Jump to ratings and reviews
Rate this book

ঘোড়ামাসুদ

Rate this book
রূপনগরের লোকজন ঘোড়ামাসুদকে নিয়ে গল্পগুজব করে। তাদের গল্পগুলো জটপাকানো; তারা আগের ঘটনা পরে আর পরের ঘটনা আগে বলে, বলতে বলতে প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়; তারা ঘোড়ামাসুদের কথা বলতে বলতে রহিম বিহারির মৃত্যুর ঘটনায় ঘোড়ামাসুদের ভূমিকা স্মরণ করে; অথবা শুরু করে কমরেড জব্বার আলি মিয়ার গল্প; যিনি কমিউনিস্ট হয়েও শেখ মুজিবকে ভালোবাসতেন মণি সিংয়ের চেয়ে বেশি; যিনি রেডিওতে মেজর ডালিমের কণ্ঠে শেখ সাহেবের হত্যার ঘোষণা শুনে আর্তনাদ করে উঠেছিলেন, ‘সব্বোনাশ হয়া গেল রে!’ অথবা হঠাৎ তাদের মনে পড়ে, মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান যুদ্ধের পর ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছিল, তার পুরোনো বন্ধুরা তার কাছে তদবিরের জন্য গিয়ে বিরানি খাওয়াতে চাইলে সে বলত, ‘হাবিব বিরানি খায় না রে, ট্যাকা খায়, ট্যাকা!’ অথবা ঘোড়ামাসুদের শহীদ জিয়ার সৈনিক থেকে মুজিবসেনায় এবং মুজিবসেনা থেকে ফের শহীদ জিয়ার সৈনিকে রূপান্তরের গল্প বলতে বলতে তারা আইয়ুব খানকে স্মরণ করে বলে যে পাকিস্তান আমলের দিনগুলি এখনকার চেয়ে ভালো ছিল; অথবা ঘোড়ামাসুদের নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডের কথা বলতে গিয়ে তারা বলে যে ঘোড়ামাসুদ অমুক লোককে জবাই করে জেলা স্কুল মাঠের টিউবঅয়েলে হাতমুখ ধুয়ে পকেট থেকে সিগারেট বের করে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ধূমপান করেছিল, অমুক ছেলের চার হাত-পা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুঁড়া করেছিল; অথবা ঘোড়ামাসুদ এক সাংবাদিককে বলেছিল ‘আপনাক্‌ জবো করে আপনার মাথাডা পাঠায়ে দিব আপনার আম্মার কাছে, আর ধড়টা ফালায়ে র‍্যাখে আসব স্বরাষ্টমন্ত্রীর বাড়ির গেটের সামনে।'

88 pages, Hardcover

First published February 1, 2005

2 people are currently reading
86 people want to read

About the author

Mashiul Alam

40 books25 followers
Mashiul Alam was born in northern Bangladesh in 1966. He graduated in journalism from the Peoples’ Friendship University of Russia in Moscow in 1993. He works at Prothom Alo, the leading Bengali daily in Bangladesh. He is the author of a dozen books including Second Night with Tanushree (a novel), Ghora Masud (a novella), Mangsher Karbar (The Meat Market, short stories), and Pakistan (short stories).

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
15 (22%)
4 stars
38 (56%)
3 stars
13 (19%)
2 stars
0 (0%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 24 of 24 reviews
Profile Image for Zabir Rafy.
312 reviews10 followers
February 1, 2025
ঘোড়া মাসুদের একটা ঘোড়া আছে। ঘোড়ার পিঠে চড়ে সে যখন রূপনগরের রাস্তা দিয়ে যায়, তখন এলাকার মানুষজন আস্তে করে বলে "ঘোড়া পাদে।"

ঘোড়া মাসুদের ঘোড়াটি একটি ইয়ামাহা বাইক। বাইকের সাইলেন্সার দিয়ে যখন ইটের ভাটার চিমনির মতো গলগল করে ধোয়া বের হয়, তখব রূপনগরের রাস্তায় জটলাপাকানো মানুষজন বলে "ঘোড়া পাদে।"

পিতা এবং মাতা উভয় বংশের দিক থেকে মাসুদ ঘোড়ায় চড়ার উত্তরাধিকার। তাহার নানা এবং দাদা ঘোড়া ব্যবহার করতেন বলেই জানে সবাই। বাল্যকালে মাসুদ জোর করে একটা ঘোড়া কিনে নেয়৷ আধমরা ঘোড়া। ঘোড়ার মালিক ঘোড়ার পিঠে চড়ে আইসক্রিম বেচতেন! সেই ঘোড়া দেখে পিচ্চি মাসুদ জেদ করে ঘোড়া কেনার। আইসক্রিমওয়ালার থেকে কেনা শীর্ণকায় ঘোড়া দিন কতক বাদেই পটল তোলে।

ঘোড়া মাসুদের নামটা সম্ভবত এখান থেকেই এসেছে৷ আবার কেউ কেউ বলে মাসুদ যখন তার ইয়ামাহা বাইক ছোটায় তখন তাকে আরবীয় ঘোড়ায় চড়া যোদ্ধা মনে হয়। তারা ঠিক নিশ্চিত না, কিন্তু ঘোড়া মাসুদের "বেবাক কথা" নিয়ে রূপনগরে তারা জটলা পাকায়।

ঠিক যেমন গুজব নিয়ে একেকজন একেক রকম কথা বলছে বর্তমান সময়ে, সোর্স চাইলে বলে "চালাইদেন", এইসব ঘটনা মশিউল আলম লিখেছেন দু হাজার পাঁচ সালে।

ঘোড়া মাসুদের স্যাটায়ারধর্মী লেখাটায় এই শতকের প্রথম দশকের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার মানচিত্র বেশ বোঝা যায়। নভেলাটা পড়তে পড়তে বেশ বুঝতে পারলাম গত বিশ বছরে রাজনৈতিক অবস্থার একটুও পরিবর্তন হয়নি।

নাহ। স্রেফ সরকারি দলের মস্তানের দাপটের কথা বলছি না। সরকারি দলের ক্যাডারের প্রতি পুলিশের সিম্প্যাথির কথাও বলছি না। ঘোড়া মাসুদের মতো হাজার হাজার গুণ্ডা কী করে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় রাতারাতি বড়লোক হয় সেটাও বলছি না। মশিউল আলম লিখলেন "এই সোনার বাংলায় সরকারের চেয়ে বড় মস্তান তো আর হয় না।"

ঘোড়া মাসুদকে নিয়ে রূপনগরের লোকজনের গল্পগুজবের জটলা পাকানো যেন আজকের দিনের ফেসবুকের "লাইলাতুল গুজব।"

ঘোড়া মাসুদের মা আরেক বেডার লগে পালায় যায়। কী করে পালায়, কেন পালায়, এসব নিয়ে একেকজনের একেক মন্তব্য শোনা যায়। পুলিশের এসআই ঘোড়া মাসুদকে কী করে মামলা হামলার হাত থেকে বাঁচায় সেসব নিয়েও বিভিন্নজনের বিভিন্ন মত। মশিউল আলম লিখলেন "প্রত্যেকটা মানুষ নিজের মতো করে কল্পনা করে নেয় ঘটনা।" রূপনগরের আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়ায় ঘোড়া মাসুদের গল্পগুজব৷ ঠিক এখনকার মতো, মানুষ যেভাবে রিউমার ছড়াচ্ছে ফেসবুকে।

