"কমলাকান্তের মন হারিয়ে গিয়েছিল বা চুরি হয়েছিল । এ রকম আপনার আমার সকলেরই মন হয়তো মাঝে মাঝে চুরি যায়, কিন্তু আপনি বা আমি ঠিকই থাকি । অর্থাৎ 'আমার মন' ও 'আমি' -এ দুটি ঠিক এক বস্তু নয়, এ ধারণা আমাদের সাধারণ বুদ্ধিতেও আসে । যখনই আমরা কথায় বলি 'আমার মন' তখন 'আমি' ও 'মন' দুটি পৃথক জিনিস তা এক রকম স্বীকার করেই নিই । এখন এই ধারণাটি কতখানি বিচারসহ তা পরীক্ষা করে দেখা যাক ।"
মনোদর্শন সম্পর্কে এইভাবে তাঁর বক্তব্য আরম্ভ করেছেন মতিলাল । এবং যেরকম সহজ-সাবলীল ভাষায় এমন জটিল বিষয়গুলি সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছেন সেরকমটা আমার এর আগে চোখে পড়েনি মনোদর্শনে অন্য আর কারও আলোচনার ক্ষেত্রে । অতি-অসাধারণ আলোচনাসমৃদ্ধ এই বইটা পড়ে ভারতীয় মনোদর্শন এবং মন ও আত্মা সম্পর্কে ন্যায়-বৈশেষিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্বন্ধে অবহিত হলাম । পাশ্চাত্য মনোদর্শন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার পর থেকেই ইচ্ছা ছিল ভারতীয় দর্শনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই বিষয়ে কারও লেখা পড়ার । প্রয়াত দর্শনের অধ্যাপক আনন্দ বৈদ্যের সহধর্মিনী মঞ্জুলা মেননের একটি প্রবন্ধ "By the Light of Brahman" পড়বার পর এই ইচ্ছা আরও প্রবল হয়ে ওঠে । অবশেষে মতিলাল সেই জ্ঞানপিপাসার নিবারণ ঘটালেন । ভারতীয় দর্শন সম্পর্কে পাশ্চাত্যের দার্শনিকদের মনে যে-সব ভুল ধারণা প্রায়ই থাকে, সেগুলিতে নির্মূল করতে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা সম্পর্কেও এই বইয়ের মাধ্যমে অবহিত হলাম এবং তাতে মানুষটি সম্পর্কে শ্রদ্ধা যে আরও বৃদ্ধি পেল তা বলা বাহুল্য ।