১৪২২-এর পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা-য় সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত এই উপন্যাসটা আমার আজ অবধি পড়া হয় নি। জানি, এই স্বীকারোক্তি পড়ে আমার বন্ধুদের চোখ কপালে, বা চাঁদির মাঝখানে পৌঁছে গেছে, কিন্তু সত্যি ইজ সত্যি। আজকে দিনটা স্পেশ্যাল, তাই উপন্যাসটা আমি, একেবারে বই আকারে, পড়ে ফেললাম। লেখক-কে সামনে পেলে ঢিপ করে একটি পেন্নাম ঠোকার বাসনাও উদগ্র হল লেখাটা পড়ে। মানে এই হল সেইরকম উপন্যাসের নিদর্শন, যা পড়ে “গুরু! গুরু!” বলার ইচ্ছেটা একেবারে ভেতর থেকে উঠে আসে। গল্পটা কী নিয়ে? ভবিষ্যৎ পৃথিবী তথা মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করেছে যে ঘটনাগুলোর ওপর, তারই একটাকে একটু এগিয়ে দিতে, তথা সেই ঘটনার নায়ককে একটু সাহায্য করতে আসে এক সময়-যাত্রী। কিন্তু ঘটনাক্রমে হঠাৎ কিছু অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনে সেই সময়-যাত্রীর, তথা তাকে যাঁরা পাঠিয়েছিলেন তাঁদের সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়, এবং মানবসভ্যতার ইতিহাস পাল্টে যায়। তবু,.... মধুলিকা’র কাছ থেকে পাহাড়ে চড়ার কঠিনতম প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি আরো যা কিছু শিখেছিল জিষ্ণু, তাই দিয়ে সে কি বাঁচাতে পারবে তার বাবা-কে, আর সেই সঙ্গে অনাগত ভবিষ্যতের মানুষদের? শুধু অ্যাডভেঞ্চার নয়, নয় শুধু টানটান গতিময় এক কাহিনি। এই উপন্যাস যেকোনো পর্বতারোহীর জীবনের অংশ হওয়ার উপযুক্ত। এমনকি আমার মতো কচ্ছপবৃত্তীয় মানুষও এই গল্প পড়ে বরফে ঢাকা দুর্লংঘ্য পাহাড়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইবে এই বইটি পড়ার পর। তার চেয়েও বড়ো কথা, দেশকে ভালোবাসা, নিজের মানুষদের ভালোবাসা, আর নিজের এই পৃথিবীকে ভালোবাসার মন্ত্র আমাদের কানে গুনগুনিয়ে দেয় এই অসামান্য বই। বইটা এখনও পড়েন নি? করেছেন কি?? শিগগির পড়ুন।
কিছু কিছু বই থাকে পড়ার পর একটা রেশ থেকে যায়। সেই রকম একটি বই এটি। কল্পবিজ্ঞানের আঙ্গিকে এর থেকে অনেক ভালো বই দেবজ্যোতি বাবু লিখেছেন। কিন্তু চরিত্র বিশ্লেষণ বিশেষত কিশোর মনের কৌতুহল এবং পিতা পুত্রের সম্পর্কের গভীরতা দারুন ভাবে ফুটে উঠেছে। অনেকদিন মনে থাকবে এই বইটি।