অভিনব এই কল্পবিজ্ঞান অথবা লোমহর্ষক গুপ্তবিজ্ঞান যেন অবৈজ্ঞানিক ফ্যানট্যাসিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। উন্নততর টেকনোলজি এক সময়ের উদ্ভট সায়ান্স-ফিকশনকে বাঙ্ময় করে তুলছে...আরও তুলবে।।ঘরে ঘরে এমন মেশিন পৌঁছে যাবে যা দিয়ে হয়তো কালান্তক নিতঙ্ককে দেখা যাবে। কে এই নিতঙ্ক ? সে এক মহাজাগতিক শক্তি...বৃক্ষরূপে তার আবির্ভাব...’ নিতঙ্ক তারই কল্পকাহিনী।।অকাল্ট সায়ান্স আর মর্ডান সায়ান্স দিয়ে যাকে বোঝানোর চেষ্ঠা করা হয়েছে লোমহর্ষক এই উপাখ্যানে। নিতঙ্ক ...এক অতীব ভয়াল ভয়ঙ্কর, সত্তা যাকে কল্পনায় আনতে গেলেও শিহরিত হতে হয়। ডাকিনী বিদ্যা আর ব্ল্যাক ম্যাজিক চর্চা আজও অব্যাহত দেশে দেশে...উইচক্র্যাফট এখন আমেরিকার ‘বৈধ ধর্ম’ । আত্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এনার্জি আহরণ...ব্ল্যাক ম্যাজিকের জেনোগ্ল...বিদ্যা দিয়ে অথবা জেনোমীয় পরিব্যাপ্তি দিয়ে বহু অতীত জন্মের কাহিনী দেখে আসা...অতীন্দ্রিয় অতি-অনুভূতি ... কিছুই অলীক নয়! নিতঙ্ক! নিতঙ্ক! নিতঙ্ক! বহু যুগের ওপার হতে সে এসেছিল... সে এক উভলিঙ্গ বৃক্ষ।। আবির্ভাব তার দূরের এক নক্ষত্র জগত থেকে...তারপর? কল্পবিজ্ঞান আর গুপ্তবিজ্ঞানের রোমাঞ্চকর সমন্বয় এই অতি-অদ্ভুত লোমহর্ষক কাহিনী...।ডাকিনি বিদ্যা আর গুহ্যবিদ্যার কল্পনাতীত কাহিনী...অবিশ্বাস্য কসমি... কাহিনী...হিন্দুকুশ পর্বতে নাকি একলক্ষ বছর আগে মানুষ থাকতো...উল্কাবাহি এক গাছ এসেছিল সেখানে।।বৃক্ষ যে অতীন্দ্রিয়, তা জানেন আজকের বিজ্ঞানীরা। তারপরও শুরু হোক রহস্যঘন অনন্য সেই কাহিনী...
জন্ম: ১ ডিসেম্বর, ১৯৩২ | কলকাতায় | একটি শিক্ষক পরিবারে ছোট থেকেই অজানার দিকে দুর্নিবার আকর্ষণ | অ্যাডভেঞ্চারের টান জীবনে, চাকরিতে, ব্যবসায়, সাহিত্যে | চোদ্দবার চাকরি বদল | নামী একটি প্রতিষ্ঠানের পারচেস-ম্যানেজার পদে ইস্তফা দিয়ে পুরোপুরি চলে আসেন লেখার জগতে | গোয়েন্দাকাহিনী দিয়ে লেখালেখির শুরু | ' রচনারীতি র দিক থেকে শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায় এর উত্তরসুরী ' - অভিনন্দন জানিয়েছে একটি নামী সাপ্তাহিক | সেরা বিদেশী গোয়েন্দাকাহিনীকে পরিবেশন করেন বাংলায় | বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান, অতীন্দ্রিয় জগৎ, অতিপ্রাকৃত, অনুবাদ - প্রায় সব ক্ষেত্রেই পেয়েছেন স্বীকৃতি | ভারতের প্রথম কল্পবিজ্ঞান পত্রিকা 'আশ্চর্য'র ছদ্দনামী সম্পাদক | এবং সম্পাদনা করেন 'ফ্যান্টাস্টিক' | সত্যজিত রায়ের সভাপতিত্বে প্রথম 'সায়ান্স ফিকশন সিনে ক্লাব' এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক | পত্রিকা, রেডিও, ফিল্মক্লাবের মাধুঅমে কল্পবিজ্ঞানকে আন্দোলন-আকারে সংগঠিত করেন | একাধিক পুরস্কার | কিশোর জ্ঞানবিজ্ঞান ও পরপর দু-বছর 'দক্ষিণীবার্তা'র শ্রেষ্ঠগল্প পুরস্কার | অনুবাদের ক্ষেত্রে 'সুধীন্দ্রনাথ রাহা'-পুরস্কার | ভালবাসেন: বই | গানবাজনা | দেশভ্রমণ
