বি এ পাশ করা একটা গ্রামের ছেলে নবকুমার। চাকরির খোঁজে কলকাতায় পৌছালে সোনাগাছির (কলকাতার যৌনপল্লী) এক সম্ভ্রান্ত মহিলা তাকে স্থান দেন। তারপর নবকুমার কিভাবে করপোরেশনের জল খেয়ে জীবনে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, গল্পটা সেটা নিয়েই।
এখানে মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
• সোনাগাছির মেয়েদের সমাজের সাথে প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাওয়া যুদ্ধ। যে যুদ্ধে তাদের প্রতিপক্ষ হলঃ পুলিশ, সরকার, সমাজ সবাই।
• কলকাতার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কিছু হাল-হকিকত।
• আর মূল গল্পটা হল কলকাতায় আগত এক আগন্তুকের।
লা মিজারেবল, গড অব স্মল থিংস, দা সিটি অব জয় প্রভৃতি কালজয়ী লেখনীগুলোরএকটা ব্যাপার হল, এখানে ঘটনার এবং এর পরিপার্শ্বের নিখুঁত বর্ণনা দেয়া থাকে। আপনি সেই গল্পের রাজ্যে প্রবেশ করবেন, নিজেকে গল্পের ভেতর আবিষ্কার করবেন, আপনি হবেন উপন্যাসের ঘটনাগুলোর এক নীরব সাক্ষী। বঙ্কিমের “আরণ্যক”-এর প্রতিটা বাক্য আপনি অনুভব করতে পারবেন অরণ্য কে। Carsten এর “We, The Drowned” এর পাতা খুললেই যেন মনে হয় সাগরের ঝাপটা মুখে লাগছে। নিজেকে মনে হবে এক নাবিক আর এখনই নেমে যেতে হবে অকুল দরিয়ায়। হয়তো কারও কারও কাছে এই কলেবর বৃদ্ধি বর্ণনার আধিক্য মনে হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে এটা সার্থক উপন্যাস হয়ে উঠবার একটা বড় Criteria. এই উপন্যাসে এটা অনেক miss করেছি। ঘটনাগুলো এত straight forward করে বলা ছিল যে আমি কাহিনীর রাজ্যেই প্রবেশ করতে পারিনি।
তবে, কাহিনীগুলো সত্য। যদিও নাটকীয়ভাবে শেষ করে পুরো গল্পের বোরিং ভাবটা দূর করা হয়েছে, কিন্তু পুরো গল্পের “অন্তর্নিহিত বার্তা”-টা অনেক গভীর। একটা ছোট উক্তি উপন্যাসটি থেকে- “আবেগ না থাকলে সে মানুষ নয়। কিন্তু আবেগে যে ভেসে যায় সে তলিয়ে যায়।“
সহজ ভাষা, পরিচিতদের গল্প একটু অন্য ভাবে বলা। অনেক ভাল নয় কিন্তু তারপরও বেশ ভাল লেগেছে উপন্যাসটি।