সায়ন্তনীর গড়িয়ায় বাস। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শখ। কবিতা ও গদ্য দুইই চর্চার বস্তু।ক্লাস সেভেনে প্রথম প্রকাশ সংবাদ প্রতিদিনের শনিবাসরীয় পাতায়'চশমা' ছোট গল্প। তারপর প্রতিদিন, বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, আর ছোটদের পত্রিকা সাহানা আর বাংলা দেশের পত্রিকা ভোরের কাগজে লাগাতার লিখে যাওয়া।
¶ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষে করে ওরা। ব্যস্ত শহরের রাস্তায় চোখে পিচুটি, নাকে কফ, নোংরা জামাকাপড়ে কাঙালের মতো বুভুক্ষু শৈশব। তাদের কথা কেউ তো ভাবে না। কেউ ঘেন্নায় সরে যায়। কেউ অবজ্ঞা করে। ওরা বাজির ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। বারুদে, জঞ্জালে বন্দি শৈশব। কেউ ওদের দেখতে পায় না। বুভুক্ষু? বন্দি? না বিপন্ন শৈশব! ওদের কথা কেউ জানে না। কারণ ওরা কেউ আমাদের কারওর সন্তান, ভাই কিংবা বোন নয়। কিন্তু যদি হত? কিছু সবুজ নোটের পেছনে বিকিয়ে-যাওয়া শৈশবের কলঙ্কিত কাহিনি নিয়েই সায়ন্তনী পূততুন্ড-এর উপন্যাস 'জিঙ্গল বেল'। ¶
কাহিনি - নতুন কিছু নয়।
কাহিনির পরিণতি - নতুন কিছু নয়, সহজেই অনুমেয়। পাঠক পড়তে পড়তেই ধারণা করে নিতে পারেন কাহিনির পরিসমাপ্তি কীভাবে ঘটতে চলেছে।
কাহিনির চরিত্রগুলি-ও সেই লেখিকার চিরাচরিত 'লার্জার দ্যান লাইফ' আঙ্গিকেই যেন সৃষ্টি করা। সে খলচরিত্রের হোক, কিংবা কাহিনির নায়ক, রাকা ওরফে রাকেশ নিয়োগীর।
কাহিনির মূল কাঠামো সেই সায়ন্তনীর চিরাচরিত স্টাইলেই। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও সায়ন্তনী আবার বাধ্য করেন পাঠককে এক নিঃশ্বাসে একটি উপন্যাস পড়ে ফেলতে। সেইখানেই লুকিয়ে আছে ম্যাজিক, কোন এক যাদুবলে সায়ন্তনী বারবার তার আস্তিন থেকে তুরুপের তাসটি বের করে ফেলেন, অথচ পাঠক বুঝতেও পারেন না।
জোরপূর্বক শ্রম, শোষণ, শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে যে শিশুপাচার বা চাইল্ড ট্রাফিকিং, সেই বিষয়কে উপজীব্য করে একটি রুদ্ধশ্বাস উপন্যাস। 'সায়ন্তনীয়' কলমের ছোঁয়ায় অতিনাটকীয়'ও বটে। লেখিকার সাহিত্যিক জীবনের প্রথম দিকের এই লেখাটি দিনের শেষে বেশ উপভোগ্য হলেও পাঠক হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে কোথাও গিয়ে যেন কিছুটা অতৃপ্তি এই কারণেই থেকে যায় যে লেখিকা তাঁর কলমের ক্ষমতা অনুযায়ী যেন কাহিনিগুলিকে উপযুক্ত পরিসর এবং গভীরতা দেন না। তাঁর লেখার অনুরাগী পাঠক হিসেবে এই মৃদু অভিযোগ পাঠান্তে তাই থেকেই যায়।
ফুলের সাথে শিশুদের তুলনাটা প্রায় সৃষ্টির আদিকাল থেকেই চলে আসছে। বোধহয় সেই তুলনার সূত্রপাত শিশুদের কোমল ও নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়েই শুরু হয়েছিল। কিন্তু কোনো কাহিনীর প্রেক্ষাপট হিসাবে যদি উঠে আসে ভিখারি শিশু বা শিশু শ্রমিকের কথা, তাদের রোজকার জীবনের কঠিন কঠোর বাস্তবতার কথা - তাহলে এই কোমল-নিষ্পাপ মুখের ধারণাটা হঠাৎ যেন টাল খেয়ে যায়। লেখিকা সায়ন্তনী পুততুন্ডর কলমে 'জিঙ্গল বেল' উপন্যাসে ফুটে উঠেছে এরকমই এক রূঢ় বাস্তবতার কাহিনী। দিনের আলোয় সমাজের অতি পরিচিত মুখ এক অনাথ আশ্রমের মালকিন কিভাবে রাতের অন্ধকারে হয়ে উঠেছেন শিশুপাচারকারী দলের মূল মাথা; তা সত্যিই অভাবনীয়। কাহিনীর অন্যদিকে আবার একইসাথে উঠে এসেছে এক মস্তানের মানবিক রূপ। নিতান্ত এক মস্তান থেকে দায়িত্ববান পিত হয়ে ওঠার এক বিপরীতধর্মী কাহিনীর কথাও স্থান পেয়েছে এই উপন্যাসে। লেখিকা এই উপন্যাসের মাধ্যমে প্রধানত তুলে ধরেছেন একই সমাজে বাস করা বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন রূপ। সেই রূপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা না বলা কথাও উঠে এসেছে তাঁর কলমে। তাই ঘটনার ঘনঘটায় ঘেরা এই 'জিঙ্গল বেল' উপন্যাস হল ফুটফুটে শৈশবের এক বিপরীত রূপ।
A thrilling novel, almost feels like a script for a motion picture. The main hero of the story are not its characters here, but the matter of the light is trafficking of children for various rackets of labour, prostitution and other illegal activities.