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া . বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ : পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে গিয়ে আলোচনায় কোনো স্পয়লার থেকে থাকতে পারে। তাই স্পয়লার এলার্ট দিয়ে রাখলাম। যদি স্পয়লার ছাড়া বই পাঠের সুখ নিতে চান, তাহলে এই প্রতিক্রিয়া পড়বেন না। . 📕 বই : "নিতঙ্ক" ✍🏻 লেখক : শ্রী অদ্রীশ বর্ধন 🖌️ প্রচ্ছদ : উজ্জ্বল ঘোষ 🖨️ প্রকাশক : ফ্যানট্যাস্টিক ও কল্পবিশ্ব পাবলিকেশনস যৌথ প্রয়াস 📄 পৃষ্ঠা : ২০০ 💰 মুদ্রিত মূল্য : ₹ ৩০০/- (পেপারব্যাক) . 🍂 বিষয়বস্তু : কে এই নিতঙ্ক? সে এক মহাজাগতিক শক্তি... বৃক্ষরূপে তার আবির্ভাব... নিতঙ্ক তারই কল্পকাহিনি... অকাল্ট সায়েন্স আর মডার্ন সায়েন্স দিয়ে যাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে লোমহর্ষক এই উপাখ্যানে। নিতঙ্ক... এক অতীব ভয়াল ভয়ঙ্কর সত্তা যাকে কল্পনায় আনতে গেলেও শিহরিত হতে হয়। ডাকিনীবিদ্যা আর ব্ল্যাক ম্যাজিক চর্চা আজও অব্যাহত দেশে দেশে... উইচক্র্যাফট এখন আমেরিকার ‘বৈধ ধর্ম’আত্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এনার্জি আহরণ... ব্ল্যাক ম্যাজিকের জেনোগ্লসিবিদ্যা দিয়ে অথবা জেনোমীয় পরিব্যাক্তি দিয়ে বহু অতীত জন্মের কাহিনি দেখে আসা... অতীন্দ্রিয় অতি-অনুভূতি... কিছুই অলীক নয়!
নিতঙ্ক! নিতঙ্ক! নিতঙ্ক! বহু যুগের ওপার হতে সে এসেছিল... সে এক উভলিঙ্গ বৃক্ষ... আবির্ভাব তার দূরের এক নক্ষত্র জগৎ থেকে... তারপর?
কল্পবিজ্ঞান আর গুপ্তবিজ্ঞানের রোমাঞ্চকর সমন্বয় এই অতি-অদ্ভুত লোমহর্ষক কাহিনি... ডাকিনিবিদ্যা আর গুহ্যবিদ্যার কল্পনাতীত কাহিনি... অবিশ্বাস্য কসমিক কাহিনি... হিন্দুকুশ পর্বতে নাকি একলক্ষ বছর আগে মানুষ থাকত... উল্কাবাহি এক গাছ এসেছিল সেখানে... বৃক্ষ যে অতীন্দ্রিয়, তা জানেন আজকের বিজ্ঞানীরা।
তারপর? শুরু হোক রহস্যঘন অনন্য সেই কাহিনি... . 🍁 প্রতিক্রিয়া : "নিতঙ্ক" যখন পড়তে শুরু করেছিলাম, তখন আমি জানতাম না ঠিক কি পড়তে চলেছি! শ্রী অদ্রীশ বর্ধন আমার খুবই প্রিয় একজন সাহিত্যিক, তাঁর লেখা পড়েই কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের অনুরাগী হয়েছি, তাই ভেবেছিলাম হয়তো কল্পবিজ্ঞানই পড়তে চলেছি। কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম। "নিতঙ্ক" নিছক কল্পবিজ্ঞান কাহিনী নয়... বইয়ের প্রচ্ছদে একটা ক্লু দেওয়া আছে, 'প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গুপ্তবিজ্ঞানের কল্পগল্প' - "নিতঙ্ক" আদতে তারচেয়েও বেশি কিছু, ভয়ঙ্কর কিছু।
বিষয়বস্তুতে লেখা হয়েছে "নিতঙ্ক" আসলে কে? একটি গাছ, তবে সাধারণ গাছ সে নয়, বহির্বিশ্ব থেকে আগত এক বিশেষ প্রজাতির গাছ, যে গাছের মধ্যে রয়েছে উদগ্র কাম! হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন, একটি গাছ, যে কিনা রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হতে চায়... তাও আবার মনুষ্য রমণীর সঙ্গে!
আপাতদৃষ্টিতে এই কথা পড়ে কি মনে হলো এর মধ্যে ভয়ঙ্কর কিছু লুকিয়ে আছে? নেই, এমনটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক! কিন্তু যখন পড়ার গতি এগোলো, ধারণা পাল্টে গেলো। কারণ স্বয়ং লেখক।
শ্রী অদ্রীশ বর্ধন মহাশয়ের লেখার একটা বিশেষ মাহাত্য আছে, ওঁর লেখা পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে... আর "নিতঙ্ক" পড়ার সময় যখন লেখাগুলো কল্পনায় বদলে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে যেন মন-মানসে দেখছি একটি চলচিত্র! আর ঠিক এখানেই "নিতঙ্ক" তার ভয়াবহতা এবং ভয়ঙ্কর রূপটা প্রদর্শন করে যাচ্ছে...
