মেঘনাদ সিরিজের এই দ্বিতীয় বইটিতে আছে রহস্যভেদী মেঘনাদের পাঁচটি জমজমাট কিশোর গোয়েন্দা অ্যাডভেঞ্চার। ‘সাহেব বাংলোর ভূত’ বইটি একদা শিশু সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক বছরের সেরা গোয়েন্দা উপন্যাস হিসেবে ‘ফটিক স্মৃতিপদক’-এ সম্মানিত হয়েছিল। এর নাট্যরূপ বহুবার বেতারে প্রচারিত হয়েছে। ‘হারানো পুঁথির রহস্যের’ সঙ্গে জড়িত এক জন্মান্তরের যোগসূত্র। হাজার বছরের আশ্চর্য ইতিহাস। ‘ড্রাগন দেবতার চোখ’ও নাট্যকারে বেতারে প্রচারিত। আর ‘শ্রীশ্রীবোলতাবাবা’ হাসির আড়ালে এক আশ্চর্য জীবন-রঙ্গ। এটিও একদা বেতারে প্রচারিত হয় এবং এক বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেন বাংলার সর্বকালের সেরা কমেডিয়ান ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। কোন চরিত্র? সেটা না হয় পাঠকই অনুমান করুন!
মে মাসে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে স্রেফ খাজাস্য খাজা বই-ই পাতে পড়ছে। সেই ধারা অব্যাহত রেখে অনেকদিন ধরে হাফ-পড়ে ঝুলে থাকা এই লঝঝড়ে রহস্য সংকলন শেষ করলাম। এই মাসেই সব কসুর মিটে যাক! তো যাইহোক না কেন, এই বইয়ের প্রতিটি কাহিনি নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করার বা লেখার বিন্দুমাত্র মুড নেই। দুটো উপন্যাস, দুটো গল্প। গোয়েন্দা মেঘনাদ, সহকারী অর্ণব এবং হেমেন্দ্রকুমারের ইনস্পেকটর সুন্দরবাবু হতে অনুপ্রাণিত ইনস্পেকটর গড়গড়িকে নিয়ে যাবতীয় কাহিনি। লেখকের লেখার হাত ভালো হওয়া সত্ত্বেও প্লটের মধ্যে উপযুক্ত বুদ্ধিপ্রয়োগের বড় অভাব। মগজ খাটানোর কোনো সুযোগ নেই, পুরোপুরিভাবেই শিশুতোষ রচনা। এতে বড়দের (যদি না কেউ প্রবল নস্ট্যালজিয়া আক্রান্ত হন) খোরাক নেই। আই রিপিট একেবারেই নেই। অন্য অনেক শিশু-কিশোর সাহিত্য আছে যা কিনা সববয়সীদের কাছে উপভোগ্য। এই মেঘনাদ সিরিজ ওই দলে পড়ে না। স্ট্রিক্টলি ফর শিশু অথবা গোয়েন্দা গল্প পাঠের ক্ষেত্রে আপনি যদি একেবারেই বিগিনার হন।