আমরা উড়ে চলেছি সেই পথের উপর দিয়ে অনাদিকাল থেকে যে পথ স্পন্দিত হয়েছে সভ্যতার আনাগোনায়, বৌদ্ধ শ্রমণ শ্রমণার মন্ত্রগুঞ্জনের, তদবীরের উল্লাস ধ্বনিতে। ককেসাসের পাদপীঠ থেকে সভ্যতার প্রথম মানুষ যে পথ ধরে নেমে এসেছে, ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যে এশিয়া পামীরের মালভূমিতে, হিন্দুকুশের দুর্গম গুহা পথে, হিমালয় ডিঙ্গিয়ে মিলিত হয়েছে হরপ্পা-মোহেনজোদাড়োর উত্তরাধিকারীদের সাথে এ পথ কালের সাক্ষী । এ পথ ইতিহাসের নাট্যমঞ্চ ।
Shahidullah Kaiser (Bengali: শহীদুল্লাহ কায়সার) was born Abu Nayeem Mohammad Shahidullah. He is the brother of another famous Bengali author Zahir Raihan. Kaiser studied at Presidency College, Kolkata and obtained a Bachelors degree in economics with honours. Later, he enrolled in Masters of Arts at Calcutta University but did not finish getting the degree.
Kaiser was active in politics and cultural movements from his student days. Following the formation of Pakistan in 1947, he became a member of the provincial Communist Party of East Pakistan. He started working as a journalist in 1949 with the Ittefaq in Dhaka. In 1952, he participated actively in the Language Movement. For his political role in the movement for protection of Bengali language, Kaiser was arrested on 3 June 1952. He was later jailed for three and a half years. Right after his release in 1955, he was again arrested and jailed on a political crackdown on activists. A few years later he was released. In 1958, Kaiser joined as an associate editor of the Daily Sangbad - a Bengali language daily - where he worked for the rest of his life. When the Military coup of 1958 put Ayub Khan in power, and martial law was proclaimed, Kaiser was arrested again on 14 October 1958 and remained in jail for four years till his release in September 1962.
At the end the Bangladesh Liberation War of 1971, the Pakistan Army and its local collaborators initiated a plan for killing the leading Bengali intellectuals. As a part of it, Kaiser was rounded up on 14 December 1971. He never returned, nor was his body found. It is assumed that he was executed along with other intellectuals. His brother Zahir Raihan also disappeared while searching for Kaiser.
যাযাবরের দৃষ্টিপাত মনে হয় এই ধরণের বই এর জন্য একটা পরম মান নির্ধারণ করে দিয়েছে। পূর্ববাংলার সাংবাদিক নাই এই বইয়ে, পাকিস্তানের সাংবাদিক আছেন। ব্রিটিশ উপনিবেশের কল্যানে আমরা যে ইতিহাস বর্জিত এক শিক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছি, এই দরকারি কথাটা এসেছে, এখনো ভাবলে পেশোয়ার বা মান্দালয়, এগুলি আমাদের ইতিহাসের সাথে জড়িত অথচ আমরা বিস্মৃত। আরো বিস্তারিত লিখতে পারতেন, সম্ভবত পেশাগত কাজে খুব বেশি সময় গিয়েছে।
১৯৬৬ সালে বিখ্যাত তাসখন্দ সম্মেলনে সাংবাদিক হিসেবে পূর্ব বাংলার পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হয়ে যোগদান করেন। শহিদুল্লাহ কায়সার বাম রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। সেই সুবাদে খানিকটা মুগ্ধ চোখে কমিউনিজমের ম্যাজিক বর্ণনা করেছেন। কিভাবে তা বদলে দিচ্ছে মানবজাতিকে। তবে তাসখন্দের ইতিহাসের সাথে তৎকালীন সময়কে যেভাবে সংযুক্ত করেছেন তা চমৎকার। তিনি যে জাত সাহিত্যিক সেটা বোঝা গেছে, নিছক সংবাদ রিপোর্ট মনে হয়নি। রাজনীতি, ইতিহাস, ভূগোল ও সাহিত্য সব সুন্দরভাবে ব্লেন্ড করা এতে সুখপাঠ্য করে।
ভ্রমণ কাহিনি পড়া হয় না খুব একটা ! এই একটা পড়ে এত ভালো লাগছিল, ঝরঝরে ভাষায় লেখা, সুন্দর স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ ! শহীদুল্লাহ কায়সার-এর অন্যান্য সাহিত্য থেকে লেখার স্টাইল ও বেশ আলাদা লাগল ! তাসখন্দ একবার যেতে মন চাচ্ছিল পড়ে!
