হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে এক রোগির মৃত্যুর পরই সক্রিয় হয়ে উঠলো একাধিক গোষ্ঠি । ভয়ঙ্কর মানুষগুলোর উদ্দেশ্য একদমই অজানা । বাধ্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে অজ্ঞাত একজনের সাহায্য নিতে হয় ডাক্তার তুলিকে । অজ্ঞাত সেই লোকের উদ্দেশ্যও অস্পষ্ট । কাকে বিশ্বাস করবে আর কার কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে সে জানে না । দিন শেষে ক্ষমতা, লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা আর প্রতিহিংসার পর কার উদ্দেশ্য চরিতার্থ হয়?
রবিন জামান খান একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক । রবিন জামান খানের জন্ম ময়মনসিংহ শহরে, পৈত্রিক নিবাস নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষাতত্বে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি। পড়া-পড়ানো, শেখা-শেখানোর চর্চা থেকেই শিক্ষকতাকে পেশা ও লেখালেখিকে নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংকলনে বেশকিছু মৌলিক ও অনুবাদ গল্প লেখার পাশাপাশি লিখেছেন একাধিক টিভি নাটক। তার মৌলিক থৃলার উপন্যাস শব্দজাল, ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু, ব্ল্যাক বুদ্ধা, ফোরটি এইট আওয়ার্স, দিন শেষে, আরোহী ও অন্ধ প্রহর ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে বিপুল পাঠক প্রিয়তা। বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতা থেকে প্রকাশিত তার মৌলিক গ্রন্থ ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু ও শব্দজাল পশ্চিম বঙ্গের পাঠক মহলে ভালোবাসা কুড়িয়েছে। ভারতবর্ষের ইতিহাসের রহস্যময় ঘটনাবলী, সেইসাথে মানব মনের জটিল মনস্তত্ত্ব বিষয়ে আগ্রহ থেকে উনি বর্তমানে কাজ করে চলেছেন একাধিক ইতিহাস নির্ভর ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার উপন্যাস নিয়ে। এরই প্রেক্ষিতে খুব শিঘ্রই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস বিখন্ডিত, রাজদ্রোহী, ধূম্রজাল, সিপাহী, অশ্বারোহী, মুক্তি। রবিন জামান খান ঢাকায় প্রথম সারির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবষেণা করছেন তিনি।
মা কসম! এই হল থ্রিলার। ঘুম-ঘুম আবহাওয়া, ঝিমধরা দুপুর। বইটা হাতে নিয়ে লম্বা হওয়ার আগে মেয়েকে বললাম, "সন্ধে হয়ে গেলে ডেকে দিস তো।" মেয়ের কানে হেডফোন, তাতে বিটিএস। কী শুনল কে জানে। ভাবলাম, বই বুকের ওপর রেখেই ঘুমটা আসবে। আর তারপর! উফ! বইটা আনপুটডাউনেবল বললেও কম বলা হয়। এতরকম চাপান-উতোড়, খুবোখুনি, বেইমানি, আর শেষে ওইরকম একটা ট্যুইস্ট! অসা বই। একটা তারা খসালাম স্রেফ "জীবন এত ছোটো কেনে" স্টাইলে লেখাটা শীর্ণকায়, এবং প্রথমদিকে মাল্টিপল পি.ও.ভি-গত পুনরুক্তির জন্য। পড়ে ফেলুন!
প্রথমেই সাধুবাদ জানাই রবিন ভাইয়াকে এরকম অন্যরকম একটা থৃলার নভেলা আমাদের উপহার দেয়ার জন্যে। এরকম লেখা, মানে বেশ কয়েকজনের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে একটা কাহিনী বর্ণনা করে সামনে গিয়ে সবকিছু সুন্দরমতো মেলানো অনেক টাফ। কিন্তু এখানে এক্সিকিউশন একদম পার্ফেক্ট মনে হয়েছে আমার কাছে। সেই সাথে নতুন এক ধরণের লেখার সাথে পরিচিত হলাম(পলিফনি - একই কাহিনী বেশ কয়েকজনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমান্তরাল ভাবে বর্ণনা) :)
বইয়ের কাহিনীর ব্যাপারে কিছু বলতে চাচ্ছি না। ছোট বই, তার ওপর থৃলার - স্পয়লার হয়ে যাবার সম্ভাবনা থেকে যায়। পড়ার সময়ই নাহয় জেনে নেবেন। যেটুকু না বললেই নয়- ডিউটিরত এক ডাক্তারের সাথে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে থাকে এক রোগীর মৃত্যুর পর। শুরু হয় মূল ঘটনা, এরপর নানাজনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মেলানো হয় পুরোটা। একদম প্রথম অধ্যায় থেকেই গ্রিপিং।
আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে পুরো বই জুড়ে একটা উত্তেজনাকর ভাব ছিল। কোথাও কেটে যায় নি সুর। আশা করি সামনে এরকম বই আরো পাব ভাইয়ার কাছ থেকে।
ঠিক এরকম ছোট-জটিল-দ্রুতগতির বড় গল্প পড়তেই ইচ্ছে হচ্ছিল। এই গল্প সেটা পূরণ করে দিল তৃপ্তিতে।
‘ব্যবহার’–ব্যবহৃত হয় না এমন কিছু আছে? তবে সবচেয়ে ব্যবহৃত হয় কোনটি? ... মানুষ। কে, কখন, কার দ্বারা ব্যবহৃত হয়ে যাবে অন্যের কাছে তা বোঝা দুষ্কর। ব্যবহারের বপ্রক্রীড়ায় বধ হয়ে যাচ্ছে কে/কারা– তা নিয়ে ছোট্ট এই থ্রিলার।
তবে এখানেও অধ্যায়ের গণ্ডগোলটা আছে। বিগত কয়েকটা রিভিউ ধরে আমি বোধহয় শুধু অধ্যায় নিয়েই খুঁতখুঁত করছি। এই বই নিয়ে খুঁতখুঁতানিটা হলো–অধ্যায়গুলো সুন্দর; কিন্তু প্রথম দুই অধ্যায় এমনই হুবহু এক যে, স্রেফ স্কিপ করে গেলেও ক্ষতি হবে না। সংলাপ এবং ঘটনা এগোনো অন্যভাবে বলা গেলে রহস্য বুঝতে আরো কিছুক্ষণ লেগে যেত আর মজা হতো। শেষের টুইস্টটা চমৎকার।
নভেলা আমার সবসময়ই প্রিয়। কলেবরে ছোট। ফাষ্ট এন্ড ফিউরিয়াস। কাহিনীর ডেভলাপমেন্ট এত দ্রুত হয় যে, তাল ধরে রাখতে নিজের মস্তিষ্ককেও সেই গতিতে চালাতে হয়। এ ধরণের কাহিনীকে কি বলে? আমি নাম দিলাম ঝটিকা কাহিনী। :)
এবার আসি মূল গল্পে। দিন শেষে ট্যুইষ্টটা খারাপ লাগেনি। বইয়ের কাহিনী ওতো আহামরি কিছু না হলেও টানটান উত্তেজনাকর একটা ভাব ছিলো পুরো বইটি জুড়ে। যা একটানে বইটি শেষ করতে বাধ্য করলো। কাহিনীর মূল কুশীলবদের একেকজনের দৃষ্টিভন্গি থেকে ঘটনার বর্ণনা করা এবং শেষে কাহিনীর একটি সমৃদ্ধ যবনিকাপাত আসলেই কঠিন একটি ব্যাপার। খুব ঝুঁকি থাকে কোথাও কোন ফাঁক থেকে যাবার। এ দিক দিয়ে লেখক বেশ উতরে গিয়েছেন।
কাহিনী বলার তেমন কিছু নেই। পাঠকের মজা নষ্ট হবে তাতে। কাহিনীর ট্যুইষ্টগুলো বেশ মজার ছিলো। সবমিলিয়ে "দিন শেষে" ৩ তারকা পেতেই পারে।
যা ভালো লাগেনিঃ ১. লেখক নভেলাটার বর্ণনা ভঙ্গি অন্য একটা প্যাটার্নে করেছেন। একই ঘটনা একেক জনের পয়েন্ট থেকে বর্ণনা করেছেন। ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে অতুলনীয় কিন্তু দুজন মানুষের কথোপকথন উনি যখন দুজন মানুষের পয়েন্টেই উল্লেখ করেছেন তখন ব্যাপারটা বিরক্তির সৃষ্টি করেছে। এ জায়গাটার কারণেই বইটা মেদহীন লাগতে গিয়েও লাগেনি।
যা যা ভালো লেগেছেঃ ১. বেশ কয়েকটা টুইস্ট ছিলো। বিশেষ করে শেষের টুইস্টটা। ২. প্লট। ৩. লেখনী।
সব মিলিয়ে খারাপ না, তবে রবিন ভাইয়ের কাছে আশা আরো বেশি ছিলো।
হয় আমি বেশি বেশি বুঝতে শুরু করে দিসি, অনেকটা গনকের মত বর্তমান বিবেচনা করে ভূত ভবিষ্যত আন্দাজ করে ফেলছি আগে থেকেই 😒 আর না হয় ভালো থ্রিলার খুঁজতে গিয়ে সামনে যা পাচ্ছি,সেই লেখকের অন্য বইয়ের জনপ্রিয়তা দেখে পড়া শুরু করে এখন আফসোস করতেছি😑
ছোট প্লটে - ভালো বই। আহামরি লাগে নি - তবে থ্রিলটা বেশ ভালোই টের পাওয়া যায় - এই নভেলায়। রবিন জামান খানের হিস্টোরিকাল থ্রিলার সবগুলোই পড়া হয়েছে। সেগুলোর তুলনায় এই বইটা বেশ হালকা মনে হয়েছে।
দক্ষ থ্রিলার লেখক রবিন জামান খানের নভেলা দিন শেষে। হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক লোক মারা যাওয়ার পরেই তাকে নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল কয়েকটি গ্রুপ। আর তাদের মাঝখানে পড়ে গেল সেই হাসপাতালেরই একক ডাক্তার। লোকটা মারা যাওয়ার আগে তাকে এমন কিছু তথ্য দিয়ে গেছে যার হদিস পেতে চাইছে সবাই। টানটান উত্তেজনায় ভরা নিখাদ থ্রিলার নভেলাটার শেষ পর্যন্ত না পড়ে উপায় নেই। এবং সমাপ্তিটা লেখক দারুণ টেনেছেন। আমি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট!
