Jump to ratings and reviews
Rate this book

রাহে বেলায়াত

Rate this book
রাহে বেলায়াত-এর বিষয়বস্তু পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত ছিল। এবার নতুন দুটি অধ্যায় সংযোজন করে গ্রন্থটিকে সাত অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। সকল অধ্যায়েই কমবেশি পরিবর্তন, সংশোধন বা সংযোজন করা হয়েছে। বিশেষ করে “সালাত ও বেলায়াত” নামে নতুন একটি অধ্যায় তৃতীয় অধ্যায় হিসেবে সংযোজন করা হয়েছে। এ অধ্যায়ে সালাত বিষয়ক ‘রাহে বেলায়াতের’ পূর্ববর্তী সংস্করণের যিকর ও দু‘আ গুলোর সাথে আরো কিছু যিকর ও দু‘আ সংযোজন করা হয়েছে এবং সহীহ হাদীসের আলোকে সালাত আদায়ের মাসনূন পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। “রোগব্যাধি ও ঝাড়ফুঁক” শিরোনামের ষষ্ঠ অধ্যায়টি সম্পূর্ণ নতুন সংযোজন। রোগব্যাধি জীবনের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন যাবত অগণিত পাঠক বিভিন্নভাবে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, রোগব্যাধি, বিপদাপদ ইত্যাদির জন্য সুন্নাতসম্মত দু‘আ যিকর ও চিকিৎসা পদ্ধতি জানতে চাচ্ছেন। কারণ তাবীয-কবয ইত্যাদির শিরক সম্পর্কে অনেক আলিমই কথা বলছেন। আমি আমার ‘ইসলামী আকীদা’ গ্রন্থেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাঠকগণ তাবিয-কবয বর্জন করতে চান। কিন্তু বিকল্প সুন্নাত পদ্ধতি তো তাদের জানতে হবে। আর এজন্যই এ অধ্যায়টি সম্পূর্ণ নতুন সংযোজন করা হলো। মহান আল্লাহর কাছে আমরা সকাতরে দু‘আ করি, তিনি যেন এ সকল সুন্নাত-নির্দেশিত দু‘আ ও ঝাড়ফুঁকের ব্যবহারকারীদেরকে পরিপূর্ণ উপকার ও কল্যাণ প্রদান করেন।…বিস্তারিত জানতে বইটি পড়ুন।

656 pages, Hardcover

First published December 1, 2002

Loading...
Loading...

About the author

Khandaker Abdullah Jahangir

39 books81 followers
ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর ছিলেন একাধারে ইসলামী চিন্তাবিদ, টিভি আলোচক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক আলেম, গবেষক ও লেখক ।

তিনি পিস টিভি, ইসলামিক টিভি, এটিএন ও এনটিভিসহ বিভিন্ন টিভিতে ইসলামের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। ফরেন টেলিভিশন চ্যানেল আইটিভি ইউএস-এর উপদেষ্টা ছিরেন তিনি । এছাড়াও তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সিম্পোজিয়াম, সেমিনার, মসজিদের খুতবায় ও টিভি আলোচনায় খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে দেশের সহজ-সরল মুসলমানদের ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়গুলো আলোচনা করে জনসচেতনতা তৈরি করে আসছিলেন।

এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের জন্ম হয় ১৯৬১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের ধোপাঘাট গোবিন্দপুর গ্রামে। তার পিতা খোন্দকার আনওয়ারুজ্জামান ও মা বেগম লুৎফুন্নাহার।

তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেন । এরপর একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৭৫ সালে আলিম এবং ১৯৭৭ সালে ফাজিল ও ১৯৭৯ সালে হাদিস বিভাগ থেকে কামিল পাস করার উচ্চতর শিক্ষার জন্যে সৌদি আরব গমন করেন। রিয়াদে অবস্থিত ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাঊদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৮৬ সালে অনার্স, ১৯৯২ সালে মাস্টার্স ও ১৯৯৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি উত্তর রিয়াদ ইসলামি সেন্টারে দাঈ ও অনুবাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