রূপনগরের শ্রেষ্ঠ মস্তান ঘোড়া মাসুদের বায়োগ্রাফির সমান্তরালে মশিউল আলম লিখলেন স্বাধীনতা যুদ্ধ, হিন্দু মুসলমান, মুজিব জিয়াকে নিয়ে। লিখলেন রাজনৈতিক অবস্থা। র‍্যাবের ক্রসফায়ার কিংবা চোরাচালান।

সমসাময়িক রাজনীতি ও কিছুটা অতীতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা লিখেছেন মশিউল আলম৷ যেন বলতে চাইলেন, "আমি যখন লিখেছি, তার আগের রাজনৈতিক অবস্থা, এবং পরের রাজনৈতিক অবস্থার কোনো বদল হয়নি।"

রহস্যময় এক বৃদ্ধ যখন ঘোড়ামাসুদের বাপের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে বলে "খবর আছে। খবর আছে।" আর কণ্ঠ যখন বাতাসে ভেসে বেড়ায় অনেকক্ষণ; এই জায়গায় কিছুটা শহীদুল জহিরীয় লিখনশৈলীর স্বাদ পাওয়া যায়। কিছুটা দীর্ঘ বাক্যের লেখনী। পড়ে আরাম পাওয়া যায়। উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক কিছু বাক্যের সাথে সূক্ষ্ম বিদ্রুপ; বেশ লাগে পড়তে।

র‍্যাবের ক্রসফায়ারে ঘোড়ামজিদ নামে একজন মস্তান মরেছে বলে পত্রিকায় আসে। রূপনগরেত মানুষ বিশ্বাস করে ঘোড়ামাসুদ মরেনি। আবার কেউ বিশ্বাস করে ঘোড়ামাসুদ মরেছে।

ঠিক এই সময়ে ঘোড়া মাসুদ টেলিফোন করে তার মাকে।

ঘোড়ামাসুদের বেচে থাকার খবর শুনে মশিউল আলম যখন লিখলেন, রূপনগরের মানুষ বলাবলি করছে, "ঘোড়ামাসুদের ম র ণ নাই।" তখন আমরা বুঝতে পারি সরকারি দলের মস্তানি এই সোনার বাংলা থেকে উৎখাত হবে না।

রেটিং ৪/৫

জাবির রাফি
Profile Image for Kripasindhu  Joy.
557 reviews
April 19, 2025
দুর্দান্ত!

বাংলাদেশের এক কাল্পনিক জেলা রূপনগর। সেখানের এক কলেজ প্রিন্সিপালের ছেলে, মাসুদের মাস্তানে পরিণত হওয়া এবং তার মাস্তানির ইতিহাস হচ্ছে এই উপন্যাস।

যদিও সাধারণ দৃষ্টিতে এই উপন্যাসে মশিউল আলম ঘোড়ামাসুদ ও রূপনগরকে নিয়ে লিখেছেন, কিন্তু, মনোযোগ দিলে আমরা দেখতে পারি যে, এই উপন্যাস মূলত বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক জীবনের কথা আমাদের কাছে তুলে ধরে।
Profile Image for Amit Das.
179 reviews118 followers
September 3, 2020
বইটি বর্তমানে আউট অব প্রিন্ট। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে একটা বুকশপে সন্ধান মেলে। এক কপিই অবশিষ্ট ছিলো। ভাগ্যিস ছিলো! নইলে ম্যাগনাম ওপাস হিসেবে বিবেচিত মশিউল আলমের এই উপন্যাসটি কবে পড়ার সৌভাগ্য হতো, বলা যাচ্ছে না।
রূপনগরের লোকজনের জটপাকানো গল্পগুজবের বিবরণের মাধ্যমেই তুলে ধরা হয়েছে সন্ত্রাসী ঘোড়ামাসুদের বৃত্তান্ত। মশিউল আলমের লেখনী চমৎকার, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এযাবৎ লেখকের যতগুলো বই পড়লাম, তন্মধ্যে 'ঘোড়ামাসুদ'কে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সেরা রচনা বলে মনে হয়নি।
Profile Image for Ratika Khandoker.
311 reviews34 followers
February 25, 2025
বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে।আজ থেকে ২০ বছর আগে প্রকাশ পেলেও বইখানা ভীষণ প্রাসঙ্গিক।আগামী ২০ বছর পরেও প্রাসঙ্গিক থাকবে।
কারন বাংলাদেশের রাজনীতির ছবিটা কিন্তু বরাবর-ই এক থাকে,ডিরেক্টর,এক্টর বদল হলেও স্ক্রিপ্টের হয় না কোনো পরিবর্তন।অডিয়েন্স তথা আমরা সাধারণ জনতা রাজনীতির সেই এক-ই সিনেমা হতাশ হয়ে দেখতে থাকি,ক্ষমতাসীন দল,বিরোধী দল,সরকার,আমলা-মন্ত্রী,নেতা-মস্তানদের যাঁতাকলে পিষ্ট হতেই থাকি।
গল্পে রূপনগরের জনবাসীরা মূলত এই আমরা-ই।
আমাদের মধ্যেকার-ই কোনো এক মাসুদ এলাকার মস্তান থেকে নেতা ঘোড়ামাসুদ হয়ে উঠে।ঘোড়ামাসুদের নেতা হয়ে উঠার গল্পটা রূপনগরবাসী বইয়ে খুব একটা গুছিয়ে বলতে পারেনা।ঘটনার ক্রম উলোট-পালোট করে ফেলে,অতিরঞ্জিত করে জট পাকিয়ে ফেলে।
তবুও তারা ঘোড়ামাসুদের গল্প বলে,সেই গল্পে তারা নিজঅঞ্চলের ভাষায় মাসুদকে কখনো অভিশাপ দেয়,কখনো তার মৃত্যু কামনা করে,কখনো আবার মাসুদ তাদের একান্ত আপন "হামগো মাসুদ" হয়ে যায়,কখনো তারা নতুন আগত সরকারকে সাধুবাদ জানায়,আবার পরক্ষণেই জানায়-তারা আসলে আগের সরকারের আমলেই ভালো ছিলো।
এই যে এতো আলোচনা,পর্যালোচনা খিল্লি উড়ানো-সব-ই করে রূপনগরবাসী,শুধু পারেনা প্রতিবাদ করতে।
দিনশেষে তাদের যতকথা সব জটপাকানো গল্পগুজব-ই মনে হয়।
দারুণ লাগলো বইটি!