চমৎকার নভেলার জন্য লেখককে সাধুবাদ জানাতেই হবে। একাধিক পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে লিখে শেষ পর্যন্ত এক বিন্দুতে মেলানোর যে মুন্সিয়ানা তিনি দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। টানটান উত্তেজনা আর একশন দৃশ্যে ভরপুর। নভেলার শেষ ভাগটুকুও বিশেষ প্রশংসার দাবিদার।
ডিউটি শেষ করে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার কথা ভাবছিল ডিউটি ডাক্তার তুলি। এমন সময় ইমার্জেন্সিতে একজন মানুষ আসল একা একাই। কিন্তু চিকিৎসা শুরু করার আগেই মৃত্যু বরন করল লোকটা। গায়ে পাওয়া গেল ৩টা গুলির ক্ষত। মারা যাওয়ার আগে তুলিকে কানে কানে কিছু কথা বলে যায়। যা এক ঝটকায় পালটিয়ে দেয় তুলির জীবন। কথা গুলো জানার জন্য একাধিক দল পিছু নেয় তুলির। এমন সময় সম্পূর্ন অপরিচিত এক যুবক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় বিপদে। অপরিচিত হলেও সাহায্য নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না তুলির। ঘটনাচক্রে সে জড়িয়ে যায় আন্ডারগ্রাউন্ডের সব ঘটনার সাথে।
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ রবিন জামান খানের পড়া এটাই প্রথম বই আমার। এই স্টাইলে লিখা বই মনে হয় আরেকটা পড়েছিলাম। প্রত্যকের দৃষ্টিভংগীর দিক থেকে টেনে গল্প আগিয়ে নিয়ে যাওয়া। যদিও এতে পৃষ্টা কিছু বাড়লেও গল্প কিন্তু ওই একযায়গাতেই ঘুরপাক খায়।
শুরু থেকেই ইঁদুর বিড়াল দৌড়, শেষে একটা দারুন টুইস্ট, প্রায় পুরোটাই রকেটগতির। শুরু হতে না হতেই শেষ। একটা ঘটনা তিনজনের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখানোটা বেশ মজার ছিল। চট্টগ্রাম শহরের মেডিকেলের একজন ডাক্তারের কোলে লুটিয়ে পড়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদারের ডান হাত। মৃত্যুর সময় ডাক্তারকে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়ে যায় সে। এরপর থেকেই সে ডাক্তারের পিছনে লাগে একদল গুন্ডা, পুলিশ ও একজন কন্ট্রাক্ট কিলার। কি এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেটা? শেষমেষ কার স্বার্থ পূরণ হবে? ডাক্তারটা কি স্বাভাবিক জীবনে বেঁচে ফিরতে পারবে? নাকি তাকে বরণ করতে হবে কোনো পরিণতি?
'দিন শেষে' একটি দ্রুত গতির থ্রিলার। কাহিনীর শুরুটা হয় আগ্রাবাদের লাইফ-লাইন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি এরিয়াতে। প্রধান চরিত্র ডাক্তার তুলি, যিনি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় এক রোগির মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। মারা যাওয়া সেই রোগি ছিলেন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এক 'গডফাদার'-এর প্রধান সহকারী।এই মৃত্যুটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই অপরাধ জগৎ থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে ডাক্তার তুলিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে। এই ভয়ঙ্কর মানুষগুলোর উদ্দেশ্য ডাক্তার তুলির কাছে একদমই অজানা থাকে। প্রাণ বাঁচাতে তুলি বাধ্য হন একজন অজ্ঞাত এবং রহস্যময় ব্যক্তির সাহায্য নিতে,যার আসল উদ্দেশ্যও অস্পষ্ট। একটি মাত্র মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় ডাক্তার তুলি, একজন খুনি এবং একজন পুলিশ অফিসারের জীবন, যাদের প্রত্যেকেই ক্ষমতা, লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা আর প্রতিহিংসার এক জটিল জালে জড়িয়ে পড়েন।
লেখকের লেখা দ্বিতীয় বই আমার জন্য। অত্যন্ত বোরিং। জাস্ট শেষ করার জন্য পড়ে শেষ করেছি। ২৫ শে মার্চ টা খুব ভালো লেগে ছিলো লেখকের।আরো পড়তে হবে লেখকের বই।
বইয়ের নামঃ কেটজালকোয়াটল ও সৃষ্টিবিনাশ রহস্য / দিন শেষে বইয়ের ধরণঃ মাইথোলজিক্যাল মিস্ট্রি / থ্রিলার উপন্যাসিকা বইয়ের লেখকঃ তানজীম রহমান / রবিন জামান খান প্রচ্ছদঃ ডিলান প্রকাশকালঃ জুন ২০১৬ প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশনী পৃষ্ঠাঃ ৯৩/৭৯ মূদ্রিত মূল্যঃ ১৭০ টাকা
সার-সংক্ষেপঃ কেটজালকোয়াটল ও সৃষ্টিবিনাশ রহস্যঃ- শুধু একটা খুন নয়-ধ্বংস হয়ে গেছে পুরো একটা বিশ্ব। সাধারণ কোনো গোয়েন্দা নয়, তদন্তে নেমেছে স্বয়ং সে বিশ্বের স্রষ্টা, দেবতা কেটজালকোয়াটল। সে জানে না এ তদন্ত তাকে নিয়ে যাবে অজানা ভুবনে, দাঁড় করাবে অকল্পনীয় বিপদের মুখোমুখি, দিতে বাধ্য করবে অসম্ভব সব পরীক্ষা। ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে দেবতা, দানব, জাদু আর মৃত্যুর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ষড়যন্ত্রের জাল।
দিন শেষেঃ- হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে এক রোগির মৃত্যুর পরই সক্রিয় হয়ে উঠলো একাধিক গোষ্ঠি। ভয়ঙ্কর মানুষগুলোর উদ্দেশ্য একদমই অজানা।বাধ্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে অজ্ঞাত একজনের সাহায্য নিতে হয় ডাক্তার তুলিকে। অজ্ঞাত সেই লোকের উদ্দেশ্যও অস্পষ্ট। কাকে বিশ্বাস করবে আর কার কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে সে জানে না। দিন শেষে, ক্ষমতা, লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা আর প্রতিহিংসার পর কার উদ্দেশ্য চরিতার্থ হয়?
