Jump to ratings and reviews
Rate this book

বঙ্গভবনে শেষ দিনগুলি

Rate this book
সাবেক প্রেসিডেন্ট আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের লেখা । মোসতাক আহমেদ পদচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। আর সে সময়ে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। কি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন আর কি পরিস্থিতিতে জিয়ার হাতে ক্ষমতা দিতে হয়েছিল তারই বর্ণনা । মুখবন্ধে তিনি লিখেছেন ''১৯৭৭ সালের শেষ ও ১৯৭৮ সালের শুরুর সময়ে এই সংক্ষিপ্ত লেখা তৈরি হয়। আমার মৃত্যুর পর তা প্রকাশের ইচ্ছা ছিল'' ।
এর মধ্যে এমন কিছু কথা আছে যা তিনি জীবদ্দশায় প্রকাশ হোক চাননি। তারপরেও এটি প্রকাশ পেয়েছিল তিনি বেঁচে থাকতেই ।
English Version - At Bangabhaban: Last Phase (1988)

86 pages, Hardcover

Published January 1, 1988

13 people are currently reading
171 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
8 (23%)
4 stars
5 (14%)
3 stars
9 (26%)
2 stars
5 (14%)
1 star
7 (20%)
Displaying 1 - 7 of 7 reviews
Profile Image for Jahangir.
Author 3 books35 followers
January 27, 2018
কেউ যদি কোন অজানা তথ্য জানার আশায় বা প্রকৃত ইতিহাস জানার আশায় এই বইটা পড়ার আশা করেন তাহলে তার জন্য এক বালতি অগ্রীম সমবেদনা রইল। বাংলা ভাষায় প্রচুর ভালো বই ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে যা পড়ে শেষ করতে একজন মানুষের সারা জীবন যথেষ্ট নয়। আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবনে সেই সব বইয়ের আরও কিছু না পড়ে এই বইটার মতো বই পড়া নিতান্তই বোকামী। এই প্রকার 'স্যার'দের 'বিকল্প' সত্য আর 'পর্দায় ঢাকা' সত্যে পরিপূর্ণ আত্মজীবনী লেখার যে সুপ্রাচীন ঐতিহ্য আছে সে সম্পর্কে আমি ওয়াকেবহাল। নিতান্ত একটা প্যাঁচে পড়ে আমাকে এই বইটা পড়তে হয়েছে নয়তো এই বই পড়ার মানুষ আমি না। এই মোটা প্রচ্ছদ, অল্প পাতা, বেশি ছবি, কম লেখার বইটা যখন পড়েই ফেলেছি তখন এর সম্পর্কে দুটো কথা বলে রাখি।

বাংলাদেশে সামরিক শাসন জারী করার কৃতিত্ব একজন সিভিলিয়ানের - ১৫ই অগাস্ট ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক আহমদের। খুনী মেজর চক্রের সহায়তায় খুনী মোশতাক সামরিক শাসন জারী করলেও সারা দেশে সেটা কার্যকর করতে পারেনি। এর কারণ, তখন সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা মোশতাকের রাষ্ট্রপতিত্বে চাকুরী করলেও তার সাথে সামরিক শাসন চালাতে আগ্রহী ছিলেন না। বাংলাদেশে কার্যকর সামরিক শাসন আসে ৬ই নভেম্বর ১৯৭৫ সালের রাত থেকে আরেক সিভিলিয়ান, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি আবুসাদাত মোহাম্মদ সায়েমের মাধ্যমে। তিনি এবং তার তিন উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক - মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মাদ গোলাম তাওয়াব ও রিয়ার অ্যাডমিরাল মোশার্‌রফ হোসেন খান মিলে বাংলাদেশের সর্বস্তরে ও তৃণমূল পর্যন্ত সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন যা তিন বছর সাত মাস একুশ দিন স্থায়ী হয়। এই সামরিক শাসন বাংলাদেশে ভবিষ্যত সামরিক শাসন জারীর ও সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর নজীর তৈরী করে দেয়। ২৯ নভেম্বর ১৯৭৬ সালে বিচারপতি সায়েম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ এবং ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতির পদ জেনারেল জিয়ার অনুকূলে ছেড়ে দেন।

