Amiya Bhushan Majumdar (March 22, 1918 – July 8, 2001) was an acclaimed Indian novelist, short-story writer, essayist and playwright. In a writing career spanning over four decades, Majumdar wrote numerous novels, short stories, plays and essays in Bengali. Known as the ‘Writer’s Writer’, Majumdar is considered one of the most noteworthy authors of modern Bengali prose.[1] His works received significant critical acclaim and recognition – including the Sahitya Academi Award for his novel Rajnagar in 1986.
একজন উপন্যাসিক ভাষাবিজ্ঞান সচেতন, ইতিহাস ও কিংবদন্তি সচেতন, শ্রেণী শোষণ সচেতন যে হতে পারে এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ অমিয়ভূষণ মজুমদার।মহিষকুড়ার উপকথা ও মধু সাধু খাঁ বই দুটো একসাথে হয়েও একশ পাতা পেরুতে পারেনি। তবে এতকম পাতা হলেও কাট কাট করে পড়ে যাওয়া যায় না। বিশেষ করে মধু সাধুখাঁ বইটির পাঁচ লাইন পড়ে এক মিনিট থামতে হয় বুঝতে।
মহিষকুড়ার উপকথা। যাদু মন্ত্র বলে যেন পড়ে গেছি । বর্ণনা যেন কোন একটি বনের জনপদে ক্যামেরাটি ঘুরছে। কমরুন ও আসফাকের সম্পর্ক কিভাবে গড়িয়ে গড়িয়ে যায়। প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ খুঁজে আশফাক। "একটা লম্বা শ্বাস ফেলে আসফাক অন্ধকারকে বলল, 'তো ব্যাপারি, তোমরা থাপ্পর মারছেন, দশ বিঘা ভুঁই দিছেন,মুইও চাষ দেং নাই।মুই ওষুধ আনং নাই,তোমরাও না-মরেন। তামাম শুধ।" কিন্তু পারে না ।আসফাকরা কখনও পারেনি। পারবেও না। কারণ---- " সব বনই কারো না কারো, যেমন সব জমি কারো না কারো ।হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য তুমি বুনাষাঁড়- মোষ হতে পার, কিন্তু বোন আর বনের নয়, তাও অন্য একজনের।" মধু সাধুখাঁ। এক বণিকের বজরায় নদী পথে যাতায়াতের মধ্যেই বইটির শুরু ও শেষ। বেশ ঘোরলাগা ভাষা। বুঝতে কষ্ট হয়েছে। অমিয়ভূষণ মজুমদার কেন এই বইয়ে বেশ কয়েকবার পাঠিকা বলে সম্বোধন করেছেন ---বিষয়টি বোধগম্য হয়নি। লেখক মধু সাধুখাঁ সম্পর্কে বলেছেন, " মদু সা অন্যূন চারটে ভাষায় কথা বলে। নিজ ভাষা রাঢ়ী ছাড়াও, সংস্কৃত, গৌরের ভাঙা ফারশি, হার্মাদি-মগাই। ইদানিং পঞ্চমের চর্চা চলছে।" আর এ চর্চায় পাঠক হিসেবে আমাকে সর্বক্ষণ মনোযোগ দিয়ে প্রত্যেকটি শব্দ পড়তে হয়েছে। ভাষার কী পরীক্ষণ!এক জীবনে মানুষ কত কিছুই যে পারে!পড়লাম। দেরিতে হলেও অমিয়ভূষণ মজুমদার পড়া শুরু করতে পেরে আমি আনন্দিত।