What do you think?
Rate this book


656 pages, Hardcover
First published December 1, 2002
প্রথম অধ্যায়ে বেলায়াত ও ওলী, ওসীলাহ, বেলায়াত ও আত্মশুদ্ধি এবং যিকর বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। এখানে লেখক প্রথমেই পাঠককে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করান "ওলী আল্লাহ" বা আল্লাহর বন্ধু আসলে কে? লেখক কুরআনের আলোকে দেখিয়েছেন যে ওলী হওয়ার পথ কোনো বিশেষ তরিকা বা পীরের হাতে বায়আত নয় বরং ঈমান ও তাকওয়াই হলো বেলায়াতের মূল চাবিকাঠি। এই অধ্যায়ে যিকরের ব্যাপকতর সংজ্ঞাও উঠে এসেছে। যিকর বলতে আমরা যেভাবে সংকীর্ণ অর্থে বিভিন্ন তাসবীহ পাঠ করাকে বুঝে থাকি, এখানে তেমনভাবে না বুঝিয়ে যিকরের বিস্তীর্ণ পরিধিকেই তুলে ধরা হয়েছে। দু'আ, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াতসহ অন্যান্য অনেক ইবাদাতই যিকরের অন্তর্ভুক্ত।
এই অধ্যায়টি বইটির সবচেয়ে বিস্তৃত অংশ। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের জন্য ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত, খাওয়া থেকে পোশাক পরা পর্যন্ত, ঘর থেকে বের হওয়া থেকে মসজিদে প্রবেশ পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত সহীহ যিকর ও দু'আগুলো আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ সন্নিবেশ করা হয়েছে। বইটিতে মূলত যিকর এবং দু'আর প্রকারভেদ, গুরুত্ব বা ফজিলত, কোন সময়ে কোন ধরনের যিকর বা দু'আ মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় ইত্যাদি কুরআন, হাদীস, বিভিন্ন সাহাবী এবং আলেমদের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়টি পাঠক কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং নিত্যদিনের আমলের জন্য সামনে রাখার উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।
সপ্তম সংস্করণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো এই অধ্যায়টি। সালাত ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আল্লাহর সাথে বান্দার সবচেয়ে নিবিড় সংযোগের মুহূর্ত। এই অধ্যায়ে লেখক সহীহ হাদীসের আলোকে সালাতের মাসনূন পদ্ধতি এবং সালাতের ভেতরে পঠিত যিকর ও দু'আগুলো একত্রে সাজিয়েছেন। এই অধ্যায় সংযোজনটি অত্যন্ত বিচক্ষণ একটি সিদ্ধান্ত। কারণ সালাতকে কেন্দ্র করেই মুসলিমের আধ্যাত্মিক জীবন আবর্তিত হয় অথচ অনেক মুসলিম সালাত আদায় করেন কিন্তু এর ভেতরের যিকর ও দু'আগুলোর অর্থ ও সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত থাকেন। এই অধ্যায় সেই শূন্যতা পূরণ করেছে।
কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত, তিলাওয়াতের সুন্নাহসম্মত আদব এবং কুরআনের সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পদ্ধতি নিয়ে এই অধ্যায়টি সাজানো হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন যে কুরআন তিলাওয়াত কেবল মুখের আমল নয় এটি হৃদয়ের গভীরে আল্লাহর কালামকে ধারণ করার একটি আধ্যাত্মিক যাত্রা। যে ব্যক্তি কুরআনকে সঠিকভাবে ধারণ করতে পারেন, তার জীবনে বেলায়াতের পথটি অনেকটাই সুগম হয়ে যায়।
এই অধ্যায়ে নফল সালাত, তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত, আওয়াবিন বিভিন্ন নফল ইবাদতের গুরুত্ব, পদ্ধতি ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একইসাথে বর্তমান সমাজে প্রচলিত মতবিশ্বাস ও কুসংস্কারের সাথে ইসলামের সম্পর্ক এবং ফরজ কাজের তুলনায় সুন্নত বা নফল কাজগুলোকে অতিরঞ্জিত করার বিষয়টিও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এই সমতা রক্ষার আলোচনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেক মানুষ ফরজ বাদ দিয়ে নফলে মনোযোগ দেন, যা ইসলামী আধ্যাত্মিকতার বিকৃতি।
এটি সপ্তম সংস্করণের দ্বিতীয় সম্পূর্ণ নতুন সংযোজন । পাঠকগণ তাবিয-কবয বর্জন করতে চান, কিন্তু বিকল্প সুন্নাত পদ্ধতি তো তাদের জানতে হবে। আর এজন্যই এ অধ্যায়টি সম্পূর্ণ নতু��� সংযোজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের সমাজে এখনো রোগব্যাধিতে তাবিজ-কবজ ও কুসংস্কারের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। এই অধ্যায়ে রুকইয়া বা সুন্নাহসম্মত ঝাড়ফুঁকের সঠিক পদ্ধতি, রোগে সহীহ হাদীস থেকে বর্ণিত দু'আ ও যিকর এবং কোনটি বৈধ আর কোনটি শিরকি এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি শিরক ও কুসংস্কার থেকে মুক্তি পেতে চাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য একটি আলোকবর্তিকা।
বইটির সমাপনী অধ্যায়ে জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, ভয়, সফর, বিবাহ, সন্তান লাভ ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য মাসনূন দু'আ ও আমল সংকলিত হয়েছে। এই অধ্যায়টি পাঠককে বোঝায় যে ইসলাম কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্ম নয় বরং এটি আল্লাহর স্মরণে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে রাঙিয়ে দেওয়ার একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।