“আলবেরুনী ঐতিহাসিক উপন্যাস। এর চরিত্র ও ঘটনাবলির মধ্যে অনেক কিছুই কল্পনাপ্রসূত। তবে আলবেরুনীর জীবনের ঐতিহাসিক কাঠামো ও পটভূমিকাকে, আমার পক্ষে যতটা সম্ভব, সঠিকভাবে অঙ্কন করতে চেষ্টা করেছি। অনেক ভুলত্রুটি অসম্পূর্ণতা সত্ত্বেও, পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানসাধক আবু রায়হান আলবেরুনীর দেশ, জাতীয়তা ও ধর্মের সঙ্কীর্ণ গণ্ডি থেকে মুক্ত অদম্য জ্ঞানপিপাসার কিছুটাও যদি ফুটিয়ে তুলতে পেরে থাকি, তাহলে আমার এ প্রচেষ্টা সার্থক মনে করব। বইটি কোনো বিদেশী উপন্যাসের অনুবাদ বা অনুসরণে লেখা নয়।
কারাপ্রাচীরের অন্তরালে বসে এ দুঃসাহসিক কাজে হাত দিয়েছিলাম। সেজন্য যথোচিত পরিমাণ মালমসলা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সেই সময়ে এম আকবর আলী সাহেবের ‘বিজ্ঞানে মুসলমানের দান’ নামক মূল্যবান গ্রন্থটি আমার এ উপন্যাস রচনার কাজে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। দু-এক জায়গায় আরবি থেকে অনূদিত অংশবিশেষ, বিশেষ করে আবু সহলের কাছে লেখা আলবেরুনীর চিঠিখানি প্রায় যথাযথভাবেই উদ্ধৃত করা হয়েছে। আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সেই ঋণ স্বীকার করছি।”
সেন, সত্যেন (১৯০৭-১৯৮১) সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিক। ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃব্য ক্ষিতিমোহন সেন ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব আচার্য।
সত্যেন সেন সোনারঙ হাইস্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস (১৯২৪) করে কলকাতা যান এবং সেখানকার একটি কলেজ থেকে এফ.এ ও বি.এ পাস করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ (ইতিহাস) শ্রেণীতে ভর্তি হন। কিন্তু যুগান্তর দলের সদস্য হিসেবে সন্ত্রাসবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি ১৯৩১ সালে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন এবং জেলে থেকেই বাংলা সাহিত্যে এম.এ পাস করেন। জেল থেকে মুক্তিলাভের (১৯৩৮) পর বিক্রমপুরে ফিরে তিনি কৃষক আন্দোলনে যোগ দেন এবং আমৃত্যু বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। সত্যেন সেন ১৯৪৯, ১৯৫৪, ১৯৫৮ ও ১৯৬৫ সালে রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেন।
সত্যেন সেন ১৯৫৪ সালে দৈনিক সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। এ দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে সত্যেন সেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সংগঠক এবং উদীচী (১৯৬৯) সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ও গণসঙ্গীতের সুকণ্ঠ গায়ক এবং গণসঙ্গীত রচয়িতা।
সত্যেন সেন সাহিত্যচর্চা শুরু করেন পরিণত বয়সে এবং অতি অল্পসময়ের মধ্যে অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশ। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ: উপন্যাস ভোরের বিহঙ্গী (১৯৫৯), অভিশপ্ত নগরী (১৯৬৭), পদচিহ্ন, (১৯৬৮), পাপের সন্তান (১৯৬৯), কুমারজীব, (১৯৬৯), বিদ্রোহী কৈবর্ত (১৯৬৯), পুরুষমেধ (১৯৬৯), আলবেরুনী (১৯৬৯), মা (১৯৬৯), অপরাজেয় (১৯৭০), রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ (১৯৭৩); ইতিহাস মহাবিদ্রোহের কাহিনী (১৯৫৮), বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম (১৯৭৬), মানবসভ্যতার ঊষালগ্নে (১৯৬৯), ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের ভূমিকা (১৯৮৬); শিশুসাহিত্য পাতাবাহার (১৯৬৭), অভিযাত্রী (১৯৬৯); বিজ্ঞান আমাদের এই পৃথিবী (১৯৬৭), এটমের কথা (১৯৬৯); জীবনী মনোরমা মাসীমা (১৯৭০), সীমান্তসূর্য আবদুল গাফফার খান (১৯৭৬) ইত্যাদি।
