Jump to ratings and reviews
Rate this book

অশ্বচরিত

Rate this book
কপিলাবস্তুর রাজপুত্রের মহানিষ্ক্রমণের পর শূন্যপৃষ্ঠ ঘোড়া কন্থক আর শূন্য হৃদয় সারথি ছন্দক পাশাপাশি বেঁচে ছিল এতকাল। বুদ্ধপূর্ণিমার রাতে ঘোড়াটি নিরুদ্দেশে গেল সারথিকে ফেলে। সারথি সেই ঘোড়াকে খুঁজতে খুঁজতে চলে যায় কিংবদন্তির জাহাজঘাটা থেকে রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে, সেখান থেকে সুবর্ণরেখা আর বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে জেগে ওঠা চরভূমিতে, যেখানে পলাতক ঘোড়ারা যায় স্বপ্নতাড়িত হয়ে। শূন্যপৃষ্ঠ সেই অশ^ যেন অশ^মেধের ঘোড়া, তাকে অনুসরণ করছে নিঃশব্দ হত্যাকারী, নিশ্চুপে। নিরুদ্দিষ্ট সেই ঘোড়া অতিক্রম করে ভারতবর্ষ, তেজস্ক্রিয় বাতাসে ঢাকা মরুপ্রান্তর, নদীতীর, অরণ্য, পাহাড়। অশ^চরিত সেই বিরল গোত্রের ধ্রুপদী উপন্যাস যার চালচিত্র সমকালীন এই ভারতবর্ষ। এই উপন্যাস জীবন এবং মৃত্যুর। প্রেমের এবং অপ্রেমের। অমর মিত্র তাঁর উপন্যাসে সমকালের কথা বলেন। চিরকালের কথা বলেন। এই উপন্যাসে বিপন্ন এই উপমহাদেশ তার ছায়া ফেলেছে দীর্ঘ। এই ছায়ার কথা আগে এভাবে লেখা হয়নি। এই রূপকে লেখা হয়নি।

304 pages, Hardcover

First published January 1, 1999

Loading...
Loading...

About the author

Amar Mitra

74 books16 followers
Amar Mitra (Bengali: অমর মিত্র (born 30 August 1951) is an eminent writer in Bengali living in Kolkata, West Bengal, India. A student of chemistry, he has been working for the Land Reforms Department of The Government of West Bengal. He was awarded with Sahitya Akademi Award for his novel Dhurbaputra (Bengali: ধ্রুবপুত্র) in 2006. He has also received the Bankim Puraskar from Government of West Bengal for his novel, Aswacharit (Bengali: অশ্বচরিত) in 2001, kAtha award for his short story 'Swadeshyatra' in the year 1998, Mitra O Ghosh award in the year 2010, Sharat puroskar in the year 2018 and edited the new generation Bengali Webzine Bookpocket.net and Katha Sopan, a Bengali literary Magazine. He participated in the First forum of Asian countries' writers held in Nur Sultan city, Kazakhstan in September 2019 and was present in the inaugural session presided by the hon'ble President Of Kazakhstan. Awarded with 2022 O' Henry prize for his short story, The Old man of Kusumpur (গাঁওবুড়ো). He is the first Indian language recipient of O' Henry prize for short fiction. His novel Dhapatir Char has been translated in to English and published by Penguin Random House, in their vintage section.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
7 (58%)
4 stars
3 (25%)
3 stars
2 (16%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Tiyas.
479 reviews150 followers
April 30, 2026
শ্বাস টানলে নুনের ঘ্রাণ। বাতাসে বালিঝড়ের গন্ধ।

কী? পাচ্ছেন না? ধ্যানে বসুন। মাথার ভেতর জ্বেলে নিন কেরোসিন আলো। করুন আবার চেষ্টা। নাক না হোক, কানের কী দোষ? পেলেন না শুনতে? ঐ বাজে খুড়োর কল। আণবিক ঝিলিকে দাপিয়ে বেড়ায় পাগলা ঘোড়ার মন। চিহিহি রব। চিহিহি রব। বাড়ি ফেরার তাড়া। ইতিহাস অগোচরা জম্মান্তরী দুখ। শুনুন ঐ ডাক। ঐ ডাকে কামনার জল। পাতপাড়া ফোয়ারায় কান্নার রোল। অস্পষ্ট। ঢেউয়ে ভেজা। তবুও, কালো। কী ভীষন কালো।

পাশে বসা ও কে? এক পেট ক্ষিদে মুখে, বিভ্রান্ত মাতৃভূমি। আমার ভারত। ভারতবর্ষ। মহার্ঘ্য হিন্দুস্থান!

