What do you think?


আকাশের নীচে মানুষ
দোসাদটোলায় কয়েকঘর অচ্ছুৎ পরিবারের বাস অনেককাল ধরে। তারা ওখানকার জমিদার রঘুনাথ সিং এর জন্য জমিতে চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। অন্যকোন পেশা গ্রহণের উপায় নেই। তাদের বোঝানো হয়েছে জমিদারের কাছে তাদের কয়েক পুরুষের বিরাট ঋণ আছে। সেই ঋণ পরিশোধ এর জন্যই জমিতে খাটতে হবে।
অশিক্ষিত হওয়ার দরুণ তাদের কিছুই করার থাকে না মেনে নেওয়া ছাড়া, আর যারা একটু বিদ্রোহ করে তাদের ও কড়া শাসনের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা হয়।
কিন্তু মানুষ তো জন্মগত ভাবেই স্বাধীন হতে চায়। সেরকমই এদের মধ্যে ধর্মা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে। জমিদারের কর্মচারীর কাছে জানতে চায় কত টাকা ঋণ পরিশোধ করলে তারা এর থেকে মুক্তি পাবে। বলাবাহুল্য টাকার অংকটা কম ছিলো না। তাও ধর্মা মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় এই ঋণ যেভাবেই হোক শোধ করে মুক্তির স্বাদ নিবে।
সত্যিই স্বাধীনতা বড় লোভনীয় বস্তু। ওইটি পাওয়ার জন্য মানুষ কিনা করে!
এই উপন্যাসে স্বাধীনতার জন্য মানুষের সংগ্রামের ও ত্যাগের বিষদ বর্ণনা আছে।
অশিক্ষিত হওয়ার দরুণ তাদের কিছুই করার থাকে না মেনে নেওয়া ছাড়া, আর যারা একটু বিদ্রোহ করে তাদের ও কড়া শাসনের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা হয়।
কিন্তু মানুষ তো জন্মগত ভাবেই স্বাধীন হতে চায়। সেরকমই এদের মধ্যে ধর্মা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে। জমিদারের কর্মচারীর কাছে জানতে চায় কত টাকা ঋণ পরিশোধ করলে তারা এর থেকে মুক্তি পাবে। বলাবাহুল্য টাকার অংকটা কম ছিলো না। তাও ধর্মা মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় এই ঋণ যেভাবেই হোক শোধ করে মুক্তির স্বাদ নিবে।
সত্যিই স্বাধীনতা বড় লোভনীয় বস্তু। ওইটি পাওয়ার জন্য মানুষ কিনা করে!
এই উপন্যাসে স্বাধীনতার জন্য মানুষের সংগ্রামের ও ত্যাগের বিষদ বর্ণনা আছে।
216 pages, Hardcover
First published April 1, 1981
About the author
Prafulla Roy
227 books50 followersPrafulla Roy was a Bengali author, lived in West Bengal, India. He received Bankim Puraskar and Sahitya Akademi Award for his literary contribution in Bengali.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
Read
July 8, 2025প্রত্যাশা ছিলো না বাড়তি। বিসাকের লাইব্রেরি থেকে মোটামুটি দৈবচয়ন পদ্ধতিতে বইটা নিলাম এবং পড়ে চমৎকৃত হলাম। নিম্নবর্গের মানুষ নিয়ে উপন্যাস লেখা বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। আবেগ ও মানবিকতার প্রাবল্য অনেক সময় লেখাটিকে জোলো আর সস্তা করে তোলে, এদিকে প্রফুল্ল রায়ের লেখাতেও নাটকীয়তার কমতি থাকে না। তাই পড়া শুরু করে ভয়ই পেয়েছিলাম উল্টো। আনন্দের বিষয়, লেখক অতিনাটকীয়তার ঝোঁক এড়িয়ে নির্মোহভাবে ভূমিদাস ধর্মা-কুশীদের দুর্বিষহ জীবন, প্রত্যহের নির্মম অভিজ্ঞতা, স্বপ্ন- স্বপ্নভঙ্গ, ভোটের রাজনীতি ও সমাজ বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।শেষে একটু তাড়াহুড়ো হয়ে গেলো, অনেক ঘটনা ঘটে গেলো অতি দ্রুত।তারপরও ভালো লাগলো সবটা মিলিয়ে। সত্যিকার অর্থে, এই প্রথম প্রফুল্ল রায়ের সৃজনশীল রচনা পড়ে মনে হলো,তার অন্যান্য বইও পড়া দরকার।