এই বই পড়লে আপনি জানতে পারবেন না -
১. একজন প্রধান বিচারপতি কী কারণে এবং কী উপায়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হলেন?
২. বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থার গলা টিপে ধরে সামরিক শাসন চালানোর পেছনে একজন প্রধান বিচারপতির যুক্তিগুলো কী ছিল এবং তার অনুভূতি কী ছিল?
৩. বিদ্যমান মত অনুযায়ী ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ থেকে যদি জেনারেল জিয়াই সর্বেসর্বা থাকেন তাহলে বিচারপতি সায়েম কীসের আশায় পদ আঁকড়ে ছিলেন?
৪. বিচারপতি সায়েমের পক্ষে কেউ কেউ এই যুক্তি দেবার চেষ্টা করেন যে, তিনি প্রতিশ্রুত সাধারণ নির্বাচন করার আশায় পদ ধরে রেখেছিলেন। অতি হাস্যকর একটা যুক্তি। জেনারেল জিয়া যদি সর্বেসর্বা হয়ে থাকেন তাহলে বিচারপতি সায়েম কী করে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করবেন?
৫. বঙ্গভবনে তার দিনগুলোতে দেশের যারা হর্তাকর্তাবিধাতা ছিলেন তাদের কার কী ভূমিকা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।
৬. তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় কী করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তমকে বিচারের নামে হত্যা করা হয়?

'আপনি জানতে পারবেন না'র তালিকা আরও দীর্ঘ করা যাবে কারণ, এই বইটা পড়ে আপনি আসলে কিছু জানতে পারবেন না। মশিউল আলম যত দিন ধরে এই বইটা অনুবাদ করেছিলেন ততদিন ধরে তিনি নিজে মৌলিক কিছু লিখলে বরং পাঠককূল পড়ার মতো কিছু পেতেন।
Profile Image for Mosharaf Hossain.
128 reviews100 followers
May 22, 2018
'বঙ্গভবনে শেষ দিনগুলি' রাষ্ট্রপতি সায়েমের লেখা এই বইটা সংগ্রহ করেছি যতটা উৎসাহ নিয়ে, হতাশ হয়েছি ঠিক ততটাই দ্রুতবেগে। অনেক কাঠখড়ি পোড়ানোর পর রকমারি থেকে বইখানা সংগ্রহ করি। কিন্তু এখন জীবনের মূল্যবান কিছু সময় নষ্ট করার অপরাধে এখন নিজের কাছে নিজেকেই দোষী মনে হচ্ছে।

কোন আক্কেলে এটার নাম আত্নজীবনি দিয়েছে, একমাত্র প্রকাশক, লেখকই জানে। বাংলাদেশের রাজনীতির সেই উত্তেজক দিনগুলোর সাক্ষী হতে গিয়ে হলাম লেখকের অনেকগুলো ছবির। পুরো বইজুড়ে খালি ছবি আর ছবি।

বিচারপতি আবু সায়েম ৬ই নভেম্বর ১৯৭৫ থেকে থেকে ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন।এই সময়টা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অস্থির, অনিশ্চিত ঝড়ো সময়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মোশতাক আহমদের সরকার সারা দেশে সামরিক শাসন জারী করলেও সারা দেশে সেটা তেমন ভাবে কার্যকর করতে পারেনি। মূলত সায়েম সরকারের আমলেই বাংলার মাটিতে জলপাই রঙয়ের পূর্ণ শাসন কায়েম হয়। আর এর পেছনে মূল কারিগর ছিলেন, উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক - মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মাদ গোলাম তাওয়াব ও রিয়ার অ্যাডমিরাল মোশার্‌রফ হোসেন খান

নিজের শেষ সময়ে সায়েম বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়েন। তার ভাষায়, "বঙ্গভবনে আমার দিনগুলোর শেষ দিকে আমার মনে হতে থাকে, আমি ক্রমশ অক্ষম হয়ে পড়ছি। সেটা রাজনীতিক, স্থায়ী সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং অধিকাংশ উপদেষ্টার (বিশেষ সহযোগী বিচারপতি আবদুস সাত্তারসহ, যাঁকে আমি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতাম) আচার-আচরণের জন্য।"

