Jump to ratings and reviews
Rate this book

সতীনাথ রচনাবলী #1

সতীনাথ রচনাবলী ১

Rate this book
সূচিপত্র -

সতীনাথ ভাদুরীঃ প্রকাশ ও প্রতিষ্ঠা - [১-২২]

উপন্যাস -

জাগরী - ১
চিত্রগুপ্তের ফাইল - ১৫৭

গল্প -

গণনায়ক - ২২৩
বন্যা - ২৩৯
আন্তা-বাংলা -২৫৩
পঙ্কতিলক - ২৭২
ভূত - ২৯৭
অপরিচিতা - ৩০৮
পরিচিতা - ৩১৭
ফেরবার পথ - ৩২৫
রথের তলে - ৩৪১
ষড়যন্ত্র মামলার রায় - ৩৬২
অনাবশ্যক - ৩৭৩
ঈর্ষা - ৩৯১

গ্রন্থ-প্রসঙ্গ - ৪১৭

440 pages, Hardcover

First published August 1, 2022

3 people are currently reading
19 people want to read

About the author

Satinath Bhaduri

17 books39 followers
Satinath Bhaduri was a Bengali Indian novelist and politician. He was known by his literary pseudonym, Chitra Gupta. His ancestral home was in Krishnanagar in the district of Nadia. He obtained an MA degree in Economics from the University of Patna in 1930. In 1931 he completed his BL degree. He started practising law at Patna between 1932 and 1939. He then joined Indian National Congress and became a district secretary of Purnia. He was imprisoned in Bhagalpur Jail twice: 1940-41 and 1942-45. In 1948, he fell out with the Congress and joined the Socialist Party.

Satinath's first novel was Jagari (1946), for which he received the very first Rabindra Puraskar (1950). This book earned him considerable fame, and was translated into English in 1965 as part of the UNESCO Collection of Representative Works.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (25%)
4 stars
3 (75%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 of 1 review
Profile Image for Shahnewaz Shahin.
97 reviews6 followers
October 20, 2025
সতীনাথ ভাদুড়ী রচনাবলী ১ এ দুটি উপন্যাস ( জাগরী, চিত্র গুপ্তের ফাইল) ও দুটি গল্পগ্রন্থ স্থান পেয়েছে (গণনায়ক ও অপরিচিতা )


সতীনাথ ভাদুড়ী একজন রাজনীতি সচেতন কথাশিল্পী। আজীবন বিহারের পূর্ণিয়াবাসী এই লেখকের সাহিত্যে বাণীরূপ পেয়েছে ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষ। বঞ্চিত, অবজ্ঞাত ও প্রান্তিক জনপদের জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র-রূপায়ণে তিনি ছিলেন ঐকান্তিক। তাঁর প্রথম উপন্যাস জাগরীতে (১৯৪৫) গান্ধীবাদী রাজনীতি, ত্রিশের দশকে কংগ্রেসের অন্তর্বিরোধ, সোস্যালিস্ট পার্টির উদ্ভব, কমিউনিস্ট পার্টির মতাদর্শ, ৪২-এর 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের স্মৃতি-প্রকৃতি প্রাধান্য পেয়েছে। সমকালীন রাজনীতির প্রেক্ষাপটে জাগরীতে যে সঙ্কট মূর্ত হয়ে উঠেছে তারই আবর্তে চরিত্রগুলি মতাদর্শ ও মনুষ্যত্বের টানাপড়েনে ইতিহাসের এক অস্থির সময়কে ব্যক্ত করেছে। স্বীয় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জীবনদৃষ্টির গভীরতার সমন্বয়ে লেখক ভারতবর্ষীয় জনজীবনে রাজনীতির প্রভাবকে চিহ্নিত করেছেন। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহ বিপুলভাবে সাধারণ মানুষের চেতনাকে বিবর্তিত করেছে। বৃহত্তর বিহারের এ রকম একটি পরিবারের চারজন সদস্যের রাজনৈতিক চিন্তাধারার পারস্পরিক দ্বন্দ্বই পরিস্ফুট হয়েছে জাগরীতে। সমকালীন আর্থ-সামাজিক অনিবার্যতায় ব্যক্তিজীবনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিঘাতের স্বরূপ এই উপন্যাসটিতে বাস্তবানুগভাবে উদ্ভাসিত হয়েছে।