June 24, 2026
"এখন, এই জষ্ঠি মাসের এই বিকেলে গোটা আকাশ জুড়ে গলা কাঁসার রং ধরে আছে" – আকাশের নীচে মানুষ বইয়ের প্রথম লাইন পড়ে ঠিক করে ফেলেছিলাম এই বইটা আমি পড়ব। আগে প্রফুল্ল রায়ের কোনো বই পড়া হয়নি। তবে পরবর্তীতে অবশ্যই পড়া হবে।
বিহারের ছোটনাগপুর রেঞ্জ বইটির পটভূমি। পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেলেও প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে জমিদারিপ্রথা চলছে বহাল তবিয়তে। এখনও আছে ভূমিদাসপ্রথা। বংশানুক্রমে কয়েক জেনারেশন ধরে গ্রামসুদ্ধ মানুষ রঘুনাথ সিং-এর জমি চষে সোনালী ধান, তিল-তিসিসহ বিভিন্ন ফসল ফলায়। বিনিময়ে প্রাচীন গুহার মতো মাটির ঘর, দুদিন পর পর অখাদ্য খাবার, আর বছরে দুটো করে কাপড়।
এই সমাজের মানুষদের জীবনের অমোঘ নিয়ম হলো জীবনভর খেটে যাওয়া এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একই জীবন রেখে যাওয়া। চিরাচরিত এই নিয়মের বাইরে চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনা এ গ্রামে ঘটতে শুরু করে যখন রঘুনাথ সিং নির্বাচনে দাঁড়ান। ভূমিদাস ধর্মা, কুশী, গনেরি এবং তাদের গ্রামের সকলে ভাবতে বাধ্য হয়, তাদের জীবনেও কি পরিবর্তন আসা সম্ভব?
প্রত্যেকটি চরিত্র, প্রকৃতি আর ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা আছে এই উপন্যাসে। লেখার মধ্যে কিছুটা নাটকীয়তাও লক্ষ্য করেছি, তবে তা পরিমিত। ডায়লগ বেশির ভাগ হিন্দিতে লেখা, সম্ভবত বিহারের বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলার জন্য। কিন্তু এজন্য পড়ার গতি একটু কমে যায়। আমার মনে হচ্ছিল উপন্যাসটা যেহেতু বাংলায়, কথাগুলোও বাংলায়ই হতে পারত। কিন্তু গল্প এত সুন্দর যে মুগ্ধ হয়ে পড়েছি।
বইটির মূল চরিত্র ধর্মা আর কুশী। 'অচ্ছুৎ' এই দুই মানব-মানবীর স্বপ্ন নিজেদের স্বাধীনতা কিনে নেবার। সেজন্য সারাদিন হাড় কালি করা খাটুনির পরেও জেগে থাকে তারা। খুঁজে বেড়ায় মুক্তির পথ। এদের দুজনের মধ্যে কথোপকথন তেমন নেই। শুধু জ্যোৎস্নায় তাদের হেঁটে যাওয়া বা পাশাপাশি ঘরে নির্ঘুম শুয়ে থাকার বর্ণনা তীরের মতো বিঁধে।
নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনার পাশাপাশি জাতবিভেদ, ভূমিদাসের জীবনেও পুরুষদের তুলনায় নারীদের ওপর অতিরিক্ত নিপীড়ন, ব্যক্তিস্বার্থে মানুষকে বলি দেওয়া, নিরক্ষরতার সুযোগ নেওয়া – এসবসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাবটেক্সট আছে বইটিতে, যা গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে।
একই আকাশের নীচে সব মানুষ বেঁচে থাকে, কিন্তু কি বিশাল ব্যবধান মানুষের সাথে মানুষের। কেউ উড়ে ডানা মেলে আর কারো হাত-পা-মুখ সব বান্ধা, দুইয়ের মধ্যে ফারাক বেড়েই যাচ্ছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে।