পুনশ্চ: বইয়ের লেখক কে তা না জেনে পড়লে ভাবতাম শহীদুল জহিরের লেখা।
Profile Image for Salman Sakib Jishan.
274 reviews161 followers
September 13, 2024
'র‍্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে শীর্ষসন্ত্রাসী ঘোড়ামজিদ নিহত'

সংবাদপত্রে এমন ঘোরতর শিরোনাম দেখে রূপনগরের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পরে। গুন্ডা, রংবাজ, মাস্তান থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বনে যাওয়া 'ঘোড়ামাসুদ' কি তবে সত্যি সত্যি মারা পড়লো? নাকি পত্রিকাওয়ালারা ভুল করেনি, ঘোড়ামজিদ নামে অন্য সন্ত্রাসীর কথা বললো? রূপনগরের বাসিন্দাদের গল্পগুজবে জট পাকিয়ে যায়। তারা পরের ঘটনা আগে, আগের ঘটনা পরে বলে একটা গুবলেট পাকিয়ে স্মৃতিচারণ করে।
তাদের মনে পড়ে স্বল্পভাষী ঘোড়ামাসুদ ছিল ধলা-চিকনা-লম্বা পোলা, আজিব একখান চিজ। তাগড়া ঘোড়া ইয়ামাহা ১২৫ দেখলেই রাস্তা ফালায় ছুট দিস! তাকে নিয়ে রূপনগরবাসীর মুখে ভেসে বেড়ায় নানান রকম গল্পগুজব। তাদের মুখে রাজনীতি, দেশের নানান সমস্যার গল্পে কখনো মনে হয় ঘোড়ামাসুদের কারণেই সব ঘটেছে, কখনো মনেহয় দেশটাই পচে গেছে, ঘোড়ামাসুদ সামান্য এক কুশীলব মাত্র। তাদের মুখে ১৬জন খুন আর ৪০জনকে পঙ্গু করার ঘটনাগুলো ভেসে আসে খুব অনাদরে। তারা শুধু বলে যে ঘোড়ামাসুদ অমুক লোককে জবাই করে জেলা স্কুল মাঠের টিউবওয়েলে হাতমুখ ধুয়ে পকেট থেকে সিগারেট বের ধূমপান করছিল, অমুক ছেলের চার হাত-পা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুড়া করেছিল বা কখন কাকে হুমকি দিয়েছিল। কখনো তাদের কথায় মনেহয় ঘোড়ামাসুদের তান্ডবে তারা বীতশ্রদ্ধ, কখনোবা মনে হয় তারা একরকম গর্বিত, এই মাস্তান তাদের এলাকার ছেলে বলে। আবার ক্রসফায়ারে ঘোড়ামাসুদের মৃত্যুসংক্রান্ত আলোচনায় সুশীল সমাজের মানবাধিকার নিয়ে বলতে দেখা যায়, 'শালারা তো বিদ্যাশের ট্যাকা খায়া মানবাধিকার মানবাধিকার বলে চিল্লাচিল্লি করে, সন্ত্রাসীরা তো মানুষ লয়, তারগেরে আবার মানবাধিকার কী?'

'ঘোড়ামাসুদকে নিয়ে রূপনগরের লোকজনের জটপাকানো গল্পগুজবের বিবরণ' উপন্যাসটি মূলতঃ লেখক মশিউল আলমের লেখা একটি পলিটিক্যাল স্যাটায়ার বিশেষ। পূর্বে বইটি শুধু 'ঘোড়ামাসুদ' নামে ছিল, এবং অনেকদিন ছিল আউট অব প্রিন্ট। পাঠের পর, ঘটনাদৃষ্টে এই দীর্ঘ নামটিই বেশি প্রাসঙ্গিক লাগে। বইটি লেখার ঢং অনেকটা শহীদুল জহিরের প্রথম উপন্যাস 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা'-র মত হলেও এর মূল বিষয় স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এবং পরিস্থিতির লম্বা রূপ তুলে ধরে। দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী ঘোড়ামাসুদরা জিয়ার সৈনিক থেকে মুজিব সৈনিক হয়ে আবার জিয়ার সৈনিক হিসেবে শুধু দল পরিবর্তন করতে থাকে। তাদের অবস্থানগত কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনা। মুজিব জিয়া এরশাদ যে-ই ক্ষমতায় থাকুক, তখনো মানুষ ইলিশ খেতে পারতনা, তখনো মানুষ ঘুষ দিয়ে চলতো, তখনো পরীক্ষায় নকলের মোচ্ছব হত, তখনো টিজিং-ধর্ষণ-হত্যা চলতো, এখনো চলে। মানুষ বেকায়দায় পড়ে বলে- আয়ুবের শাসনই ভালো ছিল। বা যুদ্ধ বিষয়টার কথায় মনে হয় ওটা শুধু শুধু কিছু! মুক্তিযোদ্ধাদের নানান দূর্নীতির কথা বইতে প্রসঙ্গক্রমে উঠে আসে। সন্ত্রাসীরা মুক্তিযুদ্ধের পরও সন্ত্রাসী থাকে বা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের পর সন্ত্রাসী বনে যায়, বিহারিরা অত্যাচারিত হয়, এ ধরণের বিভিন্ন প্রব্লেমেটিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বইতে। যেকারণে অনেক ক্ষেত্রেই বিতর্কিত হতে দেখা যায় বইটিকে। তবে ইতিহাসের নানান বর্ণণা থেকে কখনো কখনো সেসব ঘটনা সত্য বলেই প্রতীয়মান হয়। কখনো মনে হয় শুধু স্যাটায়ারটি একপেশে হয়ে শুধুমাত্র এইসব প্রশ্নবিদ্ধ করতেই রচিত হয়েছে।

বইটি আমার চমৎকার লেগেছে স্যাটায়ার হিসেবে। লেখকের পূর্বের অন্যান্য বই যা আমার পড়া হয়েছে এখানে লেখককে তেমন লাগেনি। একটু ব্যতিক্রম মনে হয়েছে নানা কারণে।
আমাদের সমাজের মানুষের চিন্তাধারার হাস্যকর বিবর্তন এখানে যেভাবে সুন্দরভাবে চিত্রিত হয়েছে, সেকারণে স্যাটায়ার হিসেবে বইটি ফুল মার্কস পাবে।
Profile Image for Akash.
446 reviews151 followers
March 2, 2023
রূপনগরের ঘোড়ামাসুদের গল্পটা সমাজের অত্যাচারীদের দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার গল্প। যার শিকার হয় আমজনতা।

অত্যাচারীদের অত্যাচার চিরকাল রয়ে যায়; শুধু বদল হয় ক্ষমতা; রূপান্তর ঘটে রূপের। রটে গুজব, ঘটে ঘটনা, মরে মানুষ। এভাবেই চলবে সমাজ। চলছে ঘোড়ামাসুদ। মুক্তি নেই আমাদের।

ঘোড়ামাসুদ এক সাংবাদিককে বলেছিল,

'আপনাক জবো করে আপনার মাথাডা পাঠায়ে দিব আপনার আম্মার কাছে, আর ধড়টা ফালায়ে র‍্যাখে আসব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির গেটের সামনে।'

( ১ মার্চ, ২০২৩)
Profile Image for Shahed Zaman.
Author 28 books255 followers
February 28, 2018
মশিউল আলমের লেখা একটু দীর্ঘ বাক্যে গড়া। প্রথম প্রথম দাঁত বসাতে কষ্ট হয়, তারপর লেখায় ঢুকে গেলে আপনা থেকেই টেনে নিয়ে যায় শেষ পর্যন্ত। উত্তরবঙ্গের ছোট্ট শহর রূপনগরের মাস্তান ঘোড়ামাসুদ সম্পর্কে সেই এলাকার বাসিন্দাদের জটপাকানো বিবরণে উঠে এসেছে রাজনীতি, মনস্তত্বের জটিলতা এবং মানব চরিত্রের উত্থান পতন। ভাল লেগেছে।
Profile Image for Nabila Tabassum Chowdhury.
379 reviews279 followers
March 16, 2018
যে সাহিত্যে লেখক তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা প্রদর্শন করেন একজন 'ঘুষখোর' যুদ্ধফেরত মুক্তিযোদ্ধা যে কিনা ঘুষ খেয়ে একজন রাজাকারকে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যাবার সুযোগ দিয়েছিল এবং দুইজন 'গুণ্ডা' শহীদ মুক্তিযোদ্ধা যারা কিনা শহীদ না হলে ফিরে এসে গুণ্ডাই হতো - ছোট বড় মিলিয়ে মুক্তিযোদ্ধার উল্লেখ এই তিন জায়গাতেই - এমন চরিত্রের উপস্থাপন সহ আরও নানাবিধভাবে মিউমিউ করে মুক্তিযুদ্ধের নেতিবাচক উপস্থাপনার মাধ্যমে, সেই যৌনাঙ্গের কেশ মার্কা সাহিত্যের উপর আমি হড়হড় করে বমি করে দিই।
Profile Image for Md Fazlul Bari Fahim.
20 reviews12 followers
April 4, 2018
আইস-ক্রিম ওয়ালার ঘোড়া দেখে পিচ্চি মাসুদ ভীষণ বায়না ধরে বসে নিজের একখানা ঘোড়ার জন্য। বহু খোঁজাখুজি করে ব্যর্থ হয়ে শেষে বিহারী আইস-ক্রিম ওয়ালার ঘোড়াটাই চড়া দামের ঢেঁকি গিলে কিনে দেয় তার বাপ। মাসুদের হাড় জিরজিরে ঘোড়াটা টেকে নি বেশীদিন। মরে গিয়ে এঁটে যায় মাসুদের নামে। মাসুদ হয় ঘোড়ামাসুদ।
খুঁজেপেতে দেখা যাবে নামের পেছনে এইরকম ইতিবৃত্ত আছে ড্যাগার মফিজ, মুরগী মিলন, বোমা মিজান প্রায় সবারই। এদের নামকরণের ইতিহাস মাসুদের নামকরণের ইতিহাসের সাথে মেলে। শুধু তাই নয়, এদের কাজ-কারবার আর মাসুদের কাজ কারবার একই।
তাই রূপনগরের মানুষের মুখে ঘোড়ামাসুদের সম্পর্কে গল্প শুনে অবাক হবেন না যেন! এইখানে রূপনগরের বর্ণনা দিয়ে নিতে হয় খানিক। রংপুর থেকে অদূরের এক শহর রূপনগর। শহর বটে! মফস্বলের গন্ধ তার গা থেকে মোছে নি এখনো। এরকম আর পাঁচ-দশটা শহরের অধিবাসীদের মতই রূপনগরের মানুষ একাধারে কল্পনাপ্রবণ, গল্পপ্রিয় ও ভীতু। তাদের কাছে যে ঘোড়ামাসুদের মত প্রথম শ্রেণীর মাস্তান যে গল্পের মূল বিষয়বস্তু থাকবে এতে আর আশ্চর্য কী!

যদিও ম্যাপ, গুগল ঘেঁটে রংপুরের অদূরে কোনো রূপনগর খুঁজে পাবেন না। রূপনগর খুঁজতে হলে তাকাতে হবে আমাদের আশে পাশে। খুঁজতে হবে আমাদের শহরগুলোকে।
যেমন পত্রপত্রিকা ঘেঁটে কোনো ঘোড়ামাসুদের হদিস পাবেন না। ঘোড়ামাসুদদের উত্থান-পতন আমাদের চোখের সামনে। বিরোধী দলের নেতাদের সেনাপতি ঘোড়ামাসুদরা সরকারী দলে যোগ দেয় আমাদের চোখের সামনেই। আমরা কেবল দেখি। আর বনে যাই এক একটি রূপনগরের বাসিন্দা। মুখে মন্ত্রের মতো তাদের নিয়ে বলে যাই জট পাঁকানো সব গল্প। এরই মাঝে ঘোড়ামাসুদদের উত্থান-পতন হয়, নতুন জনের আগমন ঘটে প্রকাশ্যে।

.

সৈয়দ শামসুল হকের পর কোনো বাংলাদেশী লেখকের একটা তৈরীকৃত নিজস্ব এলাকা পেলাম। হক সাহেবের 'জলেশ্বরী' আর মশিউল আলমের 'রূপনগর'। আরো থাকতে পারে, পড়া হয় নি। লেখনী দিয়ে তৈরী এইসব অলীক শহর, জনপদ সৃষ্টি করার সুবিধা হচ্ছে, একটু বেশী স্বাধীনতা নিয়ে লেখা যায়। লেখক তারই ষোলো আনা সুবিধা নিয়ে প্রায় নিপুণ ভাবে রূপনগরের পটভূমিতে রাজনৈতিক ভাঙাগড়াভিত্তিক লেখা লিখেছেন। 'ঘোড়ামাসুদ' উপন্যাসে তিনি সুন্দর করে তুলে ধরেছেন আমাদের গণতান্ত্রিক দলগুলোর রাজনৈতিক মাসলম্যান দের আখ্যান। 'সিল্করুট' এর ঈদসংখ্যায় লেখকের 'তোমরা যখন মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলো' লেখাটিতে রূপনগরের উপস্থিতি পেয়েছিলাম। লেখার ধরণ ভালো লেগেছিলো। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে মেলায় কিনলাম লেখকের 'জুবোফস্কি বুলভার' ও 'ঘোড়ামাসুদ'। যদিও 'দ্বিতীয় খুনের কাহিনী' পড়ে হতাশ হয়েছি। তবুও কিনলাম। দুটো বই ই খুব ভালো লেগেছে।

বই: ঘোড়ামাসুদ
লেখক: মশিউল আলম
প্রকাশনী: মাওলা ব্রাদার্স
Profile Image for Nazrul Islam.
Author 8 books227 followers
July 9, 2018
কাহিনী শুরু হয় রুপনগরের সন্ত্রাসী ঘোড়ামাসুদের র‍্যাবের হাতে মৃত্যুর ঘটনা গুজন হিসেবে চাউর হবার মধ্য দিয়ে। তারই তারই জের ধরে ঘোড়ামাসুদের জীবন বৃত্তান্ত আর কুকর্মের কথার বয়ান হতে থাকে।সেই সাথে প্রকাশ হতে থাকে রূপনগরের ইতিহাস আর সাথে সাথে বাংলাদেশের রাজনীতির খোলনচালও।কিভাবে সাধারণ পাতি মাস্তান রাজনীতির আশ্রয় প্রশয় পেয়ে ফুলে ফেঁপে ক্যাডার হয়ে উঠে। বস্তুত বইটা আসলে ঘোড়ামাসুদের জীবনির নামে বাংলাদেশের রাজনীতির দলিল(অল্প পরিসরে) ।
যদিও মূল অংশ সত্য হলেও অনেক কিছু লেখক নিজের আদর্শ মোতাবেক লিখেছেন।
তবে সর্বোপরি বেশ ভালো।
আর ভালো লাগার আরেকটা কারণ রূপনগরের ঘোড়ামাসুদের মত অসংখ্য চরিত্র ঠিক আপনার আমার আশপাশেই আছে। খুব বেশি পরিমানেই আছে।
Profile Image for Edward Rony.
91 reviews9 followers
March 20, 2025
ঘোড়ামাসুদ রূপনগরের পাতি মাস্তান।