জাগরী একটি পরিবারের চারজনের জীবনের আদ্যপান্ত কাহিনি নয়, এক রাতে পরিবারের চারজনের বিচ্ছিন্নভাবে বিনিদ্র রজনী যাপনের কাহিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন উত্তপ্ত ভারতবর্ষে দেশীয় রাজনৈতিক চেতনা অনেকগুলো শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে প্রধান ছিল গান্ধীবাদী অহিংস আদর্শ, কংগ্রেস সোস্যালিস্ট পার্টির হিংসাত্মক জাতীয়তাবাদী আবেগ এবং কমিউনিস্টদের ফ্যাসিস্টবিরোধী জনযুদ্ধনীতি। জাগরী উপন্যাসে এই মতসমূহ একটি 'রাষ্ট্রীয় পরিবারে' সংহত হয়ে সমগ্র ভারতবর্ষের রাজনৈতিক চেতনার সংক্ষোভ, পরস্পরের প্রতি অসহিষ্ণু আত্মধ্বংসী অনিশ্চয়তায় পর্যবসিত হয়েছে। বিলুর পরিবারের মতো এমন কতো পরিবার, কতো তরুণের স্বপ্ন ধ্বস্ত হয়ে গেছে এই অনিশ্চিত কালবেলায়। উপন্যাসের ভাবনাপ্রবাহে কংগ্রেসে ধনী সম্প্রদায়ের আধিপত্য, কংগ্রেসী রাজবন্দিদের অলস-অমার্জিত, শিক্ষাবিমুখ ও সুযোগসন্ধানী মনোবৃত্তির বিশ্লেষণ রয়েছে। 'আওরৎ কিতা' অংশে মায়ের স্বগত বিবৃতিতে গান্ধী সম্পর্কিত বিরূপতায় সমগ্র ভারতে মহাত্মা গান্ধী বিষয়ে সাধারণ মানুষের মোহভঙ্গের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। জাগরী উপন্যাসের ভূমিকা অংশে সতীনাথ ভাদুড়ী পাঠকদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য পরিবেশন করেছেন:

"রাজনৈতিক জাগৃতির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতবাদের সংঘাত অবশ্যম্ভাবী। এই আলোড়নের তরঙ্গ-বিক্ষোভ কোনো কোনো স্কুলে পারিবারিক জীবনের ভিত্তিকেও আঘাত করিতেছে। এইরূপ একটি পারিবারিক কাহিনী।

গল্পটি ১৯৪২ সালের আগস্ট আন্দোলনের পটভূমিকায় পড়িতে হইবে।"

সতীনাথ ভাদুড়ীর জাগরী বাস্তবিকই মানুষের শুভ চৈতন্যবোধ জাগরণের কাহিনি।

ভারতবর্ষকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য যখন দেশের হাজারো জনতা জীবন উৎসর্গ করছে, ঠিক তেমনি এক উত্তাল সময়ে সতীনাথ ভাদুড়ী জাগরী রচনা করেন। ৪২-এর আগস্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের চোখে চরম অপরাধী বিপ্লবী দেশপ্রেমিক বিলু। তার ফাঁসির আদেশকে কেন্দ্র করে সে নিজে, আপার ডিভিশন ওয়ার্ডে বাবা, আওরৎ কিতায় মা, জেলগেটে ছোট ভাই নীলু সবাই চিন্তায় বিভোর হয়েছে। অতীত ও বর্তমান পরম্পরায় তাদের সমবেত চিন্তাস্রোত ক্রমশ গাঢ় হয়েছে চরম মুহূর্তের জন্য। তাদের আত্মত্মকথন ও স্মৃতি রোমন্থনের মধ্য দিয়েই জাগরীর কাহিনি আবর্তিত হয়েছে।

সমকালীন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অস্থিরতাজনিত বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে ইতিহাস ও পরিবারের দ্বিবাচনিকতার সূত্রে গাঁথা জাগরীর 'রাজনৈতিক জাগৃতি' উপন্যাসটিকে কালের মাত্রায় উন্নীত করেছে। একদিকে পারিবারিক মানুষের নিজস্ব সংকট, অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাতে দীর্ণ রাষ্ট্রীয় মানুষের বিভ্রান্তি- এ দুয়ের টানাপড়েনে রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রবাহে ভাসমান একটি পরিবারের চার সদস্যের 'গোপন আমি'র আবরণ উন্মোচিত হয়েছে উপন্যাসটিতে। এই উন্মোচন-ই জাগরীর কথা ও কাহিনি- যার বাতাবরণ সমকালীন রাজনৈতিক আন্দোলনের তরঙ্গবিক্ষোভ। ব্যক্তি সতীনাথ কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রচারক ছিলেন না। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ঔপন্যাসিক নির্মাণ করেছেন জাগরীর বিষয়বস্তু ও চরিত্র- যেখানে অতীত ও বর্তমানের খণ্ড মুহূর্তগুলি অনুপুঙ্খ ভাবানুষঙ্গে সমগ্র রূপ লাভ করেছে। 'রাষ্ট্রীয় পরিবার'টির প্রত্যেক সদস্য আত্মত্মমগ্ন চেতনাস্রোতে সমকালীন রাজনৈতিক আন্দোলনগুলির মূল্যায়ন করেছে। জাগরীতে একটি পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা বিধৃত হলেও, বৃহত্তর জীবনের প্রেক্ষাপটে তা মানবাত্মার প্রতিনিধিত্ব করেছে।