চিরকুমার সত্যেন সেন বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রগতিশীল ও গণমুখী চেতনা দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে সাহিত্যসাধনা করেন। তাঁর রচনায় ঐতিহ্য, ইতিহাস, দেশের মাটি ও মানুষের শ্রেণী-সংগ্রাম প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি উপন্যাসের জন্য ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৭০) লাভ করেন।
১৯৮১ সালের ৫ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনএ তাঁর মৃত্যু হয়।
দশম শতাব্দীর শেষ এবং একাদশ শতাব্দীর প্রারম্ভকালে যার একান্ত সাধনায় জ্ঞান বিজ্ঞানের দিগন্ত এক নব সূর্যের আলোতে উদ্ভাসিত হয়েছিল তিনি হলেন আল বেরুনী।রুশীয় তুর্কিস্তানের খিওয়ায় একটি ছোট্ট শহরে বাস করতেন তিনি। শহরটি খাওয়ারিজিমের রাজধানীর কাছে ছিল। বর্তমানে শহরটি নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে। এখন এ স্থানটি আল-বিরুনি শহর নামে অভিহিত।
তিনি ছিলেন গণিত, জ্যোতিঃপদার্থবিদ, রসায়ন ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে পারদর্শী। অধিকন্তু ভূগোলবিদ, ঐতিহাসিক, পঞ্জিকাবিদ, দার্শনিক এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান, ভাষাতত্ত্ববিদ ও ধর্মতত্ত্বের নিরপেহ্ম বিশ্লেষক। স্বাধীন চিন্তা, মুক্তবুদ্ধি, সাহসিকতা, নির্ভীক সমালোচক ও সঠিক মতামতের জন্য যুগশ্রেষ্ঠ বলে স্বীকৃত। হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর শেষার্ধ ও পঞ্চম শতাব্দীর প্রথমার্ধকে আল-বেরুনির কাল বলে উল্লেখ করা হয়।
ঐতিহাসিক উপন্যাস আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ।তবে এটা ঐ টাইপের ঐতিহাসিক উপন্যাস না। বইটা মোটামুটি লেভেলের। আরেকটু সময় নিয়ে পড়লে হয়তো ভালো লাগতো।
সত্যেন সেনের সাথে আমার পরিচয় হয় বাসার পুরনো বুকশেলফ ঘাঁটতে গিয়ে। সেই শেলফের গভীর সুস্বাদু অন্ধকারে তিনি লুকিয়ে ছিলেন, আমি উঁকি দিতেই ফিক করে হেসে দিলেন। সেই হাসি দেখে আমার আত্মা খাঁচা ছেড়ে পালানোর জোগাড়, কারণ বিশ্বাসযোগ্য কিছু সূত্র বলছে, কয়েক দশক আগে উদীচীর মঞ্চে তিনি অমন হাসি দিয়েছিলেন, এরপর আর কখনও দেননি।
আমি উদ্ভ্রান্তের মত আম্মুর কাছে দৌঁড়ে গিয়েছিলাম, বলেছিলাম, বুকশেলফের পেছনে সত্যেন সেন ঘাপটি মেরে আছেন, কেবল হাসিটাই দেখা যাচ্ছে, বাকি শরীরটা খুঁজে পাচ্ছি না। আম্মু নিজেও চিন্তাভাবনা করে দেখলো, এবং শেষে আমরা সিদ্ধান্তে আসলাম যে, সত্যেনের হাসিটাই অমূল্য এবং কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সেটা আমরা দেখতে পেয়েছি, বাকি শরীরটা খুঁজে পাওয়ার আশা নিতান্তই দুরাশা।
তো, সেবার ‘সেয়ানা’ নামে একটা গল্প পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। সত্যেনের ব্যাপারে আমার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এই যে, তাঁর লেখা প্রাঞ্জল, এবং কোণাকুণি পড়ার যোগ্য বইয়ের একটা সার্থক উদাহরণ। (মুদ্দাসসেরদের কোণাকুণি বই পড়া তত্ত্ব এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য। যেসব বই লাইন ধরে না পড়ে পৃষ্ঠার কোণা বরাবর পড়তে হয় সেগুলোকে কোণাকুণি বই নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।)
বইয়ে যে কোনো সুন্দর কথাই নেই, ব্যাপারটা ঠিক তা না। দুশো পৃষ্ঠার বইয়ে পাঁচ-ছ’টা ওয়াও জোস তো নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। কিন্তু ওয়াওটা কখনই মুখ ব্যাদান করে ও-য়্যা-ও বলার মত হবে না—এই যা!