বিহারের ছোটনাগপুর রেঞ্জ বইটির পটভূমি। পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেলেও প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে জমিদারিপ্রথা চলছে বহাল তবিয়তে। এখনও আছে ভূমিদাসপ্রথা। বংশানুক্রমে কয়েক জেনারেশন ধরে গ্রামসুদ্ধ মানুষ রঘুনাথ সিং-এর জমি চষে সোনালী ধান, তিল-তিসিসহ বিভিন্ন ফসল ফলায়। বিনিময়ে প্রাচীন গুহার মতো মাটির ঘর, দুদিন পর পর অখাদ্য খাবার, আর বছরে দুটো করে কাপড়।
এই সমাজের মানুষদের জীবনের অমোঘ নিয়ম হলো জীবনভর খেটে যাওয়া এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একই জীবন রেখে যাওয়া। চিরাচরিত এই নিয়মের বাইরে চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনা এ গ্রামে ঘটতে শুরু করে যখন রঘুনাথ সিং নির্বাচনে দাঁড়ান। ভূমিদাস ধর্মা, কুশী, গনেরি এবং তাদের গ্রামের সকলে ভাবতে বাধ্য হয়, তাদের জীবনেও কি পরিবর্তন আসা সম্ভব?
প্রত্যেকটি চরিত্র, প্রকৃতি আর ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা আছে এই উপন্যাসে। লেখার মধ্যে কিছুটা নাটকীয়তাও লক্ষ্য করেছি, তবে তা পরিমিত। ডায়লগ বেশির ভাগ হিন্দিতে লেখা, সম্ভবত বিহারের বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলার জন্য। কিন্তু এজন্য পড়ার গতি একটু কমে যায়। আমার মনে হচ্ছিল উপন্যাসটা যেহেতু বাংলায়, কথাগুলোও বাংলায়ই হতে পারত। কিন্তু গল্প এত সুন্দর যে মুগ্ধ হয়ে পড়েছি।
বইটির মূল চরিত্র ধর্মা আর কুশী। 'অচ্ছুৎ' এই দুই মানব-মানবীর স্বপ্ন নিজেদের স্বাধীনতা কিনে নেবার। সেজন্য সারাদিন হাড় কালি করা খাটুনির পরেও জেগে থাকে তারা। খুঁজে বেড়ায় মুক্তির পথ। এদের দুজনের মধ্যে কথোপকথন তেমন নেই। শুধু জ্যোৎস্নায় তাদের হেঁটে যাওয়া বা পাশাপাশি ঘরে নির্ঘুম শুয়ে থাকার বর্ণনা তীরের মতো বিঁধে।
নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনার পাশাপাশি জাতবিভেদ, ভূমিদাসের জীবনেও পুরুষদের তুলনায় নারীদের ওপর অতিরিক্ত নিপীড়ন, ব্যক্তিস্বার্থে মানুষকে বলি দেওয়া, নিরক্ষরতার সুযোগ নেওয়া – এসবসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাবটেক্সট আছে বইটিতে, যা গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে।
একই আকাশের নীচে সব মানুষ বেঁচে থাকে, কিন্তু কি বিশাল ব্যবধান মানুষের সাথে মানুষের। কেউ উড়ে ডানা মেলে আর কারো হাত-পা-মুখ সব বান্ধা, দুইয়ের মধ্যে ফারাক বেড়েই যাচ্ছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে।
October 6, 2026
একদিকে মাটির সঙ্গে লড়াই, অন্যদিকে মানুষের তৈরি শিকল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা।
প্রচণ্ড গরমে পাথুরে মাটি, ধুলোয় ডুবে থাকা রাস্তা, শুকিয়ে যাওয়া দক্ষিণ কোয়েলের খাত, আর সেই মাটির বুক চিরে দিনের পর দিন লাঙল ঠেলে চলা মানুষ। এখানে মানুষের জীবন খুব সহজ নয়। বিশেষ করে গারুদিয়া তালুকের দোসাদটোলার মানুষগুলোর জীবন যেন জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই একটি অদৃশ্য বন্ধনে বাঁধা পড়ে গেছে।
