Jump to ratings and reviews
Rate this book

গন্ধটা খুব সন্দেহজনক

Rate this book
প্রচ্ছদ - অনুপ রায়

কিশোরপাঠ্য ছোটগল্প সংকলন

এতে যা আছে –

কৌটার ভূত
বাজার দর
গোয়েন্দা বরদাচরণ
গন্ধটা খুব সন্দেহজনক
গয়াপতির বিপদ
লালটেম
রাজার মন ভাল নেই
ভূতের ভবিষ্যৎ
ভগবানের আবির্ভাব

Unknown Binding

Published January 1, 1995

Loading...
Loading...

About the author

Shirshendu Mukhopadhyay

416 books949 followers
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।

তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।

তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
23 (38%)
4 stars
24 (40%)
3 stars
12 (20%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 39 books1,903 followers
April 8, 2024
এ-সব গল্পের কি রিভিউ লাগে? মনে তো হয় না। চল্লিশ বছর আগে আনন্দমেলা-য় পড়ার পর থেকে এখনও অবধি যে কতবার এদের পড়ে ফেললাম, তার ইয়ত্তা নেই। তবু, আজও, পড়তে গেলে যেন সেই প্রথম পড়ার ভালো-লাগা ফিরে আসে।
এখনও গল্পগুলো পড়েননি? অবিলম্বে ত্রুটি সংশোধন করুন!
Profile Image for Fårzâñã Täzrē.
299 reviews30 followers
November 4, 2023
লেখকের দাদামশাই রেল কোম্পানিতে চাকরি করতেন, সে আজ পঞ্চাশ বছর আগেকার কথা। লেখকের মা তখনও ছোট্ট ইজের-পরা খুকি। তখন এত সব শহর, নগর ছিল না, লোকজনও এত দেখা যেত না। চারধারে কিছু গাছগাছালি, জঙ্গল-টঙ্গল ছিল। সেইরকমই এক নির্জন জঙ্গুলে জায়গায় দাদামশাই বদলি হলেন। উত্তর বাংলার দোমোহানীতে। মালগাড়ির গার্ড ছিলেন, তাই প্রায় সময়েই তাঁকে বাড়ির বাইরে থাকতে হত। কখনো একনাগাড়ে তিন-চার কিংবা সাত দিন। তারপর ফিরে এসে হয়তো একদিনমাত্র বাসায় থাকতেন, ফের মালগাড়ি করে চলে যেতেন।

এমনিতে দোমোহানী জায়গাটা ভারি সুন্দর আর নির্জন স্থান। বেঁটে বেঁটে লিচুগাছে ছাওয়া, পাথরকুচি ছড়ানো রাস্তা, সবুজ মাঠ, কিছু জঙ্গল ছিল। লোকজন বেশি নয়। একধারে রেলের সাহেবদের পাকা কোয়ার্টার, আর অন্যধারে রেলের বাবুদের জন্য আধপাকা কোয়ার্টার, একটা ইস্কুল ছিল ক্লাস এইট পর্যন্ত।

দোমোহানীতে যাওয়ার পরই কিন্তু সেখানকার পুরোনো লোকজনেরা এসে প্রায়ই দাদামশাই আর দিদিমাকে একটা বিষয়ে খুব হুশিয়ার করে দিয়ে যেতেন। কেউ কিছু ভেঙে বলতেন না। যেমন স্টোরকিপার অক্ষয় সরকার দাদামশাইকে একদিন বলেন, এ-জায়গাটা কিন্তু তেমন ভালো নয় চাটুজ্জে। লোকজন সব বাজিয়ে নেবেন। হুটহাট যাকে-তাকে ঘরেদোরে ঢুকতে দেবেন না।

কিংবা আর একদিন পাশের বাড়ির পালিত-গিন্নি এসে দিদিমাকে হেসে হেসে বলে গেলেন, নতুন এসেছেন, বুঝবেন সব আস্তে আস্তে। চোখ-কান-নাক সব ভোলা রাখবেন কিন্তু। ছেলেপুলেদেরও সামলে রাখবেন। এখানে কারা সব আছে, তারা ভালো নয়।

