Harishankar is a promising Bangladeshi author. The most significant point to notice is that all the four novels produced from Harishankar's pen sketch the life of the downtrodden, some of whom are from among fisherfolks, some from among prostitutes and some others are the 'harijons' or 'methors'.
মহাভারতের ঘটনা তো সবাই জানে। মহাভারতের অন্যতম চরিত্র শকুনি। যাকে সবাই প্রধান খল চরিত্র হিসেবেই চেনে বা দুর্যোধনের মন্ত্রণাদাতা। শুনলাম হরিশংকর জলদাসের 'সেই আমি নই আমি' বইটা নাকি লেখা হয়েছে শকুনিকে নিয়ে। নতুন কিছু আর জানা গেল না। সেই পুরানো কাসুন্দি 😪 শকুনি নিজের বয়ানে (মানে আসলে লেখকের বয়ান আর কি) নিজের গুষ্ঠি একেবারে উদ্ধার করে ছেড়েছে। ভাল্লাগেনাই বেশি :/ গান্ধারী স্বেচ্ছান্ধত্ব বরণ করে নিয়েছিল সেটা জানতাম। এই বইয়ের ব্যাখ্যাটা বেশ লাগল এবং যথেষ্ট যৌক্তিক বলে মনে হয়েছে। এ ছাড়া বাদ বাকি সবই জানা এবং কিছুটা নিজের বিচার বিশ্লেষণের কারণে আন্দাজ করতে পারা। দুর্যোধন, শকুনি খল সেটা সবাই জানে, এই বইয়ে সেটা বেশি কঠিন ভাষায় লেখা। 'একলব্য' তো বেশি সেরা ছিল, এই বই তেমন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে নাই। এখন দেখা যাক... হরিশংকর বাবুর এই বারের বই 'দুর্যোধন'-এ দুর্যোধন কেমন আত্মপক্ষ সমর্থন করে। মহাভারত পড়া থাকলে বা এই রিলেটেড অন্যান্য বই পড়া থাকলে এই বই না পড়লেও চলে। অতো আহামরি কিছু না। রেটিং ২.৫ হইলেও হয়, এর বেশি একটুও না :3
সেই আমি নই আমি :হরিশংকর জলদাস পৃথিবীতে দুজন বিখ্যাত মামা একজন হলেন আমাদের সবার প্রিয় কংশ মামা,আর অন্যজন ইতিহাসের এক রহস্যময় চরিত্র,শকুনি মামা। আজ কথা বলব সেই শকুনি মামার,যিনি মহাভারতের কাহিনিতে এক জটিল,বুদ্ধিমান এবং প্রতিশোধপরায়ণ চরিত্র হিসেবে পরিচিত। অনেকেই বলেন,শকুনি পান্ডবদের ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু না,শকুনির আসল লক্ষ্য ছিল কৌরবদের ধ্বংস,বিশেষ করে দুর্যোধন ও তার ভাইদের।কেন?জানতে হলে পড়তে হবে হরিশংকর জলদাসের'সেই আমি নই আমি'। কারণ এক নির্মম ইতিহাস,শুরুটা হয়েছিল গান্ধারীর বিয়ে নিয়ে,অভিশাপ পেয়েছিল তার বিয়ের অল্পদিনের মধ্যে তার স্বামীর মৃত্যু হবে।তাই গান্ধারী কে প্রথমে কবুতরের সাথে বিয়ে দেয়।তারপর ধৃতরাষ্ট্রকে বিয়ে করে। দুর্যোধন একসময় তা জানতে পেরে শকুনির ১০০ ভাইকে বন্দী করে ফেলে।প্রতিদিন তাদের জন্য খাবার ছিল মাত্র একটি শস্যদানা।এই অমানবিক পরিস্থিতিতে,শকুনির ভাইয়েরা এক সিদ্ধান্ত নেয় তারা সবাই না খেয়ে সেই একটিমাত্র শস্যদানা শকুনিকে দিত,যাতে অন্তত সে বেঁচে থাকে এবং প্রতিশোধ নিতে পারে।দিন যায় রাত যায়। একসময় ৯৯ জন ভাই না খেতে পেরে মৃত্যুবরণ করে।শকুনি বেঁচে থাকে প্রতিশোধের আগুন নিয়ে।শকুনি জানত,দুর্যোধনকে সরাসরি হত্যা করা সম্ভব নয়। তাই সে কৌরব ও পান্ডবদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে,ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে শত্রুতা বাড়িয়ে তুলে।যার পরিণতি ছিল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত শকুনি তার উদ্দেশ্যে সফল হয়েছিল কৌরবদের ধ্বংস হয়েছিল, আর প্রতিশোধের আগুনে সে নিজেও পুড়ে ছাই হয়েছিল।
দুই বছর আগে হরিশংকর জলদাসের এপিকধর্মী উপন্যাস ' একলব্য ' পড়ে যে মুগ্ধতা তৈরি হয়েছিলো তার ঘোর এখনও কাটে নি। একলব্য আমার প্রিয়তম বইগুলোর একটা।
তাই লেখকের আরেক এপিকধর্মী সৃষ্টি এই বইটার উপর এক্সপেকটেশন একটু বেশিই ছিলো। মহাভারতের খল চরিত্র শকুনিকে নিয়ে লেখা উপন্যাস, তাও আবার শকুনীর নিজের বয়ানে! দীর্ঘদিন আউট অব প্রিন্ট থাকার পর অবশেষে প্রথমা প্রকাশনী বইটা আবারও প্রকাশ করেছে এ-বছর। আজিজ মার্কেটের শোরুমে বইটা দেখে রীতিমতো ছোঁ মেরে নিয়ে নিয়েছিলাম।
পড়া শেষ হলো আজ। মন ভরে নি। শকুনির মনস্তত্ত্ব আরও গভীর ভাবে উঠে আসবে এমন একটা আশা ছিলো যা অপূর্ণই রইলো। পুরো বইয়ের অন্যতম দূর্বলতা চরিত্রদের দূর্বল সংলাপ। এ প্রসঙ্গে বাণী বসুর ' মৈত্রেয় জাতক ' বইটার নাম করতেই হয় যার অন্যতম সৌন্দর্য হলো চরিত্রদের অসাধারণ সংলাপ। একলব্য-ও এদিক দিয়ে অনেক এগিয়ে।
লেখক বইয়ের কলেবর সচেতন থাকতে গিয়ে অসংখ্য জায়গায় বলতে গেলে সারমর্মটুকুই লেখে গেছেন, যা বইয়ের বিয়য়বস্তুর গভীরতা কমিয়ে দিয়েছে অনেকখানি। পাঠক একাত্ম হতে পারবেন না। মহাভারতের পার্শ্বচরিত্রের এ গল্পও আরেকটা ছোটখাটো মহাভারত হতে পারতো, তবে তা প্রকাশক বান্ধব হতো না বলে লেখক সে পথে হাঁটেন নি।
সমাপ্তি খানিকটা খাপছাড়াই ঠেকলো।
পুরো বইয়ে দুটো চমক ছিলো আমার কাছে। গান্ধারীর স্বেচ্ছান্ধত্ব বরণের ভিন্ন একটা ব্যাখ্যা এবং শকুনির প্রতিহিংসা পরায়ণ হওয়ার পেছনের গল্প।
মহাভারতের নামকরা খলনায়ক, যাকে ইংরেজিতে antagonist ও বলে থাকে, সেটাই হচ্ছে এই শকুনি, যাকে ধরা হয় মহাভারতের বিখ্যাত বা কুখ্যাত যুদ্ধের মূল হোতা। কিন্তু শকুনির উদ্দেশ্য ছিলো সকলের ভাবনা বা চিন্তারও বাহিরের ব্যাপার। মূলত এই ব্যতিক্রমী ব্যাপারটাকেই লেখক জাদুকরী ভাবে ফুটায় তুলেছে 💙
এর আগে "একলব্য", "মৎস্যগন্ধা" ও "কর্ণ" পড়েছি। এটা আমার পড়া লেখকের চতুর্থ উপন্যাস। সমগ্র উপন্যাসটি কেন্দ্রীভূত হয়েছে উপন্যাসের প্রোটাগনিস্ট শকুনিকে ঘিরে। মহাভারতকে ভিন্ন আঙ্গিকে represent করার ব্যাপারটা সেভাবে কিছু পাইনি কিন্তু one time read হিসেবে খুব খারাপ লাগবে না।