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ এক মলাটে যেহেতু ২টা উপন্যাসিকা, তাই পাঠ প্রতিক্রিয়াও আলাদা আলদাভাবে তুলে ধরছি... কেটজালকোয়াটল ও সৃষ্টিবিন্যাশ রহস্যঃ- চমৎকার প্লট। দূর্দান্ত গতি। মাইথোলজি নিয়ে এরকম মৌলিক লেখা আগে কখনও পড়েছি বলে মনে পড়ে না। আলোচ্য উপন্যাসিকাতে সব আছে। গ্রীক, রোমানসহ অনেক গুলো মাইথোলজিকাল ক্যারেক্টার নিয়ে তৈরী হয়েছে গল্পটি। গল্পের বর্ণনাও ভালো ছিল। বেশি বকবকানি নেই। বাহুল্য বর্জিত লেখা। সেই সাথে বেশ সংক্ষেপেই চমৎকার বর্ণনা করেছেন লেখক। ৭৫ পৃষ্টার ভেতর খুব সুন্দরভাবে সমাপ্তি টেনেছেন গল্পের। তবে গল্পের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম বেশ কাটখোট্টা লেগেছে। পড়তে বা উচ্চারণ করতে গিয়ে কষ্ট হয়েছে বেশ। নামগুলো যদি সত্যিকারেই মাইথোলজির সাথে মিল থাকে তাহলে কিছু বলার নেই। কিন্তু লেখকের নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত হলে বলবো, আরেকটু সহজ নাম নেওয়া উচিত ছিল।
দিন শেষেঃ নাম শুনে মনে হবে কোন রোমান্টিক উপন্যাস। কিন্তু তা না। এটি একটি থ্রিলার উপন্যাসিকা। বইটা কেমন লেগেছে যদি জিজ্ঞেস করেন, তবে বলবো মোটামুটি লেগেছে। গল্পের প্লট ভালো ছিল। তবে ঘাঘু থ্রিলার পাঠকের কাছে কিছুটা প্রেডিক্টেবল মনে হতে পারে। উপন্যাসিকা বা নভেলার নিয়মানুসারে, এই ধরণের লেখায় কোন সাব-প্লট থাকে না। তবে লেখক আলোচ্য গল্পে কিছু সাব প্লট এনেছেন। গল্পের চরিত্র বেশি না, কিন্তু প্রত্যেকটি চরিত্রকে নিয়ে আলাদা আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে একই দৃশ্যপট তুলে ধরেছেন। যার ফলে গল্প হয়েছে স্লো, পৃষ্ঠা গিয়েছে বেড়ে আর পাঠক হয়েছে বিরক্ত। হ্যাঁ, ক্যারেকটার বিল্ডিঙের জন্য এধরণের লেখা বেশ কাজে দেয়, কিন্তু সেটা উপন্যাসে মানায়। উপন্যাসিকাতে না। লেখকের এরকম অতিরক্ত বর্ণনার ফলে গল্পের প্রথম ৫০ পৃষ্টা বেশ স্লো লেগেছে। কিন্তু ৫০ পৃষ্ঠার পরে লেখা রোলার কোস্টার গতিতে ছুটতে থাকে আর শেষ অবধি সেই গতি ও উত্তেজনা ধরে থাকে। এবার আসি লেখনীর কথায়। লেখক রবিন জামান খান ভালো লেখেন। তাঁর লেখার স্টাইল ভালো। সাবলীলতাও আছে বেশ। কিন্তু প্লট সিলেশনে কোথায় যেন বরাবরই দুর্বলতা লক্ষ্য করি। লেখকের প্রথম মৌলিক বই “২৫শে মার্চ” এর পরে অন্য কোন লেখা সেভাবে ভালো লাগেনি। তবে ২০১৭ সালে তাঁর নতুন আরো ২ টি নভেলা বেরিয়েছে। এখনো পড়া হয়নি। তাই আশা করছি ঐ দুইটা ভালো লাগবে আমার।
এখন বলবো বইয়ের বাহ্যিক ও সার্বিক দিকের কথা। বইটি এপিঠ ওপিঠে দুইদিক থেকে দুটি গল্প শুরু হয়েছে। তাই গল্প অনুযায়ি প্রচ্ছদেরও ভিন্নতা আছে। “কেটজালকোয়াটল”এর প্রচ্ছদটি অতটা ভালো লাগেনি। কিন্তু “দিন শেষে”র প্রচ্ছদটি বেশ পছন্দ হয়েছে আমার। বইয়ে ছোটখাটো কিছু বানান ভুল ছিল। তবে বইয়ের বাইন্ডিং, ছাপা, কাগজের মান বরাবরের মতই ভালো!
