সবচেয়ে খারাপ- আসলে ভয়াবহ খারাপ লেগেছে বইয়ের "নির্যাতিত নারীর সংখ্যা কমপক্ষে সাত লক্ষ" প্রবন্ধটি পড়ে, জানোয়ারদের পাশবিক নির্যাতনের সেই বর্ণনাই যেন পড়ার যোগ্য না, যারা বর্ণনা করেছেন তাদেরকে পর্যন্ত নির্দয় মনে হয়- কী পাশবিক, নিষ্ঠুরের নিষ্ঠুরতম বললেও কম বলা হয়- মনের মধ্যে শিউরে ওঠা ভয়াবহ হাহাকার জেগে ওঠে! আর লাখের মত জানোয়ার- নৃশংসতম নরপশুর দল হাজির হয়েছিল ১৯৭১ এ- এই বাংলাদেশে, ত্রিশ লক্ষাধিক মানুষকে মেরে 'জল্লাদের গোরস্থান' তৈরি করেছিল, কোটি মানুষ শরণার্থী হয়ে ভারত সীমান্তে ছুটল- কিন্তু দানব পশুদের হাত থেকে পালিয়ে মহামারি কলেরা দানবের প্রকোপে লাখ লাখ মানুষকে কী নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হল! আর ওই ঘৃণ্য হায়েনারা দেশের মা-বোনদের মধ্যে "সাচ্চা পাঞ্জাবী" বিকাশের আদেশে লোলুপ্ত হয়ে যে বর্বরতম নিষ্ঠুরতা করেছিল, তা চূড়ান্ততম ঘৃণারও অযোগ্য। সময় বয়ে যায়, ধীরে ধীরে সেই বাংলা জনপদের অনেক মানুষ যেন চোখের সামনে পর্দা দিয়ে,যেন মেকি রক্ষণশীলতা আর স্বার্থান্বেষী বেঁচে থাকার তাগিদে অনেক কিছু ভুলে যায়, পাশবিকতার ভয়াবহতম রূপ আড়াল করে থাকে- আর সেই সুযোগে স্বাধীনতাবিরোধী প্রভাবশালীরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মিথ্যে ইতিহাস বয়ানের চেষ্টা করে, "ত্রিশ লক্ষাধিক শহীদ, দুই লক্ষাধিক বীরাঙ্গনা"-প্রচলিত এ সংখ্যাগুলোকে মিথ হিসেবে দাঁড় করিয়ে "বড়জোর দুই লক্ষ, হাজারখানেক"-এসব জোচ্চুরি সাজানোর চেষ্টা করে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সমুচিত জবাব হিসেবেই যেন যাবতীয় দলিল-প্রমাণ, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান সমেত- তথ্য-প্রমাণবহুলভাবে রচিত এক অসামান্য গ্রন্থ- যা একজন স্মৃতিভ্রষ্ট মানুষকেও কিছুক্ষণের জন্য নিজ দেশের রক্তের ঋণ, নিযুত-নিযুত মানুষের নির্মমতম,মহত্তম আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে! :( :( (y)