এই কাহিনির কেন্দ্রে ধর্মা। তার সঙ্গে আছে কুশী—যে শুধু তার সঙ্গী নয়, একই কঠিন বাস্তবতার সহযাত্রী। তাদের প্রতিদিনের জীবন রঘুনাথ সিংয়ের জমিতে হাল-বয়েল নিয়ে কাজ করা, মাটি চাষ করা, খোরাকির ব্যবস্থা করা এবং সুযোগ পেলেই সামান্য বাড়তি রোজগারের চেষ্টা করার মধ্যে আটকে আছে। তাদের সামনে নিজের মতো করে বাঁচার স্বপ্ন আছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবের মাটিতে পৌঁছতে গেলে একের পর এক বাধার মুখোমুখি হতে হয়।
রঘুনাথ সিংয়ের বিশাল খামারবাড়ি, গোলাঘর, অসংখ্য পশু, জমিজমা এবং হাভেলির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে দোসাদটোলার অচ্ছুৎ ভূমিদাসদের জীবন। এই বৈপরীত্যটিই বইটির কাহিনিকে ক্রমে গভীর করে তোলে। একদিকে ক্ষমতা ও সম্পদের বিস্তার, অন্যদিকে সেই সম্পদ তৈরি করা মানুষেরই অভাব, অনিশ্চয়তা ও নির্ভরশীলতা।
কাহিনি এগোতে এগোতে শুধু ধর্মা-কুশীর ব্যক্তিগত জীবনের কথা থাকে না; দোসাদটোলার একাধিক মানুষের জীবনও গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। গণা, গণেরি, ফাগুরাম, নওরঙ্গীসহ নানা চরিত্রের ঘটনায় সেই সমাজের ভেতরের সম্পর্ক, ভয়, আশা, অপমান এবং প্রতিরোধের নানা রূপ সামনে আসে। গণার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা যেমন শুধু একজন মানুষের পালিয়ে যাওয়া নয়—তা এমন এক ব্যবস্থার সামনে প্রশ্ন তুলে দেয় যেখানে একজন মানুষকে তার সারা জীবনের জন্য অন্যের জমির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
এর পাশাপাশি আসে নির্বাচন। ‘চুনাও’ ঘিরে রঘুনাথ সিংয়ের ব্যস্ততা, সভা, প্রচার, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা কাহিনিকে অন্য মাত্রা দেয়। যারা প্রতিদিন জমিতে শ্রম দেয়, তাদের জীবন আর যারা সেই জমি ও এলাকার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে—এই দুই জগতের দূরত্ব তখন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভোটের সময় ভূমিদাসদের গুরুত্ব যেন হঠাৎ বেড়ে যায়, অথচ তাদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা একই থাকে।
মুক্তির স্বপ্ন দেখা আর বাস্তবে মুক্ত হয়ে যাওয়া এক জিনিস নয়। একজন মানুষ কিছুটা এগিয়ে গেলেও তার চারপাশের পৃথিবী রাতারাতি বদলে যায় না। তাই ধর্মার হাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুললেও তার পায়ের নিচের মাটি এখনও সেই কঠিন মাটি।
আকাশের নীচে মানুষ পড়তে পড়তে পাঠকের সামনে তাই শুধু একটি গ্রামের বা কয়েকজন মানুষের গল্প আসে না; আসে এমন এক জীবনের ছবি, যেখানে মানুষ প্রতিদিন মাটির সঙ্গে লড়ে, ক্ষমতার সঙ্গে লড়ে, অভাবের সঙ্গে লড়ে—তবু স্বপ্ন দেখা ছাড়ে না।
আর বইটি পড়ার পর সম্ভবত সবচেয়ে বেশি মনে থাকে সেই প্রশ্নটাই—মানুষের মাথার ওপর আকাশ সবার জন্য একই হলেও, সেই আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে মানুষের জীবন কি সত্যিই সবার সমান?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ধর্মা, কুশী এবং দোসাদটোলার মানুষগুলোর সঙ্গে পথ চলতে হয়। আর সেই পথচলার কারণেই আকাশের নীচে মানুষ এমন একটি কাহিনি হয়ে ওঠে, যার পরের ঘটনা জানার আগ্রহ পাঠককে বইয়ের শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
