বুড়ো জ্যাচারির বীভৎস পরিণতি দেখে আঁতকে উঠলো ওরা। জানা গেল, এ মৃত্যুর জন্য আসলে দায়ী পারভেজ নিজে - অজান্তে হলেও ওর ভুলেই খামার থেকে খোলা পানিতে গিয়ে পড়েছে শ শ মাংসখেকো মাছ - পিরানহা।
ভুল শোধরাবার জন্য উঠেপড়ে লাগল ও, কিন্তু বাধা আসছে পদে পদে।
পরিষ্কার বুঝতে পারছে পারভেজ, আরও অসংখ্য কচি প্রাণ ঝরে যেতে বসেছে অকালে। এমনকি ওদের একমাত্র সন্তান ছোট্ট বনিও মরতে বসেছে। কিছুই করতে পারছে না ও। কিন্তু বনি নয়, শেষ সময়ে খুনে পিরানহার মুখে পড়লো গিয়ে পারভেজ নিজেই।
ইফতেখার আমিনের বেশিরভাগ যুদ্ধ নির্ভর লেখা হলেও অন্যান্য অনেক সিরিজের বই তার কাছ থেকে আমরা পেয়েছি। রহস্য ও রোমাঞ্চ উপন্যাস, রোমান্টিক, কিশোর ক্লাসিক, অনুবাদ, ওয়েস্টার্ন সিরিজের আনেক বই এবং কমান্ড মিশন সিরিজের একমাত্র বই দিয়েছেন তিনি। কাজীদার শুরুকরা মেজর রাহাত সিরিজের পরবর্তী বেশ কিছু বই তার কাছ থেকে আমরা পাই।
আমেরিকা প্রবাসী এক বলদ বাঙালি দম্পত্তির ছাগলামির অনবদ্য কাহিনি। অতিরিক্ত উৎসাহে চুড়ান্ত সর্বনাশ ঘটানোর ক্লাসিক গল্প, সাথে মাথামোটা বিজ্ঞানি, আর্মি অফিসার, পুলিশ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক; সবাই যার যার ক্ষেত্রে চুড়ান্ত অদক্ষ আর গণ্ডমূর্খ। ঝরঝরে লেখনি আর টানটান উত্তেজনার কাহিনির কারণে পড়তে ভালোই লাগে।
পেন্টাগনের এক গোপন প্রজেক্ট “অপারেশন রেজরটিথ” ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিনিরা তাদের সমস্ত নদীতে মাংসখেকো “পিরানহা” ছেড়ে দিয়ে অচল করে দিতে চেয়েছিল তাদের রিভার সিস্টেম। রাতের অন্ধকারে ভিয়েতনাম গেরিলারা এইসব নদী সাতঁরে পার হয়ে এসে অতর্কিতে হামলা চালাতো তাদের উপর। এ ধরনের হামলা রোধ করার জন্যই এই ভয়ংকর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল পেন্টাগন।কিন্তু.. হঠাৎ থেমে গেল যুদ্ধ, ফলে পরিত্যক্ত হলো অপারেশন রেজরটিথ।
এদিকে ভয়ংকর এক সত্যের মুখোমুখি হল পারভেজ এবং তার স্ত্রী আইরিন।অজান্তে হলেও ওদের ভুলেই খামার থেকে খোলাপানিতে গিয়ে পড়েছে অসংখ্য মাংসখেকো মাছ-পিরানহা! ভুল শোধরাবার জন্য উঠে পড়ে লাগলো ওরা।পরিষ্কার বুঝতে পারছে এভাবে চলতে থাকলে আরও অসংখ্য প্রাণ ঝরে যাবে অকালেই।এমনকি ওদের ছোট্ট মেয়ে বনিও মরতে বসেছে। কি হবে এখন?? জানতে হলে ইফতেখার আমিন এর “ক্ষুরদাঁত” বইটি পড়ুন।
➡️প্রয়াত “ইফতেখার আমিন” স্যারের লেখা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।বরাবরের মতোই দূর্দান্ত লেখনি'র কারণে প্রায় একবসাতেই পড়ে শেষ করলাম পুরো বইটি। বইয়ের শুরুতে (রচনা-বিদেশী কাহিনী অবলম্বনে) লেখা থাকলেও গল্পের শুরুতে বা শেষে নিদির্ষ্ট কোনও সোর্স উল্লেখ করেন নি লেখক। যাই হোক,সব মিলিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর এই রোমাঞ্চোপন্যাসটি আমার বেশ ভালো লেগেছে।