নবাব আলিবর্দি খানের দৌহিত্র সিরাজ-উদ-দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। সরল, সহজ-বিশ্বাসী ও ধর্মপ্রাণ নবাবের অসাধারণ দেশপ্রেম ছিল। ইংরেজদের শঠতা ও ষড়যন্ত্র এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও প্রধান সেনাপতি মির জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে তিনি রাজ্য ও প্রাণ হারান। তাঁর নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হয়। এই বইয়ে রয়েছে সেই করুণ ইতিহাস। লেখকের বক্তব্যের প্রামাণিকতা এ বইয়ের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
Abul Kalam Mohammed Zakaria was a Bangladeshi scholar and archaeologist.He was awarded Ekushey Padak in 2015 by the Government of Bangladesh for his contribution to research.Zakaria earned his bachelor's in English Literature from the University of Dhaka. In 1946, he started his career as a teacher at Azizul Haq College in Bogra. Later, he joined the civil service.
In 1968, Zakaria helped to discover a site containing Sintakote Vihar of the 5th century in Dinajpur.
Zakira retired from the position of Secretary of the Ministry of Culture and Sports in 1976.
Awards: Ekushey Padak (2015) Bangla Academy Literary Award (2006) Asiatic Society Man of the Year Gold Medal
বিজয়ী এবং পরাজিত দুই পক্ষই ইতিহাস লিখে। দীর্ঘ সময় ধরে নবাব সিরাজ উদ দৌলাকে আক্রমন করে ইতিহাস লেখা হয়েছে। লেখক এই বইয়ে নায়ক সিরাজকে দেখাতে চেয়েছেন। বই থেকে বুঝা যায় লেখক বেশ গবেষণা করেছেন । কিন্তু তার লেখা পুরোপুরি একপেশে । একই কথা বার বার উল্লেখ করে নবাবকে বড় করেছেন কিংবা অন্যদেরকে ছোট করার চেষ্টা করেছেন । মীরজাফর যে আলিবর্দি খানের দয়ায় মুর্শিদাবাদে স্থান পেয়েছিলেন... এই কথা আছে অনন্ত দশবার। তবে বই থেকে অনন্ত জানা যায় যে, শাসকের মত কঠোরতা না থাকলেও নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ছিলেন তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ সরল । যেটাই হয়তোবা তার পতনের কারন ছিল। তবে বই থেকে ঐ সময়ের ধারাবাহিক ইতিহাসের বর্ণনা পাওয়া যাবে । এটাই হয়তোবা বইয়ের উপরি পাওনা ।
বাংলায় মারাঠাদের উপদ্রবের কারণে নবাব আলিবর্দি খান শাসন কাজে ঠিকমত নজর দিতে পারেননি। সুযোগ সন্ধানী ইংরেজ বণিকদল দুর্নীতিপরায়ণ রাজকর্মচারীদের সাথে যুক্ত হয়ে অন্যায় সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে থাকেন এবং উপনিবেশবাদের অংশ হিসেবে বাংলায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে থাকেন। স্বাধীনচেতা ও বুদ্ধিমান নতুন নবাব তরুণ সিরাজ-উদ-দৌলা ইংরেজদের উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন এবং সুশাসকের মতই কূটনীতি ও ক্ষেত্র বিশেষে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইংরেজ কূটকৌশলের লাগাম ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষমতালোভী নিজ আত্মীয় ও রাজকর্মচারীদের বিশ্বাসঘাতকতায় অন্যায়ভাবে যুদ্ধে হেরে যান ও প্রাণ হারান।
নবাবের সাথে করা চুক্তিভঙ্গ করে পরোক্ষভাবে বাংলার ক্ষমতা হস্তগত করে ইংরেজরা ইতিহাসের পাতা থেকে এই কলঙ্ক মুছে ফেলতে সচেষ্ট হয়। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে উপমহাদেশীয় কিছু নামধারী ইতিহাস লেখক। নতুন শাসক শ্রেনী ইংরেজদের তুষ্ট করতে কিংবা তাদের সাহায্যপ্রার্থী হয়ে এরা রচনা করেন বিকৃত ইতিহাস যাতে পলাশীর যুদ্ধের জন্য সিরাজের হঠকারিতাকেই দায়ী করা হয় এবং লর্ড ক্লাইভের চুক্তিভঙ্গকে যৌক্তিকতা দেয়ার চেষ্টা করা হয়।
এই বইটিতে লেখক এসব বিকৃত ইতিহাসগুলোকে তুলে ধরেছেন এবং তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে ভুল ভ্রান্তিগুলোকে তুলে ধরে সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা এই প্রোপাগান্ডাগুলোকে খন্ডন করার চেষ্টা করেছেন। ঐতিহাসিক গ্রন্থের আলোকে লেখকের সিরাজপ্রীতি চোখে লাগলেও প্রাসঙ্গিকতা হারায় না।
বাংলার স্বাধীন শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে জানতে ও বুঝতে অনন্য এক বই। কারণ, বইটা যিনি লিখেছেন তিনি ফার্সি বিশেষজ্ঞ হিসেবে তারীখ, সিয়ার, রিয়াজ, মোজাফফরনামা, নও বাহারের মতো ফার্সি উৎসগুলোর পাশাপাশি ইউরোপীয় উৎস ও আধুনিক লেখক, গবেষকদের তথ্যও কাজে লাগিয়েছেন।
আ ক মো যাকারিয়া স্যার, তার নিজ গুণেই এক বিস্ময়কর ধী শক্তি সম্পন্ন লেখক, অনুবাদক ও গবেষক।