এবারে ভয় না পেলেই ভালো। থেকে যেতে পারলে থেকে যাওয়াই শ্রেয়। দুটো কি তিনটে পাতার হিসেব। ধৈর্য ধরতে পারবেন? ধরুন না তবে। উপহার মিলবে না কোনো। পাবেন এক দলা বালিমাখা ছাই। দীঘার সমুদরপাড়ে এক রাত্তিরের ঠাঁই। হোটেলের কামরায়, ফ্রি মিল। ও সার্কাসের তাবুর চালে কষ্টের ফুটো। কেমনতর ডিল? নাকি দিল মাঙ্গে মোর? তাহলে চলুন ঘুরতে যাই। সাইকেল চালাতে পারেন? ওতেই হবে। আমি হাটবো। আপনি সাইকেল চালাবেন। গন্তব্য একই। পক্ষীরাজের খোঁজ!

ভানু দাস গেছে ঘোড়া খুঁজতে। আমরাও চলি পিছপিছ তার। ঘোড়াটা বেল্লিক। ভানুদাসের কন্থক। শ্রীপতির পক্ষীরাজ। অমর মিত্রের ভারতবর্ষ। ওতেও সাধ মেটে না ব্যাটার। বহুরূপী আমুদে হতে চায় আরো বেশি। হয়ে যায় আমাদের প্লট। ভানু খোঁজে ঘোড়া। আমরা খুঁজি গপ্পো। আহা। চাকুরীর ফর্মে লিখতেও মজা। গল্পখোঁজা বাগাল আমি। পিছুটান নেই। চাহিদা নেই। মাসমাইনে কম, এই যা। পথেঘাটে ঠোক্কর খেলে ব্যথা করে। করে হয়তো। নইলে চোখের কোনটা চিকচিক করে ক্যানো? কষ্ট? নাকি নোনা হাওয়ার লাথ? নাকি বালিগুড়ো দিয়ে গলার তলের বাহারি কোনো বাঁধ?

সে যাই হোক। এই যাওয়ার কোনো শেষ নেই। উপলব্ধির ছুতোয় চুটিয়ে আনন্দ করি চলুন। তৃতীয় ব্যক্তির ন্যায় গাছের ডালে বসে মিলিয়ে নি ফুটো পকেটের টান। সাথে সুবিধার রাগমোচন। বাষ্প। সবই বাষ্প। ধোয়া ধোয়া সকালে, দেখে নি পরে পাওয়া পুরোনো ছায়াছবি। ঘুরে আসি জাহাজ-হারা বন্দর। আসুন।

কী? ঘিনঘিন করছে গা?

তবে থাক। আপনাকে আর পথে নামতে হবে না। (গঞ্জিকা তথা বিড়ি সেবনটাও...) আপনি বরং ভারতের কথা ভাবুন। আজ্ঞে হ্যা, আমাদের চিরতরুণী সুন্দরী দেশটার কথা ভাবুন। মনে পড়ে সেই খাদিবাদী মানুষটার কথা? হ্যা, ঐযে, টাকার নোটে... চকচকে টাক...

