Nabaneeta Dev Sen is an award-winning Indian poet, novelist and academic. Sen has published more than 80 books in Bengali: poetry, novels, short stories, plays, literary criticism, personal essays, travelogues, humour writing, translations and children’s literature. Her short stories and travelogues are a rare combination of fine humour, deep human concern, and high intellect, which has made her a unique figure in the Bangla literary scene.
She is a well-known children's author in Bengali for her fairy tales and adventure stories, with girls as protagonist. She has also written prize-winning one-act plays.
১৯১ পাতার বই পড়তে চার দিন লাগলো! কী ভয়াবহ ব্যস্ততায় যে কয়টা দিন গেলো! নবনীতা দেবসেনের মধ্যে প্রচণ্ড প্রাণশক্তি ছিলো। বয়স হলেই যে জীবন ফুরিয়ে যায় না তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ তিনি। তার মুক্তগদ্য পড়তে ভালো লাগার বড় একটা কারণ এটা। বইয়ের লেখাগুলো প্রতি রবিবারে কলাম আকারে বের হতো এবং সমসাময়িক অনেক বিষয় এতে আছে, অনিবার্য ফলস্বরূপ কিছু লেখা সময়ের সাথে আবেদন হারিয়েছে। তবুও নবনীতার লেখা, আনন্দ নিয়েই পড়ে ফেলা যায়।
( বাংলাদেশ নিয়ে কলামটা পড়ে মন খারাপ হলো। নীলক্ষেতে পশ্চিমবঙ্গের বই পাইরেসি হয়, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায়ই নেই। কিন্তু ২০০৭ সালে নাকি সুনীল ঢাকার সম্মেলনে বলেছেন, গত ১৫ বছরে (ধরে নিই ১৯৯২ থেকে ২০০৭) বাংলাদেশে বৈধভাবে তার এক কপি বইও বিক্রি হয়নি। কি আশ্চর্য কথা! তাহলে আজিজ মার্কেট চলতো কীভাবে? ওইখানকার বেশিরভাগ দোকান পশ্চিমবঙ্গের বই-ই বিক্রি করতো তখন, সুনীল শীর্ষেন্দু সমরেশ দেদারসে চলতো, অথচ এক কপিও নাকি বিক্রি হয়নি! নবনীতা বাংলাদেশি লেখকদের বইও যে পশ্চিমবঙ্গের পাঠকরা পড়ে তার উদাহরণ হিসেবে কয়েকজন লেখকের কথা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে অর্ধেকেরই নামের বানান ভুল। শামসুর রহমান, ওয়ালিউল্লা, সইয়দ শামসুল হক, হুমায়ুন আমেদ, জসীমুদ্দিন - সিরিয়াসলি? বাসায় একটা করে অন্তত বই থাকলে নামের বানান এভাবে ভুল হওয়ার কথা না।)
ভালো-বাসার বারান্দা ঠিক বই নয়, নবনীতা দেবসেন 'প্রতিদিন' খবরের কাগজের রবিবারের ম্যাগাজিনের জন্য সাপ্তাহিক একটা কলাম লিখতেন - কিছুমাত্রায় স্মৃতিচারণা, কিছুমাত্রায় ব্লগ - ( লেখেন'ও হয়তো এখনো ? ) - কলকাতায় যখন যাই তখন পড়ে'ওছি দুএকটা কিস্তি, সেটার'ই বই সংস্করন. স্বাধীনতা-উত্তর কলকাতা সম্বন্ধে আমার বরাবর'ই কিছুটা কৌতূহল আছে, কিন্তু নকশাল-পূর্ব সময়ের ব্যাপারে যা পাই সেটা যৎসামান্য - হয়তো আমি'ই খুব একটা খুঁজেপেতে পড়িনি। প্রথম যে দুএকটা লেখা পড়েছিলাম “রোববার প্রতিদিন'এ” সেগুলো আবার ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গোড়াপত্তনের