সবগুলো কবিতাই পড়ে শেষ করলাম। সত্যি বলতে কি, শেষের দিকে একটু একঘেয়ে লাগছিলো। কবিতাগুলো ঘুরেফিরে একই জিনিস...হয়তো সবকিছুর মধ্যেই প্রেমিকাকে দেখতে পাওয়া, কিংবা প্রেমিকার জন্য হয়তো কোটি কোটি বছরের অপেক্ষা, আর না হয় একটুখানি বিরহ। কিন্তু একটা কথা সত্য, বেশ কিছু কবিতা আমার অসম্ভব প্রিয়। "এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না" এর মধ্যে একটা। "চিঠি দিও" হবে আরেকটা। এমন। ওভারঅল, মোটামুটি।
কবিতাপ্রেমী মানুষ হিসেবে সকল কবির কবিতাই আমার ভালো লাগে, পড়াও হয়েছে অসংখ্য কবির লেখা। মহাদেব সাহার সাথে পরিচয় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা কালজয়ী কবিতাগুলোর মধ্য দিয়ে। কিন্তু তাঁর প্রেমের কবিতার স্বাদ নেওয়া হয়নি আলাদা করে। এই বইয়ের একাধিক কবিতাকে শিল্পোত্তীর্ণ ও একই সাথে কালোত্তীর্ণ মনে হয়েছে। আপনি যদি কবিতা পড়তে ভালোবাসেন, তাহলে এই বইটি হতে পারে আপনার জন্য খুবই চমৎকার একটি বই। বই পড়ে আপনার মনও বলে ওঠবে, "আমার বড়ো ইচ্ছে করে তোমার কাছে যাই, তোমার ছায়ায় একটু বসি, পুরনো গান গাই। তোমার জলে তৃষ্ণা মেটাই, জুড়াই দেহমন তোমাকে দেই আমার এই মাটির সিংহাসন।"
"তুমি কাছে না থাকলে আমি দিন দিন অমানুষ হয়ে উঠি আশেপাশে সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করি মানুষ ও প্রকৃতির দিকে চেয়ে আমার হিংসা বোধ হয় তুমি না থাকলে মেয়েদের রূপ কিংবা ফাহমিদা খাতুনের রবীন্দ্রসঙ্গীত কিছুই আমাকে আকর্ষণ করে না শিশুদের প্রতি মমত্ববোধ জাগে না আমার একে একে সকাল দুপুর সারাদিন নষ্ট হয় কোনোকিছুই করতে পারিনে আমি তুমি না থাকলে বড়ো দুঃসময় যায়, সর্বত্র বন্ধুবিহীনভাবে বাস করি এই ঢাকা শহর ভীষণ রুক্ষ মনে হয় কাউকি ডাকলে সাড়া দেয় না, সবাই আমার বিরুদ্ধাচরণ করে তুমি না থাকলে এই বাড়িঘর শহরের লোকজন সম্পূর্ণ আমার অপরিচিত মনে হয় নিজেকেই নিজের অচেনা লাগে মনে হয় দীর্ঘ দিন থেকে আমি যেন কোনো অজ্ঞাত অসুখে ভুগছি তুমি না থাকলে বাস্তবিক আমি বড়ো কষ্টে পড়ি বড়োই কষ্ট হয়। "
অত্যন্ত দ্রুততার সহিত বইটার প্রতিটা পাতা উল্টালাম। কেন জানি আমাকে এই কবির কবিতাগুলো খুব একটা টানে নাই। কবিতার বিষয়বস্তু বড্ড বেশি একঘুয়ে ছিল, কেন জানি।