টাক ও টাকা, কী আজব ফ্যালাসি, তাই না? একদা মানুষটা লালমুখো হনু নিবারণ হেতু বিস্তর হাঁটাচলা করেছিলেন। কেঁদেছিলেন। বলেছিলেন। মেতেছিলেন। কপিলাবস্তুর রাজকুমারের ডিটেইল সর্বস্ব থিসিস পেপারটাও সেই মাতামাতির আওতার বাইরে পড়ে থাকেনি। জনস্বার্থে হাতসাফাই, যাকে বলে।

অগত্যা, এই বলাবলির তরঙ্গরেখা আছড়ে পড়ে বহুদূর। পাহাড়ে। পর্বতে। গরীবের উনুনে। পোয়ালের দেওয়ালে। চায়ের বাগানে। রাজুর কানে। কী বললেন? রাজু কে? (কালাপাহাড় না, বলাই বাহুল্য।) সীতারাম রাজু। সেই পাগলাভোলা অন্ধ্র মানুষটা যিনি মানলেন যে তিনি অলৌকিকের অধিকারী। বুলেটরোধী। কল্পজ্ঞ। বৈদ্যনাথ। গান্ধী-বাক্যের নিজস্ব তর্জমা করে বিলিয়ে দিলেন বৃত্তের গোচরে। অসহযোগ। অসহযোগ। অগ্নিবলয়। আগুন।

এবারে আপনার কুইজ!

পোখরানের রঙের সাথে কিসের ফারাক এই আগুনের, বলুন দেখি? কিসের মিল সীতারাম রাজুর সাথে উন্মোক্ত মদরঞ্জিওয়ালার? কিসের টানে ছুটে বেড়ায় পাগলা ঘোড়াটা? কিসের ভয় ওর? কিসের ভয় সুভদ্রাবউয়ের? মনের ভেতর বিষের প্রলেপ? কেনই বা চাঁদনি-রাতে মাদুর বানায় কোকিলার হাত? কেন? ধুত্তেরি! কেন?

পারলেন না তো? বলতে পারলে হয়েই যেত। বলতে পারলে আর বছরের পর বছর, মাতৃরূপে দেশকে পূজে লোক হাসাতেন না সবাই।

ছাড়ান দ্যান।

(৪.২৫/৫ || মে, ২০২৫)

বিঃদ্রঃ / সংযোজন : ক্ষমা চাচ্ছি। স্বাভাবিক মস্তিষ্কে হয়তো ওপরের ওই প্রলাপ লেখা সম্ভব নয়। আমি লিখেছিলাম। ভেবেচিন্তে লিখিনি। তবুও আমিই লিখেছিলাম। কেউ শেষ-অবধি পড়ে থাকলে, সমবেদনা। ধন্যবাদও।

অমর মিত্রের 'অশ্বচরিত' বঙ্কিম পুরস্কার প্রাপ্ত ধ্রুপদী উপন্যাস। আমার এই জীবনে পড়া সেরাদের সেরা না হলেও, একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা তো বটেই। লেখাটি পুঁথিগতভাবে পারফেক্ট নয়। ন্যারেটিভের মধ্যমায় অসমতা ও অহেতুক আরোপিতভাব এর ওজনহানি করে।

তবুও এর ম্যাজিক ছায়ায় প্রখর মানববোধ। কামনা, চাহিদা ও স্বার্থের পরিপন্থীতে ক্রূর সমাজচিন্তন। যা এক নয়া শতাব্দীর প্রারম্ভে স্থিত আর্থ-রাজনৈতিক ইতিহাসের কপালে দাগে আণবিক মিসাইল। ঢেলা ছোড়ে, পুরুষতন্ত্রের পাঁজরে। এই উপন্যাস একাকী। এই উপন্যাস নির্যাতনের বিভিন্ন স্তরে নেমে কালিমালিপ্ত। এই বই চিরকালীন ও বাঙময়। এই বই নিখুঁত না হয়েও আমার মনের অনেক কাছের। আর তাতেই আমার ঐ প্রারম্ভিক প্রলাপ। ভেতরে জমে থাকা সমস্ত বিষের ভলকে ওঠা উদগার। দরকারী। ভীষণ দরকারী।

একে গা বাঁচানো কৈফিয়ত হিসেবে ধরলেও ধরতে পারেন। শুধু ভয় পাবেন না। বইটিকে ঘিরে এত কুয়াশা দেখে ফিরে যাবেন না প্লীজ। বাস্তবের চৌকাঠে দাঁড়ানো অমর মিত্র অনেকাংশেই দয়ালু। সোজা পথের পথিক। ওনাকে ভয় পাবেন না তাই। পড়ে দেখুন দ্বিধাহীন আনন্দে।

