আন্টার্কটিকার তৃতীয় ভারতীয় অভিযানে স্থান পেয়েছিলেন প্রথম বাঙালী মহিলা বিজ্ঞানী সুদীপ্তা সেনগুপ্ত। পেশায় ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভূতত্ত্ববিদ। এই গ্রন্থে সেই অভিযানেরই বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়েছেন তিনি। রুদ্ধশ্বাস কৌতূহল নিয়ে শুনতে হয় এই কাহিনি। "দেশ" পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশকালেই আলোড়ন তুলেছিল এই রচনা। গ্রন্থাকারে আদ্যন্ত পরিমার্জিত হয়েছে। সেইসঙ্গে বহু রঙিন ছবি, সাদাকালো ছবি ও চার্ট যুক্ত হয়ে বইটির আকর্ষণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগে, যখন এই বইটির বিভিন্ন অংশ ধারাবাহিক ভাবে "দেশ"-এ বেরোচ্ছে, তখন থেকেই আমি এই বইয়ের ভক্ত। সেই সময়ের পশ্চিমবঙ্গের এক মফস্বলের বাসিন্দার কাছে এই বইয়ের তথ্যনিষ্ঠ অথচ সুখপাঠ্য প্রতিটি অধ্যায় এক অজানা জগতের দিকে খোলা জানালা ছিল। তারপর যখনই আন্টার্কটিকা-র পটভূমিতে কোনো লেখা পড়েছি, সে অনীশ দেব-এর "হিমশীতল" হোক বা গ্রেগ রুকা-র "হোয়াইটআউট" বা ম্যাথিউ রিলি-র "আইস স্টেশন", আমার মাথায় নিঃশব্দে গুঞ্জরিত হয়েছে এই বইয়ের নানা তথ্য, নানা ঘটনা। দুটো ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ইতি টানি। ১. বই আকারে লেখাগুলো পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার পর, যখন আমার প্রিয় শিক্ষক এই বইটা উপহার দিয়েছিলেন "আবিষ্কারের আনন্দ নাও" কথাটা তার প্রথম পাতায় লিখে দিয়ে। হে পাঠক, এই বই সত্যিই আপনাকে আবিষ্কারের আনন্দ দিতে পারবে। ২. আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহে পড়েছিলাম ইঞ্জিনিয়ার হবার লোভে নয়, বরং লেখকের মতোই অভিযানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম বলে। "ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া" ছাড়া বিশেষ কোথাও যাওয়া হল না এজন্মে, তবে লেখকের মতো আমিও যাদবপুরের ছাত্র তথা যদুবংশী হতে পেরেছিলাম, এই গর্বটা আছে, ও থাকবে। পড়ে ফেলুন।
পড়ে শেষ করলাম সুদীপ্তা সেনগুপ্তর লেখা আন্টার্কটিকা। দারুণ একটা বই। আফসোস হচ্ছে এতদিন কেন পড়িনি! ঝরঝরে ভাষা, সুখপাঠ্য একটা বই। লেখিকা প্রথম ভারতীয় নারী বিজ্ঞানী হিসেবে যান আন্টার্কটিকা অভিযানে। অবশ্য উনি একা নারী ছিলেন না, সাথে ছিলেন অদিতি পন্থ। সালটা ১৯৮৩। এমন একটা সময় যখন ইউরোপ, আমেরিকাতেও নারী বিজ্ঞানীর সংখ্যা ছিল নগণ্য। আর তিনি তাঁর দুবলা পাতলা বাঙালি চেহারা নিয়ে যেনতেন জায়গা নয়, একেবারে আন্টার্কটিকা অভিযানে চলে গেলেন! ভাবা যায়! ভারত অবশ্য আগেও দুইবার বৈজ্ঞানিক অভিযান চালিয়েছিল। তৃতীয়বার নারী সদস্য যুক্ত হয়। অভিযানের পূর্ব প্রস্তুতি থেকে একবারে শেষ পর্যন্ত তাঁদের যা অভিজ্ঞতা হয়েছে সব তুলে ধরেছেন সহজ ভাষায়। বইটার প্রধান বৈশিষ্ট্য আমি বলব যে ভাষাটা সহজ। অভিযানের আদি ইতিহাস, মেরুর প্রাণিজগৎ, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক jargon ব্যাখ্যা করেছেন সহজভাবে। সব যে বুঝেছি এমন দাবী করবনা। তবে অতি জ্ঞানের কচকচিতে যে বইটা ভারাক্রান্ত হয়নি তা বলতে পারি জোর গলায়। আমার অবশ্য সবচেয়ে ভালো লেগেছে পুরো অভিযান নিয়ে লেখিকার নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি। অভিযান নিয়ে উনার উচ্ছ্বাস অবশ্য ছিল, কিন্তু তা বাস্তবতা বিবর্জিত নয়। উনাদের কাজ যে নিতান্তই সাধারণ মানের ছিল তা বলেছেন অকপটে। অতি আগ্রহে, অতি প্রচারের বাড়াবাড়ি কাম্য নয় সেটাও বলেছেন।
Such non fictions are rare in Bengali language. Its a well written book enriched with scientific (geological insights) information and full of adventurous moments... blips of comedies, emotions and other stories.
প্রায় 35 বছর আগে, 1984 বা 1985 সালের স্বরস্বতী পুজোর আগেরদিন রাত্রে, একরাত্রে এক নিঃশ্বাসে গোটা বইটা পড়েছিলাম। ভ্রমণ কাহিনীর সাথে কুমেরু অভিযানের প্রামাণ্য ইতিহাস। এইরকম সুখপাঠ্য বই এর কোন তুলনা হয়না।