নতুন ঝি রাখলেন সে দিব্যি কাজকর্ম করে, খায়দায়, বাচ্চাদের গল্প বলে ভোলায়। দিন দুই পর পালিত-গিন্নি একদিন সকালে এসে বললেন, নতুন ঝি রাখলেন নাকি দিদি? কই দেখি তাকে।

দিদিমা ডাকতে গিয়ে দেখেন, কলতলায় এঁটো বাসন ফেলে রেখে ঝি কোথায় হাওয়া হয়েছে। অনেক ডাকাডাকিতেও পাওয়া গেল না। পালিত-গিন্নি মুচকি হাসি হেসে বললেন, ওদের ওরকমই ধারা। ঝি-টার নাম কী বলুন তো?

দিদিমা বললেন, কমলা।

পালিত-গিন্নি মাথা নেড়ে বললেন, চিনি, হালদার-বাড়িতেও ওকে রেখেছিল।

দিদিমা অতিষ্ঠ হয়ে বললেন, কী ব্যাপার বলুন তো।

পালিত-গিন্নি শুধু শ্বাস ফেলে বললেন, সব কি খুলে বলা যায়? এখানে এই হচ্ছে ধারা। কোনটা মানুষ আর কোনটা মানুষ নয় তা চেনা ভারি মুশকিল। এবার দেখেশুনে একটা মানুষ-ঝি রাখুন।

এই বলে চলে গেলেন পালিত-গিন্নি, আর দিদিমা আকাশপাতাল ভাবতে লাগলেন।

একটু পরে গিয়ে দেখেন ঝি সেখানেই আছে। জিজ্ঞেস করতে সে বলে মানুষের সামনে যেতে লজ্জা পায়। ঝি থেকে গেলো কিন্তু দিদিমার মনের খটকা আর গেল না।

দাদামশাইয়ের সাথে ঘটেছিল আরেক অদ্ভুত ঘটনা। দাদামশাই হাঁ করে চেয়ে রইলেন। অবাক হয়ে দেখেন, ব্রেকভ্যান থেকে অবিকল গার্ডের পোশাক পরা একটা লোক হাতবাতি তুলে সবুজ আলো দেখাচ্ছে ড্রাইভারকে। ব্রেকভ্যানটা যখন দাদামশাইকে পার হয়ে যাচ্ছে তখন লোকটা তাঁর দিকে চেয়ে ফিক করে হেসে গেল।

সেবার ম্যাজিশিয়ান প্রফেসার ভট্টাচার্য চা-বাগানগুলোতে ঘুরে ঘুরে ম্যাজিক দেখিয়ে দোমোহানীতে এসে পৌঁছোলেন। তখনকার মফস্বল শহরের নিয়ম ছিল বাইরে থেকে কেউ এরকম খেলা-টেলা দেখাতে এলে তাঁকে কিংবা তাঁর দলকে বিভিন্ন বাসায় সবাই আশ্রয় দিতেন। প্রফেসর ভট্টাচার্য লেখকের মামাবাড়িতে উঠেছিলেন। রাতে খেতে বসে দাদামশাই তাঁকে বললেন, আপনার খেলা গণপতির চেয়েও ভালো। অতি আশ্চর্য খেলা।

ভট্টাচার্যও বললেন, হ্যাঁ, অতি আশ্চর্য খেলা। আমিও এরকম আর দেখিনি।

দাদামশাই অবাক হয়ে বললেন, সে কী? এ তো আপনিই দেখালেন!

ভট্টাচার্য আমতা আমতা করে বললেন, তা বটে। আমিই তো দেখালাম! আশ্চর্য।

তাঁকে খুবই বিস্মিত মনে হচ্ছিল। কারণ স্টেজে আপনাআপনি যা যা কান্ড ঘটেছে তার ব্যাখা তিনি জানেন না। নিজে নিজে চক একাই বোর্ডে লিখছে, কোনো সাহায্য ছাড়াই তাঁর মুখ থেকে আগুনের হলকা বেরিয়েছিল এগুলো কে করেছে!!