এই বাজারে এমন উপন্যাস এখনো মাত্র দুশো-টাকায় কিনতে পাওয়া যায়। ভাবা যায়? বাজার কথা বলে। বাজারের কথা শেষ কথা। তবে কি গত দু-দশকে কেউ এই বইটিকে সেভাবে ভালোবাসেনি? এটাও চিন্তার বিষয়। অমনটা হলে ঘোর অন্যায়।

আপনি বাসুন। দায়িত্ব দিলাম আপনাকে। হাইপ বেলুন উড়িয়ে দিন দেখি। দুটো গান লিখে দিচ্ছি প্রেসক্রিপশনে। অনুপম রায়ের দুটো গান। পথে কাজে দেবে।

১. রাজপ্রাসাদের বন্দী। ২. ভিড় ঠেলে। সকালে একটা। রাতে একটা। ঈষৎ ঠান্ডা পানীয়ের সাথে...

(ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
Profile Image for Swajon .
134 reviews76 followers
March 5, 2019
"পুনরায় কুমার ফিরে এসেছেন, এই ভেবে নারীসকল সমস্ত গবাক্ষদ্বারে সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু অশ্বকে শূন্যপৃষ্ঠে ফিরছে দেখে তাঁরা গবাক্ষ রুদ্ধ করে আবার উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করতে লাগলেন। "
-- ( বুদ্ধচরিত --- অশ্বঘোষ)