রিয়াদে অধ্যয়নকালে তিনি বর্তমান সৌদি বাদশাহ ও তৎকালীন রিয়াদের গভর্নর সালমানের হাত থেকে পর পর দু’বার সেরা ছাত্রের পুরস্কার গ্রহণ করেন। সৌদিতে তিনি শায়খ বিন বাজ বিন উসায়মিন, আল জিবরিন ও আল ফাউজান সহ বিশ্ববরেণ্য স্কলারদের সান্নিধ্যে থেকে ইসলাম প্রচারে বিশেষ দীক্ষা গ্রহণ করেন।

রিয়াদে অধ্যয়নকালে তিনি উত্তর রিয়াদ ইসলামি সেন্টারে দাঈ ও অনুবাদক হিসেবে প্রায় তিন বছর কর্মরত ছিলেন।

লেখাপড়া শেষ করে ১৯৯৮ সালে কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৯৯ সালে তিনি ইন্দোনেশিয়া থেকে ইসলামি উন্নয়ন ও আরবি ভাষা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

২০০৯ সালে তিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগে প্রফেসর পদে উন্নীত হন।

ঝিনাইদহ শহরের গোবিন্দপুরে আল ফারুক একাডেমি ও আস সুন্নাহ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন বরেণ্য এই ইসলামী ব্যক্তিত্ব। সেখানে ছেলেমেয়েদের হেফজখানা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব হিসেবে কাজ করেছেন শিক্ষা ও ঝিনাইদহের চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের।

এছাড়াও তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দারুস সালাম মাদ্রাসায় খণ্ডকালীন শায়খুল হাদিস হিসেবে সহীহ বুখারীর ক্লাস নিতেন। তিনি ওয়াজ মাহফিলের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন আলোচক ছিলেন। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফর করে তিনি মানুষকে শোনাতেন শাশ্বত ইসলামের বিশুদ্ধ বাণী।

বাংলা ইংরেজি ও আরবি ভাষায় সমাজ সংস্কার, গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্রায় পঞ্চাশের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- এহয়াউস সুনান, তরিকে বেলায়েত, হাদিসের নামে জালিয়াতি, ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ ইত্যাদি।

ফুরফুরা শরীফের পীর আবদুল কাহহার সিদ্দীকির মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
94 (69%)
4 stars
25 (18%)
3 stars
7 (5%)
2 stars
8 (5%)
1 star
2 (1%)
Displaying 1 - 20 of 20 reviews
Profile Image for Farhan Ishrak.
26 reviews1 follower
February 17, 2022
রাহে বেলায়েত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য একটা অবশ্যই পড়ার মত একটা বই। জাহাঙ্গীর স্যার পুরো বই জুড়ে একজন সাধারণ মুসলমান তার প্রতিটি ইবাদাত কিভাবে করবেন কত টুকু করা উচিত, কতটুকু ছাড়া উচিত, সুন্নাহ মানা কেন এত গুরুত্বপূর্ন সব মিলে একটা প্যাকেজ। পুরো বইটি অসাধারণ ভাবে সাজানো হইছে। সুন্দর ফন্ট, ৬ বারের বেশি সংস্কার , সুন্দর পেজ। একটা পাঠকের আরামে বই পড়ার জন্য আর কি লাগে !!
Profile Image for H. Mahee.
6 reviews2 followers
March 20, 2019
পরকালের প্রস্তুতির জন্য প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির এই বইটি অবশ্য পাঠ্য।
Profile Image for Farhana.
4 reviews18 followers
August 21, 2020
বইয়ের টেবিলে সবসময় রাখার মতো একটা বই...
Profile Image for Yeasmin Nargis.
260 reviews7 followers
March 28, 2026
বই পরিচিতি
গ্রন্থের নাম - রাহে বেলায়াত (সপ্তম সংস্করণ)
লেখক - ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)
প্রকাশক - আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৬৫৬

"কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার পথনির্দেশ"
বাংলাভাষী মুসলিম পাঠকমহলে রাহে বেলায়াত এখন আর কোনো সাধারণ বইয়ের নাম নয়, বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক বিপ্লবের নাম। ‘রাহে বেলায়াত’ শব্দের অর্থ আল্লাহর বন্ধুত্ব লাভের পথ। ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর এই গ্রন্থটি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক নির্ভুল মানচিত্র। ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর এই অসাধারণ গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশের পর থেকে বারবার পুনর্মুদ্রণ ও পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে এসেছে এবং প্রতিটি নতুন সংস্করণে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। এটি একজন মুমিনের পূর্ণাঙ্গ জীবনপদ্ধতির এক অনন্য গাইডবুক।
🔷লেখক পরিচিতি
ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ১৯৬১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার ধোপাঘাট গোবিন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা সরকারি আলিয়া মাদরাসা থেকে দাখিল পাশ করে আলিম, ফাজিল ও কামিল সম্পন্ন করার পর উচ্চতর শিক্ষার জন্য সৌদি আরবের রিয়াদস্থ ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাঊদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরপর দুবার সেরা ছাত্রের পুরস্কার লাভ করেন। দেশে ফিরে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার আল-হাদীস বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি "আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট" প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের সঠিক জ্ঞান প্রচারে নিজেকে সম্পূর্ণ নিবেদিত করেছিলেন। ২০১৬ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি শাহাদাতবরণ করেন, তাঁর এই অকাল প্রয়াণ বাংলা ইসলামী সাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
🔷রাহে বেলায়াতের বিষয়বস্তু
রাহে বেলায়াতের বিষয়বস্তু পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত ছিল। পরবর্তীতে আরও নতুন দুটি অধ্যায় সংযোজন করে গ্রন্থটিকে সাত অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। সকল অধ্যায়েই কমবেশি পরিবর্তন, সংশোধন বা সংযোজন করা হয়েছে। সাত অধ্যায়ের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো -
প্রথম অধ্যায় - বেলায়াত, ওসীলাহ ও যিকর
প্রথম অধ্যায়ে বেলায়াত ও ওলী, ওসীলাহ, বেলায়াত ও আত্মশুদ্ধি এবং যিকর বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। এখানে লেখক প্রথমেই পাঠককে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করান "ওলী আল্লাহ" বা আল্লাহর বন্ধু আসলে কে? লেখক কুরআনের আলোকে দেখিয়েছেন যে ওলী হওয়ার পথ কোনো বিশেষ তরিকা বা পীরের হাতে বায়আত নয় বরং ঈমান ও তাকওয়াই হলো বেলায়াতের মূল চাবিকাঠি। এই অধ্যায়ে যিকরের ব্যাপকতর সংজ্ঞাও উঠে এসেছে। যিকর বলতে আমরা যেভাবে সংকীর্ণ অর্থে বিভিন্ন তাসবীহ পাঠ করাকে বুঝে থাকি, এখানে তেমনভাবে না বুঝিয়ে যিকরের বিস্তীর্ণ পরিধিকেই তুলে ধরা হয়েছে। দু'আ, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াতসহ অন্যান্য অনেক ইবাদাতই যিকরের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় অধ্যায় - মাসনূন যিকর ও দু'আ
এই অধ্যায়টি বইটির সবচেয়ে বিস্তৃত অংশ। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের জন্য ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত, খাওয়া থেকে পোশাক পরা পর্যন্ত, ঘর থেকে বের হওয়া থেকে মসজিদে প্রবেশ পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত সহীহ যিকর ও দু'আগুলো আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ সন্নিবেশ করা হয়েছে। বইটিতে মূলত যিকর এবং দু'আর প্রকারভেদ, গুরুত্ব বা ফজিলত, কোন সময়ে কোন ধরনের যিকর বা দু'আ মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় ইত্যাদি কুরআন, হাদীস, বিভিন্ন সাহাবী এবং আলেমদের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়টি পাঠক কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং নিত্যদিনের আমলের জন্য সামনে রাখার উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায় - সালাত ও বেলায়াত (সপ্তম সংস্করণে নতুন)
সপ্তম সংস্করণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো এই অধ্যায়টি। সালাত ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আল্লাহর সাথে বান্দার সবচেয়ে নিবিড় সংযোগের মুহূর্ত। এই অধ্যায়ে লেখক সহীহ হাদীসের আলোকে সালাতের মাসনূন পদ্ধতি এবং সালাতের ভেতরে পঠিত যিকর ও দু'আগুলো একত্রে সাজিয়েছেন। এই অধ্যায় সংযোজনটি অত্যন্ত বিচক্ষণ একটি সিদ্ধান্ত। কারণ সালাতকে কেন্দ্র করেই মুসলিমের আধ্যাত্মিক জীবন আবর্তিত হয় অথচ অনেক মুসলিম সালাত আদায় করেন কিন্তু এর ভেতরের যিকর ও দু'আগুলোর অর্থ ও সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত থাকেন। এই অধ্যায় সেই শূন্যতা পূরণ করেছে।