১৯৬৫ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের পরে মধ্যস্তকারী হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তৎকালীন রুশ প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের উদ্যোগে ভারত ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানরা তাসখন্দ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। শহীদুল্লাহ্ কায়সার পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে সে সময়টাতে তাসখন্দ যান। বইটা সে সময়টাতে তাঁর রোজনামচা।
ব্যক্তি জীবনে শহীদুল্লাহ্ কায়সার বামধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই স্বভাবতই তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কর্মকাণ্ড দেখে যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছেন। তাঁর মতে উজবেকরা আমীরদের আমলে অত্যাচারিত নিপিড়ীত হয়েছে আর রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের মুক্তি এসেছে!!!
সে সময়টাতে তিনি তাসখন্দ নগরীর আশপাশে কমিউনিটি খামার ও অন্যান্য আরও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সে সময়টাতে এসবের মনোজ্ঞ বর্ণনা পাওয়া যায় তাঁর রোজনামচায়।
চুক্তি স্বাক্ষরের পরের দিনই তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আচমকা মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু নিয়ে পরবর্তীতে অনেক ষড়যন্ত্রতত্ত্ব শোনা যায়। এমনকি লেখক শহীদুল্লাহ্ কায়সারও ভীষণ অবাক হয়েছিলেন। কারণ, তিনি শাস্ত্রীজিকে কয়েক ঘন্টা আগেই হাসিখুশি মানুষ হিসেবে নৈশভোজে অংশ নিতে দেখেছেন।
লেখক একজন সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি করতেন। তাই তাঁর মুগ্ধতা অনেকটা একপাক্ষিক হলেও সমাজতান্ত্রিক আমলে উজবেকিস্তানের রাজনীতি তাসখন্দের মনোজ্ঞ বর্ণনা পাওয়া যায়।
প্রথমে ভেবেছিলাম ব্যাক্তিগত ভ্রমণ কিন্তু রাজনৈতিক ভ্রমণ হলেও উজবেকিস্তানের সামাজিক সংস্কৃতি একটু আধটু উঠে এসেছে সে সময়কার। বেশিরভাগ আলোচনা চলেছে তাসখন্দ ঘোষণা নিয়ে আর কম্যুনিজম এর স্তুতি। সব মিলিয়ে মোটামুটি।
১৯৬৬ সালে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ শহরে পাক-ভারত যুদ্ধাবসানের জন্য যে তাসখন্দ ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, সাংবাদিক হিসেবে সেটাই কাভার করতে গিয়েছিলেন শহীদুল্লা কায়সার, এবং এই বইটা সেই বৈঠকেরই খুঁটিনাটি নিয়ে। এটা ভ্রমণকাহিনী নয়, এবং এর কোথাও পেশোয়ার নেই। লেখক বামপন্থী, সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী, এবং সেসময় সোভিয়েতের মধ্যযুগ। কাজেই লেখাটা নিরপেক্ষ নয়। উজবেকদের জীবনযাত্রার চাইতে সোভিয়েত প্রতিষ্ঠার ফলে তাদের কতটা উন্নতি হয়েছে সেটাই লেখায় এসেছে বারবার। তাসখন্দ বৈঠকের উত্তেজনা এবং এই বৈঠক নিয়ে সোভিয়েতদের আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়টি বেশ ভালভাবে উঠে এসেছে। এখানে উল্লেখ্য যে, এই বৈঠক যার প্রচেষ্টায় সফল হয়, সেই আলেক্সেই কোসিগিন বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধুর প্রথম সোভিয়েত সফরের সময় রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তার সাথেই বাংলাদেশের প্রথম সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বইয়ের শেষদিকে লেখাটা রুশ বিপ্লবের ইতিহাস পাঠ হয়ে গিয়েছে। এটাও বোঝা যায় যে, তখনও পূর্ব বঙ্গের সাথে পাকিস্তানের যোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়নি, লেখক পাক-ভারত সুসম্পর্ক নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলেন। রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে আগ্রহীরা পড়তে পারেন।