বুদ্ধের মহানিষ্ক্রমণের পরে শূন্যপৃষ্ঠে ফিরে এলো তাকে বহনকারী অশ্ব কন্থক। অশ্বের সারথী ছন্দক শুধু কন্থকের সাথে রয়ে গেছে। বহুকাল একসাথে ছিলও তারা পাশাপাশি। ভানু দাস, যে নিজেকে মনে করত সেই ছন্দক আর যে ঘোড়াটির দেখভাল করতে হতো থাকে, এই ঘোড়াটি তার কাছে হয়ে গেল কপিলাবস্তুর রাজপুত্রের সেই কন্থক।
এক বৈশাখী পূর্ণিমার রাত থেকে প্রিয় অশ্ব নিখোঁজ হয়ে গেল। ভানুচরণ খুঁজতে বের হলো। কিন্তু কোথায় খুঁজে বেড়াবে তাকে? দীঘা থেকে সে চলে গেল অলঙ্কারপুরের নুনমারা অনন্ত সা'র বাড়ি। তার মেয়ে কুন্তি নাকি এক অশ্ব দেখেছে। কিন্তু জানা গেল সেই অশ্বের কোন 'বন্ন' নেই। জল কিংবা বাতাসের মতোই সে অশ্ব বর্ণহীন। আর তারপরে আপন মনে ঘোড়াটি কোথায় বা চলে গেছে কে বলতে পারে?
মীরগোদার মদরঞ্জিওয়ালার বউ কোকিলা তার মাদুরে যে আশ্চর্য ঘোড়া বুনেছে, সে তো অবিকল হারিয়ে যাওয়া কন্থকের মতোই। তবে কি এটিই সেই ঘোড়া যাকে কোকিলা বধু জাদু করে আটকে রেখেছে? কিন্তু মাদুরটি তো হাতছাড়া হয়ে গেল। এখন ভানুকে অপেক্ষা করতে হবে কোকিলা কখন অবিকল আরও একটি অশ্বচিহ্নিত অবিকল মাদুর বুনে দিতে পারবে। কোকিলা তো দেখে নি কখনো ঘোড়াটিকে, তবে কি করে সে আবার সেই ঘোড়াকে বন্দী করতে পারবে তার বুননে?
ভানুর মনে হলো চতুর্দিকে খুঁজে দেখতে হবে এখন। তার অশ্ব কন্থকের না থাকা মানে তারও একরকম না থাকাই। কন্থক ছাড়া ছন্দকের কি কোন মানে আছে! কাউকে খুঁজতে না পাঠিয়ে সে নিজেই খোঁজ চালাতে থাকে। ঘোড়াটি তো এক তাকেই চেনে।
প্রতি বছর আশ্বিনে ঘোড়াটি চলে যেত চোদ্দবেড়িয়া। যেখানে সুবর্ণরেখা নদীর তীরে বিস্তীর্ণ চর জুড়ে সবুজ ঘাসের সমারোহ। আশেপাশের এলাকা থেকে চলে আসত অন্য পালিত ঘোড়ীগুলোও। মনের সুখে তৃণভূমিতে চড়ার পরে যখন কার্তিকের রুক্ষ বালুময় বাতাসে ভরে উঠত চরাচর, তখন ঘোড়াটি ফিরে আসতো দীঘায়, তার মনিব শ্রীপতি আর পালক ভানুর কাছে। ওদিকে তাকে সঙ্গ দেওয়া ঘোড়ীগুলো পেটে বাচ্চা নিয়ে খুশিমনে চলে যেত নিজ গৃহে। অপেক্ষা চলত আবার পরের আশ্বিনে মিলিত হওয়ার।
কিন্তু বৈশাখী পূর্ণিমায় কেন স্রেফ হাওয়ায় মিলিয়ে গেল কন্থক? সেই রাতে তার কাছে সব একাকার হয়ে গিয়েছিল। বহুদূরের বালুমুঁড়ার মিলিটারি আস্তানার আকাশে জ্বলে উঠেছিল আগ্নেয়াস্ত্র উৎক্ষেপণের মরণ আলো, হয়তো আকাশের সেই উৎকট আলো দেখেই বেরিয়ে গিয়েছিল ঘোড়াটি। হতে পারে ভীমাপুরের সেই সুভদ্রা নাম্নী নারী সে ঘোড়াটিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। বলেছিল, সবুজ ঘাসে ছেয়ে আছে তার প্রিয় সবুজ তৃণভূমি। আবার বহুদূরের পোখরাজেও তো সেই রাতেই মরুভূমি বিদীর্ণকারী বোমা ফুটল। হিরোসিমার তেজস্ক্রিয়তার বীজও তো প্রথম ছড়াতে শুরু হয়েছিল সেই বিভ্রান্তিকর রাতে।
ঘোড়াটি চোদ্দবেড়িয়া গিয়ে রুক্ষ মাটিতে ক্ষুর ঠুকে দিনের তপ্ত বালুর সংস্পর্শে বুঝতে পারে ভুল করে সে চলে এসেছে আশ্বিন শুরু হয়ে গেছে মনে করে।
অসময়ের যে মেঘ নেমে এসেছিল আকাশে, তা তাকে বিভ্রান্ত করেছে। কিন্তু এখন সে কীভাবে ফিরে যাবে তার স্বস্থানে? কেউ বুঝল ঘোড়াটি অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া, তাই বধ করতে পিছু ছুটল। কেউ বলল, কোন যবনের ঘোড়া ওটা। কুপিয়ে টুকরো টুকরো করতে তার পেছনে লেগে গেল ঘাতকের দল। অশ্বটি কেবল ছুটছে। তার মনে পড়ছে আশ্বিনের সেই মায়াময় মেঘের কথা। কাশফুলের কথা । সেই ঘোড়ীর কথা। তার ছন্দকের কথা, শাক্যকুলের সেই রাজপুত্রের কথাও। সে শুধু ছুটছে আর ছুটছে। তার যাত্রাপথ অনন্তে মিশেছে। যেই যাত্রাপথের বৃত্তান্তই যেন 'অশ্বচরিত' উপন্যাস। কখনো তা অতীতে বিশ্রাম নিয়ে আবার বর্তমানে ফিরে আসছে। কখনো বর্তমানের সমতল প্রান্তর থেকে অতীতের কাঁটাময় কেয়াবনে লুকিয়ে ফেলছে নিজেকে।

অমিয়ভূষণ মজুমদার যথার্থই বলেছিলেন যে, উপন্যাস হলো সেই মহাকাব্য যা গদ্যে লেখা হয়।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews