বাংলা সাহিত্যে ঐতিহাসিক উপন্যাসের শুরুটা ছিল ১৮৫৭-৫৮ সালে৷ প্রথম সফল ঐতিহাসিক উপন্যাস বলতে ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের " অঙ্গুরীয় বিনিময় " কেই ধরা হয়। তবে ঐতিহাসিক উপন্যাসের এই ধারাটা পরে এগিয়ে নিয়ে গেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
ইতিহাসের বিশেষ কোন স্থান, ঘটনা বা চরিত্র নিয়েই সৃষ্টি হয় ঐতিহাসিক উপন্যাস।
সম্রাট শাহজাহানের নাতনি, আওরঙ্গজেবের কন্যা রোশনারা শিবিকায় করে পর্বতঘেরা পথে যাবার সময় হঠাৎ ই হারিয়ে গেলো। রক্ষিবর্গ কোথাও শিবিকা খুঁজে না পাইলেও তারা বুঝতে পারলো, তারা এখন বন্দী।
রক্ষিরা চিন্তিত বাদশা আওরঙ্গজেব কে কি দিয়ে বোঝাবেন, অন্য দিকে রোশনারা চিন্তিত তাকে যে ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে সে খানে দেয়ালে পারস্য ভাষার কাব্য কে লিখে রেখেছে।
সেই ঘরে তিন দিন তিন রাত থাকার পর চতুর্থ দিতে দেখা মিলল শিবজীর সাথে।
ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের " অঙ্গুরীয় বিনিময়" একটি অসম প্রেমের কাহিনি। রাজনৈতিক খোলসের মধ্যে নিখাদ ভালোবাসার এক উপন্যাস। তবে চরিত্রের অতি রোমান্টিকতা বর্জিত। এখানে একজন রাজকন্যার ব্যক্তিত্ব ও ঔদার্য প্রবলভাবে প্রকাশ পেয়েছে, একই সাথে একজন মারাঠা রাজপুত্রের বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের মধ্যে ও হঠাৎ মধুর এক ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে।
এই সময়ে দাঁড়িয়ে এই উপন্যাস পড়তে গিয়ে অনেকেরই ভালো লাগবে না। সাধু ভাষায় লেখা, কঠিন সব শব্দের ব্যবহার যা পড়তে গিয়ে মনে হবে ভাষা তার প্রাঞ্জলতা হারিয়েছে। কিন্তু সেই সময়ের প্রথম স্বার্থক ঐতিহাসিক উপন্যাস। বইটা পড়তে অনেক সময় লেগেছে,
কিছু শব্দের মানে খুঁজতে অভিধানের দরকার পড়েছে, তবুও মনে হচ্ছে অসাধারণ এক উপন্যাস পড়ে শেষ করলাম।