তবে এ বইয়ের ক্ষেত্রে আমি ব্যাপারটাকে গৌণ হিসেবে দেখছি এর বিষয়বস্তুর কারণে, এবং সেইসাথে চমৎকার ঘটনাপ্রবাহের কারণেও। এ ধরনের বইগুলোর ক্ষমতা থাকে মানুষজনের আগ্রহটাকে জ্বালিয়ে দেয়ার—এই যেমন এখন আমার ইচ্ছে করছে হাজার বছর আগের মুসলিম সভ্যতার অবস্থা নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করতে।
এবং তার চেয়েও অদ্ভুত সুন্দর ব্যাপার এই যে, যতই জানতে থাকি—সবকিছুর মধ্যে একটা যোগসূত্র খুঁজে বের করা ততই সহজ হয়ে যায়। ঢাকার ইতিহাস সম্পর্কে পড়তে গিয়ে এই অঞ্চলের মুসলিম শাসন সম্পর্কে কৌতূহল জন্মেছিল, এবং সেটার গোড়ায় যদি যাই, মুসলিম সভ্যতার বিকাশ এবং তারা কীভাবে এখানে এসে রাজত্ব শুরু করলো—সেই প্রেক্ষাপটটা কেমন ছিল—সেটুকুও জানা জরুরি।
আমার ধীরে ধীরে এমন একটা অনুভূতি আসছে যে, আমি সবকিছুর আরও সামগ্রিক একটা চিত্র দেখতে পাচ্ছি। সেই সাথে নিজের ক্ষুদ্রতাটুকুও অনুভব করতে পারছি।
যাকগে। সত্যেন সেন যে কমিউনিস্ট ছিলেন সেটা তাঁর লেখা থেকে খুবই স্পষ্ট। হাজার বছর আগে শ্রমিকেরা সম্রাটের বিরুদ্ধে বিপ্লব করার চেষ্টা করছে—এ ব্যাপারটা পড়ে আনন্দ পেয়েছি খুব। সে সময়ে আদৌ এমন কোনো ঘটনার উদাহরণ আছে কিনা জানি না। কেউ যদি জেনে থাকে, তবে জানালে কিছুদিন কৃতজ্ঞ থাকবো।
এবং শেষত…কথাটা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেছি, কিন্তু বেশ কিছু প্রকাশনা সংস্থার ওপর আমি প্রচণ্ড হতাশ—যাদের ছাপাখানায় কেবল ভূতই আছে, মানুষ নেই। ভাবছি, একদিন ক্যাম্পাস থেকে লাঠি-সোটা-ঝাড়ু নিয়ে বাংলাবাজারে হাজির হব কিনা।
মানুষ আলবেরুনী, সংকীর্ণতামুক্ত, জ্ঞানপিপাসু আলবেরুনী সম্পর্কে জানার জন্য, সেই সময়ের বিজ্ঞানচর্চার ছবি পাওয়ার জন্য, বইটা জরুরি। উপন্যাস হিসেবে খুব বেশি ভালো নয়। তবে জরুরি কিছু মেসেজ আছে বইটাতে।
আলবেরুনি সত্যেন সেনের লেখা ঐতিহাসিক উপন্যাস যেখানে লেখক এমন এক আলবেরুনিকে তুলে এনেছেন, যিনি জ্ঞান পিপাসায় এতোটাই তৃষ্ণার্থ ছিলেন যে সেই পিপাসা মিটানোর জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, পিষ্ট হয়েছেন রাজনৈতিক কড়া তলে। তবুও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন জন্মভূমি খারিজম থেকে জুরজান কিংবা সূদুর গজনী থেকে হিন্দ পর্যন্ত।
লেখক ধারাবাহিকভাবে সেই যাত্রার বর্ণনা করেছেন বইটিতে, যেখানে পাতায় পাতায় রাজনৈতিক পরিবেশ,তখনকার আলেম এবং হিন্দের সাধারণ মানুষের চিন্তাধারাকে একত্রিত করেছেন আলবেরুনিকে কেন্দ্র করে। বইটির ভাষাগত গাম্ভীর্যতা মুগ্ধ করার মতো, সেই সাথে আলবেরুনির মতো একজন মনীষী ব্যক্তিকে লেখক অতি চমৎকার ভাবে তুলে এনেছেন বইয়ে, আর সেই সাথে উঠে এসেছে জুরজান, খারিজম, গজনী আর হিন্দের রাজনৈতিক পরিবেশ, মানুষের চিন্তাধারা, জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গিসহ বিভিন্ন বিষয়।