চতুর্থ অধ্যায় - কুরআন তিলাওয়াত ও বেলায়াত
কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত, তিলাওয়াতের সুন্নাহসম্মত আদব এবং কুরআনের সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পদ্ধতি নিয়ে এই অধ্যায়টি সাজানো হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন যে কুরআন তিলাওয়াত কেবল মুখের আমল নয় এটি হৃদয়ের গভীরে আল্লাহর কালামকে ধারণ করার একটি আধ্যাত্মিক যাত্রা। যে ব্যক্তি কুরআনকে সঠিকভাবে ধারণ করতে পারেন, তার জীবনে বেলায়াতের পথটি অনেকটাই সুগম হয়ে যায়।

পঞ্চম অধ্যায় - নফল ইবাদত ও আত্মশুদ্ধি
এই অধ্যায়ে নফল সালাত, তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত, আওয়াবিন বিভিন্ন নফল ইবাদতের গুরুত্ব, পদ্ধতি ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একইসাথে বর্তমান সমাজে প্রচলিত মতবিশ্বাস ও কুসংস্কারের সাথে ইসলামের সম্পর্ক এবং ফরজ কাজের তুলনায় সুন্নত বা নফল কাজগুলোকে অতিরঞ্জিত করার বিষয়টিও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এই সমতা রক্ষার আলোচনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেক মানুষ ফরজ বাদ দিয়ে নফলে মনোযোগ দেন, যা ইসলামী আধ্যাত্মিকতার বিকৃতি।

ষষ্ঠ অধ্যায় - রোগব্যাধি ও ঝাড়ফুঁক (সপ্তম সংস্করণে নতুন)
এটি সপ্তম সংস্করণের দ্বিতীয় সম্পূর্ণ নতুন সংযোজন । পাঠকগণ তাবিয-কবয বর্জন করতে চান, কিন্তু বিকল্প সুন্নাত পদ্ধতি তো তাদের জানতে হবে। আর এজন্যই এ অধ্যায়টি সম্পূর্ণ নতু��� সংযোজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের সমাজে এখনো রোগব্যাধিতে তাবিজ-কবজ ও কুসংস্কারের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। এই অধ্যায়ে রুকইয়া বা সুন্নাহসম্মত ঝাড়ফুঁকের সঠিক পদ্ধতি, রোগে সহীহ হাদীস থেকে বর্ণিত দু'আ ও যিকর এবং কোনটি বৈধ আর কোনটি শিরকি এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি শিরক ও কুসংস্কার থেকে মুক্তি পেতে চাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য একটি আলোকবর্তিকা।

সপ্তম অধ্যায় - বিবিধ আমল ও মাসনূন দু'আ
বইটির সমাপনী অধ্যায়ে জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, ভয়, সফর, বিবাহ, সন্তান লাভ ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য মাসনূন দু'আ ও আমল সংকলিত হয়েছে। এই অধ্যায়টি পাঠককে বোঝায় যে ইসলাম কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্ম নয় বরং এটি আল্লাহর স্মরণে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে রাঙিয়ে দেওয়ার একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।

