স্বনামধন্য শার্লক হোমস নাকি সশরীরে একবার এদেশে এসেছিলেন। সে ছিল কুইন ভিক্টোরিয়ার আমল। ওয়াটসনকে সঙ্গী করে উঠেছিলেন এসে বেহালায়, বঙ্গীয় গোয়েন্দাপ্রবর রাখাল মুস্তৌফীর পৈতৃক বাসভবনে। সত্যি এসেছিলেন কিনা সে-খবর অবশ্য ঠিকঠাক জানেন একজনইঃ ‘নীলতারা গল্পের স্রষ্টা পরশুরাম ওরফে রাজশেখর বসু। তবে একটা কথা আমরা জানি, শার্লক হোমস এদেশে আসার ঢের ঢের আগে থেকেই গোয়েন্দাঘটিত গল্পকাহিনী এদেশে এসে গেছে।
ঠিক কবে, তা অবশ্য জানি না। এও জানি না যে, এদেশেই প্রথম সূচনা অপরাধকেন্দ্রিক এই জনপ্রিয় সাহিত্যধারাটির, নাকি পৃথিবীর অন্য কোনও প্রান্তে। যদি অন্য প্রান্তেই তবে কোথায় ? ‘ক্রাইম কাহিনীর কালক্রান্তি’ নামের এই অসাধারণ সন্ধানী আলোচনা-গ্রন্থে এই জাতীয় যাবতীয় জিজ্ঞাসারই তন্নতন্ন জবাব খুঁজেছেন শ্রদ্ধেয় ভাষাতাত্ত্বিক সুকুমার সেন, গোয়েন্দাগল্প বিষয়ে যাঁর সবিশেষ প্রীতি আর দূর্বলতা এখন আর আমাদের অবিদিত নয়। বৈদিক যুগ কি তারও আগে থেকে বিংশ শতাব্দীর পঞ্চম দশক পর্যন্ত ব্যাপ্ত তাঁর অন্বেষণের সময়সীমা। প্রচ্যদেশ থেকে শুরু করে ইয়োরোপ, আমেরিকা, কানাডা পর্যন্ত বিস্তৃত আলো-ফেলা আলোচনার ক্ষেত্র।
সুকুমার সেনের এই মহামূল্য গ্রন্থকে যদি কেউ সাল-তারিখ নিয়ে পণ্ডিতী বিবাদ ভাবেন, অবশ্যই ভুল করবেন। ক্রাইম কাহিনীর এ-যাবৎকাল অলব্ধ ঠিকুজী ও কুলপঞ্জী উদ্ধার নিশ্চিৎ এ গ্রন্থের অন্যতম লক্ষ্য, তা বলে সেটাই একমাত্র লক্ষ্য নয়।
বিশ্বসাহিত্যের প্রাচীনতম শাখার – গোয়েন্দাকাহিনীর – উৎস ও বিকাশ অনুসন্ধানের সূত্রে পৃথিবীর তাবৎ গোয়েন্দাসাহিত্যেরই এক পূর্ণ পরিচয় এ-গ্রন্থে উপহার দিয়েছেন সুকুমার সেন। শুনিয়েছেন ক্রাইম কাহিনীর চরিত্র, প্রকৃতি ও শ্রেণীবিন্যাস। দেখিয়েছেন প্রাচীনের সঙ্গে আধুনিক ক্রাইম কাহিনীর মিল-অমিল। আলোচনাসূত্রে তেনে এনেছেন সেকাল থেকে একালের প্রতিটি উল্লেখ্য লেখা ও লেখকের প্রসঙ্গ। ভেঙেছেন দেশ-কাল-ভাষার দুর্লঙ্ঘ্য দেওয়াল।
এই আলোচনায় এমন-কী যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু বিখ্যাত কিন্তু অধুনা-দুষ্প্রাপ্য গল্পের অনুবাদ কিংবা উদ্ধৃতি। ফলে, একইসঙ্গে মননশীল আলোচনাগ্রন্থ হয়েও এ-বই স্থানে স্থানে প্রাণস্পর্শী গল্পগ্রন্থ। গবেষণাধর্মী হয়েও রসসমৃদ্ধ।
ক্রম-দীপিকা –
পূর্ব খণ্ড –
বুদ্ধিশরণ
১ উপক্রম ২ বিচিত্র কাহিনী ৩ নীতিকথা ৪ অপূর্বকথা
পশ্চিম খণ্ড –
বিদ্যাশরণ
১ অষ্টাদশ শতাব্দী ২ ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্দ্ধ ৩ ঊনবিংশ-বিংশ শতাব্দীর সেতুবন্ধ ৪ বিংশ শতাব্দীর প্রথম দু’দশক ৫ বিংশ শতাব্দীর তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম দশক ৬ বিচার বিবেচনা
উত্তর খণ্ড -
ভাবশরণ
১ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২ ও হেনরি
দক্ষিণ খণ্ড –
অনুসরণ
১ ফাঁড়িদারোগা ২ থানাপুলিশ ৩ দেশী-বিলাতী ৪ পালাবদল
সুকুমার সেন (১৬ জানুয়ারি ১৯০১ - ৩ মার্চ ১৯৯২) ছিলেন একজন ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্য বিশারদ। বৈদিক ও ধ্রুপদি সংস্কৃত, পালি, প্রাকৃত, বাংলা, আবেস্তা ও প্রাচীন পারসিক ভাষায় তাঁর বিশেষ বুৎপত্তি ছিল। তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব ও পুরাণতত্ত্ব আলোচনাতেও তিনি তাঁর বৈদগ্ধের পরিচয় রেখেছিলেন।
ভাষার ইতিবৃত্ত (বাংলা ভাষাতত্ত্বের একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা) Women's Dialect in Bengali (বাংলা মেয়েলি ভাষা নিয়ে গবেষণামূলক রচনা) বাংলা স্থাননাম (বাংলা স্থাননাম নিয়ে ভাষাতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ) রামকথার প্রাক-ইতিহাস (রামায়ণ-সংক্রান্ত তুলনামূলক পুরাণতাত্ত্বিক আলোচনা) ভারত-কথার গ্রন্থিমোচন (মহাভারত-সংক্রান্ত তুলনামূলক পুরাণতাত্ত্বিক আলোচনা) ব্রজবুলি সাহিত্যের ইতিহাস বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস (৫ট খণ্ডে, সুকুমার সেনের সবচেয়ে বিখ্যাত বই, বাংলা সাহিত্যের একটি পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক ইতিহাস) বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা বাঙ্গালা সাহিত্যে গদ্য বঙ্গভূমিকা (বাংলার আদি-ইতিহাস সংক্রান্ত গ্রন্থ) বাংলা ইসলামি সাহিত্য দিনের পরে দিন যে গেল ( আত্মজীবনীমূলক রচনা )
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ক্রাইম কাহিনির সংক্ষিপ্ত পরিচয় সহ সুকুমার সেনের প্রজ্ঞালব্ধ বিশ্লেষণ উঠে এসেছে এই বইতে৷ গোয়েন্দা বা হুনুর সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে এই বই অবশ্যপাঠ্য বলা যায় নিঃসন্দেহে৷