এই বইয়ের রান্নাঘরে উঁকি দিলে তেল-ঝুল-কালি চোখে পড়লেও পড়তে পারে। তবে যেটা আপনাকে চমকে দেবে তা হল ঘর জুড়ে কাট্, লাইট, সাউন্ড, ক্যামেরা, আউটডোর শুটিং হিরো-হিরোইন প্রভৃতি শব্দের ওড়াউড়ি। সুস্বাদু রান্নার মনমাতানো গন্ধের মতো তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে সারা বইয়ের পাতায় পাতায়। রান্নার বইয়ের পরিচয় দিতে গিয়ে এই ভূমিকাটুকু করতেই হল এইজন্যে যে, এই বইটির লেখিকা একজন সফল ও প্রখ্যাত অভিনেত্রী। অতএব তিনি যখন তাঁর রন্ধনশিল্পের কথা জানাতে বসেন তখন অবলীলায় এসে পড়ে সিনেমাজগতের বিচিত্র সব মুহূর্তের গল্প এবং নানা স্মরণীয় খণ্ডকাহিনী। সুস্বাদু নানাপদ কীভাবে রাঁধতে হবে তার শুকনো বিধরণেই শেষ হয়ে যায়নি এই বই। বরং প্রতি পাতায় এক একটি উত্তম রান্নার বর্ণনার পাশাপাশি এসেছে চলচ্চিত্র জগতের নানা অজানা গল্প। কাতলা মাছের ঝাল, দই চিকেন, ভেটকির কাঁটাচচ্চড়ি, কাজু চিকেন, পালং পনির কোপ্তা, সাগর দই প্রভৃতি উপাদেয় পদগুলোর সূত্রে এসেছে ছবি বিশ্বাস, উত্তমকুমার, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সঞ্জীবকুমার, বনফুল, কিশোরকুমার, রবিশঙ্কর প্রমুখ বিখ্যাত মানুষজন। তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত, ভাললাগা, খুশি হওয়া, তৃপ্ত হওয়ার অজানা কাহিনী। লেখিকা শুধু অভিনয় নয়, রন্ধনেও কতদূর পটীয়সী, তার স্বাক্ষর এই বই। নিজের হাতে, নিজের মতো করে বেঁধে নানা পদ পরিবেশন করেছেন তিনি। সিনেমার জগৎ ও রান্নার বিশ্ব ধরা রইল এই বইয়ে।
সুপ্রিয়া দেবী-এর জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৩৩, বার্মায়। বাবা গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, মা কিরণবালা দেবী। বাবা-মায়ের কাছেই তাঁর লেখাপড়া, শিক্ষা। পরবর্তীকালে নাচের তালিম নিয়েছেন। ১৯৪৯ সাল থেকে স্থায়ীভাবে কলকাতায় বসবাস। ১৯৫০ সালে অভিনেত্রী চন্দ্রাবতী দেবীর সহায়তায় ‘নাগপাশ’ ছবিতে সুপ্রিয়া দেবীর প্রথম আত্মপ্রকাশ। যদিও তাঁর অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘বসু পরিবার’ (১৯৫২)। ‘আম্রপালী’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ও ‘কোমল গান্ধার’ ছবিতে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন। তারপর উত্তমকুমারের অন্যতম নায়িকা হিসেবে কমবেশি তিরিশটি ছবিতে অভিনয়। এবং খ্যাতির শিখরে অবস্থান। কয়েকটি হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেন। তার মধ্যে কিশোরকুমার পরিচালিত-অভিনীত ‘দূর গগন কী ও ছাঁও মে’ উল্লেখযোগ্য। পেশাদারি নাট্যমঞ্চ, যাত্রা এবং বহু সিরিয়ালে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বহু পুরস্কারে সম্মানিত সুপ্রিয়া দেবী দু’ দু’বার বি এফ জে এ পুরস্কার পেয়েছেন। এখনও তিনি অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাঁর নানা শখের মধ্যে অন্যতম রান্নাবান্না।