🔷লেখার শৈলী ও উপস্থাপনা
এই সব বিষয়গুলোকে এমন সহজ-সাবলীল কিন্তু মোহনীয় ঢঙে সাজানো হয়েছে যে এই বইটি হাতে নিলেই মনে হবে আমার মতো এত অধম মানুষটিও মনে হয় খুব সহজেই আল্লাহর একজন প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করতে পারি !
ড. জাহাঙ্গীরের ভাষা একইসাথে পণ্ডিত ও সাধারণ, তিনি জটিল ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়কে সহজ বাংলায় এমনভাবে বলেন যা আলেম থেকে সাধারণ শিক্ষিত পাঠক সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। প্রতিটি দাবির পক্ষে কুরআনের আয়াত ও সহীহ হাদীস উল্লেখ করেছেন যা বইটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে অটুট রেখেছে।
🔷ব্যক্তিগত মতামত
৬৫৬ পৃষ্ঠার এই বিশাল কলেবরের বইটি হাতে নিয়ে শুরুতে কিছুটা দ্বিধায় পড়েছিলাম। একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে বইটির বিশালতা দেখে মনে হয়েছিল কোথা থেকে শুরু করব বা এত তথ্য একসাথে আত্মস্থ করতে পারব কি না !! অনেক সময় মনে হয়েছে, যদি একটি সুনির্দিষ্ট পাঠ পরিকল্পনা বা গাইড থাকত তবে আমার মতো নতুন পাঠকদের জন্য বিষয়টি আরও সহজ হতো।
যারা প্রচলিত তাসাউফ ধারা বা পীর-মুরিদি প্রথার প্রতি গভীরভাবে আস্থাশীল, তারা বইটির কিছু তাত্ত্বিক অবস্থানের সাথে হয়তো দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। তবে আমার কাছে এটি লেখকের কোনো দুর্বলতা মনে হয়নি বরং ইসলামের ভেতরে বিদ্যমান একটি দীর্ঘকালীন ও বৈধ মতপার্থক্যের সশ্রদ্ধ উপস্থাপন হিসেবেই গ্রহণ করেছি।
‘রাহে বেলায়াত’ শব্দটির অর্থ হলো ‘আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব’। ব্যক্তিগতভাবে বইটি পড়ার সময় আমি হৃদয়ের গভীরে এক অসাধারণ প্রশান্তি এবং আবেগময় আনন্দ অনুভব করেছি। কুরআন ও সহীহ হাদীসের এমন অকাট্য দলিলে সমৃদ্ধ মানবরচিত শ্রেষ্ঠ কিতাবগুলোর একটি মনে হয়েছে এই গ্রন্থটিকে। বইটি মূলত আল্লাহর যিকির নিয়ে রচিত, আর আল্লাহর যিকিরই হলো তাঁর নৈকট্য লাভের এবং তাঁর পরম প্রিয়পাত্র হওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রধান উপায়। বইটি কেবল জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়নি বরং আত্মাকে এক নতুন আলোর সন্ধান দিয়েছে।
🔷আমার শেষ কথা - একটি মাইলফলক ও শ্রেষ্ঠ পাথেয়
আমার বিবেচনায়, ‘রাহে বেলায়াত’-এর সপ্তম সংস্করণটি বাংলা ইসলামী সাহিত্যের ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক। ওলীত্বের সঠিক ধারণা, যিকিরের বিশাল পরিধি, সালাতের মাসনূন পদ্ধতি এবং সুন্নাহসম্মত চিকিৎসার মতো বহুবিধ বিষয় এই একটি বইয়ে যেভাবে সংকলিত হয়েছে, তা জানার জন্য আমাকে অন্তত দশটি আলাদা গ্রন্থ পড়তে হতো। এটি কেবল একটি বই নয়, বরং আমার দৈনন্দিন জীবনকে প্রিয় নবীজির (সা.) বরকতময় সুন্নাহর রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার এক জীবন্ত কারিগর।
আজ লেখক ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর এই কালজয়ী সৃষ্টি আমার মতো লক্ষ লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বীজ বপন করে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস, একজন নিষ্ঠাবান আলেমের জন্য এর চেয়ে বড় ‘সদকায়ে জারিয়া’ আর কিছুই হতে পারে না। তাঁর এই জ্ঞানলব্ধ উত্তরাধিকার প্রতিনিয়ত অন্ধকার থেকে আলোর পথে চলার প্রেরণা দেয়।
সর্বস্তরের মুসলিম পাঠকের জন্য এটি একটি অপরিহার্য দিকনির্দেশনা। আমার পরামর্শ, বইটি প্রতিটি মুসলিম পরিবারে থাকা উচিত কারণ এটি কেবল পড়ার বই নয়, বরং জীবনভর পথ চলার এক অনন্য সঙ্গী।

Profile Image for Jehad Islam.
12 reviews1 follower
March 29, 2024
বইটা পড়ছি ২০২১ সাল থেকে। এখনও পুরো শেষ করতে পারিনি, তবুও আমার অন্যতম পছন্দের কাতারে থাকবে এই বই।
এটা গল্প-উপন্যাসের মতো শুধু হরহর করে পড়ে গেলে চলবে না। বুঝে শুনে সময় নিয়ে পড়তে হবে। উদাহরণ দেওয়াটা ঠিক হবে না কিন্তু বুঝানোর জন্য বলি। কুরআন শুধু পড়ে গেলে যেমন কুরআনের আসল উদ্দেশ্য হাসিল হবে না, এটা ঠিক তাই। পড়বেন, বুঝবেন এবং সে অনুযায়ী আমল করবেন। তখন আপনি বইয়ের তাৎপর্য বুঝতে পারবেন। লেখকের উদ্দেশ্য ও তখন হবে সফল।

●কেন পড়বেন রাহে বেলায়াত?