'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' বইটার নাম কিংবা প্রথম দর্শনে মনে হতে পারে কোন ভ্রমণ গ্রন্থ। শুরু পেশোয়ার আর লক্ষ্য তাসখন্দ শহরের ভূ-প্রকৃতি ও জনজীবন। পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ পর্যন্ত বিবিধ ভ্রমণ বর্ণনা। কিন্তু বইটি আদৌও তেমনটি নয়।
১৯৬৫ সালে দ্বিতীয়বারের মত সংগঠিত পাকভারত যুদ্ধ। লক্ষ্য একে অপরের থেকে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণকৃত ছিনিয়ে নেয়া। আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধ সেপ্টেম্বরের ১৮ দিন ধরে চললেও পাকিস্তান অপারেশন জিব্রাল্টার এবং অপারেশন গ্র্যান্ড স্লাম নামে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দুটো সামরিক অভিযান এক মাস আগে থেকে শুরু করে। এই যুদ্ধ এক দিশাহীন দীর্ঘ সময়ের দিকে যাত্রা করতো যদি না একজন বিশেষ এবং মহান নেতা হস্তক্ষেপ না করতেন।
তিনি কোসিগিন। এই যুদ্ধ থামিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য সেই সময় অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করেছিলেন তৎকালীন সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী নিকোলাই কোসিগিন। তিনি যুদ্ধ থামিয়ে উভয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানান উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে এসে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য। উভয়পক্ষ এই প্রস্তাব ইতিবাচক সাড়া দেয়। আর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের তাসখন্দে সফরসঙ্গী হয়েছিলেন খ্যাতনামা লেখক এবং সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সার। এই ক্ষুদ্র গ্রন্থে উনি মূলত এই তাসখন্দের মানুষের আতিথিয়তা এবং সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বন্দনা করেছেন। পাক ভারতের চুক্তির আলোচনার অগ্রগতি কিংবা উৎকণ্ঠার বর্ণনাও অনেকাংশে এসেছে।
সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সার ছাত্রজীবনে ছিলেন বামঘরানার রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। একাধিকবার গেছেন জেলেও। স্বাভাবিকভাবেই সমাজতান্ত্রিক দেশে�� এক গুরুত্বপূর্ণ শহর তাঁর কাছে স্বপ্নপুরীর মত লাগবে। লেগেছেও। যেটি ফুটে উঠেছে ওনার এই বইটিতে। রাষ্ট্রীয় ও যৌথ খামার ব্যবস্থায় উনি নিখুঁত এক ভবিষ্যতের সম্ভবনা দেখতে পেয়েছেন যদিও সূক্ষ্ম দৃষ্টিকোণে উনি পর্যবেক্ষণে উনি যান নি। গেলে হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আমরা পেতাম। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে এটি বইটির দুর্বলতম দিক। কারণ নির্দিষ্ট কোন আদর্শের লেন্সে তাকিয়ে নির্মোহ বিশ্লেষণ করা অসম্ভব। তবু এটাও মনে রাখা প্রয়োজন এই গ্রন্থে ওনার লেখক নয় সাংবাদিক পরিচয় অধিক উজ্জ্বল।
তবে বইটির পরিসমাপ্তির দিকে এসে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখতে পাই। অনেকেই হয়তো জ্ঞান আছেন যে এই চুক্তি যেদিন স্বাক্ষরিত হয় সেদিন রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী তাসখন্দের একটি হোটেলে পরলোকগমন করেন। এই মৃত্যু নিয়ে পরবর্তীতে তৈরি অনেকরকম কন্সপাইরেসি থিওরি তৈরি হয়। যারা বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত 'তাসখন্দ ফাইলস' চলচ্চিত্রটি দেখেছেন তারা অধিক উপলব্ধি করতে পারেন লেখকের উক্তিটির গুরুত্ব।
"রিসিভারটা কানের কাছে এলে নির্বাক হলাম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী পরলোকগমন করেছেন। অবিশ্বাস্য কথা। মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে যে লোকটা নাচ দেখল, গান শুনল, স্বাভাবিকভাবে কথা বলল, সে লোকটা এখন এই পৃথিবীতে নেই?"
