Kazi Nazrul Islam (Bengali: কাজী নজরুল ইসলাম) was a Bengali poet, musician and revolutionary who pioneered poetic works espousing intense spiritual rebellion against fascism and oppression. His poetry and nationalist activism earned him the popular title of Bidrohi Kobi (Rebel Poet). Accomplishing a large body of acclaimed works through his life, Nazrul is officially recognised as the national poet of Bangladesh and commemorated in India.
যুগবাণী গড়ে উঠেছেন তৎকালীন সব কাহিনীকে ভর করে। তখনের একেকটি রাজনৈতিক, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ইভেন্টের উপর ভর করে নজরুল লিখেছেন তার মতবাদ। নজরুল সাহেব সময়ের চেয়ে একটুও এগিয়েই ভাবতেন, এই বই তার প্রমাণ।
ছোট ছোট সুলিখিত এবং সুচিন্তিত প্রবন্ধগুলোতে নজরুলের বহুমাত্রিকতা ফুটে উঠেছে। কবি-নাট্যকার-ঔপন্যাসিক কিংবা সঙ্গীতজ্ঞ এর পাশাপাশি তিনি যে একজন শক্তিশালী প্রাবন্ধিক ও ছিলেন তা প্রমাণের জন্য এক যুগবাণীই যথেষ্ট৷ বিপ্লব, পরাধীনতা, তৎকালীন সমাজব্যবস্থা সবকিছু নিয়েই তাঁর নিজস্ব ধ্যানধারণা সুস্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে এই রচনাগুলোতে। নজরুলের দ্রোহ এবং মননশীলতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ এই বইটি।
একুশটি ছোট ছোট প্রবন্ধের সমন্বয়ে 'যুগবাণী '। নজরুল কতো শক্তিশালী প্রাবন্ধিক ছিলেন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রতিটি প্রবন্ধেই রেখেছেন। উপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধাচারণ করে লেখা নজরুলের প্রবন্ধগুলো শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দেয়,রক্তে জোগায় এক নবতম প্রেরণা। প্রাবন্ধিক নজরুল জাতির জাগরণের স্বপক্ষে, সকলপ্রকার দ্বেষ আর অন্যায়ের তীব্র বিরোধীতাই "যুগবাণী"র মূলসুর।
সাহস ছিল বটে লোকটার! প্রথম পাতা পরেই গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেলো। এত ধারালো কথা লিখতেন কি করে? স্বদেশী লেখা ছাড়াও বইটিতে কয়েক রকমের প্রবন্ধ আছে বিশেষত আমি 'রোজ কেয়ামত বা প্রলয়দিন' শীর্ষক প্রবন্ধ পরে অবাক হয়েছি এই ভেবে যে, নজ্রুল বিজ্ঞান নিয়েও এতোটা ভেবেছেন! নজ্রুল যুগে যুগে আসবেনা কিন্তু তার যুগবাণী থেকে যাবে।
যে এলো চষে সে রইল বসে, নাড়া-কাটাকে ভাত দাও এক থালা কষে। পেট বড়ো ‘মুদ্দই’ (শত্রু) এবং পেটের জন্যই ইহারা এমন করিয়া আত্মহত্যা করে।
বিজাতীয় অনুকরণে আমরা ক্রমেই আমাদের জাতীয় বিশেষত্ব হারাইয়া ফেলিতেছি। অধিকাংশ স্থলেই আমাদের এই অন্ধ অনুকরণ হাস্যাস্পদ ‘হনুকরণে’ পরিণত হইয়া পড়িয়াছে। পরের সমস্ত ভালো-মন্দকে ভালো বলিয়া মানিয়া লওয়ায়, আত্মা, নিজের শক্তি ও জাতীয় সত্যকে নেহাতই খর্বই করা হয়। নিজের শক্তি, স্বজাতির বিশেষত্ব হারানো মনুষ্যত্বের মস্ত অবমাননা। স্বদেশের মাঝেই বিশ্বকে পাইতে হইবে, সীমার মধ্যেই অসীমের সুর বাজাইতে হইবে।
"যুগবাণী" প্রতিবাদের সুরে ভাঙা তরীর শেষ আস্ফালন। যা বের হওয়া মাত্র নিষিদ্ধ হয়েছিল। যার মাঝে চিরচেনা সেই পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার তুলেছে নজরুল ইসলাম। তার বলিষ্ঠ প্রতিবাদ, কড়া সুরে আমাদের ন্যাকামি তুলে ধরা এক নিঃশব্দে বর্ণিত স্বাধীনতার জয়গান। নিজের সত্যকে না জেনে আমরা যে অপরের লেলিয়ে দেওয়া বস্তু নিয়ে সুখী থাকছি তিনি তার কড়া জবাব দিয়েছেন।
আমরা আজ অনেকটা জাগ্রত হয়েছি, আমরা মনুষ্যত্বকে এক আধটুকু বুঝতে পারিছি, কিন্তু আমাদের এ মনুষ্যত্ববোধ, এ শক্তি স্থায়ী হইছে না, শুধু ওই চাকুরি-প্রিয়তার জন্য। সোডা-ওয়াটারের মতো আমাদের শক্তি, আমাদের সাধনা, আমাদের অনুপ্রাণতা এক নিমেষে উঠে থেমে যায়, শোলার আগুনের মতো জ্বলে নিবে ছাই হয়ে যায়। আমরা যদি বিশ্বে মানুষ বলে মাথা তুলে দাঁড়াইতে চাই, তবে আমাদের এ শক্তিকে, এ সাধনাকে স্থায়ী করতে হইবে, নতুবা ‘যে তিমিরে সে তিমিরে!’ এবং তাহা করতে হলে সর্বপ্রথমে আমাদেরকে চাকুরি ছেড়ে পর পদলেহন ত্যাগ করে স্বাধীনচিত্ত উন্নতশীর্ষ হয়ে দাঁড়াতে হবে। দেখেছো কি চাকুরিজীবীকে কখনও স্বাধীনচিত্ত সাহসী ব্যক্তির মতো মাথা তুলিয়া দাঁড়াতে? তাহার অন্তরের শক্তিকে যেন নির্মমভাবে কচলাইয়া দিয়াছে ওই চাকুরি, অধীনতা, দাসত্ব। আসল কথা, যতক্ষণ না আমরা বাহিরে স্বাধীন হইব, ততক্ষণ অন্তরের স্বাধীনশক্তি আসিতেই পারে না।
আমাদের এই ভীরুতাকে তিনি ধিক্কার দিয়েছেন। মেরুদন্ড যাদের বাঁকা হয়ে গেছে তাদের মাতৃভূমির জন্য আবার দাঁড়াতে বলেছেন। যাদের মাঝে আজ আপন সত্যকে চেনার দায় হারিয়ে গেছে তাদের নিষ্কৃতি দিয়েছেন জাতিকে ভুলে যাওয়ার। জ্বী হুজুর ত্যাগ করে আত্ম-স্বালম্বন হতে তিনি বারবার বলেছেন।
প্রবন্ধের একটা বৈশিষ্ট্য হলো প্রবন্ধে সাধারণত রচনাকালের সময় সম্পর্কে জানা যায়৷ যুগবাণীও তেমন একটি প্রবন্ধ। আর নজরুলের লেখার সাথে আমরা সকলেই পরিচিত৷ হ্যাঁ, সেই পরিচিত নজরুলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সমালোচনা নিয়েই ২১ টি ছোট ছোট প্রবন্ধ বইটিতে স্থান করে নিয়েছে৷