বইয়ের নাম : দিন শেষে লেখক: রবিন জামান খান প্রকাশনা :বাতিঘর প্রকাশনী। জনরা : ক্রাইম থৃলার ( নভেলা) প্রথম প্রকাশ: জুন ২০১৬ পৃষ্টা সংখ্যা: ৯৬ মূল্য : ১৭০ টাকা।
কাহানী সংক্ষেপ ::: দিন শেষে রাত আসে। অন্ধকার ঘনিভূত রাত। সারাদিন কর্মশেষে রাতে বিশ্রাম নেয়া সৃষ্টিকর্তারই বিধান। কিন্তু কিছু পেশার মানুষকে রাতে ডিউটি করতে তার কর্মক্ষেত্র এ। ডাক্তার পুলিশ আর গডফাদার। ঠিক তেমনি নভেলাটির শুরুতে ডাক্তার তুলি চট্টগ্রাম এর স্থানীয় একটি হাসপাতাল এর ডিউটিরত ডাক্তার। দিন শেষে যখন তার ডিউটির টাইম শেষ তাখ হাসপাতালে ইমার্জিন্সি ওয়ার্ড এ এসে উপস্থিত হয় একজন গুলি খাওয়া রোগী। মজার ব্যাপার হলো রোগী এসেছেন একা। তুলি বিষয়টি জানতে পেরে যত তারাতারি সম্ভব ট্রিটমেন্ট এর প্রস্তুতি শুরু করে। শেষ পর্যন্ত আইসিইউ বেড এই রোগী মারা যায়।তার পিছনে তিনটি গুলি লেগেছে। রোগীটিকে বাচাঁতে পারলো না তুলি। মন খারাপ করে যখন হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছিলো তখন তুলির ফোন আসে একটি টেক্সট, তুলি কেয়ার করেনি বিষয়টা, দ্বিতীয়ত্ব আরেকটা টেক্সট। আর তারপরই শুরু হয় তুলি উপর হামলা। কে বা কারা এবং কেনই তুলির উপর হামলা করা হয় বিষয়টি বুঝে উঠার সময় নেই। এমন অবস্থায় তুলিকে স্পর্ট থেকে বাচাঁয় সে টেক্সট মেসেজকারি। উপায়ুন্তর না দেখে তুলি তার সাথে পালাতে বাধ্য হয়।তাহলে অনেক গুলোর প্রশ্নের উৎখাত হলো? কে বা কারা তুলির উপর এবং কেন তুলির উপর হামলা করলো। আর কেই বা বাচাঁলো তুলিকে। নিরপরাধ নির্দোষ তুলির জীবনে নেমে আশা অন্ধকার এর ছায়া এর অবসান পাঠক খুঁজে পাবেন দিন শেষে ই।
পাঠ প্রতিক্রিয়া ::: ২৫শে মার্চ, সপ্তরিপু, ব্ল্যাক বুদ্ধা এর মতো পাঠক প্রিয় হিস্ট্রোরিক্যাল থৃলার লেখক রবিন জামান খান এর প্রায় প্রথম দিকের লেখা দিন শেষে। মূলত রবিন জামান খান হিস্ট্রোরিক্যাল থৃলার লেখক হিসাবে বেশি পরিচিত হলেও তার ক্রাইম বিষয় আরো কিছু থৃলার আছে, তারমাঝে দিন শেষে নভেলাটি অন্যতম। গল্প রচনাশৈলী নান্দনিক বরাবরের মতোই। ছোট্টো পরিসরে সুন্দর একটি গল্প এবং থৃলিং একশন সব ছিল। ভালো লাগেছে গল্পের ফাইটিং অংশ টুকু। তাছারা গল্পের শেষে টুইস্টতো আছে যা বলা যায় দিন শেষে পাঠক এর জন্য কিছু রয়েছেই। অভারঅল ভালো একটি বই সল্প পরিসরে একবসায় পড়ে ফেলার জন্য বেস্ট।
নভেলা হচ্ছে ছোটগল্পের সৎ ভাই বা সৎ বোন। নভেলার সাথে আমার পরিচয় ঘটেছে হেনরি বিনস সিরিজের মাধ্যমে। সেটা মোটেও সুখ কর ছিল না। নভেলা হতে হবে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাওয়া কাহিনী,প্লট গুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় । দুঃখের বিষয় এমন কোন নভেলা পেলাম না যেটা আত্নতৃপ্তি দিতে পেরেছে। রবিন ভাই সব সময় ভাল বই লেখেন, সেই সাথে তার অনুবাদের কোন জুড়ি নেই।
কাহিনী খুব বেশি বড় না মাত্র তিন লাইনের। হসপিটালে এক ডাক্তারকে সদ্য গুলি খেয়ে মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তি কিছু গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিয়ে যান যেগুলা ছিনিয়ে দিতে দুটি আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্রুপের লোক ও পুলিশ মরিয়া। অবশেষে সফল ভাবে সেগুলা উদ্ধার করতে কিছু মানুষের সহযোগিতা নেন তিনি। সবশেষে তিনি নিজেই সেগুলার মালিক হয়ে যান। এত ছোট কাহিনিকে এক হাস্পাতালেই তিন দিক থেকে বর্ননা করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান বাংলা সিনেমার কাহিনীকে হার মানাবে। ছোট একটা টুইষ্ট ছিল ডাক্তার কেন সেগুলার মালিক তবে সেটা পরিশিষ্ট এর আগে যে কেও বুঝে ফেলবে। সব মিলিয়ে মোটামুটি।।