সময় নিয়ে । আমার শ্বশুরমশাই - গল্প করতে ভালোবাসেন, টেবিল চাপড়ে অনেক জিনিস নিয়ে আলোচনা তথা সমালোচনা করতেও। তাঁর কাছ থেকে সেই সময়ের কলকাতার কিছু গল্প শুনেছি । তিনিও ঘটনাক্রমে যাদবপুরের ছাত্র - যদিও তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং এর - এবং পরে কিছুদিনের জন্য অধ্যাপকও ছিলেন - মোটামুটি নবনীতা দেবসেন-এর সমসাময়িক (এক দুই বছর আগে কি পরে হবেন হয়তো) - তাঁর কাছ থেকেই যাদবপুরের ব্যাপারে কিছু শুনেছি . আমার স্ত্রী-ও যাদবপুরেই পড়েছে, সেজন্যে যাদবপুরের ব্যাপারে পড়তেও আপত্তি নেই। সেজন্যেই বইটা পড়ে ফেললাম . খুবই চিত্তাকর্ষক লেখা. নবনীতা বাংলা তথা ভারতের একজন বিশেষ বাগ্মী ব্যক্তিত্ব , কিন্তু এই লেখা টায় সাধারণ জীবনযাত্রারই বেশি প্রতিফলন. তাঁর বাড়ি (যার নাম ভালো -বাসা), আর সেটার বারান্দা থেকে জীবনদর্শন - সেই হলো ভালো-বাসার বারান্দা। লেখিকা আপনার আমার মতন সাধারণ মানুষের জন্যেই লিখেছেন এই ছোট ছোট ঘটনাগুলো . Inside jokes বা secret handshake টাইপের জিনিস বড় একটা নেই. আর ওই যে 1950-2000 কলকাতার নানা ঘটনা, নানা বর্ণময় চরিত্রের ব্যাপারে আলোচনা, এটা তো এক বিশেষ প্রত্যক্ষদর্শী (এবং শুধু প্রত্যক্ষদর্শী কেন, রীতিমতো এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের) ছাড়া যে কেউ লিখতে পারবেন না। মোটামুটি 1950-2000 এর কলকাতার বিখ্যাত অনেকেই আছেন এখানে . ব্লগ টাইপের লেখা বলেই - কলকাতার তথা বাঙালির এক বিশেষ সময়ের মানুষের জীবনযাত্রার দলিল হওয়া সত্ত্বেও বেশ ফুরফুরে রম্যরচনা টাইপের এক একটি লেখা - পড়তে খুবই ভালো লাগলো.
Nabaneeta Dev Sen is a national treasure. পড়ে ফেলুন বইটা । ভালো লাগতে বাধ্য ।
ভালোবাসার বারান্দায় লেখিকা নিজের মনের অন্তরমহলের সাথে পাঠক কে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছেন । অকপট লেখিকার জীবন যেভাবে এগিয়েছে কলমে পড়েছে তারই প্রতিফলন । তাই অক্টোবরের সংখ্যাতে তার তর্পণ মন্ত্রের ব্যাখ্যা যেমন মনকে ছুঁয়ে যায় , তেমনি ভারাক্রান্ত করে লেখিকার চোখে নন্দীগ্রামের রূপ ।
ছেলেবেলার (মেয়েবেলা?) গল্প , বিদেশযাত্রা , পরিচিত ,বন্ধু ও আত্মীয়দের নিয়ে হই হই করে এগিয়ে যায় লেখার স্রোত । আবার প্রিয় কলকাতাকে বদলে যেতে দেখা , বাংলা ভাষার লাঞ্ছনা , মানুষের সাথে মানুষের দূরত্ব বাড়া যে চিরকালীন সমস্যা তা বার বার ফিরে আসে লেখিকার দীর্ঘশ্বাসে ।।
কত গুণী মানুষের জীবনকে ছুঁয়ে যায় এই লেখা , ছুঁয়ে যায় লেখিকার মৃত্যুচিন্তাকে , বয়সকে কাঁচকলা দেখিয়ে ২৬ আর ৬২এর মধ্যে ফারাক না করাকে । আর অতি অবশ্যই নজর কাড়ে তার সরল কৌতুক বোধ ।।
" যেখানে সকালবেলার মত করে সাজা যায় না বিকালবেলাতে " সেখানে সবকটি কিস্তি সমান মনোগ্রহী হওয়া সম্ভব নয় । কিছু লেখা যেমন মুগ্ধতার আবেশ রেখে গেছে , কিছু পড়ে মনে হয়েছে আরো শোনার বাকি রয়ে গেল যেন ।