জাগরী উপন্যাসে চারটি চরিত্রের মানসিক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সমকালীন রাজনৈতিক আন্দোলনের বহুমাত্রিক বাস্তবতার চিত্র রূপায়ণ করেছেন সতীনাথ ভাদুড়ী। এই চরিত্রগুলি রাজনৈতিক দলের আদর্শের প্রকাশক হলেও মুখপাত্র নয়। নীলু তার দাদার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে নিজের সঙ্গে লড়াই করেছে। দাদা বিলুও বর্তমান রাজনীতির সঙ্গে নিজের আদর্শের মেলবন্ধন ঘটাতে পারেনি। সমগ্র উপন্যাসে এই চরিত্রগুলো রাজনৈতিক পরিচয় হারিয়ে ব্যক্তি হয়ে উঠেছে, পরিবারের একজন হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক প্রবাহে ভাসলেও চরিত্রগুলি আবর্তিত হয়েছে পরিবারকে কেন্দ্র করে। রাজনীতির লৌহগরাদের অন্তরালে অন্তহীন উৎকণ্ঠায় বিনিদ্র রাত্রিযাপন করেছে নিঃসঙ্গ মানবহৃদয়। তাদের আদর্শ ও কর্মপন্থা ভিন্ন, কিন্তু পারিবারিক অনুভূতিতে তারা অবিচ্ছেদ্য। জীবনের বৃহত্তর আবেদনে জাগরী তাই রাজনৈতিক উপন্যাস হলেও আখ্যানের কেন্দ্রে রয়েছে বাঙালির পারিবারিক জীবন। আগস্ট আন্দোলনের পটভূমিতে মানুষ, সময় ও সমাজের মিথস্ক্রিয়ায় কেবল সমকালীন রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, জাগরী উপন্যাসে মানবতার বার্তাও পরিবেশিত হয়েছে।



'চিত্রগুপ্তের ফাইল' সতীনাথ ভাদুড়ীর দ্বিতীয় উপন্যাস। বলীরামপুর জুট মিলে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসটি। ১৯৪৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার বেঙ্গল পাবলিশার্স থেকে চিত্রগুপ্তের ফাইল উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

বিহারের কাটিহার জুট মিলের শ্রমিক শোষণের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতাই সতীনাথকে এই উপন্যাস রচনায় অনুপ্রাণিত করেছিল।

জুট মিল ও সেখানকার শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবন, অবিরাম মিছিল-হরতাল, শ্রমিকদের ড্রিলের ক্লাস, তাড়ির দোকানের কলরব, মজুর-ব্যারাকের কীর্তন, উত্তেজক সংগীতানুষ্ঠান, থানা-পুলিশ ইত্যাদি চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষাপটে অভিমন্যু ও শিউসরণের বন্ধুত্ব ও মনান্তর এবং অভিমন্যু-মিনাকুমারীর প্রেমের ট্র্যাজিক পরিণতিই এই উপন্যাসের উপজীব্য।


উপন্যাসের শুরুরদিকের শোকাবহ পরিবেশ ও চরিত্রগুলোর নাম দেখে এই ধারণার উদয় হতে পারে যে এটি পোরাণিক আবহে রচিত কাহিনি।কিন্তু উপন্যাসকার রহস্যের জালে আবৃত্ত রেখে ধীরে ধীরে খুলে দেয় নতুন এক দিগন্ত।উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অভিমন্যু যার সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক শি���চন্দ্রিকা এবং তারা উভয়েই বিহারের কাটিহার জুটমিলের শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে যুক্ত গান্ধীজির কংগ্রেসি মতাদর্শকে নিজেদের আদর্শ করে।তবে উপন্যাসের শাখা কাহিনিতে অভিমন্যুর সাথে মিনাকুমারী নামক এক রমণীর প্রণয় দেখানো হয়েছে যে অনাথালয়ে লালিত হয়ে ইউনিয়নের একজন কর্মী হিসেবে কর্মরত আছে।

শ্রমিক শোষণকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটে মালিকপক্ষ উত্থাপিত কিছু অযৌক্তিক বিষয় থেকে অভিমন্যুর প্রতি ইউনিয়নের বিদ্বেষের সৃষ্টি হয় যার পরিণতি তাকে মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে দেয়।শোষণের বিরুদ্ধু সোচ্চার এই চরিত্র একদিকে যেমন প্রেমের সম্মান জানিয়েছে অন্যদিকে বন্ধুত্বের।এই ধরনের মানুষ চিরকালই বঞ্চনার শিকার হয়েছে শাসকদের দ্বারা এবং তাদের আত্মত্যাগও সময়ের সাথে ক্ষীণ হয়ে যায় যাদের জন্য তার ত্যাগ স্বীকার তাদের কাছে।তবে গান্ধীজির প্রতি তার প্রবল টান শেষ পর্যন্ত মৃত্যু নির্ধারণ করে দেয়।