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সায়েমের অনেক স্বপ্ন ছিল দেশ নিয়ে। বিশেষ করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছাটা তিনি বারবার প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এর ব্যর্থতার দায় তিনি দিয়েছেন তার বিশেষ উপদেষ্টা সাত্তারের ঘাড়ে। তিনি সরাসরি তুলে ধরেছেন কীভাবে তৎকালীন রাজনীতিকরা পরামর্শের নিয়মিত যাতায়াত করতে সেনা ছাউনিতে।

এভাবে সায়েম যখন একরম বাধ্য হয়ে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে তখন সমস্যা দেখা দেয় কার কাছে পদত্যাগ করবেন। সব সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় জেনারেল জিয়া! বিনিময়ে জিয়া তাকে নিশ্চয়তা দেয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে জিয়া নিজেই নির্বাচনে দাঁড়ান। লেখকের ভাষায়, "ক্ষমতাসীন হয়েই তিনি নির্বাচন করবেন এবং সেই নির্বাচনে নিজে অংশগ্রহণ কোড়বেণ এমণ চিন্তা তখন আমার মাথায় আসেনি।"

পুরো বই অনেক প্রশ্নের জন্ম দিলেও একটারও উত্তর দিতে পারেনি। তবে বই শেষে সায়েমের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেওয়া অনেক ভাষণ পড়ে কিছুটা আঁচ করা যায় অনেক কিছুই। বিশেষ করে খুনী মোশতাকের প্রশংসা রীতিমত চোখে লাগে।
Profile Image for Shadin Pranto.
1,485 reviews568 followers
January 4, 2019
বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর রাষ্ট্রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল। পদত্যাগের শেষ দিনগুলোর স্মৃতি নিয়ে ছোট্ট একটি বই লিখেন "আ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেজ" শিরোনামে। দৈনিক ভোরের কাগজে ধারাবাহিকভাবে বইটির বঙ্গানুবাদ করেন মশিউল আলম। পরে বইটি "বঙ্গভবনের শেষ দিনগুলি" শিরো নামে প্রকাশ করে মওলা ব্রাদার্স। আনিসুজ্জামানের সুখপাঠ্য ও বিশ্লেষণধর্মী ভূমিকা বইটিকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।


সাবেক রাষ্ট্রপতি সায়েমের বইটি বিশেষ আকর্ষণের দাবি রাখে কৌতূহলী পাঠকদের কাছে। প্রথমেই বলব, পাঠক হিসেবে প্রত্যাশার মাত্রাটি তুলনামূলক যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে পারলে হয়তো আরো উপভোগ্য হতে পারত বইটি।

আবু সা���াত মোহাম্মদ সায়েম কেন লিখলেন স্মৃতিকথা? কৈফিয়ত,

" যেসব পরিস্থিতিতে আমি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করি এই লেখাতে তা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই আমাদের রাজনীতিবিদদের মানসিক গড়ন সম্পর্কে আলোচনা এসেছে, এবং সেই সুবাদেই পাকিস্তান ভাঙার পিছনের আপেক্ষিকভাবে দৃশ্যমান কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। "

বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি সায়েম তাঁর বইয়ের বিষয়বস্তু কী হতে পারে তা মুখবন্ধের এ ক'টি লাইনের মোটাদাগে বলে দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের শেষের সময়গুলোতে কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন চারদিক থেকে। উপদেষ্টাদের সবাই বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে থাকে। তবে একজনের প্রতি নিজের অসন্তুষ্টির কথা গোপন করেন নি তিনি। ভাষায়,