লেখকের মতে বইটির চরিত্র আর ঘটনাবলীর অনেক কিছুই কল্পনাপ্রসূত হলেও আলবেরুনির জীবনের ঐতিহাসিক কাঠামো আর পটভূমিকে যতটুকু সম্ভব ঠিক রাখতে চেষ্টা করেছেন, সেই সাথে কিছু চিঠি আরবি থেকে হুবহু অনুবাদ করে বইয়ে ব্যবহার করেছেন। আলবেরুনি ছাড়াও বইয়ের বিদ্যমান সুলতান, রায়হানা, আলবেরুনির বন্ধু হাসান, আবু সহলের মতো চরিত্রগুলো পাঠকের মন নাড়িয়ে দিবে। তবে এই বইকে একটা উপন্যাস হিসেবে পড়াই ভালো, কেউ একে আলবেরুনির প্রকৃত জীবনি ভাবতে যাবেন না।
সত্যেন সেনের মসলা যুদ্ধ পড়া হয়েছিলো, এবার আলবেরুনি পড়লাম, এই বইটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা ঘোরের মাঝে শেষ করেছি, আমার কাছে দারুণ লেগেছে বইখানা। লেখক পাতায় পাতায় একটা বিষয় বেশ হাইলাইটস করেছেন, জ্ঞান দেশ, জাতি, ধর্ম সবকিছু থেকে মুক্ত, একে অর্জন করতে কখনও দ্বিধা রাখা উচিত নয়। তা যেকারো কাজ থেকেই নেওয়া হোক না কেন। লেখক আলবেরুনিকে এমন এক চরিত্রে দেখিয়েছেন যাঁর মনে জ্ঞানের অহংকার নেই, ইনি সর্বদা সকলের কাছ থেকেই শিক্ষালাভ করতে উৎসুক; আবার পাত্র অনুসারে যথাযোগ্য জ্ঞান দান করতেও উদগ্রীব। তাঁর মনে হিন্দু, মুসলিম বা আরব-ইরানি-গ্রিক-হিন্দুস্থানি জ্ঞা��ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, জ্ঞান জ্ঞানই, যেখান থেকে পাওয়া যায় সেখান থেকেই তা উদার হস্তে গ্রহণ করা উচিত।
বইয়ের প্রোডাকশন খুবই ভালো প্রচ্ছদটাও দারুণ তবে পৃষ্ঠা গুলো কিছুটা পাতলা মনে হয়েছে। তাছাড়া বইয়ের প্রোডাকশন বা বাইন্ডিং নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। আলবেরুনি একটা ঐতিহাসিক উপন্যাস, যেখানে তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন, জ্ঞান পিপাসায়, সেই ছুটে বেড়ানোর সঙ্গী হতে চাইলে বইটি পড়তে পারেন, আশাকরি ভালো লাগবে।
প্রায় এক হাজার বছর আগের ইতিহাস নিয়ে লেখা বই। তাই প্রতিটা ঘটনাই পড়তে অদ্ভূত লাগে। এক হাজার বছর আগে কেমন ছিল মানব সভ্যতা? এমন একটা কৌতূহল নিয়েই বইটা পড়া শুরু করি। সে যুগের মুসলিম জগতে বিশেষ আলেম ছিলেন আল বেরুনী। তবে তাঁর চরিত্রে ধর্মান্ধতার কোন ছাপ পাইনি। বরঞ্চ নারী স্বাধীনতা নিয়ে চিন্তা করেছেন সেই তখনও। তার ভাগ্নী রেহনুমাকে বিদুষী বানাবার প্রয়াসে এই গল্পটাই উঠে আসে। এছাড়াই যেকোন জ্ঞানলোভী মানুষের মতো অন্য জাতি নিয়ে কৌতূহল, নিজের রাজ্য ছেড়ে ভারতে এসে থাকা, সংস্কৃতের মতো কঠিন একটা ভাষা শিখে সেখান থেকে জ্ঞান লাভ করতে চাওয়া সবটাই বলে দেয় কেন তিনি সেই সময়েই এতোখানি বিখ্যাত হয়েছিলেন। সত্যেন সেনের ভাষানুবাদ সহজ সরল সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন পুরো গল্পটাকে।