বা সেরকম কিছুর আভাসও পাওয়া যায় নি পুরো বইয়ে। তাই হতাশই হয়েছি বলা যায়।
পুরো বইয়ের সবচে ভালো দিক হচ্ছে বইয়ের শুরুতে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সব মাসুদরানার একটা তালিকা দিয়ে দেয়া। :D ঐ তালিকায় মার্ক করে দেখলাম যে ৪৪৭ খানা বইয়ের মধ্যে আমি প্রায় দুশো খানার মতই পড়ে ফেলেছি... :D
দুরন্ত কৈশোর (Masud Rana, #447) এই বই নিয়ে কিছু বলব না । মাসুদ রানার সাথে পাঠকদের সম্পর্ক ৫০ বছরের । আর আমার মাত্র ৯ বছরের । আজকে যখন এই বই পড়ছি তখন হিসাব করে দেখলাম এই পর্যন্ত আমি মাসুদ রানার ২৯৭ টা বই পড়েছি । আমি জানি সংখ্যাটা হয়ত বেশি দেখায় । আমি জানি এমনও কেউ আছেন যিনি কিনা আজ তার জীবনে ৪৪৭তম মাসুদ রানার ৪৪৭ নাম্বার বইটা পড়ছেন । যার একটা বইও বাদ যায় নি । যারা এই বই কিনেছেন তারা বই সম্পর্কে কিছু না বলে এই বই নিয়ে আপনার কি অনুভুতি কেবল তাই প্রকাশ করুন । নিঃসন্দেহে রানার ভক্তদের জন্য এই বই বিশেষ কোন উপহার । আনন্দময় হোক "দুরন্ত কৈশোর" পড়া ।
মাসুদ রানা সিরিজের বইগুলো পড়া হয় খুব বেছে বেছে। এর মধ্যে আবার সাম্প্রতিক সময়ের বইগুলোর সংখ্যা একেবারেই কম। তবে এই বইটা বের হওয়ার পর থেকেই পড়ার ইচ্ছা ছিলো। দেখা যাক কী হয়..
মাসুদ রানার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে এই বিশেষ বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। আমি খুব বেশি মাসুদ রানা পড়ি নি। এটাও পড়ার লিস্টে ছিল না কিন্তু এই বইটা কেনার পিছনে দায়ী ছিল একটা কমেন্ট! '১৬ সালে যখন বইটা প্রকাশ হয়, তখন অনেকেই বইটার রিভিউ দিচ্ছিলো। সেরকমই একটা রিভিউয়ের কমেন্ট সেকশনে একজনের কমেন্ট ছিল অনেকটা এরকম- "এই বইটা পড়ে পুরনো তিন গোয়েন্দার স্বাদ পেয়েছি।"
পাওয়ারই কথা কারণ গল্পটা মাসুদ রানার শৈশবকালের। এই কমেন্টটা দেখার পরপরই ঠিক করে ফেলি যে বইটা নিয়ে ফেলতে হবে! নিয়েও ফেললাম আর বলাই বাহুল্য যে সত্যিই তিন গোয়েন্দার ফ্লেভার পেয়েছিলাম! কাজেই যেসব তিন গোয়েন্দা পড়ুয়ারা মাসুদ রানা শুরু করতে চায় তাদের জন্য একটা বেস্ট অপশন হতে পারে এই বইটা!
বই কেনার ক্ষেত্রে আপনাকে কোন বিষয়টি অধিক প্রভাবিত করে? বুক রিভিউ পোস্ট নাকি কমেন্ট সেকশনে বই সম্পর্কিত একটি মন্তব্য?