" বঙ্গভবনে আমার দিনগুলোর শেষ দিকে আমার মনে হতে থাকে, আমি ক্রমশ অক্ষম হয়ে পড়ছি। সেটা রাজনীতিক, স্থায়ী সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং অধিকাংশ উপদেষ্টার (বিশেষ সহযোগী বিচারপতি আবদুস সাত্তারসহ, যাঁকে আমি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতাম) আচার-আচরণের জন্য।" (পৃষ্ঠা ১৭)

সায়েম চেয়েছিলেন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। ব্যর্থ হয়েছেন। এজন্য তিনি তাঁর বিশেষ সহযোগী এবং উপদেষ্টা আবদুস সাত্তারের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন বিভিন্ন আকার-ইঙ্গিতে। উপদেষ্টা হিসেবে তিনজন উপপ্রধান সামরিক আইনপ্রশাসক ব্যতীত বেসামরিক উপদেষ্টাদের কেউ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্তা রাখতে পারবেন না - এমন একটি দায়বদ্ধতা ছিল। অথচ সায়েমের লেখাতেই বারবার এই অভিযোগ উঠে এসেছে তাঁর পারিষদবৃন্দের প্রায় সকলেই ঘোরতর রাজনীতি সচেতন এবং তাঁদের গতায়াত রাজনীতির পথেই ধাবমান! আবার লক্ষণীয় ডিসিএমএলদের রাজনীতিতে বাধা নেই। অর্থাৎ সামরিক বাহিনি কর্তারা যে রাজনীতির চালিকাশক্তিরূপে আবির্ভাব হবেন তা তখনই জলবৎ তরলং। সায়েম স্বীকার করুন আর নাই করুন তিনি যে স্রেফ সেনাকর্তাদের হাতের পুতুল ছিলেন তা এই ধারার মাধ্যমেই প্রমাণিত।
সায়েমের যোগ্য উপদেষ্টাপরিষদের দায়িত্ব ছিল নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের হাতে ক্ষমতা প্রদান। অথচ তাঁদের খায়েশ ছিল,

" উপদেষ্টা পরিষদের অর্থাৎ মন্ত্রিপরিষদের অধিকাংশ সদস্য, যাঁরা বস্তুত মন্ত্রী ছিলেন নীতি-নির্ধারণী সংশ্লিষ্ট হিসেবে), পছন্দ করতেন না যে রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় আসুক। " ( পৃষ্ঠা ১৮)

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনীতিবিদরাও হয়ে গিয়েছিলেন অনেকটা অসংগঠিত, ছত্রভঙ্গ। তবে একটিদল বাদে অন্যান্যদলকে প্রচলিত অর্থে, অসংগঠিত করার প্রক্রিয়াটি বঙ্গবন্ধুর চতুর্থ সংশোধনীতেই নিহিত ছিল।বঙ্গবন্ধু পরবর্তী শাসকরা এই প্রক্রিয়াকে বিভিন্ন নিপীড়নের মাধ্যমে দীর্ঘায়িত করেছে মাত্র। আবার স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কীভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে তার নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি,

" মুসলিম লীগের প্রধান সবুর খান নির্বাচনে যেতে সম্মত ছিলেন" (পৃষ্টা ১৮)

রাজনীতি বাসা বেঁধেছিল ক্যান্টনমেন্টে! তাই রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক শলা-পরামর্শের জন্য সেনানিবাসে যেতেন।এমনকি সাত্তারও সেখানে নিয়মিত যেতেন বলে দাবি সায়েমের। যেদেশে রাজনৈতিকরা ক্যান্টনমেন্টে যেত উপদেশের নিমিত্তে, সেদেশে সেনাশাসন তো ললাটলিখন।
রাজনীতিকদের এত দীনতার কারণ ও সেনাবাহিনির এই ক্ষমতার উৎস সন্ধান করতে চেয়েছেন সায়েম। পুরো পাকিস্তান শাসনামলের প্রায় পুরোটাই দেশ সেনাকবলিত ছিল। ইস্কান্দার মির্জা, আইয়ুব আর ইয়াহিয়ার শাসনামল নিয়ে লিখেই প্রায় পুরো বই শেষ করতে চেয়েছেন সায়েম। কেন বাঙালিরা পাকিস্তানিদের শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছে তার কিছু ঐতিহাসিক ও ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হাজির করেছেন পাঠকের সামনে। ঐতিহাসিক কারণগুলো ইতিহাসসচেতন পাঠকরা জানলেও তা রাষ্ট্রপতি সায়েমের দৃষ্টিতে ভিন্নতর আঙ্গিকে এসেছে। আর সায়েমের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা আগ্রহ বাড়াবে।

চতুর্থ সংশোধনী প্রসঙ্গে বিচারপতি সায়েমের মন্তব্য,

" চতুর্থ সংশোধনী প্রেসিডেন্টকে এই ক্ষমতা দেয় যেন, তিনি সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের নিয়োগদানের বেলায় প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ না করে নিজের পছন্দ মত ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারবেন। " (পৃষ্ঠা ২৩)

আরো লিখেছেন,

" স্বাভাবিকভাবেই বলা হচ্ছিল যে, উল্লেখিত ক্ষমতাগুলো শেখ মুজিবুর রহমান নিয়েছিলেন বিচারকদের নির্বাহী প্রভাবের অধীন করার উদ্দেশ্যে।" ( পৃষ্ঠা ২৩)

চতুর্থ সংশোধনীতেই নিজদলের বিপক্ষে ভোটদানে সংসদসদস্যপদ খারিজের বিষয়টি আনা হয়। সায়েম এর ঘোর বিরোধীতা করেছেন।
ব্যক্তিপূজার সমালোচনাও মুখর ছিলেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহযোগী পদোন্নতি পেয়ে উপ-রাষ্ট্রপতি বনে যান। পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়ে যায়। জনাব সাত্তার নিজরূপে আবির্ভূত হন। এদিকে অন্যান্য উপদেষ্টারা এসে বলেন সায়েমকে পদত্যাগ করতে। জিয়া যে আসলেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছিলেন তার প্রমাণ হলঃ উপদেষ্টা কাউন্সিলের মিটিংয়ে জটিল কোনো বিষয় সামনে এলে সব উপদেষ্টা চুপ। যখন জিয়া মুখ খুলতেন, তখনই অন্যান্য উপদেষ্টারা মতামত দিতেন। এমন অমেরুদন্ডীরা সবাই ছিলেন এদেশের জ্ঞানী,গুণী সমাজের প্রভিতূ!

সায়েম চাপে পদত্যাগে বাধ্য। তখন দেখা দেয় সাংবিধানিক জটিলতা সায়েম কার কাছে পদত্যাগ করবেন? মুশকিল আসান করেন জিয়াউর রহমান। তিনি সমাধান দেন তাঁর কাছে পদত্যাগ করতে। অথচ জিয়া সাংবিধানিকভাবে তখনো অন্য দুই ডিসিএমএলের সমপর্যায়ের। বুঝুন অবস্থা!

দেশ বাংলাদেশ থেকে তখন হাঁটতে শুরু করেছিল মুসলিম বাংলার দিকে। বইয়ের শেষে সায়েমের কিছু ভাষণ সংযোজিত রয়েছে। সেখানে তিনি মোশতাকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, প্রতিটি ভাষণ শেষ করেছেন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে।
জাতির এক সন্ধিক্ষণে দায়িত্ব নিয়েছিলেন সায়েম। স্বভাবই প্রত্যাশা ছিল কৌতূহলোদ্দীপক মণিমুক্তার খোঁজ দিবেন সায়েম। ইতিহাসের অজানা অধ্যায়কে উন্মোচিত করবেন সায়েম এমন ভাবনা নিয়েই অথচ তিনি প্রায় পুরো বই পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পটভূমি ব্যাখা করতে গিয়েই শেষ করছেন।

