এই বইটিতে নৃবিজ্ঞানের আকার হিসেবে ধরে নেয়া বিষয়বস্তু যেমন জ্ঞাতিতত্ত্ব, রাষ্ট্রবিহীন সমাজ, উপহার অর্থনীতি, জাদুবিদ্যা, ধর্ম ইত্যাদি আলোচিত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি বিষয়ের আলোচনা সুস্পষ্ট করে তোলে কিভাবে ‘অপর’ সম্পর্কে পশ্চিমা পূর্বানুমান বিষয়গুলোকে গঠন করেছে। সাম্প্রতিককালের তত্ত্বায়ন কিভাবে এই জ্ঞান জগতের ভিত্তিপ্রস্তরকে ধাক্কা দিয়েছে এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদিকে জেরার সম্মুখীন করে তুলেছে তা এই বইয়ে অনুসৃত দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রে। এবং এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই লেখকদ্বয় সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রপঞ্চকে বাহ্যসত্য হিসেবে ধরে না নিয়ে বরং এগুলো কিভাবে বিভিন্ন তাত্ত্বিক পরিকাঠামো দ্বারা গঠিত হয়েছে সেটির উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী—বিশ্বায়ন, মুনাফার বৈশ্বিকীকরণ, শাসনের নয়া ধরণে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, ভোগবাদ, প্রতিরোধ ইত্যাদি—আলোচনায় স্থান পেয়েছে এবং সাম্প্রতিককালের চিন্তকগণ (নৃবিজ্ঞানের ভিতরে এবং বাইরে) কিভাবে বিষয়গুলোকে অনুধাবন ও তত্ত্বায়ন করেছেন তা সর্বদাই থেকেছে লেখকদের মনোযোগের কেন্দ্রে।
এই বইটি সাম্প্রতিককালের সমাজ ও সংস্কৃতি, এবং তার অতীত নিয়ে যাঁরা ভাবিত তাঁদের সকলেরই আগ্রহোদ্দীপক হবে।