বাই দ্য ওয়ে বাতিঘর প্রকাশনীর আই এস বি এন কোড কাজ করে না।।
মা-বাবা ও ভাইকে হারিয়ে ছন্দহীন এক জীবন অতিবাহিত করছে ডাক্তার তুলি। কিছুদিন আগেই ইন্টার্নি শেষ করে জুনিয়র ডাক্তার হিসেবে নিয়োগও পেয়েছে। আর এরই মাঝে সে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে ভয়ানক এক বিপদে।
আচমকা ইমার্জেন্সি এক রোগী আসে হাসপাতালে। পিঠে তিনটি গুলি নিয়েও লোকটি একা একাই হাসপাতালে চলে এসেছে। কিন্তু তুলি লোকটিকে বাঁচাতে পারেনি। মৃ-ত্যুর আগে বয়স্ক লোকটি তুলির কানে কানে কিছু কথা বলে যায়। কি এমন কথা বলেছে সেটা কেউ না জানলেও ঘটনাটি তুলির জীবনে বয়ে আনে ভয়ানক রকমের এক বিপদ...
একে একে বেশ কয়েকটি গ্রুপ তুলির পিছনে লেগেছে। তবে সবার উদ্দেশ্যই এক এবং তা হলো তুলিকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় নিজেদের খপ্পরে নেওয়া। হঠাৎ করে আসা এ আলোড়নের কিছুই তুলির জানা নেই। সে এ-ও জানে না, কেন এতোগুলো লোক তার পেছনে পড়ে আছে। ঠিক তখনই এক অচেনা যুবক তুলিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। সেই যুবকটির মোটিভও তুলির জানা নেই।জলের উপরে ভাসা শেষ খড়কুটোর টুকরোটির মতনই তুলি তাকে আঁকড়ে ধরে। কিন্তু মেয়েটি তখনও জানে না নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে বরং বাঘের গুহায়ই নিজেকে ঠেলে দিচ্ছে সে।
কিন্তু এখানে প্রশ্ন অনেকগুলো। ডাক্তার তুলিই বা কে? কেন এতোগুলো লোক তার পেছনে পড়ে আছে? আগন্তুক যুবকটিই বা কেন তুলিকে সাহায্য করছে? ক্ষমতা, লোভ, অহমিকার এ যুদ্ধের শেষ কোথায়?
🗣️পাঠপ্রতিক্রিয়া— বইটা পড়ার পর একটা বাক্যই শুধু ঘুরেফিরে আমার মাথায় আসছে, ‘হুদাই কষ্ট, সময় নষ্ট’। সত্যি বলতে এই বইটা পড়তে যতটুকু শ্রম ও সময় ব্যয় হয়েছে, তার পুরোটাই বৃথা মনে হচ্ছে আমার। বইটির ফ্ল্যাপ পড়ে কিন্তু একদমই ফেলনা মনে হয়নি। কিন্তু পড়তে গিয়ে...
বইটির মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৯৬। মূল কাহিনির শুরু প্রথম পেজ থেকেই। সেখানে ইমার্জেন্সি রোগীর আসা, তুলির কানে কানে কথা বলা, তুলির ফোনে কল ও মেসেজ আসা, আসন্ন বিপদ সম্পর্কে মেয়েটির জ্ঞাত হওয়া, এক অচেনা যুবকের সাহায্য নেওয়া ও বেঁচে যাওয়া পর্যন্ত কাহিনি টেনে নেওয়া হয়েছে এবং এতোটুকুর মধ্যে আমি কোনো ভুল পাইনি। কিন্তু সমস্যাটা হলো এরপরে। একটু আগে যে ঘটনাসমূহের কথা বলা হলো তার সবটাই ডাক্তার তুলির নজরে বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর ঠিক একই ঘটনা, এমনকি কথোপকথনগুলোও পুনরায় উল্লেখ করে দিয়ে তুলিকে বাঁচানো অচেনা যুবকের দৃষ্টিতে ঘটনাটি আবারো বর্ণনা করা হয়। এরপর আবারো...আবারো ডিবি স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসারের নজরে একই ঘটনার পুনরায় বর্ণনা! মানে কতটা বিরক্তিকর হতে পারে একটা বই! এই একই ঘটনার তিনবার তিন এঙ্গেল থেকে বর্ণনা করে কাহিনিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রায় ৭০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। তাহলে ভাই ৯৬ পৃষ্ঠার একটি বইয়ে আর কি অবশিষ্ট থাকে আমি জানতে চাই!