সেনাশাসনকে তিনি সেনাপ্রধানের শাসন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর এও পরিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ, ভূতপূর্ব পূর্ব পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষমতারোহণের মনোভাবকে পরিষ্কার করেছেন পাঠকের কাছে। অথচ নিজের বঙ্গভবনের শেষ দিনগুলোর চিত্র ফুটিয়ে তুলতে যথেষ্ট ব্যর্থ এবং নিজের দায়িত্বে ব্যর্থতার ভার অপরের কাঁধে চাপিয়ে নিজেকে স্বঘোষিত দায়মুক্ত দাবি স্বভাবটি বড্ড বাজে মানসিকতাকেই স্পষ্ট করে।
Profile Image for Saeid Shahin.
8 reviews4 followers
January 12, 2025
বইঃ বঙ্গভবনে শেষ দিনগুলি
লেখকঃ আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
পৃষ্ঠাঃ ৮৮
প্রকাশনীঃ মাওলা ব্রাদার্স


আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ রাষ্ট্রপতি। ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচাইয়ে বিক্ষিপ্ত সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এই বইটি মূলত সেসময়কারই স্মৃতিকথা।

বিচারপতি সায়েম কিভাবে ক্ষমতায় এলেন, কী কী করলেন, সফলতা-ব্যর্থতা, অভিজ্ঞতা এবং কোন পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন সেসব কথাই সংক্ষিপ্ত আকারে ওঠে এসেছে এই বইয়ে।

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হলে খন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় আরোহন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে একই বছরের ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান হলে ৬ নভেম্বর বিচারপতি সায়েমকে দেশের ৬ষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে সামরিক আইন জারি করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে উক্ত পদে নিযুক্ত করেন।

তিনি যে লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেসব লক্ষ্য তিনি পূরণ করতে পারেননি বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে। সেসময় তিনি ক্ষমতায় থেকেও কিভাবে ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছিলেন, কিভাবে জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা আবর্তিত হয়েছিল, কিভাবে তিনি অসহযোগিতা ও অবহেলার স্বীকার হয়েছেন সেসব ওঠে এসেছে তাঁর বর্ণনায়। তাছাড়া ধীরে ধীরে তিনি কিভাবে রাষ্ট্রকাঠামোতে অপাঙক্তেয় হয়ে ওঠেছিলেন, কখন পদত্যাগ করলেন, ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন দিতে না পারা সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেছেন তাঁর লেখায়।

তবে বইটি ভীষণ আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক, তার চেয়েও বড় ত্রুটি হলো, অন্দরমহলের রাজনীতির বর্ণনা ও অভিজ্ঞতা যেভাবে আসার কথা ছিল সেভাবে একদমই আসেনি। বইটির খাপছাড়া বর্ণনা, সংক্ষিপ্ততা ও কিছু অপ্রাসঙ্গিক আলাপের দরুণ এটি সুখপাঠ্যও না। কেবল ৭৫ এর আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে অন্দরমহলের রাজনীতি নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে, তাদের কাছে বইটি একটি সংযোজন হতে পারে।
~
১২.০১.২০২৫
Profile Image for Abu  Bakar Shaim.
34 reviews12 followers
March 31, 2024
আবুসাদাত মোহাম্মদ সায়েম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন দেশের চরম সংকটময় এক সময়ে। প্রায় দেড় বছর সময় তিনি এই গুরুদায়িত্ব পালন করেন।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ক্ষমতা ত্যাগের আগে তিনি কেমন পরিস্থিতিতে ছিলেন সেসবই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে এই স্মৃতিকথায়। রাষ্ট্রভার গ্রহণের পর থেকেই তার ইচ্ছে ছিল একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করার কিন্তু এ ব্যাপারে তিনি সফল হতে পারেননি। কেনো সফল হতে পারেননি, তার চারপাশে থাকা মানুষদের আচরণ কেমন ছিল এবং রাজনীতিবিদদের ওপর তার যে যৌক্তিক ক্ষোভ সেসবই এই বইয়ের মূল অংশ দখল করে রেখেছে। এসব বলতে যেয়ে প্রকাশ পেয়েছে ব্যক্তিবিশেষের ওপর তার হতাশা ও দায়িত্বপালনে সফল হতে না পারার বেদনা।