দাদামশাইয়ের বাবা সেবার বেড়াতে এলেন দোমোহানীতে। বাসায় পা দিয়ে বললেন, তোদের ঘরদোরে একটা আঁশটে গন্ধ কেন রে?

সবাই বলল, আঁশটে গন্ধ! কই, আমরা তো পাচ্ছি না।

দাদামশাইয়ের বাবা ধার্মিক মানুষ, খুব পন্ডিত লোক, মাথা নেড়ে বললেন, আলবাত আঁশটে গন্ধ। সে শুধু তোদের বাসাতেই নয়, স্টেশনে নেমেও গন্ধটা পেয়েছিলাম। পুরা এলাকাতেই যেন আঁশটে-আঁশটে গন্ধ একটা।

মামাদের বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতেন ধর্মদাস নামে একজন বেঁটে আর ফরসা ভদ্রলোক। তিনি থিয়েটারে মেয়ে সেজে এমন মিহি গলায় মেয়েলি পার্ট করতেন যে, বোঝাই যেত না তিনি মেয়ে না-ছেলে। সেবার সিরাজদ্দৌলা নাটকে তিনি লুঙ্কা। গিরিশ ঘোষের নাটক। কিন্তু নাটকের দিনই তাঁর ম্যালেরিয়া চাগিয়ে উঠল। লেপ-চাপা হয়ে কোঁ-কোঁ করছেন। কিন্তু নাটকের দিন ঠিকই তাঁর মতই একজন অবিকল স্টেজে উঠে জাঁদরেল অভিনয় দেখালো। ম্যানেজার অবশ্য জানতে সেদিন আসল ধর্মদাস বাবু ছিলেনই না!

দাদামশাইয়ের বাবা সবই লক্ষ করতেন, আর বলতেন, এসব ভালো কথা নয়। গন্ধটা খুব সন্দেহজনক। ও বউমা, এসব কী দেখছি তোমাদের এখানে? হুট বলতেই সব মানুষজন এসে পড়ে কোত্থেকে, আবার হুশ করে মিলিয়ে যায়। দিদিমা আর কী উত্তর দেবেন? কিন্তু দাদামশাইয়ের বাবা কেবলই চারধারে বাতাস শুঁকে শুঁকে বেড়ান, আর বলেন, এ ভালো কথা নয়। গন্ধটা খুব সন্দেহজনক।

আচ্ছা দোমোহানীতে এসব হচ্ছেটা কী! মানুষের বেশে যারা আছে তাঁরা সবাই কী সত্যি সত্যি মানুষ! বাতাসে কেনো আঁশটে গন্ধ পান দাদামশাইয়ের বাবা? অনেক উত্তর জানা বোধহয় বাকি।

// পাঠ প্রতিক্রিয়া:

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় কিন্তু সাহিত্যের প্রায় অনেক ক্ষেত্রেই সমান পারদর্শী। এবং তাঁর ঝুলিতে রয়েছে "দূরবীন", "মানবজমিন", "পার্থিব" এর মত জনপ্রিয় সব উপন্যাস। এবং আজও তা পাঠকের কাছে একইরকম জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ভৌতিক আবহে যেভাবে গল্প তৈরি করেন এখানে বর্ণনাশৈলী খুবই মজবুত বলা চলে। এবং যেহেতু তিনি চলিত ভাষায় লেখেন তো সাবলীল বর্ণনার মাধ্যমে পাঠককে গল্পে মনোমুগ্ধকর একটা অভিজ্ঞতা দিতে পারেন।

"গন্ধটা খুব সন্দেহজনক" এই গল্পের ক্ষেত্রে আমার অনুভূতিটা কিন্তু অসাধারণ। এবং এখানে গল্পের প্লট মানানসই লেগেছে এবং সাথে ছিল ছোট ছোট ঘটনার যোগসূত্রতা। তাই সব মিলিয়ে বেশ ভালো লেগেছে আমার।

