আমীর উল ইসলামের স্মৃতিচরন পর্বের শুরু ১৯৭১ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টোর ঢাকা আগমন থেকে। তার স্মৃতিচারন থেকে জানা যায়,ভুট্টো আসলেই সমঝোতা চাননি, নির্ভর করেছিলেন তিনি ক্যান্টনমেন্টের ওপর যেমন এখনও করে থাকেন অনেক রাজনীতিবিদ। পচিশ মার্চ এ ধরনের ঘটতে পারে এ সম্পর্কেও জানতেন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।শেষ মুহুর্তেও তাজউদ্দিন আহমেদ, আমীর-উল ইসলাম প্রমূখ চাপ দিয়েছিলেন প্রয়াত শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর যাতে তিনি আত্মগোপন করেন কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি।
তাজউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে একত্রে আমীর-উল ইসলাম চলে যান সীমান্তের ওপারে এবং তাদের সঙ্গে প্রথম দিল্লীর যোগাযোগ স্থাপিত হয়। এ পর্যায়ে তিনি প্রবাসী সরকার গঠনে প্রতিবন্ধকতা, দ্বন্দ্ব , রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মনোমালিন্যের কথা অকপটে উল্লেখ করেছেন। এ প্রসংগে বেশ কিছু নতুন তথ্য জানা যায়।মুজিব বাহিনী কি ভাবে গঠিত হলো সে ইতিহাসও বিধৃত হয়েছে।স্মৃতি কাহিনীর প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে কিভাবে তাজউদ্দিন আহমেদ ধৈর্য্য,প্রচেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে প্রবাসী সরকার সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠেছিল।এ স্মৃতি কাহিনী পড়ে মনে হয়, তাজউদ্দীন আহমদ না থাকলে হয়ত আমাদের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে পড়তো। তৎকালীন মেজর ও পরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কেও বেশ কিছু কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য আছে এ গ্রন্থে।
প্রবাসী সরকার সম্পর্কে এ পর্যন্ত লেখা হয়েছে সবচেয়ে কম। কারন, সবাই হয়ত ঐ সময় টা ভুলে থাকতে চান। ব্যারিস্টার এম.আমীর-উল ইসলাম ঐ সময়টি স্মরণ করে স্মৃতিচারণ করেছেন সেজন্য তিনি আমাদেও ধন্যবাদার্হ। এ কারনে হয়ত তিনি অনেকের বিরূপ সমালোচনার সম্মুখীন হবেন, কিন্তু আমাদের বলতে দ্বিধা নেই,মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনার সময় তার স্মৃতিকাহিনী মূল্যবান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
শুরুর ভূমিকা, শেষের ছবিগুলো বাদ দিয়ে বলতে গেলে মাত্র ৭৪ পৃষ্ঠার একটা বই। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের ১৫তম খন্ডে তার যে সাক্ষাৎকার আছে, সেটারই বইরূপ এটা জানা ছিল না যদিও। মুজিবনগর সরকারের কেন্দ্রে থাকা একজন ব্যক্তি একটা অন্য প্রকল্পের জন্য দেয়া সাক্ষাৎকার দিয়েই কি তার মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণা শেষ করবেন? আরও বিস্তারিত, বৃহৎ পরিসরে কি লিখবেন না পরবর্তী প্রজন্মের জন্য?
ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম,যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাজের সাথে সরাসরি ওতপ্রোতভাবে জড়িত,তার লেখা একটা স্মৃতিচারণ বই "মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি", আরো বিস্তৃত ও রচনাবহুল হওয়া উচিত ছিলো।বইটি পড়ে আমি তুলনামূলক হতাশই বলতে পারি। তবে শ্রদ্ধা আমির উল ইসলাম,তাজউদ্দীন আহমেদ সহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের।