দিলারা হাশেমের জন্ম ২৫ আগস্ট ১৯৩৬ সালে, যশোরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৬ সালে ইংরেজী সাহিত্যে বি. এ. অনার্স ও ১৯৫৭ সালে এম. এ. সম্পন্ন করার আগে থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছোট গল্প লেখার মধ্য দিয়ে সাহিত্য জীবন শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ঘর মন জানালা’, যা পাঠক ও সমালোচক মহলে বিপুল সমাদর পায়। পরবর্তীতে এই গ্রন্থটি রুশ ও চীনা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ‘ঘর মন জানালা’ ১৯৭৩ সালে চলচ্চিত্র হয়েও মুক্তি পায়। উপন্যাসের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৭২ সাল থেকে আমেরিকায় বসবাস শুরু করেন। প্রবাসী হয়েও লেখিকা বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর শেকড়ের টান অক্ষুন্ন রেখে নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলা সাহিত্য চর্চ্চা করে গেছেন। ইতালি, ফ্রান্স, হল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, জার্মানী, চেকোস্লোভাকিয়াসহ ইউরোপের বহু দেশ এবং চীন, জাপান ও কমিউনিস্ট শাসনামলে সোভিয়েট ইউনিয়ন সফরকারী লেখিকার সাহিত্যে চরিত্র ও বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য পাঠককে আকৃষ্ট করে; তবে তিনি মূলত নগর জীবন ও বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজের সুখ-দুঃখ, আশা-হতাশার ছবিটিই তুলে আনেন। ১৯৮২ সালে ভয়েস অব আমেরিকায় যোগ দেন। অবসরে যান ২০১১ সালে। ২০ মার্চ ২০২২ সালে ৮৬ বছর বয়সে ওয়াশিংটনের নিজ বাসায় মৃত্যু হয় দিলারা হাশেমের।
এই বই সম্পর্কে জানি গ্রুপে হেনা ভাইয়ের কাছ থেকে। তারপর রনি একদিন পুরাতন শপে ঝকঝকা এক কপি পেয়ে কিনে ফেলে। তখন থেকে ভাবতেছিলাম, জীবনে কখনো কী এই বই ভাগ্যে জুটবে? তারপর কিছুদিন কাটলো। বইয়ের কথা ভুলেই গেছিলাম। হঠাৎ কোন একটা ফেইবুকের পুরাতন বই বিক্রির পেইজে এই বইয়ের ছবিটা দেখলাম। সাথে সাথে নিয়ে নিলাম। কোন পেইজ থেকে নিয়েছি আর দাম কত ছিলো তা এখন মনে নেই। এরমধ্যে এক বছর কাটলো। এই বই আর পড়া হয়নি। সেদিন শেলফ ঝাড়ামোছা করতে গিয়ে বইটা পেয়ে গেলাম। তারপর শুরু করলাম পড়া।
এ যেনো এক অদ্ভুত সুন্দর অনুভূতি। এত সুন্দর মায়ায় ভরা একটা বই! যত পড়ছিলাম ততো মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম। এত সুন্দর বর্ণনা। মনে হচ্ছিল 'রজি'বু, রানু, রাজু' সাথে আমিও চলছি ওদের পথে। বইটা শেষ করে এক অদ্ভুত অনুভুতি তে ডুবে আছি।