দিনের আলোয় দিগন্ত বিস্তৃত সুনীল আকাশ আর রাতের নিকষ কালোয় হাজার তারার রুপোলি ঝিকিমিকি। আমি চলেছি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে, আর্নেস্ট হেমিংওয়ের সেই নীল অন্ধকারের দেশে। তখনও জানি না ছোট্ট ডিঙি নিয়ে রাত-বিরেতে সাগরে যেতে হবে হাঙর শিকারে।
আচ্ছা, বড়শি গিলেছে মস্ত হাঙর, ডুবে গেছে বাতি বসানো বয়া, বলুন তো পাঠক, এখন কী করতে হবে?
বলুন তো, কোন তিমির পেটে আছে অসম্ভব দামি কস্তুরি? সোর্ড ফিসের তলোয়ারের গুঁতোয় নৌকোটা আবার তলিয়ে যাবে না তো?
শুধু একটা ছোরা অবলম্বন করে লড়া যায় হাঙরের সঙ্গে? নৌকোর পাশে ভেসে উঠেছে বিশাল মান্টা রে! এখন?
এই বইটার প্রতি আমি অসম্ভব কৃতজ্ঞ, কারণ বাংলাদেশের বলা চলে সম্পূর্ণ অন্যদিকে পৃথিবীতে নিকারাগুয়া নামে যে দেশ আছে সেখানে যে একটি বিশাল সমুদ্রের মতো হ্রদ আছে যার নাম লেক নিকারাগুয়া, যা কিনা পৃথিবীর একমাত্র হ্রদ যেখানে হাঙ্গর বাস করে, সেটা আমি এই বই পড়ে জেনেছিলাম এবং তার খুব অল্পদিনের মধ্যেই সেই লেক নিকারাগুয়ার মাঝে ওমেতেপে দ্বীপে কয়েকদিন থাকা হয়েছিল। যদিও জাপানি শিকারীদের ঠ্যালায় সম্ভবত সেই লেকে এখন আর কোনো হাঙ্গর নেই, তবুও হাঙ্গরের খোঁজে কয়েক জায়গায় যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে বসে বইটি আরো একবার পড়েছিলাম। এবং জেনেছিলাম দেড়শ বছর আগে প্রিয় লেখক মার্ক টোয়েন এই লেকটি পাড়ি দিয়েছিলেন জলযানে।
ফরাসি লেখক Francois Poliর সত্যি ঘটনা অবলম্বনে লেখা Sharks are caught at Night বইটির এই সুন্দর রূপান্তরটি আমার আরও একটা কারণে প্রিয় কারণ প্রায় অর্ধেক বই-ই কিউবার হাভানা নগরী, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে ওল্ড ম্যান অ্যান্ড সী'র সেই জেলেগ্রাম কোহিমার ইত্যাদি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা। ( নীল অন্ধকার নামটা হেমিংওয়ে'র লেখা থেকে নেওয়া), যেগুলো আমার অতি আপন, অতি চেনা জায়গা।
পরবর্তীতে এই বইতে উল্লেখিত একাধিক প্রাণী যেমন ম্যান্টা রে বেশ কয়েকবার দেখেছিলাম প্রশান্ত মহাসাগরে। দেখেছিলাম তিমির ঝাঁক।
সেই সাথে এটা নিছক হাঙ্গর শিকার কাহিনী নয়, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ কয়েকটি জাতির ইতিহাস বেশ আলগোছে তুলে ধরা হয়েছে, যেমন হাইতি, ডোমিনিকান রিপাবলিক, কিউবা। মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়ার স্বৈরতন্ত্রের কথাও বলা হয়েছে স্পষ্টভাবে।
এই বইটি অনলাইনে সিঙ্গেল কপি দেখা গেলেই কিনব, কারণ অনেক স্বপ্নবাজ কিশোর-কিশোরীকে এই বইটি আমি উপহার দিতে চাই।
এত সুন্দর রূপান্তরের জন্য প্রিয় কাজী মায়মুর হোসেনকে একাধিকবার ধন্যবাদ দিলে উনি বলেছিলেন ধন্যবাদটি আমাকে না দিয়ে রকিব হাসান চাচাকে দিন কারণ উনিই আমাকে এটা অনুবাদ করতে বলেছিলেন। তাদের জন্য ভালোবাসা।
বইটি সেবা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ২০০১ সালে। যদিও আমি পড়েছি মাত্র কয়েক বছর আগে, এবং ভাগ্যিস পড়েছিলাম তাই-ই না নিকারাগুয়া হ্রদে যাওয়ার স্বপ্ন মনে গেঁথে গেল বলেই না সেটা বাস্তবে পরিণত হল।
একঘেয়ে একটা বই, কাহিনীর কোন ছ্যাদব্যাদ নাই আগামাথা নাই। এক লোক যার বাড়ি ইউরোপে, খুব সম্ভব ফ্রান্সে, সে নিজের বর্ণনায় বইটা বর্ণনা করতেছে। কীভাবে কীভাবে জানি তার উদ্দেশ্য হয়ে দাড়ায় হাঙ্গর শিকার। এরপর দক্ষিণ আমেরিকার অনেকগুলা দেশে সে ঘুরে বেড়ায় হাঙ্গর শিকারের জন্যে।
ব্যস এই কাহিনী, আর কোন উঠা নামা নাই, একভাবে এগিয়ে গিয়েছে। লেখকের যখন যা মনে চাইছে লিখেছেন, যখন মনে চাইছে শেষ করে দিয়েছেন, এর চেয়ে বেশি কিছু না। এত এত বেশি পরিমাণ ক্যারেক্টার, হঠাৎই মনে হয়েছে এ লোক কে? এর নাম আগে কই শুনছি?
ভালো লাগার মধ্যে বেশ কিছু ভিন্ন ভিন্ন জাতের হাংগর ও মাছের নাম পড়েছি, সঙ্গে সঙ্গে গুগলে সার্চ করে বের করে দেখেছি কেমন দেখা যায় সেসব।একই কথা খাটে দেশ ও স্থানের নামের ক্ষেত্রেও, নাম শুনে আগ্রহ লাগলেই গুগলে, ম্যাপে বের করে ঘুরে ঘুরে দেখেছি সেসব জায়গা।
ফেসবুকে বেশ বিখ্যাত একজনের রিভিউ দেখে আগ্রহী হয়ে পড়তে বসেছিলাম, বলাই বাহুল্য হতাশ হলাম।
অনুবাদ মোটামুটি হলেও কাহিনী খুব একটা টানলো না। মাঝে মধ্যেই ঝুলে গিয়েছে, কোথাও কোথাও বেশি বড় হয়েছে লিখা। তবুও ভালো যে হাঙর আর অন্যান্য কিছু সামুদ্রিক প্রাণী সম্বন্ধে বেশ কিছু তথ্য জানা গেল।