শ্রীপান্থের জন্ম ১৯৩২ সালে, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে | লেখাপড়া ময়মনসিংহ এবং কলকাতায় | শ্রীপান্থ তরুণ বয়স থেকেই পেশায় সাংবাদিক | আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে যুক্ত | সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণামূলক রচনাদি লিখে যাচ্ছেন তিনি | তাঁর চর্চার বিষয় সামাজিক ইতিহাস | বিশেষত কলকাতার সমাজ ও সংকৃতি | তিনি সতীদাহ,দেবদাসী,ঠগী,হারেম-ইত্যাদি বিষয় নিয়ে যেমন লিখেছেন, তেমনিই কলকাতার পটভূমিতে লিখেছেন একাধিক রচনা | তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: আজব নগরী, শ্রীপান্থেরকলকতা, যখন ছাপাখানা এল, এলোকেশী মোহন্ত সম্বাদ, কেয়াবাৎ মেয়ে, মেটিয়াবুরুজের নবাব, দায় ইত্যাদি | বটতলা তাঁর সর্বশেষ বই | কলকাতার শিল্পী সংস্কৃতি বিষয়ে তাঁর বেশি কিছু প্রবন্ধ ইংরেজিতেও প্রকাশিত হয়েছে | বাংলা মুলুকে প্রথম ধাতব হরফে ছাপা বই হালেদের 'আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গোয়েজ'-এর দীর্ঘ ভূমিকা তার মধ্যে অন্যতম | পঞ্চাশের মন্বন্তরের দিনগুলোতে বাংলার শিল্পী সাহিত্যিক কবিদের মধ্যে নব সৃষ্টির যে অভুতপূর্ব বিস্ফোরণ ঘটে তা নিয়ে লেখা তাঁর 'দায়'বইটির ইংরেজিতে অনুবাদ প্রকাশিত হতে চলেছে |
অবিভক্ত ভারতবর্ষে অনেক ইংরেজ এদেশের লোকদের শোষণ করে রাজার মতো জীবন যাপন করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের জৌলুস নবাবদেরও হার মানিয়ে দিয়েছিলো। সেসব "ইংরেজ নবাব"দের অজানা কাহিনী বেশ রঙচঙ মিশিয়ে ভালোই গিলিয়েছেন পাঠককে।
শুধু ইংরেজ নবাবেই সীমাবদ্ধ রাখেননি শ্রীপান্থ। সিপাহী বিদ্রোহে লক্ষীবাঈ, জিনাত মহল, হযরত মহলদের ভূমিকা শুনিয়েছেন গল্পাকারে। শ্রীপান্থ বাদ দেননি হার্মাদদের নিষ্ঠুর নিপীড়নের সেই রক্তাক্ত ইতিহাস জানাতে, রূপকথার মতো করে শুনিয়েছেন রাজধানী কলিকাতা থেকে দিল্লীতে স্থানান্তরের সেই ব্যথাতুর অধ্যায়।
বইটা বেশ ছিলো, তবে আরো ভালো লাগতো যদি লেখক কাহিনীর ফ্লো ধরে এগুতে পারতেন।কিছু কিছু জায়গায় হুটহাট করে কাহিনীর পরিবর্তন ঘটেছে যা বুঝতে বেশ কষ্ট হয়েছে। ইতিহাসের ব্যাপারস্যাপার নিয়েই বইটি এক্ষেত্রে লেখক যদি ছোট্ট করেও গ্রন্থপঞ্জী দিতেন তবে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকাংশে বেড়ে যেত।