অভিমন্যুর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে তার ওপর মিথ্যাচারের মনঃকষ্ট সহ্য করতে না পেরে মিনাকুমারীর ওপর দোষ চাপিয়ে শিউচন্দ্রিকা বিবাগী হয়ে যায় এবং প্রথম থেকে অজ্ঞাত বিষয়ে জ্ঞাত হয়ে অভিমন্যুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিজেকে দোষী করে মিনাকুমারী আত্মহত্যা করে অন্তর্দহনে।

এই উপন্যাসে লেখক "কেসরপাক" তৈরি উপলক্ষ্যে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের চাঁদা আদায়ের নামে লুণ্ঠন-প্রবৃত্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন।

'চিত্রগুপ্তের ফাইল' উপন্যাসটিতে সতীনাথ ভাদুড়ী আত্মদর্শনের আলোকে প্রস্ফুটিত করে তুলেছেন রাজনৈতিক ঘটনাচক্রে মানবজীবনের আত্মত্যাগ, নর-নারীর প্রেমের অসম্পূর্ণ সমাপ্তি,বন্ধুত্বের সম্পর্কে টানাপড়েন,এক শ্রেণির সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর লোলুপ মানসিকতা,উচ্চবিত্ত শ্রেণির নিম্নবিত্তের প্রতি হেয় মনোভাব,শিল্পভিত্তিক সমাজের প্রসার,শ্রমিক শ্রেণির নিগ্রহের শিকার,রাজনীতির কূটচালসহ অন্যান্য বিষয়।


সতীনাথ ভাদুড়ী 'চিত্রগুপ্তের ফাইল' উপন্যাসে চরিত্রগুলোর মনস্তত্ত্বকে উন্মোচিত করেছেন চেতনাপ্রবাহের মাধ্যমে এবং সেই সাথে রাজনৈতিক নির্মম চক্রান্তের শিকার তৎকালীন সমাজকে দেখাতে চেয়েছেন।



'গণনায়ক' হলো সতীনাথ ভাদুড়ীর প্রথম ছোটোগল্প-সংকলন, যা ১৯৪৮ সালে কলকাতার বেঙ্গল পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়।এতে মোট পাঁচটি গল্প রয়েছে: “গণনায়ক”, “বন্যা”, “আণ্টাবাংলা”, “পঙ্কতিলক” ও “ভূত” ।

'গণনায়ক' দেশভাগের (ভারত–পাকিস্তান বিভাজন) সময়ে সাধারণ মানুষের বিদ্বেষ আর বিভাজনের সুযোগ নিয়ে ব্যবসা করানো এক ভণ্ড ‘দেশভক্ত’ মুনিমজীর কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে ।তিনি পাকিস্তানি ও ভারতীয় পতাকা বিক্রি করে, এরপরই আবার নতুনভাবে ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন—এর মধ্য দিয়ে একজন স্বার্থান্বেষী লোককে খুব দমবন্ধ করা বাস্তবতার আয়নায় দেখা যায়।

'বন্যা' প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে ব্রাহ্মণ নৌখে ঝা ও নিম্নবর্ণীয় সুমৃৎ তিয়রের পার্থক্য ভুলে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো, কারণ বিপদ মানুষের সামাজিক সীমানা মুছে দেয়—এই মানবিকতা এবং শেষে আবার ফিরে আসা পূর্ব জন্মের মূলোদ্ভূত দ্বন্দ্ব গল্পে ফুটে ওঠে।

'আণ্টাবাংলা' এক ওঁরাও পরিবারের করুণ পরিণতি এবং পূর্ণিয়ার নীলকর বংশধরদের অত্যাচার, খ্রিস্টান ওঁরাওদের দাসজীবনের কঠিন বিবরণ বেরিয়ে আসে ।

'ভূত' বিহারের গ্রাম্য ও শহুরে কায়স্থ সমাজের মধ্যে বিবাহ ঘিরে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, যা আড়ালে হিন্দু ও মুসলমান শ্রেণির মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার দিকে ইঙ্গিত করে।



'অপরিচিতা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো 'গণনায়ক' এর থেকে কম্পারেটিভলি কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে। গল্পগুলোর বিষয়বস্তু কাছাকাছি বলেই হয়তো এরকম মনে হয়েছে।
Displaying 1 of 1 review

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.