প্রচণ্ড গরমে পাথুরে মাটি, ধুলোয় ডুবে থাকা রাস্তা, শুকিয়ে যাওয়া দক্ষিণ কোয়েলের খাত, আর সেই মাটির বুক চিরে দিনের পর দিন লাঙল ঠেলে চলা মানুষ। এখানে মানুষের জীবন খুব সহজ নয়। বিশেষ করে গারুদিয়া তালুকের দোসাদটোলার মানুষগুলোর জীবন যেন জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই একটি অদৃশ্য বন্ধনে বাঁধা পড়ে গেছে।
এই কাহিনির কেন্দ্রে ধর্মা। তার সঙ্গে আছে কুশী—যে শুধু তার সঙ্গী নয়, একই কঠিন বাস্তবতার সহযাত্রী। তাদের প্রতিদিনের জীবন রঘুনাথ সিংয়ের জমিতে হাল-বয়েল নিয়ে কাজ করা, মাটি চাষ করা, খোরাকির ব্যবস্থা করা এবং সুযোগ পেলেই সামান্য বাড়তি রোজগারের চেষ্টা করার মধ্যে আটকে আছে। তাদের সামনে নিজের মতো করে বাঁচার স্বপ্ন আছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবের মাটিতে পৌঁছতে গেলে একের পর এক বাধার মুখোমুখি হতে হয়।
রঘুনাথ সিংয়ের বিশাল খামারবাড়ি, গোলাঘর, অসংখ্য পশু, জমিজমা এবং হাভেলির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে দোসাদটোলার অচ্ছুৎ ভূমিদাসদের জীবন। এই বৈপরীত্যটিই বইটির কাহিনিকে ক্রমে গভীর করে তোলে। একদিকে ক্ষমতা ও সম্পদের বিস্তার, অন্যদিকে সেই সম্পদ তৈরি করা মানুষেরই অভাব, অনিশ্চয়তা ও নির্ভরশীলতা।
কাহিনি এগোতে এগোতে শুধু ধর্মা-কুশীর ব্যক্তিগত জীবনের কথা থাকে না; দোসাদটোলার একাধিক মানুষের জীবনও গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। গণা, গণেরি, ফাগুরাম, নওরঙ্গীসহ নানা চরিত্রের ঘটনায় সেই সমাজের ভেতরের সম্পর্ক, ভয়, আশা, অপমান এবং প্রতিরোধের নানা রূপ সামনে আসে। গণার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা যেমন শুধু একজন মানুষের পালিয়ে যাওয়া নয়—তা এমন এক ব্যবস্থার সামনে প্রশ্ন তুলে দেয় যেখানে একজন মানুষকে তার সারা জীবনের জন্য অন্যের জমির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
এর পাশাপাশি আসে নির্বাচন। ‘চুনাও’ ঘিরে রঘুনাথ সিংয়ের ব্যস্ততা, সভা, প্রচার, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা কাহিনিকে অন্য মাত্রা দেয়। যারা প্রতিদিন জমিতে শ্রম দেয়, তাদের জীবন আর যারা সেই জমি ও এলাকার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে—এই দুই জগতের দূরত্ব তখন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভোটের সময় ভূমিদাসদের গুরুত্ব যেন হঠাৎ বেড়ে যায়, অথচ তাদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা একই থাকে।
মুক্তির স্বপ্ন দেখা আর বাস্তবে মুক্ত হয়ে যাওয়া এক জিনিস নয়। একজন মানুষ কিছুটা এগিয়ে গেলেও তার চারপাশের পৃথিবী রাতারাতি বদলে যায় না। তাই ধর্মার হাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুললেও তার পায়ের নিচের মাটি এখনও সেই কঠিন মাটি।
আকাশের নীচে মানুষ পড়তে পড়তে পাঠকের সামনে তাই শুধু একটি গ্রামের বা কয়েকজন মানুষের গল্প আসে না; আসে এমন এক জীবনের ছবি, যেখানে মানুষ প্রতিদিন মাটির সঙ্গে লড়ে, ক্ষমতার সঙ্গে লড়ে, অভাবের সঙ্গে লড়ে—তবু স্বপ্ন দেখা ছাড়ে না।
