আণবিক অস্ত্র তৈরি করছে ইসরায়েল । ঠেকাবার সাধ্য নেই কারও । মিশরীয় সিক্রেট সার্ভিসের চীফ আলী কারামের মাথা খারাপ হওয়ার দশা । নিউক্লিয়ার বোম হাতে পেলে অসহ্য হয়ে উঠবে ইসরায়েলের অত্যাচার । মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর এখন সর্বনাশ ঠেকাবার একমাত্র উপায় হচ্ছে বোমা তৈরি করা । তবে যদি রক্ষা করা যায় শক্তির ভারসাম্য । কিন্তু কে দেবে প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম ? খোলা বাজারে তো বিক্রি হয়না এ জিনিস । অবৈধভাবে সংগ্রহ করতে হবে একশো টন ইউরেনিয়াম-এমনভাবে, যেন কাকপক্ষীতেও টের না পায় । ফাঁস হয়ে গেলেই বানচাল হয়ে যাবে সব । এই অসাধ্য সাধনের ভার পড়ল মাসুদ রানার ওপর ।
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
বুক রিভিউ:- বেনামী বন্দর সিরিজ:- মাসুদ রানা লেখক:- কাজী আনোয়ার হোসেন প্রকাশনী:- সেবা কয়েক বছর আগে পরেছিলাম মাসুদ রানা সিরিজের "বেনামী বন্দর" বইটা। কেন ফলেটের ট্রিপলের ছায়া অবলম্বনে লেখা। মুলত ফলেটের লেখা বলেই এত আগ্রহ নিয়ে বইটা পড়েছি। তার 'আ কি টু রেবেকা' (রানার সংকেত, আমি রানাটাই পড়েছি) পড়ার পর থেকেই আমি তার ফ্যান। বইটা পড়ার পর থেকেই তাকে (যেহেতু তার মাথা থেকেই বেরিয়েছে, অতএব সকল ধন্যবাদ তার প্রাপ্য) বসিয়ে নিয়েছি নিজের সবচেয়ে প্রিয় লেখকদের একজনের আসনে। আমার জানামতে, ফলেটের বইগুলোর বঙ্গানুবাদ তেমন একটা পাওয়া যায়না। (এক আততায়ী ছাড়া, তবুও এটা পরিপুর্ন অনুবাদ কিনা আমার সন্দেহ আছে) অতএব রানার এডাপ্টেশনই ভরসা। বেনামী বন্দরে মুল কাহিনীর অনেক কিছুই কাটছাঁট করা হয়েছে, (সম্ভবত। যেহেতু আমার আসল বইটা পড়া নেই, কিন্তু কাহিনি পড়ে তাই মনে হল) রানার কাঠামোর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য কিছু সংযোযন-বিয়োজনও করতে হয়েছে(এটা স্পষ্টই বোঝা যায়)। কাহিনীতে রানাকে মিশরের হয়ে পারমানবিক বোমা বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় ইউরোনিয়াম জোগাড় করতে দেখা যায়। আসল আগ্রহটুকু হছছে, ইউরোনিয়ামটুকু এরকম ভাবে চুরি করতে হবে যাতে কাক পক্ষিও টের না পায় যে চুরি করা হয়েছে... আর কাজটা করবে রানা একা.. ব্যাপারটা প্রায় অসম্ভব.. আর রানার কাজের সার্বক্ষণিক বাধাদানকারী হিসেবে জিওনিস্ট ইন্টেলিজেন্স আর সিআইএ তো আছেই...মোট কথা দুর্দান্ত একটা প্লট। আসল কাহিনীর সাথে খাপ খাওয়াতে গিয়ে রানার জীবনের পুরোনো কিছু ইতিহাস/ঘটনা টানা হয়েছেএবইতে(অবশ্যই আসল কাহিনীর সাথে মিল রেখে, আর যেগুলোর উল্লেখ শুধুমাত্র রানার এই বইটাতেই আছে, অন্যান্য বইগুলোতে নেই)। রানা যখন অক্সফোর্ডে পড়ত তখনকার কিছু ঘটনা টানা হয়েছে। রানা এক ইসরাইল সমর্থক ইউনিভার্সিটি প্রফেসরের বাসায় পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকত। যার স্ত্রী ছিলেন একজন লেবানীজ মুসলিম। রানার সাথে পেয়িং গেস্ট হিসেবে আরো দুজন থাকত। একজন ইসরাইলের ন্যাট কোহেন আরেকজন আমেরিকার জ্যাক রিচি। মুল কাহিনিতে এরাই রানার শত্রু..মুলত কাহিনি এই তিনজনকে নিয়েই। আর বইয়ের(আসল) নামকরনও করা হয়েছে এদের নিয়ে, দ্য ট্রিপল... সিরিজের অন্যান্য কাহিনীর সাথে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে কয়েকজন রানার কমন সহযোগী চরিত্র আনা হয়েছে কাহিনিতে। ভিনসেন্ট গগল আর সোহেল আহমেদ(সামান্য)। গল্পে নায়িকা হিসেবে দেখানো হয়েছে প্রফেসরের মেয়ে এষাকে। নামটা দেখেই আমার মাথায় একটা সন্দেহ খেলে গিয়েছে.. বাবা ইসরাইলি, নাম প্রফেসর ফিলামন্টন; মা লেবানীজ মুসলিম, রাজিয়া ফিলামন্টন। তাহলে মেয়ের এরকম বাঙালী নাম কেন...?? বইয়ের ভাষা আর লেখার স্টাইলও আমার সন্দেহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি নিশ্চিত এটা কাজীদা লেখেননি। সম্পাদনা করেছেন মাত্র। রানার অন্যতম অন্তরালবর্তী লেখকদের একজন শাহাদৎ চৌধুরী, তার মেয়ের নাম এষা চৌধুরী। এই সহজ কানেকশনটা ধরা তেমন কোন ব্যাপার না। আসল কথা বইটার ভাষাটাই অনেকটা শাচৌর মত...সন্দেহ হয়েছে সেকারনেই... কাহিনীতে রানা এষার সাথে খুব ডিপলি জরিয়ে পড়ে.. কিন্তু রানার আর কোন কাহিনিতে ওকে আনা হয়নি(আমার জানামতে)। আর ওদের সম্পর্কের কোন উপসংহারও দেওয়া হয়নি শেষে..খারাপ লেগেছে এখানেই।