আমি ব্যক্তিগত ভাবে ইবাদাত বিষয়টাকে বেশী গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করি। এটাই অন্যান্য সকল দিক ঠিক করে ফেলবে। আপনি পাপ থেকে বেঁচে থাকলেন, সেটাও একটা ইবাদাত। এটাই তাকওয়া। ভালো কাজ করা এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা।
আমি এখন এসব লিখতে আসিনি। আসল কথায় যাই।

আমরা ইবাদাত করি কেন? এক কথায় উত্তর হবে, জান্নাত লাভের আশায়।

ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই। সূরা আল ওয়াক্বিয়া যারা পড়ছেন বা তাফসীর পড়ছেন তারা এই বিষয়ে জানেন। যদি না পড়ে থাকেন, পড়ে নেবেন। এখানের কিছু আয়াত নিয়ে একেবারে সংক্ষেপে কথা বলবো। ভালোভাবে বুঝতে হলে তাফসীর পড়বেন। আমি স্বল্পজ্ঞানী একজন মানুষ, বিস্তারিত বলতে গেলে গোলমাল বাঁধবে।

এ সূরায় তিন শ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছে। এটি কেয়ামত পরবর্তী ঘটনা। তখন তিন দলে বিভক্ত হবে মানুষ। একদল مَيْمَنَةِ বা ডানদিকের দল। কুরআনে তাদের ভাগ্যবান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেক দল مَشْـَٔـمَةِ বা বামদিকের দল। কুরআনে তাদের বলা হয়েছে হতভাগ্য। অন্য আরেক দল আছে, যারা স্পেশাল পর্যায়ের। তারা سٰبِقُوْن বা অগ্রবর্তী। এসব লোকদের ব্যাপারে এভাবে বলা আছে, "বহু সংখ্যক হইবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হইতে; এবং অল্পসংখ্যক হইবে পরবর্তীদের মধ্য হইতে।" সময়ের সাথে সাবেকুন বা এই বিশেষ পর্যায়ের লোক কম হতে থাকবে। এর পেছনে কারণ হচ্ছে, আমাদের ঈমান সাহাবীদের পর্যায়ের না। দিনদিন আমরা ঈমান হারা হচ্ছি। ঈমানের শক্তি কমে যাচ্ছে।
মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তীতেও অনেকসময় ধরে মূর্তি পূজা চলতো তৎকালীন আরবে। তারা কি আল্লাহকে এক মানতো না? মানতো। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর ইবাদাত করা যাবে না সেটাও জানতো এবং বিশ্বাস করতো। তবুও তারা ছিলো কাফের। কিভাবে? ওরা ভাবতো আল্লাহর কাছে কিছু চাইতে হলে মাধ্যমের প্রয়োজন আছে। ওরা বিভিন্ন পাপ করে, সুতারাং আল্লাহ ওদের কথা শুনে না। তাই ভালো মানুষ যারা মৃত্যু বরণ করছে, তাদের মূর্তি বানিয়ে তাদের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র কাছে চাইতো। ধারণা ছিলো এমন, এনারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা। আল্লাহর কাছেই এরা আছেন। তাই তাদের বললে, আল্লাহকে বলে তারা চাহিদা পূরণ করে দেবেন।
আমাদের বাঙ্গালি মুসলমানদের সাথে কি মিল পেলেন কিছু? সময়ের সাথে ঈমান হ্রাস পাচ্ছে আমাদের। তাই সাবেকুন পর্যায়ে পরবর্তীদের মধ্য থেকে লোকসংখ্যা হবে কম।

আমাদের চেষ্টা করতে হবে সাবেকুনদের দলে থাকার। এজন্য প্রয়োজন বেশি বেশি ইবাদাত করা। আমরা ফরজ আমল তো করবোই, পাশাপাশি নফল, সুন্নাহ যেটুকু পারি চেষ্টা করতে হবে। তবেই ইনশাআল্লাহ আমরা সাবেকুনদের কাতারে থাকতে পারবো।

●শেখার মতো কী আছে এ বইয়ে?

