AITIHASIK PANCH NARI A Historical Novel by Souvik Gupta
প্রচ্ছদ – রঞ্জন দত্ত
“ঐতিহাসিক পাঁচ নারী”- নামকরণের মধ্যে দিয়েই বোঝা যায় চরিত্রগুলি মূলত ইতিহাস নির্ভর। অতীতের অন্ধকার পৃষ্ঠা থেকে তুলে এনে নতুন আলোর আঙ্গিকে বর্তমান পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইতিহাসের নারী চরিত্র নিয়ে ইতিমধ্য বহু গবেষণামূলক লেখালেখি হয়েছে। তবু সুদীর্ঘ ইতিহাসের পাতায় আরও অনেক নারী চরিত্র পাঠকদের কাছে অজানা রয়ে গেছে। লেখক হিসেবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বহু আলোচিত চরিত্রগুলিকে পাশ কাটিয়ে নতুন কিছু নারী চরিত্রের সঙ্গে পাঠকদের মেলবন্ধন ঘটাবার চেষ্টা করেছি। এই পাঁচটি নারী চরিত্রের মধ্যে যেমন আছে রূপজৌলুস, মাদকতা, রোমাণ্টিকতা, তেমনি আছে নারী হৃদয়ের অন্তর্ভেদী সংঘাত। এখানে নারীর প্রেম দেহ সর্বস্ব হয়ে না উঠে, হয়েছে সর্বত্রগামী। কখনও নারী সুন্দরী, প্রাণোচ্ছল প্রেমিকা। কখনও বা সেই নারী রূপান্তরিত হয়েছে সাহসিনী, বিদ্রোহিনী, প্রতিহিংসাপরায়ণায়। আবার কখনও স্বদেশপ্রেমের সুগভীর টানে খসে গেছে ব্যক্তিক মোহবন্ধ প্রেমের রাজকীয় আবরণ। ক্লেদ পঙ্কিল জীবনের অন্ধকারে প্রতিভাত হয়েছে বিদ্যুতের উজ্জ্বল আলোকদ্যুতি।
চরিত্রগুলি ভিন্ন দেশ, ভিন্ন সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে উঠে এলেও তাদের মধ্যে মৌলিক যে শাশ্বত নারীসত্তা, তা কিন্তু কোনভাবেই উপেক্ষিত হয়নি। চরিত্রগুলির মধ্যে যেমন আছে অভিনবত্ব, নতুনত্ব, তেমনি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নারী মনের চিরন্তন সূক্ষ্ম ঘাত-প্রতিঘাতের অন্তর্ভেদী যন্ত্রণার সতীব্র বেদনা বিধুর হাহাকার – যে শূন্যতা পাঠকমনকে গভীরভাবে স্পর্শ করবে বলে আশা রাখি।
ইতিহাসের পৃষ্ঠা থেকে তুলে আনা পাঁচটি নারী চরিত্র, যাদের সাথে বর্তমান পাঠক সমাজের সার্বিক ভাবে কোনো পরিচয় নেই! আঁখে সোনামুন, আনারকলি, লালকুনওআল, , নুরবাঈ, চন্দ্রাবতী - এরা প্রত্যেকেই ছিলেন অসাধারণ রূপবতী, লাস্যময়ী নারী! জীবন দিয়ে এরা প্রমান করে গেছেন দেবের উর্দ্ধে হলো প্রেম, আর এই প্রেমের সুযোগ নিয়ে পুরুষশাসিত সমাজের প্রতিনিধি হিসাবে রাজা বাদশার দল অবলীলায় তাদের দেহ ভোগ করে গেছেন, কিন্তু তাদের স্বীকৃতি দিতে পারেননি! বরং আভিজাত্যের মিথ্যে চোরাবালিতে পা আটকে তারা এই সব হতভাগিনীদের ঠেলে দিয়েছেন নির্মম মৃত্যুর গহ্ববরে! আর হয়ত সেই কারণেই অতীতের পৃষ্ঠা থেকে চরিত্রগুলি উঠে এলেও বর্তমান সমাজের চোখে হয়ে উঠেছে নারী নির্যাতনের জীবন্ত উদাহরণ!