Premendra Mitra (Bangla: প্রেমেন্দ্র মিত্র) was a renowned Bengali poet, novelist, short story writer and film director. He was also an author of Bengali science fiction and thrillers.
His short stories were well-structured and innovative, and encompassed the diverse to the divergent in urban Indian society. The themes of poverty, degradation, caste, the intermittent conflict between religion and rationality and themes of the rural-urban divide are a thematically occurring refrain in much of his work. He experimented with the stylistic nuances of Bengali prose and tried to offer alternative linguistic parameters to the high-class elite prosaic Bengali language. It was basically an effort to make the Bengali literature free from softness, excessive romance and use of old style of writing which were prevalent in older writings.
এ জন্যই বোধহয় প্রেমেন্দ্র মিত্র ঘনাদা লিখতেন। লাঠি ভাঙার গল্প ফাঁদা যায়, শ্রোতা-পাঠক চাহিবামাত্র সেই ভাঙা লাঠির টুকরা-ঠিকুজি দেখানো যায়, আবার সাপও মারতে হয় না, কেমন! এখানেই দেখুন, ঘনাদা একটা দুইটা বিজাতীয় নাম ভুল বললেন, ভুল উচ্চারণ করলেন, তা কী, জানি ত সে চাপা। অথচ যা কিছু বলছে, ঘাটলে দেখা যাচ্ছে মিলেও যাচ্ছে কত কিছু। সাক্ষাত জোজোর সাথে বাহাস করবার মত, ঠিক যে জায়গাটায় ভাবলেন ক্যাঁক করে ধরবেন, দেখবেন সব কিছু নিখাদ, নির্ভেজাল। শেষ দুটা গল্প অত জমে নি। প্রথম গল্প, গল্প বলা যায় কি, সাড়ে চারশ পাতা জুড়ে প্রথম যে গল্প (পাঁচশো দশ পাতা পুরো বই) সে গল্প বেশ জমকালো। তা হবেই না কেনো, বইয়ের একটা গল্পও যদিও ঘনাদাকে নিয়ে নয়, ঘনাদা বক্তা মাত্র, গল্প সব অতীতের, তাও, প্রথম গল্পের নায়ক তাঁরই তস্য তস্য পূর্বপুরুষ জনাব ঘনরাম দাস ওরফে গানাদো, রামে শ্যামে যা শরীরে তফাত, তার তিলমাত্র গড়নগত বৈসাদৃশ্য নাই ঘনরাম আর ঘনশ্যামে, একই সেই অপ্রতিসম প্যাকাটিমতন। বেশ একটা ষোড়শ শতাব্দীর রহস্যরোমাঞ্চ, দুই মহাদেশ যার ব্যপ্তি। নারী আছে, ঘনিষ্ঠ না হলেও প্রেম আছে - গোপনে বলে রাখি মশাই, একাধিক - প্রতিশোধ আছে, আছে পালতোলা জাহাজে মাস্তুলের উপর তলোয়ারযুদ্ধ, আছে ডেকে তাসখেলা, আছে দুর্ভেদ্য জঙ্গল আর হারানো সভ্যতা - দাঁড়ান, একটু জিরায়ে লই।
এই বইটায় অবশ্য সেই চিরচেনা মেসটা নাই। প্রবীণ একরাশ শ্রোতার মাঝখানে, স্বয়ং ঘনাদা। এই বইটার নাম আগে শুনি নাই, কোনো সমগ্রতেও লেখাগুলি দেখি নাই। ভাগ্যিস নিউটনদা ছিলেন, আর ভাগ্যিস তাঁর ঘরে এই বইখান খাজাঞ্চিখাতার মত খুলে পড়ে ছিলো। আমি রেটিং নিয়ে ভাবনা চিন্তা করি না, রঙ সোনালী হলেও ও বস্তু ত আর সোনার তাল নয়, আর নিরেট তারাও নয় - ভাবুন দেখি, পাঁচটা বড় সাইজের তারা এরকম ঘষাঘষি করে দিলে ত সব লণ্ড ভণ্ড সাব্যস্ত হয়ে যাবে। তাও এই বইয়ে তিন দেবো না চার দেবো, ভেবে পাচ্ছিলাম না। মানে শেষ লেখা ভালোই লাগে নাই, দ্বিতীয়টাও মোটামুটি, প্রথমটাও ঘনাদা বিচারে মোটামুটি, এম্নিতে মোটামুটির চেয়ে হয়ত পোয়াখানেক বেশি। তারপর মনে হলো, এত কেপ্পণ আমি কবে থেকে হলাম হে! আর বইটা ত ভালোই, কী দিব্যি হাওয়ায় উড়ে গেলো। ফেরত দিতে হবে, ফেরত দিতে হবে।
আবার ফিরে পেতে ইচ্ছে করে বালকের দুপুরবেলার অকৃত্রিম অবসর। ঘুমঘুম স্বপ্ন-কল্পনা কতই না ফিকে হয়ে গেছে। সূর্যদেব কাঁদলে যে দেশ সোনায় ছেয়ে থাকে, এ সেই দেশের গল্প।'গল্প' বললেও একটু ধাক্কা খেয়ে যেতে হয় ঐতিহাসিক দিনতারিখ ও কুশীলবেরা প্রায় খাপে খাপে মিলে যাচ্ছে দেখলে। জনৈক ঘনশ্যাম দাস ওরফে ঘনাদার পূর্বপুরুষ ঘনরাম দাস ওরফে গানাদোর মানুষ 'সুপারহিরো'সুলভ জীবন এবং একইসাথে পৃথিবীর ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে যাওয়া,বলা ভাল ইতিহাস ঘুরিয়ে দেওয়ার মত সে কাহিনী।শুরুতে একটু কমজোরি লাগলেও,মাঝখানে জাস্ট ফাটিয়ে দিয়েছেন।শেষ যেন একটু তাড়াহুড়োই হয়ে গেল। বন্দী আতাহুয়ালপা কিংবা অস্তগামী ইনকা সভ্যতা সেই ধুন্ধুমারের মধ্যেও হয়ে রইল নিস্তব্ধ করুণ।