বইটি পড়া শুরু করেছিলাম মূলত আনিসুজ্জামানের 'স্মৃতির মানুষ' বইয়ে এই বইয়ের উল্লেখ পাওয়ার পরেই। কিন্তু পড়ে একরকম হতাশই হয়েছি বলা যায়। খুব অগোছালো আর টুকরো টুকরো ইতিহাসের সাথে লেখকের ব্যক্তিগত হতাশা প্রকাশ ছাড়া বিশেষ কিছু পাইনি এই বইটিতে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকতে যেয়ে কোনো বিষয়েই তিনি পরিষ্কার মতামতও দেননি এই বইয়ে।

এই সাথে বলে রাখি, মূল রচনাটি ৩০ পৃষ্ঠা হলেও মাওলা ব্রাদার্সের প্রকাশিত বইটিতে এএসএম সায়েম ও মেজর জিয়ার কিছু ভাষণ যুক্ত করা হয়েছে।

বইটি অনুবাদ করেছেন সুলেখক মশিউল আলম কিন্তু অনুবাদটা আমার ঠিক সাবলীল মনে হয়নি। কেমন একটা আরোপিত ভাব আছে মনে হচ্ছিল বারবার।
Profile Image for Ahammad Ali.
51 reviews2 followers
February 23, 2024
লেখকের রাষ্ট্রপতি থেকে পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে আত্মপক্ষ সমর্থন মূলক লেখা। ২ তারকার বেশি দেয়া যায় না, তবুও ৩ তারকা দিচ্ছি শুধুমাত্র পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ শাসনামলে সামরিক শাসনের যৌক্তিকতা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করায়।

মাত্র ৪০ পৃষ্ঠার বই, ছবি ও বেতার টেলিভিশনের ভাষণের স্ক্রিপ্ট দিয়ে ৮০ পাতা করা হয়েছে। এক বাসায় পড়া শেষ করা সম্ভব ।
Profile Image for Munem Shahriar Borno.
204 reviews11 followers
December 7, 2023
বিচারপতি সায়েম ভূয়োদর্শি মানুষ; ব্রিটিশদের শাসন, পাকিস্তানিদের শোষণ এবং বাংলাদেশ আমলের অরাজকতা সবই প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। প্রথম চাকুরিজীবন শুরু করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের জুনিয়র আইনজীবী হিসেবে, তারপর একে একে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট, ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, সত্তর এর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন এর সদস্য এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল খালেদ মোশাররফ এর নেতৃত্বাধীন সেনা-অভ্যুত্থানকালে (৭৫ এর ৬ নভেম্বর) থেকে ৭৭ এ জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন। তাঁর এমন গ্লোরিয়াস কর্ম পরিচয় থেকে স্বাভাবিকভাবেই তার লেখায় অনেক ঘটনার অবতারণা হবে এমন আশা করেছিলাম এবং আশাহত হয়েছি।

শেখ মুজিবের শাসনামলের কোন বর্ণনা পাওয়া যায়নি তার লেখনিতে; শুধুমাত্র মুজিব সরকারের চতুর্থ সংশোধনীর (বাকশাল প্রণয়ন) এর সমালোচনা পাওয়া যায়। তার বিশেষ সহকারির (বিচারপতি আব্দুস সাত্তার) তার চেইন অব কমান্ড না মানায় তাকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের চর হিসেবে ভৎর্সনা করেন। আনিসুজ্জামান এর ভূমিকা, পুরো বইয়ের ছবি আর শেষের ভাষণ গুলো বাদ দিলে তার নিজের লেখা মাত্র ২১ পৃষ্ঠা। আর পুরোটাই "আমি আমি আমি আমি" -তে ভরা। নিজেকে ডিফেন্ড করেছেন প্রত্যেকটি বাক্যে। পুরোটা পরে মনে হয়েছে তিনি শুধু ভুল ধরেই গিয়েছেন আর পরিস্থিতির কাছে নিজেকে সোপর্দ করেছেন; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাঁর মধ্যে থাকলেও কখনো ইমপ্লিমেন্টেশন/অ্যাকশন এ যান নি (বাংলা কথায় "গা বাচিয়ে চলা" যাকে বলে)।
Displaying 1 - 7 of 7 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.