আন্তর্জাতিক রাজনীতি এখন বহুল আলোচিত বিষয়। বিশ্বের কোথায় কি ঘটছে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ শুধুমাত্র সাধারণ পাঠকদের চিন্তারই খোরাক যোগায় না, বরং বর্তমানে একাডেমিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ-বিবেচনায় নিয়েই আলোচ্য গ্রন্থটি রচনা করা হয়েছে। গ্রন্থটিতে সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের নিরিখেই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার কারণও অনুসন্ধান করা হয়েছে। পাঠকরা যেমনি এ-সব ঘটনার বিশ্লেষণ থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসের কিছুটা জানতে পারবেন, ঠিক তেমনি 'আরব বসন্ত' নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে আরব বিশ্বে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি সম্পর্কেও নিজেদের ধারণা সমৃদ্ধ করতে পারবেন।
আমরা মোট ৮টি অধ্যায়ে সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেছি। বিশ্ব রাজনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কেও সাধারণ পাঠকদের ধারণা দেয়ার জন্য প্রথম অধ্যায়ে এ-সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কিংবা বাংলাদেশের সাথে দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য,আরব বিশ্বের সাম্প্রতিক গণজাগরণ, চীনের সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ, লাদেনের মৃত্যু, কালার রেভোল্যুশন, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়ে বিভিন্ন অধ্যায়ে আলোকপাত করা হয়েছে। অষ্টম অধ্যায়ে বৈদেশিক সাহায্য, গ্যাট ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার রাজনীতি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, পাঠক গ্রন্থটি পাঠ করে বিশ্ব রাজনীতির সম্পর্কে একটা ধারণা পাবেন। এই ধারণা তাকে যেকোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে সাহায্য করবে।
অসাধারণ বই। বইটির প্রথমেই এসেছে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক পালাবদলের সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, জাপান, পাকিস্তান, ভারতের সাথে সম্পর্কের পরিবর্তন। পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উঠে এসেছে পাওনা টাকা আদায়, আড়াই লাখ পাকিস্তানী নাগরিকের প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি, ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উঠে এসেছে ফারাক্কা, গঙ্গার পানিবণ্টন;তিনবিঘা; পুশব্যাক ও বাবরী মসজিদ প্রসঙ্গ; তালপট্টি, মুহুরীর চর ও ছিটমহল। এক্ষেত্রে বইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ এর শিরনাম হল "ভারত কি চায়"। বইটির পরিসর কেবলমাত্র বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। উপমহাদেশীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে উঠে এসেছে ভারতে নেহেরু পরিবার ও হিন্দুত্ববাদের উত্থান, কাশ্মীর সংকট, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদল, শ্রীলঙ্কায় তামিল বৈষম্য ও তামিল টাইগারের ইতিহাস, নেপালের রাজতন্ত্রের পতনের পর গণতন্ত্রের উত্থান, অনিশ্চয়তার আবর্তে পাকিস্তানের রাজনীতি, আফগানিস্তানে সমস্যা, মায়ানমারের ভবিষ্যৎ। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বেলায় উঠে এসেছে উত্তর আফ্রিকার ইসলামি মৌলবাদের পত্তন, জঙ্গিবাদের উত্থান, আরব বসন্ত, লিবিয়ায় তেলের রাজনীতি, সোমালিয়ার ভবিষ্যৎ, রুয়ান্ডায় জাতিগত দ্বন্দ্ব, দক্ষিণ আফ্রিকা। এছাড়াও পরের অধ্যায়গুলোতে আছে চীনের রাজনীতি, কোরিয় উপদ্বীপের রাজনীতি, ওবামা ও বিশ্ব রাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারত ও চীনের সম্পর্ক, লাদেনের মৃত্যু ও বিশ্ব রাজনীতি, স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বে রাজনীতি ও অর্থনীতির পরিবর্তন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতন, পুতিনের উত্থাম, চেচনিয়া, যুগোস্লোভিয়ার ভাঙ্গণ, কসোভও সংকট, কালার রিভোল্যুশন, থাইল্যান্ডে গণতন্ত্রের সংকট। এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ল্যারি ডায়মণ্ডের চোখে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গণতন্ত্রের অকার্যকারিতা। পরবর্তীতে এসেছে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা ও জাতিসংঘের ভূমিকা, জলবায়ুর পরিবর্তন, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন, উত্তর দক্ষিণ সংলাপ, গ্যাট ও উন্নয়নশীল বিশ্ব; এপেক, নাফটার মত অর্থনৈতিক জোট নিয়ে আলোচনা।