এরপর হালকা করে ভালোলাগার পয়েন্টটায় সামান্য নজর বুলাই। শেষ টুইস্টটা ভালো লেগেছে আমার। তবে খুব করে অনুভব করতে পারিনি। করবো কি করে? আগের ঘটনাগুলো পড়ে যদি সামান্য ভালো লাগাও কাজ করতো তবে হয়তো পরে আমার প্রত্যাশা খানিকটা হলেও বেড়ে যেতো। কিন্তু তা ঘটেনি! এমনকি আমার তো মনে হয়েছে ফ্ল্যাপের কথার সাথে বইয়ের ঘটনারও খুব সামান্যই মিল। ফ্ল্যাপটা আগ্রহ উদ্দীপক হলেও বইয়ের কাহিনি নয়! তবে লেখকের বর্ণনা করার ভঙ্গি ও লিখনশৈলী ভালো লেগেছে।
এ বই নিয়ে আর বেশি কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে না। তবে আমার মনে হয়েছে লেখক ইচ্ছে করলে বইটিকে আরেকটু সুন্দর ও গুছিয়ে সবিস্তারে উপস্থাপন করতে পারতেন।
দিন শেষে লেখক: রবিন জামান খান প্রকাশনী: অন্যধারা ধরণ: ক্রাইম থ্রিলার মুদ্রিত মূল্য: ২৪০ পৃষ্ঠা: ৯৬
কোন ক্রাইমে একজন সাধু যদি মাস্টারপ্লানার হয় তাহলে তাকে কেউ অতি সহজে সন্দেহ করতে পারে না। বরং নীরহ ভেবে তাকে আসন্ন বিপদ থেকে বাঁচানোর সব চেষ্টা করতে থাকে।
ছোট মরিচে ঝাল বেশি থাকে। কিন্তু আমার কাছে ঝালের পরিমাণ অনেক খানি কম লেগেছে এই বইতে।
দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এক গডফাদারের প্রধান সহকারী আহত অবস্থায় মারা যায় ডাক্তার তুলির তত্ত্বাবধানে। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে অপরাধ জগত থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক দল সক্রিয় হয়ে ওঠে ডাক্তারকে নিজেদের করায়ত্ব করতে। প্রাণ বাঁচাতে ডাক্তার তুলিকে সাহায্য গ্রহণ করতে হয় অচেনা একজন মানুষের কাছ থেকে। দুজনে মিলে নিজেদের রক্ষা করতে গিয়ে ঢুকে পড়ে অপরাধ জগতের অন্দরমহলে। একটি মৃত্যুকে ঘিরে আবর্তিত হওয়া তিনজন মানুষ; একজন ডাক্তার, এক খুনি আর একজন পুলিশ অফিসার। আবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে সক্রিয় ক্ষমতা, লোভ, প্রতিহিংসা আর বিশ্বাসঘাতকতা মানুষগুলোকে ঠেলে দেয় পরিশিষ্ট পরিণতির দিকে।
গল্পটা তিন জন মানুষ নিয়ে ঘুরতে থাকে। এক তুলি, দুই আফসার এবং তিন তানভীর। প্রথম তিনটা চ্যাপ্টারে তিনজনের দিক থেকে তাদের গল্পটা বর্ণনা করা হয়। আমার কাছে মনে হয়েছে একই জিনিস বারবার পড়ছি। এর পর থেকে কাহিনীটা ভালো ভাবেই আগাচ্ছিলো কিন্তু শেষের দিকে এসে আবার খেই হারিয়ে ফেলে। মনে হচ্ছিলো অনেক দ্রুত শেষ করার প্রবণতা। শেষের টুইস্ট টা ভালো ছিল। লেখার কথা যদি বলি তাহলে বলবো এক কথায় অসাধারণ। রবিন জামান ভাইয়ের লেখা নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। আছে শুধু গল্প নিয়ে।
বাতিঘর থেকে বইটা বের হয়েছিলো অনেক আগে তখন কেনা হয়নি। অনেক দিন পর আবার রিপ্রিন্ট হয়ে অন্যধারা থেকে বের হলো। আশা যা ছিলো তা ফিলাপ করতে পারেনি।
কোন একজনের পোস্টে রবিন জামান খান ভাইয়ের এই তিনটা বই দেখতে পাই। আগেই জানতাম নভেলাগুলো আলাদা বই আকারে আসছে। নিতাম কিছুদিন পরে। কিন্তু সেদিন বইছবিটা দেখে এইতই ভালো লেগেছিল যে স্টোরিতে শেয়ার করে গিফট চেয়েছিলাম। আশ্চর্যের বিষয়, ১ ঘন্টা পার হওয়ার আগেই ধী এর সত্ত্বাধিকারী দিবা আপুর মেসেজ, আমার ঠিকানা চাইছেন। আমি তো রীতিমতো অবাক। শুক্রবারে জুমার নামাজের পর স্টোরি দিয়েছি। স্টোরি দেখেছেন মাত্র ৭ জন। এর মধ্যে গিফট করার বান্দা একজনও না। যাই হোক, দিলাম ঠিকানা। বই চলে আসলো। কিন্তু পড়া হয়ে উঠেনি। রমজানের শুরু থেকেই ইচ্ছা ছিল অনেক বই পড়বো, অনেক কাজ করবো, অনেক পড়াশোনা করবো। সে আশায় গুড়েবালি দিয়ে প্রথম সপ্তাহ চলে গেল কোন বই হাতে না নিয়ে, কোন কাজ না করে, পড়াশোনা না করে। অনেকটা জেদের বশেই সেদিন বই পড়া শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আগের স্পিড আছে।