রূপনগরবাসী গল্প করে ঘোড়ামাসুদকে নিয়ে। এই গল্প জট পাকানো। গল্প করতে করতে তারা এক প্রসঙ্গ থেকে চলে যায় আরেক প্রসঙ্গে, আবার ফিরে আসে আগের প্রসঙ্গে। এইসব গল্প জটপাকানো, বিক্ষিপ্ত তবে রাজনীতি বিবর্জিত না।

তারা গল্প করে ঘোড়ামাসুদের ‘ঘোড়ামাসুদ’ হয়ে ওঠা নিয়ে। গল্প করে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের অস্থিরতা নিয়ে, গল্প করে মুজিব সেনা থেকে জিয়ার সৈনিক হয়ে ওঠা নিয়ে। গল্প করে রূপনগরেরে অতীত , বর্তমান আর আসন্ন ভবিষ্যৎ নিয়ে। তারা গুজব রটায় রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় ঘোড়া মাসুদের কার্যকলাপ নিয়ে! তাদের গল্পে জট পাকিয়ে ওঠে ঘোড়া মাসুদের বাপ মায়ের কেচ্ছা-কাহিনী, আবার কখনো তা চলে যায় পূর্ব পুরুষের দিকে।

রূপনগরবাসীর জট পাকানো গল্পের বিবরণে উঠে আসে কমিউনিস্ট জব্বার আলি, যিনি মণি সিংহের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন শেখ মুজিবকে। তারা আবার গল্প করে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে নিয়ে কারণ তিনি ফুটানি বাদ দিয়ে গেঞ্জি-কেড্‌স পরে তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোদাল দিয়ে নিজ হাতে মাটি কেটেছিলেন। তারা এরশাদকেও ভালোবেসেছিল, কারণ তিনি রূপনগরের প্রশাসকের জিপ কেড়ে তাকে রিক্সায় যাতায়াতে বাধ্য করেছিল। আবার এই রূপনগরবাসীই তার উপর বিরক্ত হয়ে তাকে ‘হাটকুরা’ আর ‘জাউরা’ বলে গালি দেয়।
এই রূপনগরের পাতি মাস্তান এক সময় হয়ে উঠে মন্ত্রীদের বরপুত্র, সেনাবাহিনীর হাতে ‘তুলাধুনা’ হওয়ার পর মন্ত্রীরা তাদের সোনার ছেলেকে বিদেশে পাঠায়। এই নিয়ে গল্প ফাঁদে রূপনগরের লোকেরা।
আবার একদিন সকালে রূপনগরবাসী অধির আগ্রহে বসে থাকে ঘোড়ামাসুদের ক্রসফায়ার হওয়ার সংবাদ শোনার জন্য, তারা গল্প করে জট পাকায় আর নিজেদের ভেতর এই নিয়ে মারপিট করে।


ঘোড়া মাসুদকে নিয়ে রূপনগরের লোকজনের জটপাকানো গল্পগুজবের বিবরণ || মশিউল আলম
Profile Image for Humaira Tabassum.
20 reviews5 followers
July 23, 2025
"ভালো হয়ে যাও মাসুদ, ভালো হয়ে যাও।"

আমাদের পরিচিত সেই মাসুদ জীবনেও ভালো হয়েছিলো কি হয়নি তা আমরা জানিনা, তবে রূপনগরের "ঘোড়ামাসুদ" কোনোদিন ভালো হয়েছিলো কি হয়নি, তা বইটি পড়লেই আপনি জানতে পারবেন।

সিরিয়াস আলোচনায় যাবার আগেই বলি,বইটি আমার পড়া অন্যতম সেরা একটি পলিটিকাল স্যাটায়ার।যেখানে ঘোড়ামাসুদ,তার মা লাইলি, তার আপন বাপ মাজেদ প্রিন্সিপাল এবং ইটা মোখলেসকে ঘিরে রূপনগরের চায়ের দোকানের, চা-বিস্কুটের সাথের বিশাল কেচ্ছাই হলো মূল উপন্যাসের বিষয়বস্তু।উপন্যাসটিতে আপনি আমাদের ঘোড়ামাসুদের নানাবিধ ঐতিহাসিক কর্মগুলোর বিবরণ পাবেন এবং দারুণ মজা পাবেন পড়তে পড়তে।মনে হবে কোনো এক খুংখার(আমার ছাত্রের থেকে এই শব্দ শিখেছিলাম) বড় ভাইয়ের নানাবিধ বীরত্ব গাঁথা শুনছেন লোকমুখে।

এবারে সিরিয়াস কথায় আসা যাক। বাংলাদেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক দলগুলোর পালাক্রম আপনি মোটামুটি মুখস্ত বলে দিতে পারবেন। কেননা ১৯৭১ থেকে ২০২৫ খুবই ক্ষুদ্র একটা সময়। ক্ষুদ্র বলার কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর রাজনৈতিক ইতিহাস আরো বিশদ সময়কালকে ঘিরে আবর্তিত হয়৷বাংলাদেশের এই  রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ছোট সময়কালে বহু অদলবদল কিন্তু আমরা দেখেছি।সেখানে কিছু কমন ক্যারেক্টারও আমরা সবাই দেখেছি।কমন ক্যারেক্টারের একজনই হলো উপন্যাসের নায়ক, তার বাপের ভাষ্যমতে ভিলেন,"মাসুদ"। বইটি এইজন্যই অনেক বেশি রিলেটেবল এবং আকর্ষণীয়।

ক্ষমতা নিয়েই যেহেতু বলছি, তখন আরেকটি বিষয়ে একটু আলোচনা করি।ক্ষমতা কি জিনিস সেটা নিয়ে সচরাচর অতো বেশি আমাদের ভাবা হয় না।তবে সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সহকারী সচিবের একটা লেখা পরছিলাম। সেখান থেকে জানলাম ক্ষমতা মূলত অন্যকে দিয়ে আপনি যা চাইছেন তা করিয়ে নেয়া। কূটনীতির ভাষায় এই কাজ করা যায়, "স্টিক" বা "লাঠি" দিয়ে অথবা "ক্যারট" বা "গাজর" দিয়ে। অর্থাৎ আপনি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বা টাকা পয়সার জোরে ক্ষমতায় বসে থাকতে পারেন। একে বলা হয় হার্ড পাওয়ার। আরেকটা হচ্ছে সফট পাওয়ার, সেটা প্রতিষ্টা করা যায় "মধু" দিয়ে বা "মিষ্টি কথা" দিয়ে।এই জায়গাটায় এবার বাংলাদেশের দিকে আসি। এখানে হার্ড পাওয়ারের সেই স্টিক হচ্ছে এলাকার বড় ভাইয়েরা। এদেরকে আবার "ক্যারট" আর "মধু" দুটোর মাধ্যমে চালায় ক্ষমতাধর লোকজন। ব্যাপারটা বুঝতে পারছেন তো তাহলে? দিনশেষে ভাইয়েরা ক্ষমতাসীন নয় বরং একটা টুল।আমাদের গল্পের ঘোড়ামাসুদ তেমনই এক টুল!  যার সকল কর্মই ঘটে দিনের চকচকে আলোতে। মানুষজন সেগুলো নিয়ে গল্প করতে বসলে তার ঘোড়ামাসুদ হয়ে ওঠা থেকে জট পাকিয়ে কোন দিক থেকে কোনদিকের আলোচনায় যায় তার কোনো হদিশ থাকে না।

১।বইটির মূল মজাই এখানে, এতো সুন্দর একটা ক্রমে লেখক এই জগাখিচুরি আলাপ সেরেছেন যে এক বারের জন্যও মনে হবে না আপনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা পড়ছেন। একদম আমাদের মা-খালাদের আড্ডার আসরে বসলে যেই মজাটা পান, বইটি ঠিক তেমন৷

আরো ডিটেইলসে যাই। রূপ নগরের মানুষ মোটাদাগে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগণকে রূপক আকারে ফুটিয়ে তোলে। প্রান্তিক বলে অবশ্য ভুল করলাম, আমরা সকলেই একদিক থেকে  রূপনগরের মানুষই। এখানে দিনে দুপুরে ঘোড়া মাসু��ের ঘটানো একটা 'তিল' মুখে মুখে হয়ে যায় 'তাল'।
আর তাই নিয়ে আলাপ চলতে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা, "পলিটিকস" এর এই আলোচনা করতে করতে আমরা এড়িয়ে যাই , মাছ কেনো হয়ে গেলো অধুনা বড়লোকের খাদ্য?রহিম বিহারী কেনো মরণকালে মাছ পেলো না? রেপ কেইসটা কেনো আর কোনো ভাত পেলো না?