ভয়ের গল্প আসলে ভয়ের কিছু উপাদান না থাকলে চলে না। ভয় পেতে হবে না ভয়ের অনুভূতিটাও অনেক জরুরী এ ক্ষেত্রে। তাই খুঁতখুঁতে ভাবটা থেকেই যায় ভয়ের গল্প বাছাইয়ে।

বইয়ের নামঃ "গন্ধটা খুব সন্দেহজনক"
লেখকঃ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৮/৫
Profile Image for Lubaba Marjan.
131 reviews52 followers
March 17, 2024
মোটে নয়খানা গল্প আছে। বেশ ঝরঝরে তবে বইয়ের গন্ধটা বড়ই সন্দেহজনক।
Profile Image for Deefbruh.
34 reviews4 followers
June 21, 2022
জায়গাটা নাকি তেমন ভালো নয়। কে যে মানুষ, কে যে মানুষ নয় তা বুঝে উঠা মুশকিল। বাড়ির কাজের ঝি কমলার ব্যবহারটাও অদ্ভুত।
Profile Image for Alamgir Baidya.
198 reviews7 followers
April 18, 2026
প্রথমেই বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: আমি গল্প সংকলনটা পড়িনি। এই সংকলনের মধ্যে যে নামগল্পখানি এটা সেটার পাঠ-প্রতিক্রিয়া।

ওসব ডিটক্স-বোটক্স করে কিছু হয়না মশাই। বয়স যদি সত্যিই কমাতে চান, টুক করে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটা ভূতের গল্প পড়ে ফেলুন দেখি! এ ভূত সে ভূত না। “ভয় পেয়না, ভয় পেয়না, তোমায় আমি মারব না” মার্কা লক্ষ্মীমন্ত ভূত। যেমন এই “গন্ধটা খুব সন্দেহজনক” গল্পের দোমোহানীর ভূতগুলো। কথকের দাদামশাই রেলের বদলির চাকরি নিয়ে গেছেন দোমোহানী। এমনিতে দিব্য জায়গা, তা এই কি কোনটা যে মানুষ আর কোনটা যে মানুষ নয় তা চট করে বোঝা যায়না। তবে ভয়ের কিছু নেই। ধরুন আপনি নতুন লোক, ঝিচাকর পাচ্ছেন না। কিছু সহৃদয় না-মানুষ ঠিক এসে লেগে পড়বে কাজে। স্থানীয় ফুটবল ম্যাচে কঠিন প্রতিপক্ষ? কুছ পরোয়া নেই! যেন ঘাস ফুঁড়ে বেরিয়ে আসবে অতিরিক্ত প্লেয়ার। রেফারি গলদ ধরতে গেলেই আবার মিলিয়ে যাবে। সবই যাকে বলে খাপে খাপ। শুধু বেখাপ্পা কথকের দাদামশাইয়ের বাবা। মানুষ না না-মানুষ তা বুঝতে বুড়ো শুধুই গায়ের গন্ধ শুঁকে বেড়ায় আর বলে — “গন্ধটা খুব সন্দেহজনক!”

দারুণ , উপভোগ্য একটা গল্প — শিশু সাহিত্যিক শীর্ষেন্দুকে নিয়ে নতুন করে আর কিই বা বলার আছে! না পড়া থাকলে পরে ফেলুন, এটুকুই।
Profile Image for Samiul Islam.
6 reviews
April 13, 2026
গতানুগতিক ভুতের গল্প 'ভয়ের' হলেও "গন্ধটা খুব সন্দেহজনক" গল্পটি ভিন্নধর্মী। ভূতের সাথে মানুষের সহাবস্থানের এক অদ্ভুত দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।
Profile Image for Nahin.
60 reviews
April 24, 2026
গল্প পড়তে পড়তে মনে হলো, গন্ধটা সত্যিই বড় সন্দেহজনক...
Displaying 1 - 8 of 8 reviews