নবারুণ ঠিক প্রথাসিদ্ধ উপন্যাসের লেখক নন। বিপুলাকায় নয় কিন্তু ওজনভারী নভেলটাই তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা-এর ক্ষেত্র| হারবার্ট, খেলনানগর, লুব্ধক, যুদ্ধ-পরিস্থিতি বা মসোলিয়াম এর পর এমনি আরো দুটি লেখা ভোগী আর অটো। রচনাকাল হিসেবে ভোগী নবারুণের দ্বিতীয় আর অটো তার সপ্তম উপন্যাস। (Nabarun is not quite conventional novelist. Though not huge but heavy novels became his field of experiments. Herbart, Toy City, Lubdhak, War Situation or Mosolium -- after this here we have two more works Bhogi and Auto. Chronologically, Bhogi is Nabarun's second and Auto his seventh. )
Nabarun Bhattacharya was an Indian Bengali writer deeply committed to a revolutionary and radical aesthetics. He was born at Baharampur (Berhampur), West Bengal. He was the only child of actor Bijon Bhattacharya and writer Mahashweta Devi.
He is most known for his anarchic novel, Herbert (1993), which was awarded the Sahitya Akademi Award, and adapted into a film by the same name in 2005.
Nabarun is renowned as a fiction writer, and justifiably so. But he wrote poems as well and Ei Mrityu Upotyoka Aaamaar Desh Na (This Valley of Death Is Not My Country) is arguably his most acclaimed collection of poems.
Nabarun over the years consistently contributed to various little magazines, which together constitute a promising alternative mode of literary culture in Bengal that challenges the influence of big capital. It is equally noteworthy that his writing style deconstructs the gentle middle class ethos of the Bengali society. Most of his characters belong to the lower strata of existence. His fictions reinvigorate the received Bengali language with forceful idioms and expressions from the margins, which might often bombard the chaste taste of a Tagorean upper and middle class, still very much under the spell of a 19th century Victorian sensibility.
নবারুণ ভট্টাচার্যের দুইটি ছোটখাটো উপন্যাস হলো 'ভোগী ও অটো' নিয়ে এই বই। যখন 'হারবার্ট' পড়ি, তখনই বুঝেছিলাম নবারুণ মশাইয়ের লেখায় একটা 'রাফ আ্যান্ড টাফ' ভাব আছে।অনেকক্ষেত্রে তা যথেষ্ট প্রবলও বটে।এই দু'টি উপন্যাসেও তার ব্যতিক্রম নেই।
প্রথম উপন্যাস 'ভোগী' কাহিনি আবর্তিত হয় একজন সাধুকে ঘিরে যারা নাম ভোগী। এটা বেশ চটকদার নাম। খানিকটা ভিন্নতার প্রমাণও দেয় বটে। একজন সন্ন্যাসী যিনি জাগতিক মোহ-মায়া থেকে নিজেকে স্বেচ্ছায় সরিয়ে রাখছেন, তারই নাম নবারুণ দিয়েছেন ভোগী। এই ভোগীর সন্ধান পায় বেকার মিখিল।মিখিল বামপন্থি ঘরানার যুবক। তাই বাস্তবসম্মতভাবেই তার ওঠা-বসা বাম আদর্শে বিশ্বাসীদের সাথে। এই সার্কেলের চরিত্রদের মাঝে নবারুণ সেই সময়টি ধারণ করেছেন, যখন সোভিয়েটের পতন ঘটেছে।অনেকে ভাবছে কমিউনিজম নামের নয়া রিলিজিয়নটি বুঝি মুখ থুবড়ে পড়ল। অর্থাৎ, সোভিয়েটের পতন পরবর্তী সময়ে সমাজতন্ত্রের স্বপ্নে দেখা লোকেদের চিন্তধারা কতটা বদলাতে শুরু করেছিল তা দেখাতে চেয়েছেন নবারুণ।
এদিকে সেই ভোগীর অলৌকিক শক্তি আছে বলে ভেবে বসে মিখিলের পরিচিত গৌতম দাদা। এই চরিত্রটি একাধারে বড় কোম্পানিতে মোটা বেতনে চাকরি করে। আবার এই লোকেই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে বড় বড় লেকচার দেয়।দারুণ দ্বান্দ্বিক চরিত্র। ঠিক যেন শ্যামও রাখি,কুলও রাখি! এই গৌতমদার স্ত্রী রুবেনা রায় ছবি বানায়। ভোগীকে নিয়ে ছবি বানিয়ে টু পাইস কামাবার পরিকল্পনা করে গৌতমদা,তার স্ত্রী রুবেনা রায় আর সহচর হতে চায় মিখিল। কিন্তু ভোগীকে কলকাতায় বেড়াতে এনে পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় মিখিল। বান্ধবী মিমির গুন্ডা মামার আশ্রয়ে চলে যায় মিখিল। কারণ গৌতম আর তার স্ত্রী ক্ষেপে আছে তার ওপর। দুইদিনব্যাপী কলকাতা ভ্রমণ শেষে ফিরে যায় ভোগী। সবাই বিশ্বাস করে ভোগীরা আসে মঙ্গল নিয়ে, ভালোত্ব নিয়ে। আদৌ কী ভোগী তা পারে? খুবই সাদামাটা একটি উপন্যাস। ভোগী বাদে কোনো চরিত্রের বিস্তার ততটা স্বাভাবিক নয়। কেমন যেন সবগুলো চরিত্র মিখিল,মিমি,গৌতম,রুবেনা ইত্যাদিরা পরিপূর্ণ মানুষ নয়। কোথায় যেন মনে হয় নবারুণ ভট্টাচার্য তার সবটা দিতে পারেননি 'ভোগী' উপন্যাসে।
দ্বিতীয় উপন্যাস 'অটো'। এটি মূলত অটোচালক চন্দনকে ঘিরে। নিম্নবর্গের মানুষদের জীবনযাত্রাকে চন্দনের মাঝে দেখাতে চেয়েছেন নবারুণ।সে থাকে বস্তিতে। অল্পবয়সে বাবা মারা যাওয়ায় নামতে হয়েছে জীবনসংগ্রামে। তার চারপাশের মানুষেরাও তারই মতো। এই উপন্যাস আসলে সমাজের পোড়খাওয়া মানুষগুলোর পাপ, পঙ্কিলতা, যৌনতা কিংবা চন্দনের মতো মানুষদের অন্যায় দেখে মুখ না বুজে থাকার ক্ষুদ্র আখ্যান।
আর "অটো" উপন্যাসটির কাহিনীর গণ্ডি এতটাই ছোটো যে বুঝতে বুঝতে বই শেষ।
নবারুণের লেখা পড়তে গিয়ে এটি স্পষ্ট বাজারে 'জনপ্রিয়' কথাসাহিত্যিকদের লেখার উপাদান কিংবা ভাষার গাঁথুনির চেয়ে নবারুণ শতভাগ আলাদা জগতের মানুষ। ভাবেন আলাদা,চরিত্রদের বোনেন ভিন্নভাবে আর বলান সাধারণ পাপীতাপী লোকের ভাষা। এখানেই অন্যদের থেকে নবারুণের সাফল্য।