অবশ্য এসব আলাপের চেয়ে "ঘোড়ামাসুদ আসিচ্ছে" বলে বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোই বরং সমীচিন। কেনোনা আমাদের মাসুদের বাবাও স্বীকার করে, তার ছেলে হচ্ছে সিনেমার "রাফ্যানটাফ" ভিলেন। পাড়ার না হতে পারা মাস্তানরা তাই বলে ওঠে
"আমাদের প্রব্লেমটা ছিলো বাপ-মায়ের সাপোর্ট আমরা পাইনি, এখন ঘোড়ামাসুদ যেটা পাচ্ছে।"
প্রত্যেকবার ক্ষমতার হাত বদলের পর রূপনগরের জব্বার মিয়া কেনো বলে ওঠে "সবুর করেন", "সবুর করেন" সেটা আবার আপনাকে নিজ দায়িত্বে বুঝে নিতে হবে।তাই সবুর না করে, বইটি পড়ে ফেলুন।

বেশি গভীরে "পলিটিকস" নিয়ে আলোচনা না করে আমি বরং আমার কাজটা করি,  উপন্যাসের কাঠামোকে এবারে একটু ভাঙার চেষ্টা করি।
বর্ণার ভঙ্গিতে এতোদিন উত্তম পুরুষ কিংবা তৃতীয় পুরুষের বর্ণনায় অনেক লেখা পড়েছি৷ তবে এখানে, সেই জায়গায় টুইস্ট টা হচ্ছে,লেখক অভিনব উপায়ে কোনো ধরণের জবানি এমনকি সরাসরি কথোপকথন না দেখিয়ে, লোকমুখে শোনা গল্প পুরোটা সময় আওড়ে যায়।এমন ধারায় আর কোনো লেখা বাংলা উপন্যাসে আছে কিনা আমার অন্তত জানা নেই।কাজেই এই জায়গায় বইটি অভিনব এবং অবশ্যপাঠ্য!

তার উপর, একটা জিনিস কম বেশি আমরা সবাই স্বীকার করি যে,ট্র‍্যাজেডির চাইতে কমেডি লেখা কঠিন! সেখানে যদি ব্যাপারটা হয় পিউর কমিডি যার পাতায় পাতায় আপনি "হো হো" করে হেসে উঠতে বাধ্য হবেন, আবার অনেক সময় "মুচকি মুচকি" হেসে ওঠার মতো স্যাটায়ারিকাল টার্ম গুলোও পাবেন তাহলে তো কথাই নেই! বিশ্বাস করেন এটাই সেই পিউর কমিডি!লেখকের শব্দচয়ন মারাত্মক।স্যাটারিকাল লেখায় এই শব্দের খেলাই আসল, এই জায়গায়ও বইটি একশ তে একশ।আর জগাখিচুরি আলাপেও যে একটা গল্প বলার সিকুয়েন্স লেখক বজায় রেখেছেন, সেটার আসলে আমি প্রশংসা করার ভাষা পাচ্ছি না। আরেকটি ভালোলাগার বিষয় হচ্ছে, "কোথাও কেউ নেই" উপন্যাসের বাকের ভাইয়ের মতো কিংবা হিন্দি সিনেমা "মুন্না ভাই এম বি বি এস" এর মুন্নার মতো, এই "ঘোড়ামাসুদ"-কে নায়কে পরিণত করা হয়নি।বেচারাকে আমাদের লেখকও একটি টুল হিসেবে ব্যবহার করে, বাংলাদেশের রাজনীতি এবং তার সাথে  জনগণের সম্পর্ক কষে একটা চড় মারার মতো আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। এর বেশি কিছু আর বলার নেই। আপাতত নিউজপেপারে  "ঘোড়ামজিদই","ঘোড়ামাসুদ" কিনা
তাই নিয়ে সংশয়ে থাকি গিয়ে কারণ,
মাসুদকে দেখলে জিজ্ঞেস করতে হবে,

"তুমি কি কোনোদিনও ভালো হবে না?"
Profile Image for Shadin Pranto.
1,484 reviews565 followers
December 3, 2018
মশিউল আলমের "ঘোড়ামাসুদ" আসলে উপন্যাসের ছলে বাংলাদেশের রাজনীতির বয়ান। তাতে শতভাগ সত্যতার দাবি করা বাতুলতা। কল্পনা এবং ঔপন্যাসিকের নিজের আদর্শিক পছন্দ-অপছন্দও গুরুত্ব পেয়েছে ভিন্নভাবে এবং যথেষ্ট লেখনীশৈলীর চাতুর্যতার সাথে। সমসাময়িক ঘটনার ফ্রেমে পুরো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে স্পর্শ করে যাওয়ার ক্ষমতা নির্দ্বিধায় লেখকের মেধার সাক্ষ্য বহন করে।


রূপনগর নামে উত্তরবঙ্গের এক ছোটখাটো জেলাশহরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ঘোড়ামাসুদ র‍্যাবের সাথে ক্রসফায়ারে মারা গেছে বলে গুজব রটে এলাকায়। কারণ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে ঘোড়ামজিদ নামে এক সন্ত্রাসী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। রূপনগরবাসী ভাবে পত্রিকায় তো হরহামেশাই ভুল ছাপে। এবারো নিশ্চয়ই নাম ভুল ছেপেছে - এখান থেকেই শুরু।

ঘটনার বর্ণনায় ম্যাজিশিয়ান শহীদুল জহিরের চমকে দেয়া উপন্যাস "সে রাতে পূর্ণিমা ছিল"র সাথে খুব মিল না বলে সত্যের খাতিরে বলা ভালো পুরো উপন্যাসটিই শহীদুল জহিরের লেখনীর ভঙিতে এসেছে।

রূপনগরের ত্রাস ঘোড়ামাসুদ মুজিবসেনা এবং জিয়ার সৈনিক। সরকারের ওপর নির্ভর করে তিনি কোন আর্মির কমান্ডার হবেন। একইসাথে ঘোড়ামাসুদের উত্থানপর্ব পড়তে গিয়ে পাঠক অনুভব করবেন "ও আল্লা এমন পোলাপাইন তো আমাগো এলাকারও আছে!"। কীভাবে একটি সাধারণ ছেলে এলাকাট ত্রাস হয়ে ওঠে এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়া লাভের বিষয়টি খুবই বাস্তবসম্মত লেগেছে।