আমার ক্ষেত্রে সম্ভবত এর উত্তর হবে- কমেন্ট সেকশনের কমেন্টটাই! আমি খুব কম বই-ই রিভিউ দেখে কিনেছি। তারচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি দিয়েছি সেই বই সম্পর্কে ইন্ডিভিজুয়াল কমেন্ট বা সেই বইয়ের ব্যপারে কারো পার্সোনাল মতামতকে। যারা অনলাইনে রিভিউ দেখে বই কিনে তাদের ক্ষেত্রে কমেন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ই-কমার্সের ক্ষেত্রেও এই কমেন্ট সেকশন অনেক বেশিই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে আজকাল কমেন্ট সেকশনকেও আর ভরসা করা যায় না। মানুষজন যা খুশি কমেন্ট করে রাখে, একটা ভালো বইকেও খারাপ বানিয়ে দিতে পারে একটা নেতিবাচক কমেন্ট! যেটা জানে না, বুঝে না, সেটা নিয়েও কমেন্ট করতে দ্বিধাবোধ করে না। আর সবচাইতে খারাপ যেটা সেটা হলো, কমেন্ট সেকশনে মানুষের সহনশীলতার বড্ড অভাব। আপনার একটা বই ভালো না-ই লাগতে পারে, তাই বলে যাদের বইটা ভালো লাগে তাদেরকে কটাক্ষ করার অধিকার আপনার নেই।
কাজেই বুঝেশুনে কমেন্ট করুন, কমেন্টে যেটা জানেন না সেটা নিয়ে মন্তব্য করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকুন, নেতিবাচকতা ছড়ানো বন্ধ করুন।
অসুস্থতার দিনগুলোতে সময় একেবারেই কাটতে চাইছে না। ভাবলাম.. কিছু পড়া যায় কিনা। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে সেই যে এক ঘোরের মাঝে আবদ্ধ হয়ে গিয়েছি, তারপর থেকে এখন অবধি আর বই কিংবা ম্যাগাজিন পড়ায় মনোনিবেশ করে উঠতে পুরোপুরি সক্ষম হচ্ছি না। এরমাঝে এখন অসুস্থতার সাথে সখ্যতা করবার পাওনা হিসেবেই শেষমেশ সেবার মাসুদ রানা সিরিজের দিকে হাত বাড়ালাম।
২. গত ৮-৯ দিনে তীব্র মাথাব্যাথা আর জ্বরের মাঝে অল্প-স্বল্প করে করে মাসুদ রানার অজানা অতীতের কাহিনী নিয়ে লেখা উপন্যাস “দুরন্ত কৈশোর” শেষ করেছি। এটাকে অনেকটাই রানার শৈশব এবং কৈশোর জীবনের লুকায়িত আখ্যান বলা যেতে পারে।
রানার এই কাহিনি নিয়ে যদিও সেবার পাঠকদের মাঝে অতীতেও খুব বেশি উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করেছি কিন্তু, ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এটা খুব একটা আহামরি গল্প মনে হয়নি। তাছাড়া, উপন্যাসের প্লটের বেশকিছু স্থানে হ্যারি পটার সিরিজের কিছুটা আমেজ অনুভব করেছি; নেহায়াতই তা কাকতালীয়। তাছাড়া, এখানে আমার অহেতুক সাদৃশ্য খোঁজবার উৎসুক মনোভাবও দায়ী হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু, হ্যারি পটার সিরিজের কিছু আমেজ পাওয়ায় এক হিসেবে তা আনন্দদায়কও ছিলো। স্কুল, হাউজ, ট্রেন, গ্রিফিন, লর্ড গ্রিফিন, দুর্গ, গ্রিফিন কাপ, তিন বন্ধু, মা-বাবা দুর্ঘটনায় ...এমন বেশকিছু প্রসঙ্গ এবং শব্দও বারবার হ্যারি পটারের সাথে সচেতনভাবে না হলেও আমার ভাবনায় তুলনা এনেছে/উঁকিঝুঁকি রেখেছে বারংবার। তবে, সর্বোপরি দীর্ঘদিন বাদে এসময়ে এসে বইটা শেষ করতে পেরে আমি বেশ উৎফুল্ল অনুভব করছি। আপাতত আমি রয়েছি রানার অন্য আরেকটি উপন্যাস “অন্ধ শিকারী”র ১২৪ পৃষ্ঠায়।
মাসুদ রানার শৈশব কেমন কার না জানার জন্য আগ্রহ জাগবে। রানার স্পাই হয়ে ওঠার কারন কি। ওরিজিন সম্পর্কে জানা যায়। ভালো লেগেছে পড়ে। কিছুটা তিন গোয়েন্দার এডভেঞ্চার এর মতন। তবুও গল্পটা জুড়েই মাসুদ রানার কৃতিত্ব আছে। আবার কেউ তিন গোয়েন্দার মতন বলছি দেখে না পড়ে বাচবিচার করলে হবে না। রানার দুর্দান্ত বই গুলার মতন এটি একটি।
মাসুদ রানার বড়বেলার গল্প পড়ে তো সবাইই অভ্যস্ত আমার। দুধর্ষ এই স্পাই এর ছেলেবেলার গল্প উঠে এসেছে এই উপন্যাসের। ইয়ঙ বন্ড সিরিজের "সিলভার ফিন" এর ছায়া অবলম্বনে লেখা এই বই এর পাতায় দেখা যায় কিভাবে পিতৃ-মাতৃহীন এক দুরন্ত কিশোরের মাঝে ধীরে ধীরে তার ভবিষ্যতের বীজ বপিত হয়।