'থ্রিলার নভেলা' যাকে বলে, একদম অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন লেখক। দ্রুত কাহিনিতে ঢুকে পড়েছেন, অল্প কথায় চরিত্রায়ন করেছেন কিন্তু মনে হয়নি কিছু বাদ গিয়েছে। প্রতিটা কাহিনির চরিত্রগুলোর আলাদা পার্সপেক্টিভ আলাদাভাবেই বর্ণনা করেছেন। শেষে গিয়ে টুইস্টগুলোও ছিল মোক্ষম। সোজা কথায়, ভালো লেগেছে। অন্যধারার প্রোডাকশন বরাবরের মতোই ভালো। তবে একটা জিনিস খারাপ লেগেছে, (কেবল পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি) বই তিনটা আলাদা আলাদা না করে একটা বইতেই করা যেত। সেক্ষেত্রে দাম হতো আরো অনেক কম। যদিও আলাদা হিসেবেও মুদ্রিত মূল্য ২০০-২৪০ এর মধ্যেই আছে৷
দিন শেষে অন্ধ প্রহর আরোহী লেখক: রবিন জামান খান প্রচ্ছদ: রুদ্র কায়সার প্রকাশনী: অন্যধারা মুদ্রিত মূল্য: ২৪০+২৪০+২০০ টাকা
দিন শেষে নেমে আসে আঁধার , ঘনিয়ে আসে গভীর কালো রাত্রি...
চট্টগ্রাম এর স্থানীয় একটি হাসপাতাল এর ডিউটিরত ডাক্তার তুলি । সারাদিনের কর্মশেষে যখন সে বাড়ি ফিরবে তখন ইমার্জিন্সি ওয়ার্ড এ এসে উপস্থিত হয় একজন গুলিবিদ্ধ রোগী ।তুলি তাকে বাছানোর চেষ্টা শুরু করে । কিন্তু শেষ পর্যন্তপিঠে ৩ টি গুলি নিয়ে হাসপাতালের বেডেই মারা যায় লোকটি । মারা যাওয়ার আগে তুলির কানে কানে কিছু একটা বলে গিয়েছিল লোকটি ।
লোকটি কে? তুলিকে কি বলে গিয়েছিল লোকটি ? কোন মূল্যবান তথ্য ? কি সেটা ? তুলির পিছনে লাগল কিছু একাধিক দল , তাদের-ই বা উদ্দেশ্য কি ?
ঘটনাচক্রে কিছুক��ষণের জন্য তুলি জড়িয়ে যায় আন্ডারগ্রাউন্ডের কিছু ভয়ঙ্কর ঘটনার সাথে। এই আণ্ডারগ্রাউন্ডের লোকদের কবল থেকে কি তুলি বেঁচে উঠতে পারবে ?
শুরু থেকেই বইয়ের চরিত্রগুলোকে নিয়ে আপনার ধোঁয়াশা সৃষ্টি হবে । একসময় মনে হবে ব্যাপারগুলো ধরে ফেলতে পেরেছেন ,পরক্ষনেই ভুল ভাঙবে আপনার । শেষে কয়েকটা ভাল টুইস্ট ও আছে । ৯৩ পৃষ্ঠার একটা নভেলা , পড়া শুরু করলে খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে । হ্যাপি রিডিং ! 🙂
বইঃ দিন শেষে লেখকঃরবিন জামান খান প্রকাশনীঃবাতিঘর জনরাঃ ক্রাইম থ্রিলার/ মিস্ট্রি থ্রিলার পৃষ্ঠাঃ ৯৩ গুডরিডস রেটিংঃ ৩.১৭ পারসোনাল রেটিংঃ৩.৫/৫
শুরু না হতেই শেষ। নভেলাতে এর থেকে বেশি কি আশা করা যায়৷ তবে আমার ভাগ্য ভাল রবিন ভাইয়ের প্রথম দিকের গল্প উপন্যাস পড়ার আগে সপ্তরিপু পড়া হয়েছিল৷ তাই লেখকের মুন্সিয়ানা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই৷ গল্পটা খুব দ্রুত গতির ছিল৷ শেষের টুইস্টটা ২০ পেজে আগেই টের পেয়ে গিয়েছিলাম তবুও লেখনীর কারণে নভেলাটা পড়তে একটু ক্লান্তি বা বিরক্তি চেপে বসেনি৷
বইটা ছোট তাই কাহিনির সারসংক্ষেপ তুলে ধরে স্পয়লার করতে চাই না। কাহিনি সুন্দ��। শেষের দিকে বেশ টুইস্ট ছিল। তবে লেখক একি ঘটনা বইয়ের প্রতিটি চরিত্রের সাপেক্ষে বারবার ব্যাখা করাটাকে বেশ বিরক্তিকর মনে হয়েছে