আম��া ব্যস্ত মানুষ। ফরজ ইবাদাত করার সময়টাই ঠিকমতো হয়ে উঠে না। নফল বা সুন্নাহ তো বহুদূর। এই ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে অনেক সওয়াবের কাজই করা যায়। সেটাই লেখা আছে বইয়ে। কাজের পাশাপাশি এসব যিকর করে দিনে বহু সওয়াব আয় করা সম্ভব। তাছাড়া আপনি এসব আমল করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারবেন। অযথা কথা বলে পরনিন্দা, গীবতের মতো ভয়ংকর রকমের পাপ থেকে বাঁচতে পারবেন।
এছাড়া বিভিন্ন দোয়া শেখানো আছে। সেগুলো পাঠ করে যেকোনো কাজকে সুন্নাতে রুপান্তর করা সম্ভব। সবসময় আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন, আল্লাহর সাথে কথা বলছেন, ভাবতেই তো দারুণ লাগে। এভাবে অন্যান্য পাপাচার থেকেও দূরে থাকা সহজ হয়ে যাবে।

এই বইয়ের বিশেষ দিকটা হলো এর পদটিকা। প্রত্যেকেটা হাদিসের দলিল দেওয়া আছে। কোনটা সহিহ, কোনটা হাসান, দূর্বল কিংবা কম গ্রহণযোগ্য কোনগুলো সব নিয়ে আলোচনা করা আছে। এ বিষয়টা দারুণ। পাঠক কোন পর্যায়ের হাদিসে আমল করছে সেটা বুঝতে পারবে। মনে কোনও খুত থাকবে না হাদিসের মান সম্পর্কে।

অন্যান্য মাসে না পড়লেও রমজান মাসে অনেকে ইসলামি বই পড়েন। এই বইটিতে চোখ বুলিয়ে দেখতে পারেন। রকমারি থেকে সূচিপত্র দেখেন, কিছু পৃষ্ঠা পড়েন। ইচ্ছা জাগলে তখন নেবেন। বইটা প্রত্যেক মুসলমানের পড়া দরকার বলেই আমার মনে হয়। যিকর নিয়ে আমাদের সমাজে কত মিথ্যাচার যে প্রচলিত আছে। সেগুলো থেকে অন্তত বেঁচে থাকতে পারবেন।

বই : রাহে বেলায়াত
লেখক : খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ)
মুদ্রিত মূল্য : ৪৬০ টাকা
প্রকাশনী : আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন
Profile Image for Ibnul Fiaaz Dhrubo.
135 reviews4 followers
August 1, 2023
বইটা বেশ বড়। তাই একটু সময় নিয়েই পড়লাম। আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে হলে অবশ্যই সর্বদা তাঁকে স্মরণ করতে হবে। প্রত্যহ সকালে ঘুম ভেঙে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকটি কাজ যদি যথাযথভাবে মন-মগজে আল্লাহকে স্মরণ রেখে সম্পন্ন করতে পারি তাহলেই তো আমরা আখিরাতে কামিয়াবদের সাথে থাকতে পারব। সারাদিনের ফরজ ইবাদত ছাড়াও ইখলাসের সহিত কিছু যিকির, মাসনূন দুআ ইত্যাদির আমল করতে পারলে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সৌভাগ্য অর্জন করা যায়। এটাই তো ইবাদত, আল্লাহ তো আমাদেরকে তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু ইবাদত তো যেনতেনভাবে করলে হবে না। ইবাদত করতে হবে ঠিক সেইভাবে- যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সাহাবীগণ (রাযিআল্লাহু আনহুম) অনুসরণ করেছেন।

ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহি.) তাঁর রাহে বেলায়েত বইটিতে সহিহ হাদিসের আলোকে প্রাত্যহিক জীবনে আমল করা যায় এরকম অসংখ্য করণীয়-বর্জনীয়, ইবাদতের আদব, পদ্ধতি, মাসনূন দুআ, যিকির ইত্যাদি সংকলন করেছেন। এগুলো সংগ্রহে রাখতে এবং যথাসম্ভব শিখতে পেরে ভালোই লাগছে। প্রমাণিত হাদিসসমূহের সূত্রে এত পরিমাণ মাসনূন দুআ ও যিকির এসেছে যে সারাদিন এগুলাই আমল করে শেষ করা যাবে না। সেখানে আমি অবাক হই যে বিদাতিরা কোন যুক্তিতে নতুন নতুন যিকির-আযকার উদ্ভাবন করে যেগুলা রাসূল (সা.) ও সাহাবীগণ আমল করেছেন বলে সঠিক কোনো প্রমাণ নেই!!!
Profile Image for Hanif.
164 reviews7 followers
March 19, 2025
৬৫৬ পৃষ্ঠার(সপ্তম সংস্করণ) বইটি ৭টি অধ্যায়ে বিভক্ত। 

