আমাদের প্রত্যেকেরই মনের ভেতরে কোথাও না কোথাও একান্ত নিজের নিজস্ব একটা রবীন্দ্রনাথ লুকিয়ে থাকে। সেই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমাদের দেওয়া-নেওয়ার খেলা চলতে থাকে নিরন্তর। ‘দুখের দোলে হঠাৎ মোরে দোলায় সে যে কাজের মাঝে লুকিয়ে থেকে আমারে কাজ ভোলায়’ – এমন কথা তো আমরা বলতে পারি।
Soumitra Chatterjee or Soumitra Chattopadhyay (in Bengali: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়) is an Indian film and stage actor and poet. He is best known for his collaborations with film director Satyajit Ray, with whom he worked in fourteen films, and his constant comparison with the Bengali cinema screen idol Uttam Kumar, his contemporary leading man of the 1960s and 1970s. Besides this, he is also a writer.
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর জন্ম ১৯ জানুয়ারি, ১৯৩৫ কৃষ্ণনগরে। বাবা মোহিতকুমার চট্টোপাধ্যায়, মা আশালতা চট্টোপাধ্যায়। পিতার কর্মসূত্রে ছোটবেলা কেটেছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায়। স্মৃতির মধ্যে মন্বন্তর, স্বাধীনতা। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ে আগ্রহ। সঙ্গে বই-এর প্রতি টান। কলেজ জীবনে শিশিরকুমার ভাদুড়ির সান্নিধ্যলাভ। ১৯৫৯-এ প্রথম ছবি, ‘অপুর সংসার’। অতঃপর, সত্যজিৎ রায়ের চোদ্দোটি ছবিতে অভিনয়। সঙ্গে আরও অজস্র ছবি। ‘পদ্মভূষণ’, ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমি’, এবং সম্প্রতি ‘দাদাসাহেব ফালকে’-সহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত কিংবদন্তি অভিনেতা। মঞ্চেও সমান সক্রিয়। সাম্প্রতিক কালে ‘রাজা লিয়ার’-এর নামভূমিকায় তাঁর অভিনয় সমাদৃত। বাচিক শিল্পেও অপ্রতিম। কবিতা লেখার সূচনা কৈশোরে। যৌবনে নির্মাল্য আচার্যের সঙ্গে ‘এক্ষণ’ সাহিত্যপত্র সম্পাদনা। নানা কাজের ফাঁকে কবিতা রচনা করেন নিয়মিত।
রবীন্দ্রনাথের সাথে আমার প্রথম পরিচয় গানের স্কুলের ‘খরবায়ু বয় বেগে...’ নাকি পড়ার বইয়ের ‘মনে কর যেন বিদেশ ঘুরে...’-এর মাধ্যমে হয়েছিলো, সেটা ঠিক মনে নেই। অত কি আর বুঝতাম তখন! এসব পংক্তি মনে দাগ কাটবে, সে বয়স তখনও হয়নি। তারপর একদিন টিভিস্ক্রিনে অল্প বয়সী তাপস পালকে গাইতে দেখলাম ‘চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে-নিয়ো না, নিয়ো না সরায়ে...’-দাদার কীর্তি ছিল সিনেমার নাম। মূল কণ্ঠ কোন শিল্পীর ছিল আমি সেটা জানি না অবশ্য, কিন্তু আমার খুব ভালোমতো মনে আছে যে সেই ছোট্ট বয়সের আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো হা করে টিভির দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমার মনে হচ্ছিলো এতো সুন্দর গান আমি কোনদিন শুনি নি এর আগে। আর সেটাই হয়তো ছিল রবীন্দ্রনাথকে সাথে নিয়ে পথচলার শুরু।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এই সংক্ষিপ্ত কলেবরের স্মৃতিচারণ পড়তে পড়তে নিজেও কিছুটা নস্টালজিক হয়ে গিয়েছিলাম। ছেলেবেলা থেকে বড়বেলা, জীবনের প্রতিটি ধাপে কিভাবে তিনি জড়িয়েছেন রবীন্দ্রনাথের মায়ায় তারই একটি খণ্ডচিত্র তুলে ধরেছেন এখানে, অল্প কয়েকটি পাতায়। সৌমিত্র বলতে গেলে উত্তরাধিকার সূত্রেই রবীন্দ্রনাথকে পেয়েছেন। মা’র ছিল আলমারি ভর্তি প্রাইজের বই, বাবা আবৃত্তি করে শোনাতেন কবিতা! আর সেগুলোই লিপিবদ্ধ করেছেন তিনি এখানে। সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন প্রিয় গান, কবিতা কিংবা নাটকের কিছু অংশ।
রবীন্দ্রনাথ আমার কাছে আনন্দ-দুঃখ-প্রেম-ভালোবাসা-বিরহ সবকিছুরই আরেকটি নাম। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার মনের অনেক কথাও উঠে এসেছে সৌমিত্রের লেখায় এবং এই ব্যাপারটা মনকে নির্মল আনন্দে আনন্দিত করেছে।