আমি সোজা কথার মানুষ। ঘুরায়ে পেচায়ে কথা বলতে পারিও না, শুনতে বা পড়তেও পছন্দ করি না। এই বইটা একদম সোজা-সাপ্টা ভাষায় লেখা। কোন প্যাঁচ-গোজ নাই। প্রতি লাইনে অনেক তথ্য। ভাবানোর মত তথ্য ( অবশ্য যার ভাবতে ইচ্ছা করবে তার জন্যে প্রযোজ্য)। তাই অনেক ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ ভাবে বইটার স্বাদ নিয়ে পড়লাম। খুবই ভাল লাগল। সবার বইটা পড়া উচিত।
প্রত্যেকটি জীব নিরাপদে বসবাস করে একটি পরিপূর্ণ জীবন উপভোগ করতে চায়। বেঁচে থাকার এই সংগ্রামে তাই অসংখ্য জীব হয়েছে বিলুপ্ত। মানুষের দেহের গঠন অন্যান্য জীবের চেয়ে উন্নত তাই প্রতিকূল প্রকৃতির রাজ্যে তাদের বেঁচে থাকাটা একটু সহজ হয়েছে।
প্রথম দিকে খুবই বিক্ষিপ্ত ভাবে বসবাস করলেও পরে এসে যৌথ সমাজ গড়ে তোলে তবে এ যৌথ সমাজও ছিলো খুবই ক্ষুদ্র।
হাতিয়ারের ব্যবহারের ফলে শিকার প্রধান জীবিকা হলেও আস্তে আস্তে গোষ্ঠীবদ্ধ ভাবে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে খাদ্য আহরন করেতে শুরু করে। তারা যাযাবর জীবনের অবসান ঘটিয়ে কৃষি ও পশু পালনকে জীবিকা হিসেবে নিয়ে থাকে সাথে নতুন নতুন হাতিয়ার এর উদ্ভব হয়।
টোটেম সমাজে এসে পরিবারের বিকাশ হতে থাকে এবং একটা শক্ত ভিত্তির উপর দাড়িয়ে যায় সমাজ। তারা বিবাহকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসে। আদিম শিকারী মানুষ তখন সমাজে যে কোন পুরুষ যে কোন নারীকে বিবাহ করতে পারতো এবং যে কোন সময় বিবাহ বিচ্ছেদ ও করতে পারতো।
পরিবার প্রথার প্রথম দিকের পরিবার গুলো ছিলো মাতৃতান্ত্রিক পরিবার। সেখানে সকল কাজ এবং দায়িত্ব গুলো মহিলারা পালন করতো। পরিবারের প্রধান ছিলো মেয়েরাই।
পরবর্তীতে দেখা যায় কিছু কাজে পুরুষদের অংশগ্রহণ করতে হয় বেশী। শক্তি প্রয়োগের সেই সব কাজ এবং দায়িত্ব আস্তে আস্তে চলে যায় পুরুষদের হাতে, তখন থেকে শুরু হয় পিতৃতান্ত্রিক পরিবার। মায়ের কর্তৃত্বের জায়গায় পিতার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
এর পরে একে একে ভাষা, ধর্ম ও বিভিন্ন প্রকার পরিবারের মাধ্যমে সভ্যতার উন্মেষ ঘটতে থাকে। এই উন্মেষের মাধ্যমে আবার নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে দেখা যায়। সভ্যতার ধারাবাহিকতায় এসব সমস্যা এক সময় প্রকট হয়েছে, অনেক ত্যাগের ফলে সে সমস্যার সমাধান হয়েছে আবার সৃষ্টি হয়েছে নতুন সমস্যা।
"সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ " বইটা রেবতী বর্মণের লেখা শেষ বই।
শ্রেনী সংগ্রামের তত্ত্বই সমাজ বিকাশের সূত্র। এই সূত্রকে অবলম্বন করেই সমাজের বিভিন্ন রূপ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন বইটিতে।
সূচনা লগ্ন থেকেই শুরু করেছেন লেখক। ক্রমবিবর্তন এবং ধারাবাহিকতায় তা আজ এই সময়ে এসে মিশেছে।
চমৎকার একটা বই, ধারাবাহিক লেখাতে আলাদা আলাদা শিরোনামে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেছেন লেখক। যেহেতু তত্ত্ব এবং তথ্যে ভরপুর বইটা তাই কিছু বিষয় মাথার উপর দিয়ে গেছে। বইটা আবার পড়তে হবে।