সরি সুচিত্রা পিসি, আপনার 'গার্লবস' পর্যায়টিকে আমি 'আন্ডারএস্টিমেট' করে ফেলেছিলাম। কান মুলে ক্ষমা চাইছি আজ।
অবশ্য, আমাকে খুব একটা দোষ দিয়েও লাভ নেই। মিতিনের এই পাঁচটি গল্প নিয়ে ভালো কথা কমই শুনেছি। বিশ্বাস হচ্ছে না? নিজে একবার খোঁজ নিয়ে দেখুন দেখি! সেন্ট পার্সেন্ট গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, হলফনামার মতন একটাই কথা শুনবেন - 'ওওও না পড়লেও চলে। বাচ্চাদের গুলো পড়ুন'গে যান। ঐযে টুপুর না টাপুর আছে, ওগুলো।'
সত্যি বলতে, কথাগুলো ফ্যালনা নয়। সার্থক, মুখরোচক গোয়েন্দা কাহিনীর স্বাদ আপনি এইখানেতে পাবেন না। তবে একবার এই বইয়ের খপ্পরে পড়লে এক বসাতে না খালাস করে উঠে যাওয়াও অসম্ভব। এইতো ডিলেমা! নেপথ্যে আর কেউ নয়, লেখিকা ও ওনার অসম্ভব গতিময় কলমের মজারু আস্ফালন। সাক্ষাৎ সরস্বতী ঠাকুরের কৃপাধন্য না হলে, এতটা সাবলীল লেখা যায় না। তা সে হোক না শুধু ভুলভাল গোয়েন্দা গল্প মাত্র।
বইয়ের দুটো উপন্যাস ও গল্প তিনটে একেবারে ফরমায়েশি কি না, সেটা জানি না। তবে হলফ করে বলতে পারি শীর্ষেন্দুর শবর কাহিনীগুলোর তুলনায় এ জিনিস অনেক বেশি জমাট। কম্প্যারিজন টানলাম, কারণ দুই সাহিত্যিকই নিজেদের গোয়েন্দা চরিত্রদের ঠিক স্বেচ্ছায় সৃষ্টি করেননি। শবরের ক্ষেত্রে দুটো গল্পের পরেই লেখক হাল ছেড়ে দেন যেন। তুলনায় মিতিনের কোয়ালিটি বরাবরই ফার্স্ট ক্লাস। এমনকি শেষদিকের কিশোর কাহিনীগুলো অসামান্য না হলেও, দিব্যি উপভোগ্য।
এর পুরো ক্রেডিটটাই লেখিকার প্রাপ্য। গড়পড়তা কাহিনীকে স্রেফ সুপাচ্য লেখনী দিয়ে উৎরে দেওয়াটাই এই জগতের আসল ম্যাজিক ট্রিক। সারাটা জীবন এই জাদুবিদ্যা মনের আনন্দে, বইয়ের পাতায় প্রদর্শন করে গেলেন সুচিত্রা ভট্টাচার্য। এবং এখানেও সেটার অন্যথা হলো না যথারীতি। দ্রুতগামী প্লট, বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ ও বাস্তবসম্মত ক্যারেক্টার মোমেন্টস সুদ্ধু বইটির পেছনে কটা টাকা গচ্চা দিয়ে মন খারাপ হয় না আর।
বড়দের জন্য লেখা বলে এতে খুনখারাপিও আসে যথাক্রমে। তবে সবটাই বেশ সহজ-সরল। যার সমাধান, মিতিন-পার্থের বেশরম ফ্লার্টিং মাঝেই, এক ফাঁকে চটজলদি মিলেও যায়। তাই মন্দ কি? আমার আবার 'পালাবার পথ নেই'টা পড়া নেই। সময় হলে ওটাও উদরস্থ করবো'খন। তারপরে আবার যেই কে সেই। ব্যক টু আনন্দমেলাল্যান্ড!
(৩.৭৫/৫ || জুলাই, ২০২৪)