ঘোড়ামজিদের উত্থানপর্বের সাথেই সম্পৃক্ত রূপনগরের মানুষদের অতীত স্মৃতিচারণ। ঠিক এখানেই মশিউল হকের মূল জারিজুরি। তিনি জব্বার মিয়াদের মত চরিত্রদের সাহায্য বাংলাদেশের বামরাজনীতির দ্বিধাবিভক্তির অধ্যায়কে এনেছেন সামনে। যেখানে ভাসানী ন্যাপের চীনপন্থার কথা। মোজাফফর ন্যাপের কুঁড়েঘর মার্কার বিলীন হয়ে যাওয়া। সদাসৎ বলে পরিচিত কমিউনিস্ট নেতার, ন্যাপ রাশিয়াপন্থীদের সোভিয়েটে টাকার বিনিময়ে লোক পাঠানোর চিত্র তুলে এনেছেন মশিউল আলম। এখানে স্মরণযোগ্য, লেখক নিজেও সোভিয়েট ইউনিয়নে পড়াশোনা করছেন।

এক বিহারির কথা বলেছেন যে কীনা নিজে মুক্তিযোদ্ধা ছিল কিংবা সাহায্য করেছে। ষোড়শ বাহিনির কথা লিখেছেন।এখানেই জনাবের চাতুর্যতা।মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি লেখকের বিশেষ ক্ষোভ। তিনি তাঁদের এমন একটা ছবি ফোটাতে চেয়েছেন যেখানে তাঁরা বিহারি মেয়েদের ধর্ষণ, মুক্তিযুদ্ধের পর ডাকাতি ইত্যাদি অপর্কমের হোতা হিসেবে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। অথচ এটা পুরো সত্য নয়। আংশিক সত্য মিথ্যার নামান্তর মাত্র।

মুজিব শাসনে আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিপীড়নের কথা লিখতে গিয়ে অত্যন্ত নোংরাভাবে সাফাই গেয়েছেন মুজিবকে সপরিবারে হত্যার। একেও তিনি চাতুর্যতার সাথে হালাল করতে চেয়েছেন।

মুজিব হত্যাপরবর্তী মোশতাকের ঘটনা পাশ কাটিয়ে জিয়ার আমলো চলে গেলেন। খানিকটা ভিন্নরূপ দিতে চাইলেন। একইসাথে উত্থান ঘটালেন ঘোড়ামাসুদদের যারা মুজিবের আমলে মুজিবসেনা আর রাতারাতি উর্দি পালটে জিয়ার সৈনিকদের যারা এলাকায় সবসময় ক্ষমতাসীনদের সান্নিধ্য পেয়ে থাকে। যারা প্রশাসনকে নখের ডগায় রাখে। এমনই এক চরিত্র ঘোড়ামাসুদ। যে শেষে র‍্যাবের হাতে নিহত হয়েছে বলে গুজব রটে। ততদিনে মন্ত্রীদের ছত্রছায়ায় তার আশ্রয়কেন্দ্র হয় মিন্টোরোড।

তাহলে র‍্যাবের হাতেই কি প্রাণ গেল ঘোড়ামাসুদের? নাকী ঘোড়ামজিদ ভিন্নলোক?

মশিউল আলম দারুণ পড়াশোনা জানা লোক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের আনাচকানাচ নিয়ে বিস্তর অধ্যায়ন করেই লিখতে বসেছেন "ঘোড়ামাসুদ"। যে ঘোড়ামাসুদ বাংলাদেশের ক্ষমতার ইতিহাসের কলঙ্কিত প্রতীক। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কলঙ্ককে বিভিন্ন আঙ্গিকে এনেছেন লেখক। এমনই এক দলের চরিত্র বর্ণনে,

" এডা হলো সেই পাট্টি, যারা মনে কয়, হিন্দুরা এদেশে থাকলে আমরা তারগেরে ভোট পাই, আর চলে গেলে জমি পাই। "

ও, বলতে ভুলে গেছি উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক ভাষার প্রয়োগ বইটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে বহুগুণ। তবুও
মশিউল আলম নিজের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করতে সত্যের অপলাপ ঘটিয়েছেন।
Profile Image for Samiur Rashid Abir.
219 reviews42 followers
July 26, 2022
রূপনগরের জটপাকানো গল্পের নায়ক ঘোড়ামজিদ থুক্কু ঘোড়ামাসুদের কাহিনী। মশিউল আলম সমাজের সমস্যার বিষয়গুলো খুব সুন্দর করে তুলে ধরেন। এই বইয়েও তার ব্যতিক্রম হয় নি। অত্যাচারীরা কখনোই কোন একটা স্থান থেকে পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায় না। নতুন আরেকজনের উৎপত্তি হয়। যেন ধারাবাহিক এক প্রক���রিয়া। অন্তত রূপনগরের আলাভোলা সাধারণ মানুষের মাসুদ সম্পর্কে জটপাকানো গল্পে তাই যেন ফুটে উঠল। বেশ ভাল লাগার মতন একটা বই।
Profile Image for Ashik.
221 reviews42 followers
September 29, 2024
বিচিত্র এক চরিত্র ঘোড়ামাসুদ। কখনো ঘোড়ায় না চড়েও তালপাতার সেপাই, লিকলিকে শরীর নিয়ে মাসুদের শীর্ষ সন্ত্রাসী "ঘোড়ামাসুদ" হয়ে ওঠা এবং তাকে ঘিরে রূপনগরবাসীর জমজমাট মুখরোচক আলাপ নিয়ে চমৎকার এক কিসসা।
Profile Image for Akhi Asma.
232 reviews465 followers
August 14, 2025
"Another promise, another scene
Another packaged lie to keep us trapped in greed
And all the green belts wrapped around our minds
And endless red tape to keep the truth confined"


Ghoramasud, a horrifyingly proud product of Rupnagar itself. I don’t even know where to start with Ghoramasud because talking about him in Rupnagar is like trying to untangle a ball of yarn that keeps knotting itself. Nobody tells the story straight. One minute something happened “before,” the next minute it’s “after,” and somehow everything drifts off into something else.

Reading Rupnagar’s Twisted Gossip About Ghoramasud, or whatever its ridiculous full title is now, makes it obvious that this is not just satire. It is the last few decades of the country rolled into one. Governments rise. Governments fall. Ordinary criminals turn into political muscle overnight. Even freedom fighters sometimes become part of the problem. Nothing changes. Politics, corruption, small-town violence, absurd loyalties, rinse and repeat. And somehow all of it is funny in that dry, wry way that makes the familiarity sting. The voice in the book is everything. Long-winded, chaotic, full of regional quirks and sly little jabs, it feels like sitting in Rupnagar and listening to people gossip about Masud. Some moments are laughable. Some moments are chilling. Satire is not really the right word. This is reality wearing a ridiculous hat. People talk. People die. People survive. Governments change. But the gossip about Masud, his bike, his “horse (Yamaha 125),” his crimes, and his absurd heroism keeps rolling. Extortion, theft, murder, kidnapping, smuggling. In city or village, the muscle of someone like Masud dominates. Politicians come. Politicians go. Parties switch. Overnight, stones vanish from a tourist spot only to reappear via a High Court ruling. The country itself remains exactly the same.