আর বইটি পড়ার পর সম্ভবত সবচেয়ে বেশি মনে থাকে সেই প্রশ্নটাই—মানুষের মাথার ওপর আকাশ সবার জন্য একই হলেও, সেই আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে মানুষের জীবন কি সত্যিই সবার সমান?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ধর্মা, কুশী এবং দোসাদটোলার মানুষগুলোর সঙ্গে পথ চলতে হয়। আর সেই পথচলার কারণেই আকাশের নীচে মানুষ এমন একটি কাহিনি হয়ে ওঠে, যার পরের ঘটনা জানার আগ্রহ পাঠককে বইয়ের শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
April 20, 2024
শেষের মন খারাপের অংশটুকু বেশি দীর্ঘায়িত না করার জন্য লেখকের কাছে চিরকৃতজ্ঞ
October 12, 2024
বেদনাদায়ক উপন্যাস। অপাঙ্ক্তেয় গোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।
এই গোষ্ঠী এখনো অত্যাচারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের পক্ষে কেউ ছিল না এখনও নেই।
এই গোষ্ঠী এখনো অত্যাচারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের পক্ষে কেউ ছিল না এখনও নেই।
November 5, 2018
দোসাদটোলায় কয়েকঘর অচ্ছুৎ পরিবারের বাস অনেককাল ধরে। তারা ওখানকার জমিদার রঘুনাথ সিং এর জন্য জমিতে চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। অন্যকোন পেশা গ্রহণের উপায় নেই। তাদের বোঝানো হয়েছে জমিদারের কাছে তাদের কয়েক পুরুষের বিরাট ঋণ আছে। সেই ঋণ পরিশোধ এর জন্যই জমিতে খাটতে হবে।
অশিক্ষিত হওয়ার দরুণ তাদের কিছুই করার থাকে না মেনে নেওয়া ছাড়া, আর যারা একটু বিদ্রোহ করে তাদের ও কড়া শাসনের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা হয়।
কিন্তু মানুষ তো জন্মগত ভাবেই স্বাধীন হতে চায়। সেরকমই এদের মধ্যে ধর্মা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে। জমিদারের কর্মচারীর কাছে জানতে চায় কত টাকা ঋণ পরিশোধ করলে তারা এর থেকে মুক্তি পাবে। বলাবাহুল্য টাকার অংকটা কম ছিলো না। তাও ধর্মা মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় এই ঋণ যেভাবেই হোক শোধ করে মুক্তির স্বাদ নিবে।
সত্যিই স্বাধীনতা বড় লোভনীয় বস্তু। ওইটি পাওয়ার জন্য মানুষ কিনা করে!
এই উপন্যাসে স্বাধীনতার জন্য মানুষের সংগ্রামের ও ত্যাগের বিষদ বর্ণনা আছে।
অশিক্ষিত হওয়ার দরুণ তাদের কিছুই করার থাকে না মেনে নেওয়া ছাড়া, আর যারা একটু বিদ্রোহ করে তাদের ও কড়া শাসনের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা হয়।
কিন্তু মানুষ তো জন্মগত ভাবেই স্বাধীন হতে চায়। সেরকমই এদের মধ্যে ধর্মা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে। জমিদারের কর্মচারীর কাছে জানতে চায় কত টাকা ঋণ পরিশোধ করলে তারা এর থেকে মুক্তি পাবে। বলাবাহুল্য টাকার অংকটা কম ছিলো না। তাও ধর্মা মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় এই ঋণ যেভাবেই হোক শোধ করে মুক্তির স্বাদ নিবে।
সত্যিই স্বাধীনতা বড় লোভনীয় বস্তু। ওইটি পাওয়ার জন্য মানুষ কিনা করে!
এই উপন্যাসে স্বাধীনতার জন্য মানুষের সংগ্রামের ও ত্যাগের বিষদ বর্ণনা আছে।
June 23, 2018
ভালো বই
Displaying 1 - 8 of 8 reviews