বলে রাখি, এই উপন্যাস কিন্তু ফ্যান্টাসি নির্ভর কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়... "নিতঙ্ক" প্রকৃত বিজ্ঞান এবং অকাল্ট বিজ্ঞানের সমন্বয় রচিত উপন্যাস। ক্ষেত্র বিশেষে পাঠক হিসেবে পড়ার সময় একটু কঠিন মনে হতেই পারে। তবে যদি আপনি গুগল-এর সাহায্য নেন, তাহলে ওই কঠিনতা দূর হবে নিমেষেই।
আসলে এই উপন্যাসে লেখক খুব সার্থকভাবে প্রকৃত বিজ্ঞানের সাথে কল্পনার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। উপন্যাসের ছত্রে ছত্রে এমন বিবিধ উপাদান মজুত রয়েছে যা মস্তিষ্কের ধূসরবস্তুকে উত্তেজিত করতে সক্ষম। বহুল তথ্যসমৃদ্ধ এক কল্পকাহিনী এই "নিতঙ্ক" উপন্যাস। কিন্তু আকর্ষণীয় এই যে, এতো তথ্যের উপস্থিতি সত্ত্বেও এই উপন্যাসকে তথ্যভারে জর্জরিত বলা যাবে না... এর কৃতিত্ব একমাত্র স্বয়ং লেখকের। সহজ, সরল, বোধগম্য ভাষায় উনি তথ্যগুলির বিশ্লেষণ বুঝিয়েছেন, যা কিনা যেকোনো পাঠকের পক্ষেই পাচনশীল হয়ে উঠবে।
"নিতঙ্ক" উপন্যাস একটা রোলারকোস্টার রাইড, যেখানে অনেকগুলি ভিন্ন বিষয়ের সমাগম ঘটেছে, কিন্তু কোনো বিষয় অপর বিষয়ের সাথে ধাক্কা খায়নি, অর্থাৎ বিষয়গুলির মৌলিকতা বজায় থেকেছে গোড়া থেকে শেষ পর্যন্ত। আর সবচেয়ে যেটা ভালো লেগেছে, এতো ভারী ভারী বৈজ্ঞানিক ভাষার প্রয়োগ সত্ত্বেও এই উপন্যাসের সাহিত্যগুণ টানটান থেকে গেছে।
আমি সাধারণত প্রতিক্রিয়া লেখার সময় সেই বইটির মূল বিষয়টি বিশ্লেষণ করি, কিন্তু এই উপন্যাসের ক্ষেত্রে সেটা আমি করবো না, কারণ আমার মনে হয়েছে এই উপন্যাসের স্পয়লার দেওয়া মানে অন্য পাঠকদের সাথে একপ্রকার বেইমানি করা হয়ে যাবে। তাই শুধুমাত্র অনুভুতিটুকুই ব্যক্ত করলাম, বিশ্লেষণের মধ্যে আর গেলাম না... . 🌿 Final Verdict : এক নিঃস্বাসে পড়ে শেষ করার মতন একটি উপন্যাস হলো "নিতঙ্ক"... পড়ার গতি হয়তো অনেকের ক্ষেত্রেই একটু থমকে যাবে মাঝে মাঝে, কারণ আগেই বলেছি এই উপন্যাস প্রকৃত বিজ্ঞানের তথ্যসমৃদ্ধ, তাই একটু বুঝে পড়তে হবে, আর সেজন্য একটু পড়ার গতি কমবে! তবে পড়া শেষ হবার পরে যে রেশটা থেকে যাবে, সেটা অপার্থিব অনুভূতি।
ভালো বই পড়ার জন্য আমি বাকিদের রেকমেন্ড করে থাকি, এই বইয়ের ক্ষেত্রে বলবো, আপনি যদি আমার এই পাঠ প্রতিক্রিয়া পুরোটা পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চই বুঝেছেন এই বই কতটা লোমহর্ষক, উদ্দীপক একটা উপন্যাস। তাই "নিতঙ্ক" আমার তরফে হাইলি রেকমেন্ডেড। যদি বইটি কিনে পড়েন, এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, নিরাশ হবেন না কোনোভাবেই। . "নিতঙ্ক" বই প্রকাশ করেছে 'ফ্যানট্যাস্টিক' ও 'কল্পবিশ্ব পাবলিকেশনস' যৌথ প্রয়াসে। বইয়ের গুণগত মান, পৃষ্ঠার মান, ছাপা, বাঁধাই - অনবদ্য। প্রথম সংস্করণের বই, কিন্তু কোন মুদ্রণজনিত ত্রুটি নেই। . ধন্যবাদান্তে- শ্রী অনির্বাণ ঘোষ (দীপ) 🙏🏻