সকলেই একটি বৃষ্টিকে খুঁজে বেড়ায়। মমিয়া, তমাল, সুছন্দা, নিশা, শঙ্কর-প্রত্যেকেই। জীবনের চারপাশে ঈর্ষা, ঘৃণা, দুঃখ, রাগ, মায়া আর ভালোবাসা। মমিয়ারা সকলেই কি পারবে বৃষ্টির জন্ম দিতে? সেই বৃষ্টির নামই বা কী?
বিনোদ ঘোষাল-এর জন্ম ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ হুগলি জেলার কোন্নগরে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যে স্নাতক। মফস্সলের মাঠঘাট, পুকুর জঙ্গল আর বন্ধুদের সঙ্গে বড় হয়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা আর অভিনয়ের দিকে ঝোঁক। গ্রুপ থিয়েটারের কর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। কর্মজীবন বিচিত্র। কখনও চায়ের গোডাউনের সুপারভাইজার, শিল্পপতির বাড়ির বাজারসরকার, কেয়ারটেকার বা বড়বাজারের গদিতে বসে হিসাবরক্ষক। কখনও প্রাইভেট টিউটর। বর্তমানে একটি সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত। নিয়মিত লেখালেখি করেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। ২০০৩ সালে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর প্রথম গল্প। বৃহত্তর পাঠকের নজর কেড়েছিল। বাংলা ভাষায় প্রথম সাহিত্য অকাদেমি যুব পুরস্কার প্রাপক। ২০১৪ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অকাদেমির সোমেন চন্দ স্মৃতি পুরস্কার। তাঁর একাধিক ছোটগল্পের নাট্যরূপ মঞ্চস্থ হয়েছে।
প্রতিবছরই তো সময় করে বৃষ্টি আসে, বৃষ্টি আবার চলেও যায়; কিন্তু সব বৃষ্টি কি সত্যি আমাদের সমান আবেগে ছুঁতে পারে? কোনোবার হয়তো আনন্দের ঘনঘটা, কোনোবার হয়তো দুর্বার কষ্টের ঢেউ ছাপিয়ে যায় আমাদের। কিন্তু আসল কথাটা হলো, বৃষ্টি প্রতিবারই আসে, আর আমরাও নিয়ম করে ভিজি। প্রেম, ভালোবাসাও তাই। আসল, নকল বলে হয়তো আদৌ কিছুই হয়না। মানুষ আসে, মানুষ যায়, কেউ কেউ আবার 4'o clock rain এর মতো রয়েও যায়। তবে আগে থেকে আমরা কেউই ঠাহর করতে পারিনা, এ বারের বর্ষাটা আমাদের ঠিক কোন খাতে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। মমিয়া-তমাল, সুছন্দা-অসীম, নিশা-শংকর, মৃদুল-দীপ্তি শেষমেশ এই বৃষ্টির হাত ধরে ঠিক কোথায় পৌঁছবে তা নিয়েই এই উপন্যাস। চেনা ছকে উপন্যাস শুরু হলেও শেষের মোচড়ে, পাঠকের মন একটু হলেও মেঘাচ্ছন্ন হবেই; সে যত রোদই থাকুক না কেন!
প্রেম মানে কি ? শুধুই ভালােলাগা ? ভালােবাসা ? মনের মানুষকে কাছে পাওয়া চেষ্টা ? আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা ? নাকি আরও বড় কিছু ?
.... প্রেম , মানব জীবনে অতি মূল্যবান একটি মানবিক অনুভূতি । পৃথিবীতে এমন একজন মানুষকেও বােধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে প্রেম-ভালােবাসার ভিখারি নয় । আমারা প্রত্যেকেই আমাদের জীবনে সচেতন বা অবচেতন মনে সর্বক্ষণ ভালােবাসা খুঁজে ফিরি । মানুষের জীবনের এই মানবিক অনুভূতিই ধরতে চেয়েছেন সাহিত্যিক বিনোদ ঘোষাল, তার "বৃষ্টি পড়ার আগে" উপন্যাসে । যেখানে চাওয়া-পাওয়া কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে মানবিক টানাপোড়েনের এক জটিল উপাখ্যান ।
লেখক চাইলেই উপন্যাসটি একটি আদ্যোপান্ত প্রেমের উপন্যাস হিসাবেই শেষ করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি । গল্প এগোনোর সাথে সাথেই লেখক তার কলমের জাদু দেখাতে শুরু করেন । পাঠক মন্ত্রমুগ্ধের মতাে এগিয়ে চলে শেষের পথে । ঠিক তখনই... উপন্যাসটির শেষ দুটি পাতা আমাকে একেবারে স্তব্ধ করে দেয় । আমার পাঠক হৃদয় তখন দুমড়ে-মুচড়ে যায় অব্যাক্ত বেদনায় | মনে ভাবি এভাবেও ভাবা সম্ভব ! লেখা সম্ভব ! উপন্যাস শেষে মােহমুগ্ধ পাঠক এর সন্ধান করে চলবে আজীবন....
কতগুলো মানুষ অপেক্ষা করে আছে বৃষ্টির, মামিয়া, তমাল, সুছন্দা,নিশা, শঙ্কর, মৃদুল এদের সকলকে ঘিরে আছে জীবনের সুখ, দুঃখ, ঘৃণা, ভালোবাসা, রাগ, প্রতিশোধ । সবার দরকার বৃষ্টির, বৃষ্টি জল, বৃষ্টির শব্দ কি পারবে সব ধুয়ে মুছে দিতে?
👉 যা ভালো লেগেছে:
🤍লেখক প্রেমকে বিভিন্ন রঙে এঁকেছেন - সে মামিয়া-তমাল হোক বা শঙ্কর-নিশা। প্রেমের বিভিন্ন আঙ্গিক ধরা পড়েছে এখানে লেখকের কলমে । ✨ উপন্যাস টি ছোট হলেও, বিভিন্ন চরিত্রের depth খুব সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে লেখকের লেখার গুণে । 🕊️ মৃদুল আর দীপ্তির জীবনের শেষ অধ্যায়ে বুক হুহু করে ওঠে। সেই ব্যথা থেকে যায় মনে।
💔 যা একটু খচখচে লেগেছে:
📖গল্পের পরিসমাপ্তি টা আমার মনে ধরেনি, গল্পটা একটা ভালো এন্ডিং এর দিকে এগোচ্ছিল, কিন্তু শেষ টা বড্ড মেলোড্রামাটিক। তবে এই এন্ডিং টার জন্যই একটা রেশ থেকে যাবে মনের মধ্যে।
যারা মেলোড্রামাটিক টাইপ এর এন্ডিং পড়তে পছন্দ করেন তাঁদের ভালো লাগবে। আমি একটু হ্যাপি এন্ডিং খোঁজা পাবলিক, তাই এই এন্ডিং এর জন্যই একটা তারা কম দিলাম । আমার কাছে শেষ টা বাদ দিলে খুব ভালো একটা উপন্যাস।
একদম বাস্তব জীবন থেকে তুলে আনা কতগুলো চরিত্রের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু। মানব চরিত্রের বিভিন্ন অনুভূতি - প্রেম, ভালোবাসা, ঈর্ষা, আশা, হতাশা, সুখ, দুঃখ নিয়ে খেলা করেছেন লেখক এই উপন্যাসে। লেখনী ভালো, তবে প্লট অনেকটাই প্রেডিক্টেবল!