রেবতী বর্মণ মার্কসবাদী চিন্তাধারায় আকৃষ্ট ছিলেন। বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকের রাজনৈতিক কর্মীদের মতো তিনিও বিনা বিচারে বন্দী হন। বন্দী অবস্থায় মার্কসবাদী সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে তিনি কমিউনিস্ট মতবাদ গ্রহণ করেন এবং মুক্তি পেয়ে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতেই তিনি তাঁর শেষ বই সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ রচনা করেন।
বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজে আমরা বিভিন্ন ধরনের শ্রেণিবিভাজন দেখতে পাই। এই শ্রেণিবিভাজনের উৎপত্তি কেন ও কীভাবে, তার ধারাবাহিক আলোচনা করেছেন লেখক। বর্বর যুগের মানুষের হাতের পরিপূরক কৃত্রিম হাত তথা হাতিয়ারের ব্যবহার থেকে শুরু করে উৎপাদনব্যবস্থা, শ্রমবিভাজন ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের আলোকে শ্রেণিহীন সমাজ থেকে দাসপ্রথা, সামন্ততন্ত্র, পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিকাশকে তিনি মার্কসবাদী তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন।
লেখকের মতে রুশ বিপ্লবের পর সোভিয়েতে উৎপাদনের উপকরণ জাতীয় সম্পত্তি হয়ে শোষণ শেষ হয়েছে, আর সামগ্রিক পরিকল্পনায় সমষ্টির কল্যাণই লক্ষ্য। তিনি এর সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে উৎপাদনবৃদ্ধি ও শ্রমিকের মর্যাদার কথা বলেছেন।
এভাবে মাত্র ২০৪ পৃষ্ঠায় লেখক অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও ধারাবাহিকভাবে সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ ব্যাখ্যা করেছেন এবং পুঁজিবাদের পরবর্তী পর্যায় সম্পর্কে একটি তাত্ত্বিক ধারণা দিয়েছেন। বইটির বিশেষত্ব হচ্ছে জটিল মার্কসবাদী তত্ত্বকে সহজ ভাষায় ফুটিয়ে তোলা। সামাজিক বৈষম্যের উৎস, সমাজবিজ্ঞান ও মার্কসবাদ সম্পর্কে গভীরতর জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী পাঠকদের জন্য গ্রন্থটি অবশ্যপাঠ্য।