মনুষ্যের বৃত্তি বা জীবিকাকে ‘অর্থ’ বলা যায় মনুষ্যযুক্ত ভূমির নামও ‘অর্থ’ হয়। যে শাস্ত্র সেই পৃথিবীর লাভ ও পালনের উপায় নিরুপন করে, তাহার নাম অর্থশাস্ত্র। সেই শাস্ত্র বত্রিশ-প্রকার যুক্তিদ্বারা যুক্ত। সেই যুক্তিগুলি এইরুপ-অধিকরণ, বিধান, যোগ, পদার্থ, হেত্বর্থ, উদ্দেশ্য, নির্দ্দেশ, উপদেম, অপদেশ, অতিদেশ, প্রদেশ, উপমান, অর্থাপত্তি, সংশয়, প্রসঙ্গ, বিপর্য্যয়, বাক্যশেষ, অনুমত, ব্যাখ্যান, নির্ব্বচন, নিদর্শন, অপবর্গ, স্বসংজ্ঞা, পূর্ব্বপক্ষ, উত্তরপক্ষ, একান্ত, অনাগতাবেক্ষণ, অতিক্রান্তবেক্ষণ, নিয়োগ, বিকল্প, সমুচ্চয় ও ঊহ্য। কলহমধ্য যে ব্যক্তি পুরুষকে হত্যা করিবে তাহার উপর চিত্রবধ (অর্থাৎ ক্লেশদানপূর্ব্বক মারণরুপ) দন্ড বিহিত হইবে। (শস্ত্রাদিদ্বারা প্রহৃত) পুরুষ সাতদিনের ম্যধে মারা গেলে, অপরাধীর উপর শুদ্ধবধ (অর্থাৎ অক্লেশ মারণ রুপ) দন্ড বিহিত হইবে। এক পক্ষের মধ্যে পুরুষটি মারা গেলে অপরাধীকে উত্তমসাহসদন্ড দিতে হইবে। এক পক্ষের মধ্যে পুরুষটি মারা গেলে, অপরাধীকে উত্তমসাহসদন্ড দিতে হইবে। এবং এক মাসের মধ্যে সে মারা গেলে, অপরাধীকে ৫০০ পণ দন্ড দিতে হইবে। এবং আহত পুরুষের চিকিৎসাদির ব্যয়ও তাহাকে বহন করিতে হইবে। যদি কোন পুরুষ নিজের সমান জাতীয়া অপ্রাপ্তরজস্কা কোনও কন্যাকে দূষিত করে, তাহা হইলে তাহার হস্ত কাটিয়া দিতে হইবে, অথবা তাহার ৪০০ পণ দন্ড হইবে। সেই কন্যা যদি যোনিক্ষতাদিবশতঃ মরিয়া যায়, তাহা হইলে অপরাধী পুরুষের বধদন্ড বিহিত হইবে। কৌটিল্য দন্ডমাত্রকেই তেমন সাধন বলিয়া মনে করেন না। কারণ তাঁহার মতে, যে রাজা তীক্ষ্মদন্ড (অর্থাৎ যিনি অর্পপরাধে উগ্র দন্ড প্রণয়ন করেন, তিনি সকল প্রাণীরই উদ্বেগ উৎপাদন করেন। আবার যে রাজা মৃদুদন্ড অর্থাৎ যিনি মহা পরাধে মৃদুদন্ড প্রণয়ন করেন, তিনি স্বয়ং পরাভব প্রাপ্ত হয়েন। কিন্তু, যে রাজা যথার্হদন্ড অর্থাৎ যিনি অপরাধানুরুপ উচিত দন্ড প্রণয়ন করেন, তিনি সকলের পূজা লাভ করেন। কৌটিল্যের মতে (ত্রিবর্গের মধ্যে) অর্থ-ই প্রধান বস্তু। কারণ ধর্ম্ম ও কাম অর্থের উপরই নির্ভর করিয়া থাকে। রাজা পরস্পরসংসৃষ্ট ধর্ম্ম, অর্থ ও কামরুপ ত্রিবর্গের সমানভাবে সেবা করিবেন। কারণ, ধর্ম্ম, অর্থ ও কামের মধ্যে একটি যদি অথ্যধিকভাবে (ব্যসনরুপে) সেবিত হয়, তাহা ইলে ইহা নিজকে ও অপর দুইটিকেও কষ্ট প্রদান করে (অর্থাৎ ধর্ম্ম-অর্থ ও কামকে, অর্থ-ধর্ম্ম ও কামকে, ও কাম-ধর্ম্ম ও অর্থকে পীড়িত করে) ।
"ধনুর্ধারী পুরুষদ্বারা ক্ষিপ্ত বাণ কেবলমাত্র একজন পুরুষকে মারিতে পারে, অথবা না-ও মারিতে পারে। কিন্তু, প্রজ্ঞাবান্ ব্যক্তিদ্বারা প্রযুক্ত মতি বা বুদ্ধি গর্ভস্থিত প্রাণীসমূহকেও নষ্ট করিতে পারে (অর্থাৎ যুদ্ধ অপেক্ষায় বুদ্ধিই অধিক শক্তিশালিনী হয়)।"
অনেক বড় একটা বই। পড়তে হলে অনেক ধৈর্য্যের প্রয়োজন। প্রাচীন ভারতীয়দের রাজনীতি ও অর্থনীতির পরিপূর্ণ জ্ঞানলাভ করতে চাইলে এটা পড়া যায়। তবে ভাষা এতই কঠিন যে বুঝতে অসুবিধা হতে পারে। আমার সম্পূর্ণ বুঝতে অনেক কষ্টই হয়েছে বলা যায়। অনেক শব্দের অর্থ বুঝা যায়না। সংস্কৃত ভাষা সম্পর্কে ধারণা কম থাকলে পড়ে তেমন একটা বুঝা যায় না। তবে এটা বলা যায় যে প্রাচীন ভারতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতি সম্পর্কে পুণ্খানুপূণ্খরূপে বর্ণনা করা হয়ে এতে। যদি কারও প্রচন্ড পরিমাণ ধৈর্য্য থাকে আর জানার আগ্রহ থাকে তবেই সাহস করা উচিত।