Travelling not only beyond physical boundaries but also across time; remembering the past, recalling the legends, myths and history of the three countries, Iran, Iraq and India and connecting all that with the present makes this a very different kind of travelogue. [from back cover]
Awarded the Nobel Prize in Literature in 1913 "because of his profoundly sensitive, fresh and beautiful verse, by which, with consummate skill, he has made his poetic thought, expressed in his own English words, a part of the literature of the West."
Tagore modernised Bengali art by spurning rigid classical forms and resisting linguistic strictures. His novels, stories, songs, dance-dramas, and essays spoke to topics political and personal. Gitanjali (Song Offerings), Gora (Fair-Faced), and Ghare-Baire (The Home and the World) are his best-known works, and his verse, short stories, and novels were acclaimed—or panned—for their lyricism, colloquialism, naturalism, and unnatural contemplation. His compositions were chosen by two nations as national anthems: India's Jana Gana Mana and Bangladesh's Amar Shonar Bangla.
বোঝাই যাচ্ছে বইটা রবীন্দ্রনাথের ইরানভ্রমণ নিয়ে। সাথে নাতিদীর্ঘ ইরাকভ্রমণ আছে। যা বর্ণিত হলো তাতে বিষাদ জাগে। বিষাদ জাগে এইজন্য যে একসময় এই দুটো দেশ ভারতবর্ষের চেয়ে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল ছিল। এখন মধ্যপ্রাচ্যের পৈশাচিকতা তাদের ভেতরেও কম না। বোঝা যায় "ইহুদী-নাসারাদের ষড়যন্ত্র" রটনার কিছুটা সত্যি বটে। তবে দুরাচারের বীজ সে ধর্মের ভিতরেই ছিল।
রবীন্দ্রনাথ বইটায় প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাখ্যা করেছেন। এই বইটা খুব বেশি জনপ্রিয় নয় বলেই হয়ত এই বিষয়ে তার মতামত সম্পর্কে প্রশ্ন হলে বইটার রেফারেন্স আসে না। সত্তরের রবীন্দ্রনাথ, পরিপক্ক রবীন্দ্রনাথের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে ফাঁকিবাজি এবং দুরাচার সম্পর্কে যে সম্যক ধারণা ছিল তা বোঝা গেলো। ধর্মগুলো যে বিশেষশ্রেণীর স্বার্থে টিকিয়ে রাখা এবং এই যুগের তুলনায় নিতান্তই অব্যবহারযোগ্য তা সোজাসুজিই বলেছেন। এমনকি সবশেষে মানুষের নৈতিক অবক্ষয় থেকে বাঁচার জন্য ধর্মের প্রয়োজনের যে যুক্তি দেওয়া হয় তাও তিনি অস্বীকার করেছেন। তারমতে আধুনিক বিষয়বুদ্ধি যেকোনো ধর্মবুদ্ধি থেকে ভালো।
রবীন্দ্রনাথের বয়স সত্তরের কোঠায়।আজীবন পায়ের তলায় সর্ষে নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন দেশে দেশে। শুরুটা "য়ুরোপ প্রবাসী " হয়ে। সেই প্রবাসের সূত্র ধরেই এবার নেমন্তন্ন পেলেন পারস্যের রাজা রেজা শাহ পাহলভির কাছ থেকে।
বয়স এই চিরযুবার ভ্রমণপথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারলো না। তিনি তার পুত্রবধূ, ব্যক্তিগত সহকারী অমিয় চক্রবর্তী ও আরেকজনকে নিয়ে ব্যোমযানে(বিমানে) রওনা হলেন পারস্যদেশ।
কবি যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। শিশুর সারল্য মুগ্ধ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করেছেন রেজা শাহর ইরান। সেই ইরানের মাঝে সন্ধানে বেরিয়েছেন শাহনামার পারস্যের, জরথ্রুষ্টবাদীদের পারস্যের, দারিয়ুস, সাইরাসের পারস্যের। মোটকথা, রবীন্দ্রনাথ পারস্য নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেই পারস্যরাজের আমন্ত্রণ রক্ষায় বের হন তা বলাই যায়।
হাফিজের মাজারে গিয়ে স্মরণ করেছেন সেই মহান কবিসাধককে। সেই সাথে তৎকালীন ভারতবর্ষের সম্প্রদায়ের মাঝে দ্বিধাবিভক্তির কথা অন্তরে যে রক্তক্ষরণ ঘটায় তার দুঃসহ স্মৃতি ভোলেন নি, ভুলতে পারেন নি।
রেজা শাহর রাজত্বকালের সবাই ভালো আছে এই বার্তা কবিকে সবাই বুঝিয়েছে আর কবিও তা সরলমনে বুঝেছেন। তারপরেও চারপাশের একটা চাপা নীরবতা কবিকে ভাবিয়ে তুলেছিলো। এ এক তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষক হিসেবেই রবীন্দ্রনাথকে মনে হয়।
পারস্যদেশ ছাড়িয়ে ভ্রমণের শেষান্তে ইরাকের তৎকালীন বাদশাহ ফয়সালের আমন্ত্রণে প্রাচীন সভ্যতার বাগদাদে যান। স্মরণ করেন এই শহরের স্বর্ণময় অতীতকে।
চমৎকার এক ভ্রমণকাহিনী। বিশ্বকবির চোখে দেখা হল পারস্য আর স্বাদ পেলুম বাগদাদ ভ্রমণের!
রবীন্দ্রনাথের বইয়ের সমালোচনা লেখা আমার সাজে না, আমি শুধু তার দিনলিপির ধারায় লেখা এই বইয়ে ওনার চিন্তাধারা অনুসরণ করার চেষ্টায় ছিলাম, পড়া শেষে মনে হল, আমি অনুগামী হতে যতটা না সফল, আমাকে টেনে রাখতে উনিই অনেক বেশি সফল!
রবীন্দ্রনাথের লেখার স্টাইল বরাবরই আমার পছন্দ। ইরানও আমার খুব পছন্দের একটা দেশ। রবীন্দ্রনাথের পারস্য ভ্রমণ নিয়ে লিখা এই বইটা বেশ সুখপাঠ্য ছিল আমার জন্য। আর কিছু বলার নেই। ❤️