রাহে বেলায়াত' শব্দের অর্থ হল 'আল্লাহর বন্ধুত্ব লাভের পথ'।

বইটিতে মূলত যিকর এবং দোয়া এর প্রকারভেদ, গুরুত্ব বা ফজিলত, কোন সময়ে কোন ধরনের যিকর বা দোয়া মহান আল্লাহর কাছে প্রিয়— ইত্যাদি কোরআন, হাদিস, বিভিন্ন সাহাবী এবং আলেমদের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

তাছাড়া বর্তমান সমাজে প্রচলিত মতবিশ্বাসের এবং কুসংস্কার এর সাথে ইসলামের সম্পর্ক, এবং ফরজ কাজের তুলনায় সুন্নত বা নফল কাজ গুলোকে অতিরঞ্জিত করা, যদিও সেগুলো প্রয়োজন ইত্যাদি  তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। 

বইটির সহজ-সরল লেখা এবং যুক্তি-তর্কের উপস্থাপন খুব সাবলীল ছিল। সবার পড়ার মতো একটা বই।
Profile Image for NMA Zami.
26 reviews2 followers
August 14, 2021
Must read book for whom seeking help to connect to Allah in deepest means
Profile Image for Wahid.
10 reviews
May 18, 2025
মাসনুন দোয়ার জন্য একটা ফুল প্যাকেজ
Profile Image for Md. Rakibul Hasan.
33 reviews1 follower
September 19, 2020
রাহে বেলায়াত মানে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ। বইটির লেখক বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ আলিমদের মধ্যে একজন। কিভাবে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যায়, কিভাবে বিদআতমুক্ত ইবাদাত পালন করা যায়, এগুলো নিয়ে সাবলীল এবং সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে বইটি তিনি রচনা করেছেন।

শুধু তাই নয়, এখানে স্থান পেয়েছে অনেক মাসনূন দু'আ, যিকর, মুনাজাত— যার কোনোটিই কুরআন-সুন্নাহর বাইরে নয়। প্রতিদিনের ফরয নামাযের সাথে আরও কিছু ফযিলতপূর্ণ নফল নামাযের কথা আমরা অনেকেই জানি। সেগুলো কিভাবে, কখন পালন করতে হবে, পালন করলে কী সাওয়াব, এসব বিস্তারিতভাবে পেয়ে যাবেন এই বইতে।

বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক স্থাপন করার বিষয়টি। লেখক দেখিয়েছেন কিভাবে একজন সাধারণ মানুষ আল্লাহর খুব প্রিয় বান্দাতে পরিণত হতে পারে৷ ওয়ালী বা পিরদের কাছে বায়াত নেয়ার যে ঘটনা আমাদের আশেপাশে হরহামেশাই আমরা দেখতে পাই, তার প্রয়োজনীয়তা নেই ব'লেও তিনি বিভিন্নভাবে তার লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে যারা ইসলাম সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ তাদের ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জনের জন্য সহিহ আকিদার আলিমদের সাহচর্য দরকার। মূলত, একজন মানুষ সচেতন হয়ে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন ক'রে নিজেই যাতে বেলায়াত অর্জন করতে পারে, সেই দিকে তিনি জোর তাগিদ দিয়েছেন।

ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার স্কুল-জীবনের প্রিয় ইংরেজি শিক্ষক শ্রদ্ধেয় মামুনুর রশীদ স্যারকে, যিনি আমাকে সুন্দর এই বইটি উপহার দিয়েছিলেন।
Profile Image for Sajib.
199 reviews26 followers
December 15, 2021
মুসলিম হিসেবে সকলের ই বইটা পড়া উচিত।না পড়লে অনেক কিছুই মিস হবে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 20 of 20 reviews