The style reminds me of Shahidul Zahir’s Jibon o Rajnaitik Bastobota. It is sprawling, layered, literary, yet completely rooted in political reality. Ghoramasuds switch allegiances like flipping channels: Zia’s soldier, then Mujib’s, then back again. Loyalties change. Positions remain the same. The chaos of politics, the cruelty, the absurdity remain unchanged.

When the news comes that Masud is still alive, the Rupnagar people say, “ghoramasud er moron nai.” The muscles of the ruling party and the mastaans of this golden Bangladesh are not going anywhere. Not today. Not tomorrow. Masud survives. The gossip survives. The absurdities survive. Everything stays the same. And isn’t that exactly how it has always been?
Profile Image for Klinton Saha.
358 reviews5 followers
December 30, 2024
যেদিন ঘোড়ামাসুদ রাস্তার উপর ভিক্ষুককে লাথি মারে সেদিনই সে ভিক্ষুক দ্বারা অভিশপ্ত হয়। রূপনগরের মানুষের মনে তীব্র আশা জাগে ; এবার নিশ্চয় ঘোড়ামাসুদের দৌরাত্ম্যের অবসান হবে। কেননা এই ভিক্ষুকের সাথে খারাপ ব্যবহার করা অনেক মস্তান পূর্বেই অভিশপ্ত হয়ে খারাপভাবে পটল তুলেছিল।

ছোটবেলায় ঘোড়ায় চড়ে আইসক্রিম বিক্রেতাকে দেখে ঘোড়া কেনার সখ চেপেছিল মাসুদের। ঘোড়া না থাক, পরবর্তীতে যখন মোটরসাইকেলে চড়ে তাকে আসতে দেখে লোকজন তখন তাকে ঘোড়ামাসুদই বলে। মা লাইলি বেগমের প্রশ্রয় তাকে বেপরোয়া করে তোলে , সে হয়ে যায় এলাকায় রংবাজদের একজন। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় তৈরি করে ত্রাসের রাজত্ব। এলাকার মায়েরা ছোটদের ঘুম পাড়ানোর সময় বলতো ," ঘোড়ামাসুদ আসিচ্ছে"।
এলাকার সব বড় বড় মস্তান তার ভয়েই এলাকাছাড়া হয়। কখনো আওয়ামী লীগের আমলে সেই দলের পাতি নেতা আবার কখনো বিএনপির আমলে ছাত্রদলের নেতা হিসেবে ক্ষমতার রদবদল করে। বড় বড় নেতাকর্মীদের ডান হাত হয়ে আরো ক্ষমতার অধিকারী হয় সে।
১৬ খুন ও ৪০ জনকে পঙ্গু করার অপরাধে র্যাবের হাতে যেদিন ধরা পড়ে এবং পত্রিকার পাতায় ক্রসফায়ারে তার নিহতের সংবাদ বের হয় , সেদিন এলাকার মানুষ সেই ভিক্ষুকের কথা স্মরণ করে খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠে।
কিন্তু ঘোড়ামাসুদদের কি আদৌ মৃত্যু সম্ভব ?


বাংলাদেশের রাজনীতির পালাবদলে একজন রংবাজের দৌরাত্ম ও তার ক্ষমতাশালী হয়ে উঠার গল্প এটি।
Profile Image for S M Shahrukh.
127 reviews67 followers
January 9, 2019
স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন তুলে ধরাই মশিউল আলমের 'ঘোড়ামাসুদ' উপন্যাসের লক্ষ্য। এক্ষেত্রে তাঁর উপন্যাসকে সফল বললে ভুল হবে না। স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির স্বপ্নভঙ্গ গল্পের মধ্যে ফুটে উঠেছে। প্রথিতযশা সাহিত্যিক শহীদুল জহিরের ফর্মুলায় পুরো একটা মফস্বল গ্রাম্যশহরকেই তিনি প্রোটাগনিস্ট ক'রেছেন, বেশ সার্থকভাবেই। বর্তমান বাংলাদেশে স্বাধীনোত্তর ইতিহাসের যে বিকৃত রূপ তুলে ধরার চেষ্টা চলছে তাকে বেশ জোরে একটা ধাক্কা মেরেছেন লেখক। তার লেখার ভাবে বামধারার রাজনীতির প্রতি পক্ষপাত বেশ স্পষ্ট।
Profile Image for Rifat Ridwan.
80 reviews7 followers
March 15, 2025
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু ক্ষমতার পালাবদল হয় কিন্তু ক্ষমতাকেন্দ্রিক অপচর্চার শেষ হয় না। একজন সরকার থেকে নেমে যায়, নতুন করে আরেকজন সরকারে আসে কিন্তু যুগের পর যুগ ধরে চলতে থাকা ক্ষমতাসীনদের উৎপাত থেকে এই দেশের জনগণের মুক্তি মেলে না।

মশিউল আলমের স্যাটায়ারধর্মী এই উপন্যাসটি বাংলাদেশে প্রচলিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে উপজীব্য করে রচিত। উপন্যাসের মূল চরিত্র ঘোড়ামাসুদের মাধ্যমে তিনি মূলত এই ভূখণ্ডের রাজনীতিতে বহুকাল ধরে চলতে থাকা ক্ষমতাকেন্দ্রিক অপরাজনীতির সাবলীল বর্ণনা দিয়েছেন।

২০০৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হলেও এই উপন্যাসটির প্রত্যেকটি প্রেক্ষাপট বর্তমান সময়ের সাথেও পুরোপুরি প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের রাজনীতির আপাদমস্তক হাস্যরসাত্মক বর্ণনার মাধ্যমে বুঝতে চাইলে উপন্যাসটি পড়তে পারেন।

মশিউল আলম চাইলে ঘোড়ামাসুদ উপন্যাসটি জর্জ অরওয়েলের 'অ্যানিমেল ফার্ম'-এর মতো করে পুরোপুরি রূপকার্থে লিখতে পারতেন। তাহলে, এটির মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য আরো বাড়তো বোধ হয়।
Profile Image for Zarif Hassan.
122 reviews42 followers
November 5, 2022
শহীদুল জহিরীয় ভাইব সাথে ৭০-৮০-৯০ দশকের উত্তাল রাজনীতিক সময়ের কনটেক্সট - আমার জন্য এর চেয়ে বেশি কিছুর দরকার নাই।

এক শীর্ষসন্ত্রাসী কিংবা ভবিষ্যতের ত্যাগী রাজনীতিক নেতার জীবনগাথা টঙদোকানে রূপনগরের মানুষের ভাষ্যে - কখনো উঁচুগলায়, কখনো ফিসফাসে আমরা শুনতে পাই এখানে।
Profile Image for Md Khalid Rahman.
137 reviews39 followers
December 21, 2024
ভিন্ন স্বাদের বেশ অভিনব বই। ভালো লেগেছে।

একে কি বাংলাদেশের যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা রাজনীতি আশ্রিত সন্ত্রাসেরই আখ্যান বলা চলে?
Profile Image for N.
12 reviews
August 15, 2025
শহীদুল জহিরের লেখনীর ছায়া বেশ লক্ষনীয়। সেই সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমির কিছুটা ব্যক্তিগত পক্ষপাতপুষ্ট ইতিহাস দর্শন।
Profile Image for Arifur Rahman Nayeem.
209 reviews107 followers
May 26, 2025
ভালো৷ তবে শহীদুল জহিরকে অনুকরণের মাত্রা আরও কিছুটা কম হওয়া উচিত ছিল!
Displaying 1 - 24 of 24 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.