বইয়ের শুরুর ফ্ল্যাপে লেখা রয়েছে জীবনের অমোঘ চরাই থেকে অনন্তের উৎরাই অবধি পাঠককে হাতে ধরে নিয়ে যেতে পারেন তিনি। গুলতেকিন বিষয়ে এমনটাই লেখা। ৬টি ভিন্ন ভিন্ন ভাগে ভিন্ন স্বাদের সব কবিতা আলাদা করে রাখা। আসলেই এত চড়াই-উৎরাই পেরেনো গুলতেকিনের লেখায় কোথাও নেই কারো প্রতি অভিযোগ। যেন বহুকালের পোষ্য কিছু শব্দকে ছন্দের তালে নতুন কিছু তৈরি করা। মজার ব্যাপার হলো ছন্দের ব্যাপারে আমার জ্ঞান নেই বললেই চলে। তবে পাঠক হিসেবে এটুকু বলার অধিকার রাখি বইটি সুখপাঠ্য। কবিতাগুলো যেন প্লেট, চামচ, পুকুরঘাট, জাহাজ, ঘাস, পাতা সব কিছু থেকে তৈরি হচ্ছে। হয়তোবা গুলতেকিনের জীবনবোধটাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। গার্হস্থ্য জীবন, স্কুলে পাঠদান কিংবা সন্তান আর নাতি-নাতনিদের যে জীবনে গুলতেকিন অাকড়ে ধরেছেন তার দিনলিপিই কাব্য হয়ে ধরা দিলো চোখে। এত চমৎকার কবি কেন এতদিন ছন্দের জাদুতে আমাদের ভাসালেন না, তা আসলেই বিস্ময়। মানুষের নানাবিধ প্রশ্ন’র উত্তর গুলতেকিন যেন চার পঙক্তিতেই দিয়েছেন-
ভুল করেছি, বেশ করেছি তোমার তাতে কী যায় আসে? চরাও তুমি নিজের গরু নিজের বোনা দূর্বা ঘাসে।
কিংবা সত্য নামক কবিতায় গুলতেকিনের মনে লুকানো কিছু কথা যেন দৃশ্যমান হয়ে ওঠে নিত্যদিনের যাপিত জীবনের আড়ালে আবডালে
সত্য জেনে কে কবে স্ব ের্গ গেছে, হয়েছে বিদ্বান। তাহলে কি আমাদের দুজনকে নিয়ে আমরাও প্রেম ও অপ্রেমের মিথ্যা বাগান চষে যাব?
উনার প্রথম কবিতার বই। বইজুড়ে বিষাদের ছোঁয়া শুধু..দুখ আর দুখ। মানবমনের সব দুখ বুঝি এই বইটাতে এসে জড়ো হয়েছে! ২০১৩-২০১৫ পর্যন্ত উনার লেখা কবিতাগুলো এই বইটাতে আছে। প্রতি লাইনের শেষ শব্দে সুন্দর অন্তমিল ছিল। পড়তে সবমিলিয়ে ভালোই লেগেছে..