কৌশিক রায়। প্রধান দপ্তরের একজন সুদক্ষ গোয়েন্দা এজেন্ট। তার ডানহাতের পাঞ্জায় বসানো আছে একটি ধাতব দস্তানা গোছের হাইটেক গ্যাজেট। যেটা দিয়ে গোয়েন্দা কৌশিক আঙুল দিয়ে গুলি, গ্যাস এবং অব্যর্থ চপেটাঘাত হেনে দুশমনদের নাজেহাল করে দেয়। আবার তা দিয়ে প্রধান দপ্তরের সাথে যোগাযোগও করা যায়। সায়েন্স ফ্যান্টাসি, স্পাই থ্রিলার, রহস্য নিয়ে সেই সময়ের জমজমাটি ব্যাপার ছিল এই কমিক্স (বা, গ্রাফিক নভেল) সিরিজটি।
এক কথায় বলতে গেলে বাংলার জেমস বন্ড।
শুকতারার মাসিক সংখ্যার কভারে টুকরো টুকরো কমিক্স-কাহিনি একপাতা করে ছোটবেলায় পড়লেও, সমস্ত কাহিনি একেবারে পড়ার সুযোগ এই বড়বেলায় এসে হল।
প্রথম কয়েকটা গল্প (কমিক্স) পড়ার পর এমনই ভালো লাগছিল যে অনায়াসে ৫ তারা দিতুম। কিন্তু পরের দিকের প্লটগুলি রিপিটেটিভ, কোন কোনটিতে মনে হল মাঝের কয়েক পৃষ্ঠা বাদ চলে গেছে এবং কোথা থেকে কী হল বোঝা দুষ্কর। সেই একই ধরনের কোন কিছু পাচার বা অপহরণ, কোন দ্বীপে গোলমাল, শেষে বোমা মেরে সব উড়িয়ে দেওয়া। কয়েকটি কাহিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে রচিত হলেও, অনেক কাহিনিই যে বাণিজ্যিক পত্রিকার দাবি মেটানোর জন্য কিঞ্চিৎ জোর করেই বানানো হয়েছিল তা স্পষ্ট।
আমার এডিশনটিতে কয়েকটি পাতার প্রিন্ট একেবারে আবছা। কিছু জায়গায় কৌশিককে "মিঃ সেন" বলে ডাকছে অন্য চরিত্রেরা, কেন তা জানা নেই! যেখানে পদবী "রায়" হওয়ার কথা।
তবুও বাংলায় এমন কাজ আজ অবধিও ওয়ান অফ এ কাইন্ড। বইটির দামও খুব একটা আহামরি কিছু না। কোন বৃষ্টিভেজা ঠান্ডা দিনে একবার শখ করে পড়ার জন্য মোটামুটি ভালোই। নস্ট্যালজিয়া এবং নারায়ণবাবুর দুর্ধর্ষ আর্টওয়ার্কের খাতিরেই তিন তারা।