বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নবী-চরিতসমূহের মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর 'মরু ভাস্কর' অন্যতম। স্বচ্ছ চিন্তাধারা আর সাবলীল ভাষার অধিকারী হিসেবে তাঁর খ্যাতির একটি বড় দলিল এই 'মরু ভাস্কর'। চল্লিশের দশকের প্রথম দিকে এটি কলিকাতার 'বুলবুল পাবলিশিং হাউস' থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং বিদগ্ধজনের মুগ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়।
Mohammed Wajed Ali wrote profusely on culture, society and politics. Although he wrote over 200 articles, the number of his books is small. His eight books, which include biographies of varying lengths and a number of translations, are Marubhaskar, Smarnanandini (translation), Chhotader Hazrat Mohammad, Quaid-i-Azam Mohamed Ali Jinnah, Mohammad Ali, Don Quixote-er Galpa, Mahamanus Muhsin, and Syed Ahmad.
Apart from his Bangla writing, Mohammed Wajed Ali wrote a few articles in English. He also wrote a number of poems. He collected folk literature and his compilation, Jodabanya Kahini, published in Bangiya Mussalman Sahitya Patrika (Baishakh, 1326), is an important source for folklorists.
Mohammed Wajed Ali was a dedicated writer and journalist, committed to serving Muslim society. Despite financial adversities, he did not swerve from his social commitment. He wrote many valuable essays in newspapers such as mahe-nao, Mohammadi, Sangbad on language and literature, and on the directions in which the country should develop. He did not hesitate to criticise the failings of Muslim society.
From Banglapedia - the National Encyclopedia of Bangladesh
' হে সমবেত জনমণ্ডলি! শয়তান আর কখনো তোমাদের দেশে পূজা পাইবে না। কিন্তু সাবধান! অনেক তুচ্ছ বিষয়ের মধ্য দিয়া শয়তান মানুষের সর্বনাশ করিয়া থাকে। ' - বিদায় হজে আখেরি নবি
আখেরি নবি মোস্তফা ( স.) মোজেজার মাধ্যমে জনতার হৃদয় জয় করেননি। যুদ্ধ ও সংঘাতের পথে দীন ইসলামের মর্মবাণী প্রচার করেননি। একজন মানবসন্তানের যতগুলো মানবীয় গুণাবলি থাকা সম্ভব সবগুলোই তাঁর ছিল। তিনি বাকি মানুষের মতো আনন্দে হেসেছেন ; প্রিয়জনের শোকে তাঁর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছে। কিন্তু চরম দুশমনকে ক্ষমা ও নীতির প্রশ্নে বজ্রসম কাঠিন্য তাঁকে সকলের চাইতে শ্রেষ্ঠ ইনসান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ইসলামের বাণী প্রচার করতে গিয়ে মক্কার তিনি বারবার নির্যাতিত হয়েছেন। তায়েফবাসী নবিজিকে অপমান ও অপদস্থ করার চূড়ান্ত ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। কিন্তু তিনি তাদের প্রতি নাখোশ হননি। মক্কা বিজয়ের পর একই আচরণ করেছেন কোরাইশদের সঙ্গে। এমন অনুপম উদাহরণ অত্যন্ত বিরল।
নবিজি তাঁর সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকতেন। ইসলাম প্রচারের সিদ্ধান্তের পর এত জুলুম সত্ত্বেও সরে আসেননি। এখান থেকে শেখার আছে।
নবিজি অনেকগুলো যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একাধিকবার আহত হয়েছেন। মুসলিমদের বদর নিয়ে পড়াশোনার চাইতে ওহুদ ও হুনাইনের যুদ্ধ নিয়ে পড়া জরুরি। এই দুই ক্ষেত্রে নেতার সিদ্ধান্তকে তারা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে দুশমনকে হালকাভাবে নিয়েছিল। যার পরিণাম সুখকর হয়নি।
নবিজি প্রথম জীবনে ব্যবসায়ী ছিলেন। তাই অর্থনীতি তাঁকে বুঝতে হতো। দেশের বাইরে ব্যবসায় করতে যেতেন। অর্থাৎ বাইরের জগৎ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল থাকতেন। রাজনীতি ও কূটনীতি কত ভালো বুঝতেন তার প্রমাণ হুদায়বিয়ার সন্ধি ও যুদ্ধ না করে মক্কা জয়ের মাধ্যমেই বোঝা যায়। উপরন্তু, মদিনার অভ্যন্তরীণ জীবনে নানামুখী রাজনীতি ছিল, ষড়যন্ত্র ছিল। এগুলোকে অত্যন্ত প্রাজ্ঞ নেতার মতো মোকাবিলা করেছেন নবিজি। তাঁর জীবনের এই দিকগুলো থেকে আমাদের শিখতে হবে।
মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর 'মরুভাস্কর' গ্রন্থে নবিজির জীবনকথা ও ইসলামের অভ্যুদয়ের ইতিহাস লিখেছেন অসম্ভব সুন্দর গদ্যরীতিতে। এক ধরনের কাব্যভাব এখানে পাই। বহুমাত্রিক নবিজিকে এত অল্প পাতায় লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়। তাই নবিজির জীবনচিত্রের পূর্ণাঙ্গ ছবি পাঠক হিসেবে এখানেই পাইনি। যা বইটির বড়ো খামতি।
মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ধর্মে নিষ্ঠাবান মুসলমান। তাঁর লেখা নবিজির জীবনীগ্রন্থ নবিজিকে শতভাগ ভক্তি ও ভালোবাসার স্থান থেকে দেখা হবে - এমনটাই স্বাভাবিক। তাই অমুসলিম পাঠকের কাছে জীবনী হিসেবে 'মরুভাস্কর' কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে জানি না। এটুকু পরিষ্কার, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর লক্ষ্য ছিলেন মুসলমান পাঠকেরা। তাই মুসলমান পাঠকদের কাছে বইটি চমৎকার জীবনীগ্রন্থ বিবেচিত হতে পারে।