ওনার মৃত্যুর পর শাস্ত্রীজীর মৃতদেহে বিমানে তুলে দিতে কাঁধ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী কোসিগিন এবং রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান। তাসখন্দ চুক্তি সফল হয়েছিল। যুদ্ধ থেমে গিয়েছিল। লেখক প্রত্যাশার জাল বুনছিলেন, এবার এই সাবেক উপনিবেশিক দেশদুটোয় শান্তি আসবে। স্ব স্ব দেশের অর্থনীতি নিজের পায়ে দাড়াবে। মানুষ ক্ষুধা, অনাহার, ব্যাধি, অন্যায় থেকে মুক্তি লাভ করবে।
কিন্তু সেই স্বপ্নের মেয়াদ ছিল মাত্র ৫ বছর। দুদেশের মানুষকে দেখতে হয় ১৯৭১। রক্তনদীর ধারায় বয়ে গিয়ে জন্ম নেয় নতুন একটি দেশ, বাংলাদেশ আর সেই '৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর লেখক ও সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সার নিখোঁজ হন এবং আর কোনদিন ফিরে আসেননি।
ছোট্ট একটা বই পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ। নাম শুনে প্রথমে মনে হয় বইটা ভ্রমণকাহিনী যার মূল আলোচনা পেশোয়ার আর তাসখন্দের জনজীবন-পরিবেশ। আদতে ক্রাউন সাইজের এই বইটা ১৯৬৬সালের তাসখন্দ বৈঠকের উপর লিখা, যেখানে পূর্ব বাংলা থেকে সাংবাদিক হিসেবে গিয়েছিলেন শহীদুল্লাহ্ কায়সার। ১৯৬৫ সালে কাশ্মীরের দখল নিজের অধীনে নিয়ে নেয়ার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হয় পাক-ভারত যুদ্ধ,যার স্থায়ীত্ব ছিল ১৮দিন। এই যুদ্ধের ইতি হয় এক মহান নেতার কারণে। যুদ্ধ থামিয়ে এক শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে আলোচনার আয়োজন করেন এই মহান নেতা কোসিগিন। শহীদুল্লাহ্ কায়সার শুরু থেকেই বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। সেই হিসেবে নিরপেক্ষ না হয়ে বইটা কিছুটা সোভিয়েত ঘেষা হয়ে গিয়েছে। সেই সময়কার প্রেক্ষাপটে কমিউনিজমের প্রভাব বেশ ভালোই বোঝা গেছে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। বইয়ের শেষদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এর মৃত্যুর সংবাদ যেমন অনেক কন্সপাইরেসি থিওরির জন্ম দেয়, তেমনি বিমানবন্দরে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃতদেহ দেশে পাঠানোর সময় সোভিয়েত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধির উপস্থিতি এক দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ইঙ্গিত করেছে। ছোট বইটার পুরোটা জুড়ে তাসখন্দ বৈঠক থাকলেও তাসখন্দের রাজনীতি, ইতিহাস, ভুগোল ইত্যাদি বিষয়ও আলোচনার খাতিরে যোগ করেছেন, যার কারণে নিখাঁদ সাংবাদিকের প্রতিবেদন হওয়া থেকে সরে গেছে। সাবলীল লিখা, সুন্দর বর্ণনাভঙ্গির কারণে পড়তে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। রাজনৈতিক ইতিহাস হিসেবে চমৎকার একটা বই।
পেশোয়ার বলতেই সর্বপ্রথম আমার সৈয়দ মুজতবা আলীর 'দেশে-বিদেশে' বইটার কথা মনে পড়ে। সে কারণে এই বইটা পড়ার আগ পর্যন্ত আমি এটাকে নেহাৎ ভ্রমণকাহিনীই ভেবেছিলাম। আদতে, এটা সেরকম গড়পড়তা ভ্রমণকাহিনী নয়। ১৯৬৬ সালে তাসখন্দ চুক্তির সময় পূর্ববঙ্গ থেকে পাকিস্তানি সংবাদ-প্রতিনিধি হিসেবে শহিদুল্লা কায়সার তাসখন্দ যান। তাসখন্দ চুক্তির উপর তাঁর সংবাদ প্রতিবেদনই 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' নামে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
কাশ্মীরের উপর ক্ষমতাবিস্তার নিয়ে ১৯৬৫ সাথে পাক-ভারতের মধ্যে ১৮দিন ব্যাপী যুদ্ধ সংগঠিত হয়। যুদ্ধাবসানের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক তাসখন্দ চুক্তি। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির সময় লেখকের তাসখন্দে থাকার অভিজ্ঞতাগুলো বইয়ে ফুটে উঠেছে। শহিদুল্লাহ কায়সার শুরু থেকেই বাম রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তাই সঙ্গতভাবেই সমাজতন্ত্রের মুগ্ধ চোখে তিনি দেখেছেন তাসখন্দের জনজীবনের উত্তরোত্তর উৎকর্ষের দিকে ধাবিত হচ্ছে, দেশের জনসাধারণের মনে সন্তুষ্টি বাড়ছে। লেখকের লেখায় কমিউনিস্ট সোভিয়েতের প্রতি মুগ্ধতা ঝরে পড়ছিলো বারবার।
শহিদুল্লা কায়সার লেখক হিসেবে ছিলেন যথেষ্ট ক্ষুরধার। কয়েক বছর আগে তাঁর লেখা 'সারেং বৌ' উপন্যাসটা পড়েছিলাম। সেটা ছিলো আমার পড়া শহিদুল্লা কায়সারের প্রথম বই। এতো পরিমাণ পছন্দের ছিলো বইটা! 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' আমার পঠিত তাঁর দ্বিতীয় বই। শেষ করেছিলাম দু'সপ্তাহ আগে। তাঁর লেখা 'রাজবন্দীর রোজনামচা' একটু-আধটু পড়ছি ইদানিং। এ মাসে বইপড়া হয়নি তেমন।